X
বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই ২০২২
২৩ আষাঢ় ১৪২৯

যুবকের খপ্পরে দুই দফা পাচারের শিকার এক তরুণী

আপডেট : ২৭ মে ২০২২, ১২:০৭

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়, এরপর ঘনিষ্ঠতা। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরেই মৌলভীবাজারের ২৭ বছর বয়সী সোহেল মিয়ার সঙ্গে অবৈধভাবে ভারতে পাড়ি জমিয়েছিলেন পাবনার এক তরুণী (২২)। স্বপ্ন দেখেছিলেন সেখানে চাকরি করে নিজে সাবলম্বী হবেন, সহায়তা করবেন পরিবারে। কিন্তু তা হয়নি, ভারতের কলকাতায় গিয়ে নির্যাতনের শিকার হন তিনি। সেখান থেকে পালিয়েও আসেন, তবে এতেও রক্ষা হয়নি। ওই যুবকের খপ্পরে পড়ে আবারও পাচারের শিকার হন তিনি। এ দফাতেও পালিয়ে দেশে আসতে সক্ষম হয়েছেন তিনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অভিযোগ জানানোর পর গ্রেফতার হয়েছে অভিযুক্ত যুবক।

তরুণীর অভিযোগ ও গ্রেফতার ওই যুবককে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে র‍্যাব জানিয়েছে, প্রথমবার যখন ওই তরুণীকে ভারতের কলকাতায় পাচার করা হয়, তখন মেয়েটির আস্থা অর্জনে সোহেল নিজেও অবৈধভাবে তার সঙ্গে যায়। সেখানে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয় ওই তরুণী। সেখান আটকে রেখে মেয়েটিকে ধর্ষণ করা হয় এবং দেহ ব্যবসার কাজে ব্যবহার করা হয়। পরে সেখান থেকে পালিয়ে দেশে চলে আসে ওই তরুণী।

র‌্যাব জানায়, মেয়েটিকে যখন পাওয়া যাচ্ছিল না তখন সোহেল নিজেও খুঁজতে খুঁজতে বাংলাদেশে চলে আসে এবং মেয়েটির সন্ধান পায়। পরবর্তী সময় মেয়েটিকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। আর এধরনের কোনও কাজ করবে না এমন প্রতিশ্রতি পেয়ে এক পর্যায়ে সোহেলকে বিয়ে করে ওই তরুণী। বিয়ের পর তাকে নন তালবাহানা করে আবারও চাকরির প্রলোভনে ভারতে পাঠাতে রাজি করায় সে। পরবর্তী সময়ে লালমনিরহাট সীমান্ত দিয়ে তিন বিঘা করিডোরের হয়ে সেখান দিয়ে মেয়েটিকে পাচার করে দেয় সোহেল। প্রথম দফায় মেয়েটির সঙ্গে ভারত গেলেও দ্বিতীয় দফায় স্বামী সোহেল মিয়া তার স্ত্রীকে একাই ভারতে পাঠিয়ে দেয়। সীমান্ত থেকে দালালরা তাকে তাদের নির্ধারিত জায়গায় রেখে আসে। 

সেখান থেকে আবারও পালিয়ে বাংলাদেশে এসে লালমনিরহাট সীমান্ত এলাকার পাটগ্রাম থানা আশ্রয় নেয় ওই তরুণী। পরে সোহেল মিয়াসহ পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা কয়েকজনকে আসামি করে একটি মামলাও দায়ের করে সে। সেই মামলায় পাচারকারী চক্রের অন্যতম হোতা সোহেল মিয়াকে মৌলভীবাজার সদর এলাকা থেকে গত ২৪ মে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৯ এর অভিযানিক দল। পরবর্তী সময়ে জিজ্ঞাসাবাদে সোহেলের কাছ থেকে এসব তথ্য পায় র‌্যাব।

দায়েরকৃত মামলার বিষয়ে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ ওমর ফারুক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, মামলা দায়েরের পর থেকে এজাহারনামা তিন আসামিকে আমরা গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছি। তারা মূলত অবৈধভাবে লোকজনদের টাকার বিনিময় সীমান্ত পারাপারের সহায়তা করতো। 

তিনি বলেন, এ ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্যদের ধরতে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়া দু'দেশের মধ্যকার সীমান্তে অবৈধভাবে পারাপারের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। 

