‘পাচারের শিকার হয়ে ফিরে আসাদের সেবা প্রক্রিয়ায় নিশ্চয়তা প্রয়োজন’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৬ জুন ২০২২, ০৫:২৭আপডেট : ১৬ জুন ২০২২, ০৮:০৬

মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিরা উদ্ধারপ্রাপ্ত হয়ে বা বিভিন্ন নির্যাতনের শিকার হয়ে যখন দেশে ফিরে আসেন, তখন তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন বহুবিধ সেবা প্রক্রিয়ার সার্বিক নিশ্চয়তা। এ ব্যাপারে সরকার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে মানবপাচার প্রতিরোধ ও ভিকটিমের সুরক্ষা প্রদানের জন্য আন্তরিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। 

বুধবার (১৪ জুন) দুপুরে ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘মানবপাচারের শিকার ব্যক্তিদের সুরক্ষা প্রদানে সমন্বিত রেফারেল কাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে রোডম্যাপ‘ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় বক্তারা এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃতে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের সহযোগিতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা উইনরক ইন্টারন্যাশনালের উদ্যোগে ইনসিডিন বাংলাদেশ এর কারিগরি সহায়তায় এ সভার আয়োজন করা হয়। 

এতে অংশ নেন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা, বেসরকারি খাতের শীর্ষ কর্মকর্তা ও মানবপাচার নিয়ে কাজ করা সরকারি-বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থার কর্মকর্তারা। সভা সঞ্চালনা করেন ইনসিডিন বাংলাদেশ এর নির্বাহী পরিচালক এ কে এম মাসুদ আলী। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের উপসচিব (রাজনৈতিক-৩) ঈশিতা রনি।

সভায় জানানো হয়, উদ্যোগের অংশ হিসেবে মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ ও এর বিধি ২০১৭ ও জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৮-২০২২ প্রবর্তিত হয়েছে। তবে এটা প্রতিয়মান যে মানবপাচার প্রতিরোধ ও এর ভিকটিমের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সকল সেবা কার্যক্রম নিশ্চিত করা কোনও একক প্রতিষ্ঠানের পক্ষে সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। তাই সমন্বিত সেবা কার্যক্রম নিশ্চিতকরণ ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজন একটি আন্ত-প্রাতিষ্ঠানিক ও সমন্বিত সেবা প্রদান কাঠামো।

বাংলাদেশে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মানবপাচারের শিকার হয়ে ফিরে আসাদের নানাধরনের সুরক্ষাসেবা প্রদান করে যাচ্ছে উল্লেখ করে সভায় আরও বলা হয়, এই সেবা কার্যক্রমে ফিরে আসাদের প্রবেশগম্যতা বৃদ্ধি করতে এবং অন্যদিকে মানবপাচার প্রতিরোধ সংক্রান্ত কার্যক্রম আরও বেগবান করার লক্ষ্যে জাতীয় রেফারেল ব্যবস্থার আওতায় একটি সমন্বিত কাঠামোর ভূমিকা অপরিহার্য। মানবপাচারের শিকার সারভাইভারদের সুরক্ষাসেবা প্রদানের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত জাতীয় রেফারেল ব্যবস্থায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি সমন্বিত সেবা কার্যক্রমের আওতায় এনে সুরক্ষাসেবা প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আখতার হোসেন বলেন, মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন ২০১২ (বিধি ২০১৭) এবং এরই ধারাবাহকিতায় মানব পাচার প্রতিরোধ ও দমন জাতীয় কর্মপরিকল্পনা ২০১৮-২০২২ এর আওতায় দেশব্যাপী মানবপাচার দমন ও প্রতিরোধ বিশেষ ট্রাইবুনাল প্রতিষ্ঠা করেছে; যা পাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ সরকারের কয়েকটি বলিষ্ঠ পদক্ষেপ। এর স্বীকৃতি হিসেবে, যুক্তরাষ্ট্রের মানবপাচার সংক্রান্ত বিশ্ব প্রতিবেদনে, এখন বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় স্তরে উঠে এসেছে।

তিনি জাতীয় রেফারেল কাঠামোর গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, রেফারেল কাঠামো, বহুপাক্ষিক সমন্বয় নিশ্চিত করতে পারে- যা পাচার পরবর্তী সেবাগুলোকে আরও কার্যকর করে তুলবে। তিনি এই কার্যক্রমে এগিয়ে আসার জন্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সুইজারল্যান্ড দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানান।

অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জননিরাপত্তা বিভাগ-এর অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও আইসিটি) এ কে এম মুখলেসুর রহমান বলেন, জাতীয় রেফারেল কাঠামোটি গড়ে তুলতে এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে কাজ করে চলেছে জাতীয়, আন্তর্জাতিক এবং জাতিসংঘ ভিত্তিক বিভিন্ন সংস্থা।

এই কাঠামো একদিকে যেমন পাচারের শিকার ব্যক্তিকে সংস্লিষ্ট সকলের সমন্বয়ে সঠিক সেবা পৌঁছে দেবে, অন্যদিকে, ২০১২’র আইনের সঠিক বাস্তবায়নেও ভূমিকা রাখবে।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি ছিলেন বাংলাদেশে সুইজারল্যান্ডের দূতাবাসের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্স সুজান মুলার। তিনি তার বক্তব্যে মানব পাচার ভিক্টিমের সুরক্ষায় জাতীয় রেফারেল কাঠামো প্রণয়নে বাংলাদেশ সরকারকে অব্যাহত সহায়তা প্রদান করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন এবং এ ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ের সময়োপযোগী পদক্ষেপ নেওয়ার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন পাচারের শিকার জনগোষ্ঠীর শ্রম অধিকার এবং মানবাধিকার প্রায়শই ক্ষুণ্ণ হয়। তাই পাচারের শিকার ব্যক্তিদের জন্য প্রয়োজন অংশীদারিত্বমূলক ব্যাপক সহায়তা ব্যবস্থার যার সাফল্য নির্ভর করবে দৃঢ় সমন্বয়, নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং মাঠপর্যায়ে সকলের আন্ত-সহযোগিতার উপর।

/এসও/ইউএস/
সম্পর্কিত
এলডিসি’র বিষয়ে সুইজারল্যান্ডের সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে একমত বাংলাদেশ-সুইজারল্যান্ড
ইতালির কথা বলে লিবিয়ায় বিক্রি, নির্যাতন চালিয়ে ৬৩ লাখ টাকা আদায়
সর্বশেষ খবর
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
পঞ্চগড়ে ভাগনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও মামিকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
বিদ্যুতের দাম বাড়ায় শিল্প ও জ্বালানি খাতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম