X
রবিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
২১ মাঘ ১৪২৯
আন্তর্জাতিক অ্যাভিয়েশন দিবস

সংকটে সম্ভাবনার অ্যাভিয়েশন খাত, প্রয়োজন নীতিগত সহায়তা

চৌধুরী আকবর হোসেন
০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:০০আপডেট : ০৭ ডিসেম্বর ২০২২, ০৯:২৮

সম্ভাবনা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত ছিল উপেক্ষিত। তবে সম্প্রতি অ্যাভিয়েশন খাতের অবকাঠামো উন্নয়নে উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। বাংলাদেশকে এভিয়েশন হাব করতে প্রধানমন্ত্রীর সুদূরপ্রসারী চিন্তার প্রতিফলন ঘটাতে অবকাঠামো উন্নয়ন হলেও দক্ষ জনবলের ঘাটতিসহ নীতিগত নানা প্রতিকূলতার মুখে রয়েছে দেশের অ্যাভিয়েশন খাত। নীতিগত সহায়তার অভাবে দাঁড়াতে পারছে না দেশি এয়ারলাইনগুলো। দেশি এয়ারলাইনবান্ধব নীতি হলে এ খাত এগিয়ে যাবে, একই সঙ্গে পর্যটন ও অর্থনীতিতে গতি বাড়বে বলে মত দিয়েছেন এ খাতের সংশ্লিষ্টরা।

৭ ডিসেম্বর বিশ্ব আন্তর্জাতিক অ্যাভিয়েশন দিবস। ‘গ্লোবাল এভিয়েশন ডেভেলপমেন্টের জন্য অগ্রসরমান উদ্ভাবন’ প্রতিপাদ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি রেখেছে আন্তর্জাতিক সিভিল অ্যাভিয়েশন অর্গানাইজেশন। যদিও বাংলাদেশে দিবসটি পালিত হয় না।

স্বাধীনতার ৫০ বছর পার হলেও নানা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে অ্যাভিয়েশন খাত। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু সিভিল অ্যাভিয়েশন অধিদফতর ও বাংলাদেশ বিমান করপোরেশন স্থাপন করলেও পরবর্তীতে এ খাতে কার্যকর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সারা বিশ্বে সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি এবং বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা আলাদাভাবে পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ হেঁটেছে উল্টো পথে, ১৯৮১ সালে সিভিল অ্যাভিয়েশন অধিদফতর এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ দুটো আলাদা সংস্থাকে একীভূত করে একটি সংস্থা করা হয়। বর্তমানে ফের সিভিল অ্যাভিয়েশন অথরিটি থেকে বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা পৃথক করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশে অ্যাভিয়েশন খাতে দক্ষ জনবলের সংকট প্রকট। দেশি এয়ারলাইনগুলোকে এখনও বিদেশি পাইলট, প্রকৌশলীর ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। বর্তমানে দেশি ৪টি এয়ারলাইন যাত্রী পরিবহন করছে। এসব এয়ারলাইনে যে পরিমাণ পাইলট প্রয়োজন, তা দেশে না থাকায় কাজ করছে বিদেশি পাইলটরা। পাইলট তৈরির জন্য নেই সরকারি কোনও উদ্যোগ।

জানা গেছে, দেশে বর্তমানে পাইলট প্রশিক্ষণ একাডেমি ৩টি। এরমধ্যে আরিরাং ফ্লাইং স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ ফ্লাইং একাডেমি, গ্যালাক্সি ফ্লাইং একাডেমির কার্যক্রমও সীমিত পরিসরে। দেশের পাইলট ট্রেনিং একাডেমিগুলো উড়োজাহাজ ও প্রশিক্ষক সংকট, জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিসহ নানা সংকটের মধ্যে রয়েছে। ব্যয় বেশি হওয়ায় ফ্লাইং একাডেমিগুলোতে পড়তে প্রতিষ্ঠানভেদে ৩০-৩৫ লাখা টাকা খরচ হয়। ফলে চাহিদার বিপরীতে সীমিত সংখ্যক পাইলট প্রস্তুত হচ্ছে দেশে। দেশে পাইলট ট্রেনিং একাডেমিতে প্রশিক্ষণ জটিলতাসহ নানা সমস্যা দূর না করা গেলে এ সংকট আরও বাড়বে। ফলে উচ্চ ব্যয়ে বিদেশি পাইলটের ওপর নির্ভর হয়ে পড়বে দেশের এয়ারলাইনগুলো।

বর্তমানে দেশের সকল অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোর সম্প্রসারণ ও উন্নয়ন করা হচ্ছে। সৈয়দপুর বিমানবন্দরকে আঞ্চলিক বিমানবন্দর করে তুলতে নেওয়া হচ্ছে নানা উদ্যোগ। কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক মানের করতে চলছে উন্নয়ন কার্যক্রম। ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণের কাজও শেষ হয়েছে ৫১ শতাংশ। তবে এসব বিমানবন্দরে কাজ করার জন্য দক্ষজনবল তৈরি হয়েছে কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

