মুজিব কিল্লা নির্মাণে ধীরগতির কারণ খুঁজতে সাব কমিটি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:১৩, আগস্ট ১২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২৪, আগস্ট ১২, ২০২০

প্রকল্পের মেয়াদের অর্ধেকের বেশি সময় পার হলেও মুজিব কিল্লা নির্মাণ বা সংস্কারে দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি না হওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সংসদীয় কমিটি। বিক্ষুব্ধ সংসদীয় কমিটি প্রকল্প বাস্তবায়নের সমস্যা জানতে সাব-কমিটি গঠন করেছে। এই সাব-কমিটি প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়ার জটিলতা ও কারণ চিহ্নিত করে প্রতিবেদন দেবে।

বুধবার (১২ আগস্ট) সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এই সাব-কমিটি গঠন করা হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘অনেক দিন হলো এই প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা এর দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি দেখতে পাইনি। এটা কেন হয়নি, এর কী জটিলতা, কোথায় কী অনিয়ম রয়েছে—তা চিহ্নিত করার জন্য আমরা সাব-কমিটি গঠন করেছি। কমিটিকে সার্বিক বিষয় প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’

এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মুজিব কিল্লা প্রকল্পের অগ্রগতি ও সর্বশেষ অবস্থা খতিয়ে দেখার জন্য কমিটির সদস্য মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি সাব-কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অপর দুই সদস্য হচ্ছেন—জুয়েল আরেং ও মুজিবুর রহমান চৌধুরী।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় ঘূর্ণিঝড় ও বন্যাপ্রবণ এলাকার মানুষের নিরাপত্তার জন্য মুজিব কিল্লা নির্মাণ করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় ওইসব মুজিব কিল্লা পরিত্যক্ত হয়ে যায়। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর পরিত্যক্ত এসব মুজিব কিল্লা সংস্কারের পাশাপাশি নতুন করে আরও মুজিব কিল্লা নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। এর অংশ হিসেবে ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর একনেকে ‘মুজিব কিল্লা নির্মাণ, সংস্কার ও উন্নয়ন প্রকল্প’ গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পের মেয়াদকাল হচ্ছে জুলাই ২০১৮ থেকে ডিসেম্বর ২০২১। সম্পূর্ণ রাজস্ব খাতভুক্ত এক হাজার ৯৫৭ কোটি ৪৯ লাখ টাকার এই প্রকল্পে ঘূর্ণিঝড়প্রবণ ১৬ জেলার ৬৪ উপজেলা, বন্যা ও নদীভাঙন প্রবণ ২২ জেলার ৮৪ উপজেলায় বিদ্যমান ১৭২টি মুজিব কিল্লা সংস্কার ও উন্নয়ন এবং ৩৭৮টি নতুন মুজিব কিল্লা নির্মাণসহ মোট ৫৫০টি মুজিব কিল্লা নির্মাণ হওয়ার কথা। সাড়ে তিন বছর মেয়াদের প্রকল্পের দুই বছরের বেশি সময় পার হলেও এর দৃশ্যমান কোনও অগ্রগতি হয়নি বলে দুর্যোগ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে চলমান বন্যায় সমান হারে বরাদ্দ না দিয়ে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিরূপণ করে চাহিদা অনুযায়ী ত্রাণ সহায়তা দেওয়ার সুপারিশ করেছে কমিটি। এ বিষয়ে কমিটির সভাপতি তাজুল ইসলাম বলেন, ‘দেখা যাচ্ছে কোনও এলাকার কোথাও বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি বেশি, আবার কোথাও কম হয়েছে। কিন্তু দুটি এলাকায় একই পরিমাণ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মানুষের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না। এজন্য আমরা প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি নিরূপণ করে বরাদ্দ দেওয়ার ‍সুপারিশ করেছি।’

এ বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে বন্যাকবলিত এলাকায় জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে যে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তার অনুলিপি সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধিদের দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। এছাড়াও এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে সভার আয়োজন করতে কমিটি সুপারিশ করে। 

এছাড়া বৈঠকে কমিটি পূর্ববর্তী বৈঠকে গ্রামীণ অতিদরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য ৪০ দিনের কর্মসূচি প্রকল্পে শ্রমিকের দৈনিক মজুরি দুইশ’ টাকা থেকে বাড়িয়ে পাঁচশ’ টাকায় নির্ধারণ করার সুপারিশ পুনরায় অর্থ বিভাগকে বিবেচনা করার জন্য সুপারিশ করে।   

কমিটির সভাপতি এ বি তাজুল ইসলামের সভাপতিত্বে বৈঠকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান, মো. আফতাব উদ্দিন সরকার, মীর মোস্তাক আহমেদ রবি, জুয়েল আরেং, মজিবুর রহমান চৌধুরী, মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ও কাজী কানিজ সুলতানা অংশগ্রহণ করেন।

/ইএইচএস/এপিএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