সিনোভ্যাককে টাকা দেবে না বাংলাদেশ!

Send
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত : ১৬:০১, অক্টোবর ১৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:০৮, অক্টোবর ১৫, ২০২০

করোনা ভ্যাকসিন

করোনা ভ্যাকসিনের ট্রায়ালের জন্য চীনের সিনোভ্যাক কোম্পানিকে টাকা দিচ্ছে না বাংলাদেশ। যার কারণে এই কোম্পানির করোনাভাইরাসের টিকার ট্রায়াল আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়লো। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আব্দুল মান্নান জানিয়েছেন, সরকারিভাবে টাকা কো-ফান্ডিং করে কিছু করার সিদ্ধান্ত তারা নেননি।

সিনোভ্যাকের ট্রায়ালের বিষয়ে সিদ্ধান্ত কী হয়েছে জানতে চাইলে আব্দুল মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘রাষ্ট্রের টাকা তো কাউকে দেওয়া যায় না ইচ্ছে করলেই। সিনোভ্যাকের চিঠির জবাবে আমাদের এরকম কোনও রেসপন্স নাই। তারা যদি নিজেদের মতো করে আসে তাহলে…। সিনোভ্যাক কিন্তু বলেছে একটু দেরি হলেও তারা আসবে।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকারি কোনও টাকা কো-ফান্ডিং করে কিছু করার সিদ্ধান্ত আমরা এখনও নেইনি।’ সিদ্ধান্ত নেওয়া এখনও হয়নি নাকি টাকা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘সিদ্ধান্ত না হওয়াও একটা সিদ্ধান্ত।’

সিনোভ্যাকের ট্রায়ালের সুযোগ আছে মন্তব্য করে আব্দুল মান্নান আরও বলেন, ‘আমরা চিন্তাভাবনা করছি আরও কারও…। আমরা তো আরও নানান জায়গায় দৌড়াদৌড়ি করছি, সেগুলো দেখা যাক। আর উনারাও কিন্তু বলেছেন−বাংলাদেশ থেকে টাকা না পেলেও আমরা একটু দেরি হলেও কাজ (ট্রায়াল) করবো, আমরা পিছিয়ে যাবো না।’

এদিকে, এ বিষয়ে কথা বলতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেককে একাধিকবার মোবাইল ফোনে কল করা হলে তিনি এসএমএস করে জানান, এই মুহূর্তে তিনি কথা বলতে পারবেন না।  সিনোভ্যাককে বাংলাদেশ টাকা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কিনা প্রশ্ন করে ফিরতি এসএমএস দিলেও তিনি তার উত্তর করেননি।

প্রসঙ্গত, গত ২২ সেপ্টেম্বর চীনের সিনোভ্যাক কোম্পানি তাদের আর্থিক সংকটের কথা জানিয়ে চিঠি দেয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেককে। সেখানে কোম্পানিটি তাদের ‘অর্থনৈতিক ক্রাইসিস’-এর কথা জানিয়ে করোনা ভ্যাকসিন ট্রায়ালে বাংলাদেশ সরকারকে ‘কো-ফান্ডিং’ করার জন্য অনুরোধ করেছে। কারণ হিসেবে তারা চিঠিতে বলেছে, বাংলাদেশ থেকে অনুমোদন পেতে দেরি হয়েছে তাদের।

আর দেরি হওয়া প্রসঙ্গে এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ‘যাচাই-বাছাই’ করে অনুমোদন দিতে গিয়ে দেরি হয়েছে।

গত ১৯ জুলাই চীনের সিনোভ্যাক কোম্পানির ভ্যাকসিন করোনাভ্যাককে ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের জন্য অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ মেডিক্যাল রিসার্চ কাউন্সিল (বিএমআরসি)। এরপর সিনোভ্যাককে ট্রায়ালের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে গত ২১ সেপ্টেম্বর জানান স্বাস্থ্য সচিব আব্দুল মান্নান। কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটিও একাধিকবার দেশে ভ্যাকসিন ট্রায়ালের কথা বলেছে।

গত ২২ সেপ্টেম্বর স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেককে দেওয়া চিঠিতে সিনোভ্যাক বলেছে, ‘আমাদের কাছে যে ফান্ড ছিল তা অন্যান্য দেশে ট্রায়ালের জন্য বিতরণ করা হয়েছে এই মুহূর্তে। তাই বাংলাদেশে ট্রায়াল করার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ আমাদের হাতে নেই। আমরা এই তহবিল অক্টোবরের শেষে কিংবা নভেম্বরের প্রথম ভাগে কিছুটা সংগ্রহের পরিকল্পনা করছি। যদিও বাংলাদেশে ট্রায়াল পরিচালনার জন্য আমাদের তহবিল গঠনের যৌথ অংশীদার প্রয়োজন।’

ট্রায়াল শুরুর বিষয়ে সিনোভ্যাক জানিয়েছে, ‘আমাদের প্ল্যান ছিল আগস্টের শুরুতে ট্রায়াল শুরু করার। কিন্তু অনুমোদন পেতে দেরি হওয়ায় আমাদের ফান্ড অন্য দেশে ট্রায়ালের জন্য দিয়ে দেই। একইসঙ্গে আমরা চূড়ান্ত অনুমোদন পাবো কিনা তা নিয়েও অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলাম। বাংলাদেশে ট্রায়াল করার সদিচ্ছা ও এক্সটারনাল এজেন্সির পরামর্শে আমরা দ্য কোয়ালিশন ফর এপিডেমিক প্রিপেয়ার্ডনেস ইনোভেশনস-সেপি’র কাছ থেকে তহবিলের জন্য আবেদন করেছি। আমাদের এক্সটারনাল এজেন্সি তহবিলের বিষয়ে আশা দেখালেও দুই সপ্তাহ আগে সেপি আমাদের জানায় যে তারা সহায়তা করতে পারবে না।

 আরও পড়ুন- 

ভ্যাকসিন ট্রায়ালের ভবিষ্যৎ কী?

 

 

 

/এফএস/এমএমজে/

লাইভ

টপ
X