X
বুধবার, ২৪ জুলাই ২০২৪
৯ শ্রাবণ ১৪৩১

‘ধর্ষণ হচ্ছে নিকৃষ্টতম অপরাধ’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২২ জুন ২০২১, ১৮:৩৯আপডেট : ২২ জুন ২০২১, ১৮:৪১

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান নাছিমা বেগম বলেছেন, যত অপরাধ আছে এরমধ্যে নিকৃষ্টতম ও ঘৃণ্যতম অপরাধ হচ্ছে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা ও ধর্ষণ। আপনারা দেখেছেন ছেলে শিশুরাও ধর্ষণ ও নির্যাতনের শিকার হয়। মাদরাসাগুলোতে সংঘটিত এমন অনেক ঘটনা আপনাদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে আমরা সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ ও নির্দেশনা দিয়েছি।

মঙ্গলবার (২২ জুন) বিভিন্ন গণমাধ্যমে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বিষয়ক রিপোর্টিংয়ে নিয়োজিত সাংবাদিকদের সঙ্গে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের জাতীয় ইনকোয়ারি কমিটির ভার্চুয়াল মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাছিমা বেগম বলেন, আমরা মনে করেছিলাম করোনার সময়ে মানুষের মধ্যে একটা ভীতি আসবে, এ সময়ে অন্তত মানুষ অপরাধ প্রবণতা বন্ধ রাখবে বা কমে আসবে। কিন্তু আমরা দেখলাম উল্টো আরও বেড়ে গেছে। তখন আমরা এর পেছনের কারণ খুঁজে বের করার সিদ্ধান্ত নিলাম। আপনাদের প্রতিবেদন থেকেই দেখা গেছে, ৭০ বছরের একজন বৃদ্ধা ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। আবার ছয় বছরের একটা শিশুও বাদ যাচ্ছে না। এদের মধ্যে এমন কী আকর্ষণ আছে যে তাদের ওপরও অত্যাচার নিপীড়ন চালাতে হবে?

এসব ঘটনায় অনেক সময় কমিশন স্বপ্রণোদিত হয়ে মামলা করে উল্লেখ করে নাছিমা বেগম বলেন, এমন অনেক মামলা এখন আমাদের কাছে আছে। এ ছাড়াও আমাদের কাছে যেসব অভিযোগ আসে সেগুলো আমলে নিয়ে কাজ করি। আমরা একটা সফটওয়্যার রেডি করছি, যাতে এসব ঘটনাগুলোকে দ্রুত বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে পারি। যাতে প্রত্যেকটা জিনিস মনিটরিং করতে সহজ হয়।

এসব কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে জেলা মানবাধিকার সুরক্ষা কমিটি গঠন করার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে উল্লেখ করেন মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান। সব জেলায় কমিটি করার উদ্দেশ্য সম্পর্কে তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ অনেক সময় বিভিন্ন এনজিওকে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন মনে করে। যেমন বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন নামে একটি সংগঠনের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আবেদন করা হয়েছে। যাতে তারা কমিশন শব্দটা ব্যবহার করতে না পারে। আরেকটা হচ্ছে বাংলাদেশ মানবাধিকার কাউন্সিল। তারা আমাদের ওয়েবসাইট ব্যবহার করে লোক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিয়েছিল। এতে মানুষ বিভ্রান্ত হয় যে কমিশন থেকে লোক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে আমি মনে করি গণমাধ্যমকে সজাগ থাকতে হবে। মানুষ যাতে প্রতারণার শিকার না হয় সেজন্য আমরা গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছি।

তিনি বলেন, সম্প্রতি নারী পাচার ও কিশোর গ্যাং এর তৎপরতা বেড়ে গেছে। নারীদের বিভ্রান্ত করে পাচার করে দিচ্ছে। মোবাইল প্রযুক্তির অপব্যবহারের কারণে শিশু-কিশোরদের মধ্যে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। এ জায়গাগুলোতে আমরা কাজ করছি।

মানবাধিকার কমিশন বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করতে পারছে না এমন সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে নাছিমা বেগম বলেন, আমরা পুলিশের বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্ত করতে পারি না। এ ক্ষেত্রে আপনারা রিপোর্ট করেন যে আমরা কিছু করছি না। আইন অনুযায়ী এখানে আমাদের প্রতিবেদন চাইতে হয়। আমরা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে প্রতিবেদন চাই। সেই প্রতিবেদনের জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হয়। বর্তমান কমিশন আসার পর আগের চেয়ে বেশি প্রতিবেদন পাচ্ছি। তাদের প্রতিবেদনের সঙ্গে আমাদের দ্বিমত হলে আমরা আবার তদন্ত করাচ্ছি, খতিয়ে দেখছি।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মকবুল হোসেন। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় ইনকোয়ারি কমিটির আহ্বায়ক ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য জেসমিন আরা বেগম প্রমুখ।

/জেইউ/ইউএস/
সম্পর্কিত
‘দখল-বেদখলে বিপর্যস্ত বনভূমি, উদ্ধারে নেই দৃশ্যমান পদক্ষেপ’
আদালতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান
রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘে প্রস্তাব গৃহীত
সর্বশেষ খবর
কারফিউ বা সান্ধ্য আইন কী 
কারফিউ বা সান্ধ্য আইন কী 
ইথিওপিয়ায় ভূমিধসে নিহত বেড়ে অন্তত ২২৯
ইথিওপিয়ায় ভূমিধসে নিহত বেড়ে অন্তত ২২৯
কোটা আন্দোলন: প্রধানমন্ত্রীর বর্ণনায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র 
কোটা আন্দোলন: প্রধানমন্ত্রীর বর্ণনায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র 
চাকরিতে কোটা: প্রজ্ঞাপনে যা আছে
চাকরিতে কোটা: প্রজ্ঞাপনে যা আছে
সর্বাধিক পঠিত
চাকরিতে কোটা: প্রজ্ঞাপনে যা আছে
চাকরিতে কোটা: প্রজ্ঞাপনে যা আছে
কোটা আন্দোলন: প্রধানমন্ত্রীর বর্ণনায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র 
কোটা আন্দোলন: প্রধানমন্ত্রীর বর্ণনায় ক্ষয়ক্ষতির চিত্র 
ইন্টারনেটে বিঘ্ন ঘটায় বাংলা ট্রিবিউন পাঠকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখপ্রকাশ
ইন্টারনেটে বিঘ্ন ঘটায় বাংলা ট্রিবিউন পাঠকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য দুঃখপ্রকাশ
কারফিউ বা সান্ধ্য আইন কী 
কারফিউ বা সান্ধ্য আইন কী 
ইথিওপিয়ায় ভূমিধসে নিহত বেড়ে অন্তত ২২৯
ইথিওপিয়ায় ভূমিধসে নিহত বেড়ে অন্তত ২২৯