কুকুর নিধন করলে ইঁদুর ও প্লেগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৫:৫৯, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:২২, সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০

বাপা

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) বেওয়ারিশ কুকুর নিধন বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। বলা হয়, রাস্তার কুকুর মেরে ফেললে ইঁদুর ও প্লেগ রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যেতে পারে।

সংবাদ সম্মেলনে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাপার যুগ্ম সম্পাদক শারমিন মুরশিদ। অনলাইন সংবাদ সম্মেলন সঞ্চালনা করেন বাপার সাধারণ সম্পাদক শরীফ জামিল। 

শারমিন মুরশিদ বলেন, ‘ডিএসসিসি থেকে কুকুর অপসারণের যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা অবৈজ্ঞানিক, অমানবিক, বেআইনি। প্রাণি কল্যাণ আইন, ২০১৯ অনুযায়ী এই কার্যক্রম সম্পূর্ণ বেআইনি। কুকুর নিধন নয়, জলাতঙ্ক টিকা ও বন্ধ্যাকরণ কর্মসূচি চালু করতে হবে। এজন্য রয়েছে বৈজ্ঞানিক কৌশল। ’

তিনি বলেন, কুকুরসহ অসংখ্য প্রাণীর নগরে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। কুকুরসহ পোষা প্রাণী মেরে ফেললে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যেতে পারে।  কুকুর নিধন করলে ইঁদুরের প্রকোপ বেড়ে যেতে পারে, প্লেগ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিতে পারে।

উদাহরণ তুলে ধরে শারমিন বলেন, ‘১৯৯৪ সালে ভারতের একটি শহরে বিপুল সংখ্যক কুকুর নিধন করার কারণে ইঁদুরের প্রকোপ বেড়ে যায়। প্লেগ রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। কুকুরকে টিকা দিয়ে জলাতঙ্ক রোগ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব কিন্তু প্লেগ রোগ টিকা দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। অন্যান্য মেগা সিটির তুলনায় ঢাকা শহরে পোষা প্রাণীর সংখ্যা অনেক কম।’

সংবাদ সম্মেলনে রাজধানী থেকে কুকুর অপসারণের প্রক্রিয়ার প্রতিবাদ জানিয়ে বলা হয়, অপরিকল্পিতভাবে কুকুর স্থানান্তর কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। ইতোমধ্যে স্থানান্তরিত কুকুরগুলোকে তাদের জায়গায় ফিরিয়ে আনতে হবে। জলাতঙ্ক রোগ প্রতিরোধ এবং কুকুরের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা মোতাবেক পদক্ষেপ নিতে হবে।

দেশের তরুণ সমাজকে জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবং সংরক্ষণের উদ্বুদ্ধ এবং উৎসাহী করতে প্রয়োজনে একটি জাতীয়ভাবে কর্মসূচি নেওয়ারও আহ্বান জানানো হয় সংবাদ সম্মেলনে।

/এসএমএ/এসটি/এমওএফ/

লাইভ

টপ
X