মধুর আমার মায়ের হাসি

উদিসা ইসলাম
১৪ মে ২০২৩, ০৭:০০আপডেট : ১৪ মে ২০২৩, ০৭:০০

দৈনন্দিন কর্মব্যস্ততা নিয়ে আপনি যখন হতাশায় ডুবে আছেন, ঠিক তখনই হঠাৎ ফোনকলে মা জিজ্ঞেস করবেন—ভালো আছিস তো? কিংবা জ্বরের ঘোরে ভিন্ন শহরে কাঁথা মুড়ি দিয়ে যখন অবসন্ন হয়ে আছেন একটা ফোনালাপে ঘাম দিয়ে জ্বর ছেড়ে যায়। সেই সংযোগ সন্তানের সঙ্গে কেবল মায়ের। মধুর হাসিমাখা মুখ দুদণ্ড শান্তিধারা বয়ে আনে, সে মায়েরই হাসি।

আজ মা দিবস। মায়ের জন্য সন্তানের প্রতিদিনই ভালোবাসা থাকে। তবু আলাদা করে একটু ভালোবাসা জানাতেই আজকের দিনটি।

১৯১৪ সালের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেস মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে ‘মা’ দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এরই ধারাবাহিকতায় আমেরিকার পাশাপাশি মা দিবস এখন বাংলাদেশসহ অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, কানাডা, চীন, রাশিয়া ও জার্মানিসহ শতাধিক দেশে মর্যাদার সঙ্গে পালিত হচ্ছে।

গ্রিসে অনেক আগে থেকেই মা দিবস পালন করা হয় ফেব্রুয়ারি মাসের ২ তারিখে। ব্রিটেনে মার্চ মাসের চতুর্থ রবিবার মা দিবস পালন করা হয়। থাইল্যান্ডে রানি সিরিকিটের জন্মদিনে আগস্ট মাসে পালন করা হয় মা দিবস। তবে আমাদের দেশসহ অধিকাংশ দেশেই মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারই মা দিবস পালন করা হয়।

মায়ের জন্য আলাদা করে দিবস লাগে? এই ভালোবাসা তো সার্বক্ষণিক। সেই তর্ক আজ তোলা থাক। যে মা তার সর্বোচ্চ দিয়ে সন্তানকে গড়ে তোলেন তাকে একটা দিন বিশেষ কৃতজ্ঞতায় স্মরণ করুক পুরো বিশ্ব। ভ্রূণ থেকে দশটি মাস গর্ভে ধারণ করে যে মা সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখান তাকে আলাদা করে "ভালোবাসি" বলতে এই দিন। সেই মায়ের সম্মানে আনুষ্ঠানিকভাবে তার চরণে নত হোক এই পৃথিবীর সন্তানেরা।

কীভাবে এলো এই দিন?

ইতিহাস বলছে—প্রাচীন গ্রিসে বিশ্ব মা দিবস পালন করা হলেও আধুনিককালে এর প্রবর্তন করেন এক মার্কিন নারী। ১৯০৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের আনা জারভিস নামের নারী মারা গেলে তার মেয়ে আনা মারিয়া রিভস জারভিস মায়ের কাজকে স্মরণীয় করে রাখার জন্য সচেষ্ট হন। ওই বছর তিনি তার সান ডে স্কুলে প্রথম এ দিনটি মাতৃদিবস হিসেবে পালন করেন। ১৯০৭ সালের এক রবিবার আনা মারিয়া স্কুলের বক্তব্যে মায়ের জন্য একটি দিবসের গুরুত্ব ব্যাখ্যা করেন। পরে ১৯১৪ সালের ৮ মে মার্কিন কংগ্রেসে সিদ্ধান্ত হয়—মে মাসের দ্বিতীয় রবিবারকে ‘মা’ দিবস হিসেবে পালন করা হবে।

মাকে মনে করে এই বিশেষ দিনে অনেকেই নানা কিছু করেন। নব্বইয়ের দশক থেকে বাংলাদেশে দিবসটি জোরেশোরে পালন শুরু হলে কেউ মাকে উপহার কিনে দেন, কেউ আবার মায়ের পছন্দের খাবার খাওয়াতে নিয়ে যান। আবার গণমাধ্যমে দিবসটির কথা জেনে, মায়েরাও অপেক্ষা করে থাকেন সন্তানেরা কীভাবে দিনটি বিশেষ করে তোলে তা দেখার জন্য। দিনটিতে মায়ের ঘ্রাণে ভেসে থাক সকল সন্তান। যাদের কাছে মা নেই তারা মায়েদের পছন্দের কিছু করুন। এই আয়োজন কেবল কৃতজ্ঞতা আর ভালোবাসা প্রকাশের।

/এমএস/
সম্পর্কিত
বন্দি মায়ের শিশুদের শৈশব কাটছে বন্দিত্বেই 
এক চিরন্তন আশ্রয়ের নাম ‘মা’
‘জেন-জি’ সন্তানের সঙ্গে মায়েদের সম্পর্ক: বন্ধুত্ব, দূরত্ব নাকি নতুন সমীকরণ
সর্বশেষ খবর
পেপারবিহীন সংসদ প্রতিষ্ঠায় ই-পার্লামেন্ট চালুর উদ্যোগ 
পেপারবিহীন সংসদ প্রতিষ্ঠায় ই-পার্লামেন্ট চালুর উদ্যোগ 
বুয়েট ছাত্র সানি হত্যা: ৪৩ বার পেছালো প্রতিবেদন
বুয়েট ছাত্র সানি হত্যা: ৪৩ বার পেছালো প্রতিবেদন
২০ কোটি বছর পর ‘বিলুপ্ত’ হবে মানবজাতি, দায়ী হবে নতুন সুপারকন্টিনেন্ট
২০ কোটি বছর পর ‘বিলুপ্ত’ হবে মানবজাতি, দায়ী হবে নতুন সুপারকন্টিনেন্ট
লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ৪, আহত ২০
লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ৪, আহত ২০
সর্বাধিক পঠিত
সিডনিতে শাবনূরের বাসায় অতিথি তাসকিন, জমলো বারবিকিউ আড্ডা
সিডনিতে শাবনূরের বাসায় অতিথি তাসকিন, জমলো বারবিকিউ আড্ডা
সালমান শাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনামূল্যে দেখা যাবে তিন সিনেমা
সালমান শাহর মৃত্যুবার্ষিকীতে বিনামূল্যে দেখা যাবে তিন সিনেমা
আমার দুঃখ হয় শহীদ জিয়াউর রহমানের সন্তানের জন্য: মামুনুল হক
আমার দুঃখ হয় শহীদ জিয়াউর রহমানের সন্তানের জন্য: মামুনুল হক
‘বাড়ি দখল’ এর ঘটনায় যা বললেন দিলারা জামান
‘বাড়ি দখল’ এর ঘটনায় যা বললেন দিলারা জামান
আরও বড় পদে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান
আরও বড় পদে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান