X
রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২
১৯ আষাঢ় ১৪২৯
টার্গেট প্রবাসীদের বাড়ি

রাজধানীর চারপাশে বেপরোয়া ডাকাত চক্র

আপডেট : ২৬ মে ২০২২, ১৫:২৩

রাজধানী ঢাকার চারপাশে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ডাকাত চক্র। টার্গেট প্রবাসী ও ধনী ব্যক্তিদের বসতবাড়ি। একের পর এক ঘটছে ডাকাতির ঘটনা। ডাকাতি করতে গিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করছে ডাকাত দলের সদস্যরা। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুট করে নিয়ে যাচ্ছে সোনা-গয়না ও নগদ টাকাসহ মূল্যবান সামগ্রী। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনও কোনও ঘটনায় দুই-একজন ডাকাত সদস্যকে ধরতে পারলেও উদ্ধার করতে পারছে না লুট করা সামগ্রী। ডাকাত দল ঠেকাতে রীতিমতো পাহারাদারও বসানো হয়েছে অনেক এলাকায়।

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আগের চাইতে ডাকাতি কিছুটা বেড়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও তৎপর। ডাকাত দলের সদস্যদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। ডাকাতি করার জিনিসপত্রও উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। স্থানীয় থানা পুলিশের পাশাপাশি পুলিশ সদর দফতরের নির্দেশে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশও ডাকাত চক্রের সদস্যদের ধরতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত দুই মাসে রাজধানীর উপকণ্ঠ কেরানীগঞ্জ, সাভার, ধামরাই, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ এলাকায় অর্ধশত ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। কেরানীগঞ্জেই এক মাসে অন্তত আটটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় ডাকাত দলের সদস্যদের কাউকে কাউকে গ্রেফতার করতে পারলেও ডাকাতি করা কোনও মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

গত ২৫ এপ্রিল মধ্যরাতে কেরানীগঞ্জের ঘোষকান্দা গ্রামের বাসিন্দা সানাউল্লাহ মিয়ার বাড়িতে একদল ডাকাত সদস্য হানা দেয়। ডাকাতির কাজে বাঁধা দেওয়ায় ডাকাত সদস্যদের গুলিতে অন্তত ১০ জন আহত হন। ডাকাতদের আঘাতে এক স্কুলছাত্র দীর্ঘদিন অচেতন অবস্থায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি ছিল। সম্প্রতি তাকে হাসপাতাল থেকে  বাসায় নেওয়া হলেও এখন মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছে।

একইদিনে প্রবাসী সানাউল্লাহর বাড়িতে হানা দেওয়ার আগে ইসলাম মিয়া নামে আরেক ব্যক্তির বাড়িতে ডাকাতদল হানা দিয়ে সাত লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এ ঘটনায় ইব্রাহীম মিয়া বাদী হয়ে কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দয়ের করেছেন। ইব্রাহীম মিয়া জানান, ডাকাতদল পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে নগদ টাকাসহ সাড়ে সাত লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। তাদের বাড়ি থেকে বের হয়ে চাচাতো ভাই সানাউল্লাহর বাড়িতে ডাকাত সদস্যরা ঢুকলে চান মিয়া ও আলি নূর চিৎকার শুরু করে। এসময় ডাকাত সদস্যরা গুলি ছোঁড়ে। ডাকাতের গুলিতে ও হামলায় রোকসানা, আলী নুর, চান মিয়া, কাউসার, সুরত আলী, রিপন ও মিজান নামে বেশ কয়েকজন আহত হন। পুলিশ এখনও ডাকাতি করা মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ এপ্রিল থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত দুই সপ্তাহের ছয় রাতেই কেরানীগঞ্জের কোনও না কোনও বাসায় ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ধারাবাহিক ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। এলাকার লোকজন চাঁদা তুলে ডাকাত দলের হাত থেকে বাঁচতে পাহারাদারও বসিয়েছেন। রাতে সন্দেহভাজন কাউকে এলাকায় দেখলেই পাহারাদাররা বাঁশি বাজিয়ে এলাকাবাসীকে সতর্ক করেন।

দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ জামান জানান, ডাকাতি বন্ধ করতে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। ডাকাত সদস্যদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। এছাড়া রাত্রীকালীন টহল ডিউটি ও তদারকি বাড়ানো হয়েছে।

