১৫৩০ জেলে গ্রেফতার

Send
আমানুর রহমান রনি
প্রকাশিত : ০৪:৫৫, অক্টোবর ২৪, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৫:১৪, অক্টোবর ২৪, ২০২০

BT-Newমা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে গত এক সপ্তাহে এক হাজার ৫৩০ জন জেলেকে গ্রেফতার করেছেন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। তাদের মধ্যে কমপক্ষে এক হাজার ১৪ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ধ্বংস করা হয়েছে প্রায় ১১ কোটি মিটার কারেন্ট জাল ও তিন শতাধিক নৌকা।  শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকালে নৌ-পুলিশ ও কোস্ট গার্ড বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। 

গত ১৪ থেকে ২৩ অক্টোবর সকাল পর্যন্ত এসব জেলেদের গ্রেফতার করা হয়।

ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্র সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে মৎস্য সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী ইলিশের ভরা প্রজনন মৌসুমে দেশের নির্দিষ্ট উপকূলীয় এলাকায় ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ উপলক্ষে গত ১৪ অক্টোবর থেকে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন প্রজনন এলাকায় ইলিশ মাছ ধরা নিষিদ্ধ করে সরকার। এ সময় আইন অনুযায়ী সারাদেশে ইলিশ মাছের আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ এবং কেনাবেচা নিষিদ্ধ থাকবে।

‘মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান- ২০২০’ পরিচালনায় মৎস্য অধিদফতর, নৌ-পুলিশ ও কোস্ট গার্ড তৎপর ভূমিকা পালন করছে। জেলেদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রথমে এ বিষয়ে লিফলেট বিতরণ, পোস্টারিং, মাইকিংসহ নানাভাবে প্রচারণা চালানো হয়েছে। তারপরও কিছু অসাধু জেলে ও বোট মালিক নদী ও সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলে ইলিশ শিকারে যায়। তাদের বিরুদ্ধেই আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করছে নৌ-পুলিশ, কোস্ট গার্ড ও মৎস্য অধিদফতর।

২কোস্ট গার্ডের পাঁচটি ঘাঁটি, ২৩টি ছোট-বড় জাহাজ এবং ৫৮টি স্থায়ী ও চারটি অস্থায়ী কন্টিনজেন্টের সদস্যরা শতাধিক কোস্ট গার্ড বোট ও সিভিল বোটের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন নদীতে নিয়মিত টহলে নিয়োজিত রয়েছেন। এছাড়াও নদীগুলোতে কাজ করছে নৌ-পুলিশ।

কোস্টগার্ড ও নৌ-পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, এক হাজার ২৮৪ জনকে নৌ-পুলিশ এবং ২৪৮ জনকে কোস্টগার্ড গ্রেফতার করেছে। তাদের মধ্যে এক হাজার ১৪ জনকে কারাদণ্ড ও বাকিদের জরিমানা করা হয়েছে। অভিযানে ১০ কোটি ৫৫ লাখ ৩ হাজার ২০ মিটার কারেন্ট জাল উদ্ধারের পর ধ্বংস করা হয়েছে। ৩৮৩টি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা ধ্বংস করা হয়েছে। দুই শতাধিক নৌকা, ফিশিংবোট ও স্পিডবোট পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিদের জিম্মায় রাখা হয়েছে।  ৯ হাজার ২৮০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করে বিভিন্ন এতিমখানায় দেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ ও কোস্টগার্ড।

কোস্ট গার্ড সদর দফতরের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট বিএন খন্দকার মুনিফ তকি এ তকি বলেন, ‘গত ১৪ থেকে শুরু করে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড কর্তৃক উপকূলীয় অঞ্চলের বিভিন্ন নদ-নদীতে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। এ সময় জব্দকৃত জালগুলো স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেট ও মৎস্য কর্মকর্তার উপস্থিতিতে আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয় এবং জব্দকৃত মাছ স্থানীয় এতিম ও দুস্থদের মাঝে বিতরণ করা হয়।’ আটক জেলেদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের এখতিয়ারভুক্ত এলাকাগুলোতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, ডাকাতি দমন, জননিরাপত্তার পাশাপাশি, অবৈধ জাল দিয়ে মাছ আহরণ, জাটকা নিধন ও মা-ইলিশ রক্ষায় কোস্ট গার্ডের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

1এদিকে, অভিযান চলার সময় নৌ-পুলিশের উপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশের কাজে বাধা দেওয়া ও হামলায় তিনটি মামলা হয়েছে।

নৌ-পুলিশ সদর দফতরের ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স বিভাগের পুলিশ সুপার আ. ক. ম. আক্তারুজ্জামান বসুনিয়া বলেন, ‘গত ১৪ অক্টোবর থেকে চলমান অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭৫ টি মামলা হয়েছে।  এরমধ্যে ৭২টি মৎস্য আইনে এবং তিনটি পুলিশের উপর হামলার ঘটনায়। এছাড়াও ১২৭টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। কিছু অসাধু ব্যক্তি ও জেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে নদীতে যায়। তবে আমাদের তৎপরতায় তারা ধরা পড়ছে। মা ইলিশ সংরক্ষণে যা যা করা দরকার আমরা করবো।’

চাঁদপুর কান্ট্রি ফিসিং বোট মালিক সমিতির সভাপতি শাহ আলম মল্লিক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কিছু মৌসুমি জেলে, আড়তদার নিষেধাজ্ঞার পরও মাছ শিকার করতে যায়। যারা নিয়মিত জেলে বা আড়তদার তারা কেউ এখন নদীতে যাচ্ছে না। কিছু মৌসুমি ব্যবসায়ী কারেন্ট জাল নিয়ে নদীতে যাচ্ছে। তারাই ধরা পড়ছে। আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের সহযোগিতা করছি।’

 

/এমএএ/

লাইভ

টপ