বেসরকারি বিমান সংস্থা ইউএস বাংলার ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, আমাদের অ্যাভিয়েশন খাতে জনবলের চাহিদা বেড়েছে। যে পরিমাণ জনবল প্রয়োজন সে অনুপাতে দক্ষ লোক নেই। জনবল সৃষ্টি না হলে বিদেশি কর্মীদের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হয় অনেক ক্ষেত্রে। সরকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অ্যাভিয়েশন অ্যান্ড অ্যারোস্পেস বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন করছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পাইলট প্রশিক্ষণসহ এয়ারলাইনগুলোর চাহিদা অনুযায়ী জনবল প্রশিক্ষণ দিলে এ খাত এগিয়ে যাবে।

এয়ারলাইনের পরিচালনা ব্যয়ের ৪০-৪৬ ভাগই জ্বালানি খরচের উপর নির্ভরশীল। বাংলাদেশে জেট ফুয়েলের দাম আন্তর্জাতিক বাজারের চেয়ে বেশি। জ্বালানি তেলের কারণে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হিমশিম খেতে হচ্ছে দেশি এয়ারলাইনগুলোকে। বাংলাদেশি এয়ারলাইনগুলোকে অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটের জন্য আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের চেয়ে ৩০-৪০ শতাংশ বেশি মূল্যে তেল ক্রয় করতে হয়। বেসরকারি এয়ারলাইনগুলোর মালিকদের সংগঠন অ্যাভিয়েশন অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (এওএবি) দীর্ঘদিন ধরে এ সংকট মোকাবিলায় সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে।

এওএবি মহাসচিব ও নভোএয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম মফিজুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের এভিয়েশন খাত জ্বালানি তেলের অত্যধিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সরকারের কাছে আমরা সমাধানের জন্য প্রস্তাব দিয়েছি। পার্শ্ববর্তী দেশে এয়ারলাইনগুলো জ্বালানি তেল নিজেরাই সরাসরি আমদানি করে, আমরাও এ সুবিধা পেলে সংকট মোকাবিলা করতে পারবো।

বৈশ্বিক সংকটের কারণে দেশের অ্যাভিয়েশন খাতও চ্যালেঞ্জের মুখে আছে বলে মনে করেন বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মফিদুর রহমান। তিনি বলেন, বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ থেকে বাংলাদেশ বাইরে নেই। রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ পরিস্থিতিও অ্যাভিয়েশন খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। অ্যাভিয়েশন খাতে নিজের অবস্থান সৃষ্টি করতে হলে সক্ষমতা বাড়ানোও জরুরি। এ লক্ষ্যে সরকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তৃতীয় টার্মিনাল নির্মাণ করছে, অন্যান্য বিমানবন্দরগুলোরও সম্প্রসারণ হচ্ছে। বাংলাদেশ অ্যাভিয়েশন খাতে প্রযুক্তিগত ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে।

/এমএস/
সর্বশেষ খবর
গণজাগরণ মঞ্চের দশক পূর্তি আজ
গণজাগরণ মঞ্চের দশক পূর্তি আজ
বারবার বলেছি আর মারিস না, নেপথ্যে মোটরসাইকেলের মালিকানা
বারবার বলেছি আর মারিস না, নেপথ্যে মোটরসাইকেলের মালিকানা
মাহফুজ আহমেদের ফেরা এবং দীর্ঘ আবেগী আলাপ
মাহফুজ আহমেদের ফেরা এবং দীর্ঘ আবেগী আলাপ
সর্বকালের সেরা বলিউড ছবির পথে ‘পাঠান’
সর্বকালের সেরা বলিউড ছবির পথে ‘পাঠান’
সর্বাধিক পঠিত
দিনদুপুরে তালা ভেঙে ব্যাংক থেকে ৪ লাখ টাকা লুট
দিনদুপুরে তালা ভেঙে ব্যাংক থেকে ৪ লাখ টাকা লুট
ক্রাইম প্যাট্রল থেকে কৌশল শিখে ৫ কিশোরের এক রোমহর্ষক কিলিং মিশন
ক্রাইম প্যাট্রল থেকে কৌশল শিখে ৫ কিশোরের এক রোমহর্ষক কিলিং মিশন
শাকিব ও জোভান প্রসঙ্গে মুখ খুললেন পূজা!
শাকিব ও জোভান প্রসঙ্গে মুখ খুললেন পূজা!
রডের টন লাখ ছুঁই ছুঁই
রডের টন লাখ ছুঁই ছুঁই
‘পুরো ইউক্রেন পুড়বে’
‘পুরো ইউক্রেন পুড়বে’