গত ২৪ ফেব্রুয়ারি ধামরাই থানাধানী কুশুড়া টোপেরবাড়ী এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক রাষ্ট্রদূত সোহরাব হোসেনের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটে। সোহরাব হোসেন ধামরাই এলাকার আওয়ামী লীগের এমপি বেনজীর আহমেদের ভাই। জানা গেছে, সাবেক রাষ্ট্রদূত সোহরাব হোসেন একটি ডুপ্লেক্স বাড়িতে স্ত্রী ও অসুস্থ সন্তান নিয়ে থাকেন। মধ্যরাতে একদল ডাকাত তারা বাসার গ্রিল কেটে ভেতরে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রায় ১৫ লাখ টাকার মালামাল নিয়ে যায়। গত ২২ এপ্রিল মধ্য রাতে কেরানীগঞ্জে লন্ডন প্রবাসী লেহাজ উদ্দিনের বাড়িতে ঢুকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ১৫ ভরি স্বর্ণ ও নগদ টাকাসহ ১৭ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। লেহাজ উদ্দিনের ভাই জামাল উদ্দিন জানান, পুলিশ জানিয়েছে তারা এই ঘটনায় ছয় ডাকাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে, কিন্তু কোনও মালামাল উদ্ধার করতে পারেনি।

কেরানীগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ আবু ছালাম মিয়া জানান, লেহাজ উদ্দিনের বাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় আসামি গ্রেফতার করা হয়েছে। মালামাল উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। এলাকায় ডাকাতি প্রতিরোধের জন্য পুলিশ নিয়মিত কাজ করছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এসব ঘটনা ছাড়াও গত ৩০ এপ্রিল দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের ভাওয়ারভিটির রাবিয়া বেগমের বাড়িতে ডাকাত দল নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকারসহ ৬ লাখ টাকার মালামাল লুট করে। গত ১৯ এপ্রিল মধ্যরাতে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখানে কালিপুরের সিপলু খানের বাড়িতে ডাকাত দল ঢুকে মারধর করে ১৬ লাখ টাকার মালামাল ও নগদ টাকা লুটে নেয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন কর্মকর্তা জানান, ডাকাত সদস্যরা এখন অনেক চালাক হয়ে গেছে। তারা ডাকাতি করার আগে থেকেই নিজেদের কাছে থাকা ইলেকট্রনিক্স ডিভাইস বন্ধ করে ডাকাতি করতে যাচ্ছে। এছাড়া যেসব বাসায় সিসিটিভি আছে, ডাকাতি করে বের হয়ে আসার পথে সিসিটিভি ক্যামেরার ডিভিআর খুলে নিয়ে যাচ্ছে। যাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কেউ তাদের শনাক্ত করতে না পারে।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, তারা রাজধানী ও আশেপাশের এলাকায় ডাকাতি করে এমন একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছেন। এই চক্রের সদস্যদের বেশিরভাগই অল্প বয়সী। বিভিন্ন পেশার আড়ালে তারা নিয়মিত ডাকাতি করে বেড়াচ্ছে। তাদের ধরতে অভিযান চালানো হচ্ছে। যে কোনও সময় তাদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।

/এমআর/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
বিএনপির ত্রাণ কার্যক্রম এক ধরনের বিলাস: কাদের
বিএনপির ত্রাণ কার্যক্রম এক ধরনের বিলাস: কাদের
ঈদে আসছে ইমরানের ‘ঘুম ঘুম চোখে’
ঈদে আসছে ইমরানের ‘ঘুম ঘুম চোখে’
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই দেশের সমঝোতায় ক্ষুব্ধ পিয়ংইয়ং
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দুই দেশের সমঝোতায় ক্ষুব্ধ পিয়ংইয়ং
নড়াইলে অধ্যক্ষকে লাঞ্ছনা: তিন দিনের রিমান্ডে ৪ জন
নড়াইলে অধ্যক্ষকে লাঞ্ছনা: তিন দিনের রিমান্ডে ৪ জন
এ বিভাগের সর্বশেষ
ছিঁচকে চোর থেকে দুর্ধর্ষ ডাকাত সর্দার সাদ্দাম
ছিঁচকে চোর থেকে দুর্ধর্ষ ডাকাত সর্দার সাদ্দাম
মালবাহী ট্রাকে ডাকাতি করতো তারা
মালবাহী ট্রাকে ডাকাতি করতো তারা
ভিন্ন ভিন্ন কাউন্টার থেকে বাসে উঠতো তারা
ভিন্ন ভিন্ন কাউন্টার থেকে বাসে উঠতো তারা
ঠান্ডা শামীম বাহিনীর সর্দারসহ ১১ জন গ্রেফতার
ঠান্ডা শামীম বাহিনীর সর্দারসহ ১১ জন গ্রেফতার
জয়পুরহাটের ব্যাংক ডাকাতরাই কচুক্ষেতে
স্বর্ণ লুটজয়পুরহাটের ব্যাংক ডাকাতরাই কচুক্ষেতে