ভারতে নারীপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়া প্রসঙ্গে গ্রেফতারকৃত সোহেল মিয়া র‌্যাবকে জানায়, নিকটাত্মীয় একজনের পরিচয়ের সূত্র ধরে অনেক আগে থেকেই ভারতে যাওয়া-আসা করতো সে। সেই সূত্র ধরেই সেখানকার স্থানীয় একটি হোটেল মালিকের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সেই হোটেল মালিক বাংলাদেশ থেকে বিভিন্ন মেয়ে কিংবা নারীদের এনে হোটেলে পতিতাবৃত্তি করাতো। এই প্রলোভনে পড়ে সোহেল রানা ও বাড়তি আয় উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ-এ নারী পাচার চক্রের সাথে জড়িয়ে যায়। এ চক্রের সদস্যরা মূলত নারীদের অবৈধভাবে বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতে পাচার করতো। এই চক্রের ১৫ থেকে ২০ জন সদস্য রয়েছে। সোহেল মৌলভীবাজার থাকলেও ঢাকায় অবস্থান করা মানব পাচারকারী চক্রের সদস্যদের সাথে তার বেশ ভালো সম্পর্ক ছিল।

এখন পর্যন্ত কতজন নারীকে গ্রেফতারকৃত সোহেল ভারতে পাচার করেছে এমন প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে তার কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। সে অনুযায়ী এ চক্রের অন্যান্যদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। সে গত চার থেকে পাঁচ বছর ধরে মানবপাচারকারী চক্রের সাথে জড়িত। সে নিজে সরাসরি এখন পর্যন্ত ৪ থেকে ৫ জন নারীকে ভারতে পাচার করেছে। এছাড়া পাচারকারী চক্রের সদস্যদের সঙ্গে পরোক্ষভাবেও সে জড়িত। এই চক্রের সদস্যরা প্রায় অর্ধশতাধিক নারীদের পাচার করেছে। 

র‌্যাব ৯ এর সহকারী পরিচালক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার নাহিদ হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, গ্রেফতারকৃত সোহেল মিয়া মানব পাচারের কৌশল হিসেবে প্রথমত নারীদের সাথে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের সখ্যতা গড়ে তুলত। এছাড়া ভালো কাজের প্রলোভন দেখিয়ে এবং বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এমনকি বিয়ে করে নারীদের পাচার করতো। 

জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল এই চক্রের অন্যান্য সদস্যদের সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে উল্লেখ করে র‌্যাবের এই কর্মকর্তা বলছেন, ‘মানবপাচারের সাথে ঢাকায় থাকা চক্রের সদস্যদের সাথে তার খুব ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। অন্যান্যদের শনাক্তে আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি অভিযান পরিচালনা করছি’। মানবপাচারের মতো এ ধরনের অপতৎপরতা রোধে র‌্যাব নজরদারি বাড়িয়েছে বলেও মন্তব্য করেন এই কর্মকর্তা।

/ইউএস/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
জামিন হয়নি যমুনা ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার শওকতের
জামিন হয়নি যমুনা ব্যাংকের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার শওকতের
‘পদ্মা-সেতুর’ দাম ২৫ লাখ
‘পদ্মা-সেতুর’ দাম ২৫ লাখ
প্রধানমন্ত্রী এ বছর টোকিও যাবেন
প্রধানমন্ত্রী এ বছর টোকিও যাবেন
পরীক্ষামূলক চালু হচ্ছে মেট্রোরেল
পরীক্ষামূলক চালু হচ্ছে মেট্রোরেল
এ বিভাগের সর্বশেষ
ভারতে প্রবেশ নিয়ে ছড়ানো তথ্য ভিত্তিহীন: ভারতীয় হাইকমিশন
ভারতে প্রবেশ নিয়ে ছড়ানো তথ্য ভিত্তিহীন: ভারতীয় হাইকমিশন
জেএমবির পলাতক আসামি গ্রেফতার
জেএমবির পলাতক আসামি গ্রেফতার
রাজধানীতে ছিনতাইকারী চক্রের ২৬ জন গ্রেফতার
রাজধানীতে ছিনতাইকারী চক্রের ২৬ জন গ্রেফতার
মানবদেহের হাড়-খুলিসহ ৩ তরুণ গ্রেফতার
মানবদেহের হাড়-খুলিসহ ৩ তরুণ গ্রেফতার
বাণিজ্যমন্ত্রীর নামে ফেসবুক আইডি খুলে প্রতারণা
বাণিজ্যমন্ত্রীর নামে ফেসবুক আইডি খুলে প্রতারণা