X
শুক্রবার, ২৪ মে ২০২৪
১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

‘জিসিসি দেশগুলোয় কঠিন আবহাওয়াতে কর্মীর ঝুঁকি কমানোর মতো আইন নেই’

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
২৪ জুন ২০২৩, ১৭:১৬আপডেট : ২৪ জুন ২০২৩, ১৭:১৬

ছয়টি উপসাগরীয় সহায়তা পরিষদের (জিসিসি) দেশগুলোর কোনোটিরই এমন আইন নেই, যা কঠিন আবহাওয়াতে কর্মীদের জন্য তৈরি হওয়া ঝুঁকি কমাতে পারে। প্রতিটি দেশ গ্রীষ্মকালীন কাজের সময় একটি নিষেধাজ্ঞা দেয়, যা গ্রীষ্মকালে দিনের নির্দিষ্ট সময়ে আরোপ করা হয়। বছরের বাকি সময়গুলোতে ধারাবাহিক কর্মঘণ্টার জন্য বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা থাকে। সুসংহত সুরক্ষা নীতির অভাব থাকায় সুরক্ষার বিদ্যমান নিয়মগুলোকে স্বেচ্ছাচারী এবং অ-বৈজ্ঞানিক মনে হয়। রেফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্ট রিসার্চ ইউনিট (রামরু) এবং ভাইটাল সাইনের যৌথ গবেষণায় উপসাগরীয় অঞ্চলে অভিবাসী কর্মীদের ওপর চরম তাপমাত্রা ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সম্পর্কিত তৃতীয় প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

শনিবার (২৪ জুন) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক কর্মশালায় এসব তথ্য তুলে ধরেন রামরুর নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক সি আর আবরার।

তিনি জানান, আমরা এই গবেষণায় দেখিয়েছি, কীভাবে চরম তাপমাত্রা ও উপসাগরীয় দেশগুলোর অগ্রহণযোগ্য শ্রম পরিবেশ একত্রিত হয়ে অভিবাসী কর্মীদের স্বাস্থ্যে বিধ্বংসী পরিণতি ঘটায়। আমরা দেখেছি, চরম তাপ ও সূর্যের আলোতে দীর্ঘসময় কাজ করা দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য সমস্যার দিকে ধাবিত করে। এর জন্য আজীবন চিকিৎসার প্রয়োজন হয়। তীব্র স্বাস্থ্য ঝুঁকি, বিভিন্ন রোগ এবং অন্যান্য নেতিবাচক স্বাস্থ্যের কারণ হিসেবে তাপের সম্ভাব্য ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও এই সমস্যাগুলো কীভাবে প্রতিরোধ করা যায় সে সম্পর্কে ভালোভাবে বোঝার জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সাধারণভাবে অনুপস্থিত। বলা যায়, কোনও তথ্যই নেই। অভিবাসী কর্মীদের ওপর তাপের প্রভাব নিয়ে কোনও তথ্য এবং তাদের মৃত্যুর জন্য প্রাণঘাতী কারণ তাপ– এমন কোনও নথিভুক্ত তথ্য বা রেকর্ড নেই বললেই চলে।  

গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিইউএইচও) মতে, অত্যধিক তাপ ও সূর্যালোকের সংস্পর্শ সব মানুষের জন্য বিরাট শারীরবৃত্তীয় প্রভাব ফেলে এবং প্রায়ই বিদ্যমান স্বাস্থ্যের সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে অকাল মৃত্যু এবং অক্ষমতা বাড়ে। দিন এবং রাতের তাপমাত্রা বৃদ্ধি শরীরে ক্রমবর্ধমান চাপ সৃষ্টি করে এবং শ্বাসযন্ত্র ও কার্ডিওভাসকুলার রোগ, ডায়াবেটিস এবং কিডনি রোগের প্রভাবকে বাড়িয়ে তুলতে পারে। গড় তাপমাত্রার চেয়ে বেশি গরমের সংস্পর্শে আসার কারণে শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা কমে যায়।

গবেষণা বলছে, উপসাগরীয় অঞ্চল দীর্ঘ সময় ধরে উত্তপ্ত থাকে। বেশিরভাগ অংশে বছরে ১০০ থেকে ১৫০ দিনের জন্য সর্বোচ্চ দৈনিক তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়। অপরদিকে, নয়াদিল্লিতে বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায় বছরে ২৪ দিন। চরম তাপমাত্রার ‘তাপপ্রবাহ’ উপসাগরীয় অঞ্চলে বিরল ঘটনা নয়, তবে প্রতি বছরের তিন থেকে পাঁচ মাস হয়ে থাকে।

এছাড়া, উপসাগরীয় দেশগুলোতে বৈশ্বিক উষ্ণতা এক দশমিক ৫ ডিগ্রিতে থাকলেও চরম উষ্ণ দিনের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে এবং বৈশ্বিক উষ্ণতা ৩ ডিগ্রিতে পৌঁছলে সম্ভাব্য বিপর্যয়কর অবস্থা হতে পারে। উপসাগরীয় দেশগুলোতে উচ্চতাপ অভিবাসী কর্মীদের মৃত্যুর জন্য একটি উল্লেখযোগ্য কারণ হিসেবে ইঙ্গিত করার প্রমাণ ইতোমধ্যে রয়েছে।

কুয়েতে অভিবাসী শ্রমিকদের মৃত্যুর একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, অ-কুয়েতি ব্যক্তিদের গরম তাপমাত্রার কারণে মৃত্যুর আপেক্ষিক ঝুঁকি বেশি। কাজের মধ্যে অ-কুয়েতি পুরুষদের চরম গরমের দিনে মৃত্যুর ঝুঁকি দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ বেড়ে যায়। মেডিক্যাল জার্নাল কার্ডিওলজিতে ২০১৯-এ প্রকাশিত একটি সমীক্ষা কাতারে নেপালি অভিবাসী কর্মীদের মধ্যে উচ্চতাপ সংক্রান্ত অসুস্থতা এবং কার্ডিয়াক মৃত্যুহারের সঙ্গে মাসিক গড় তাপমাত্রার মধ্যে একটি শক্তিশালী সংযোগ খুঁজে পেয়েছে।

সি আর আবরার জানান, প্রায়ই অবমাননাকর পরিস্থিতিতে বেশি পরিশ্রমের কাজ এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের চরম উত্তাপের বিপজ্জনক ঝুঁকি সত্ত্বেও অভিবাসী কর্মীদের ওপর তাপের প্রভাব সম্পর্কে প্রায় কোনও তথ্য নেই এবং অভিবাসী কর্মীদের মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রাপ্ত তথ্যেরও কোনও নিবন্ধন নেই। এই দেশগুলোতে তাপ সংক্রান্ত কারণে প্রাণহানি বা কোনও মৃত্যুর ক্ষেত্রে কারণ হিসাবে তাপকে দায়ী করা হয়নি। তাপজনিত মৃত্যুর কোনও তথ্যের অভাব উপসাগরীয় দেশে অভিবাসী শ্রমিকদের মৃত্যুর তদন্ত ও সার্টিফিকেশনের ক্ষেত্রে বিরাট ব্যর্থতার প্রতিফলন ঘটায়।

প্রথম ভাইটাল সাইনস রিপোর্টে দেখা গেছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে বার্ষিক প্রায় ১০ হাজার অভিবাসী কর্মীর মৃত্যুর মধ্যে প্রতি দুই জনের মধ্যে একজনের বেশি মৃত্যুর কোনও অন্তর্নিহিত কারণ কার্যকরভাবে ব্যাখ্যা করা যায় না। কোনও আনুষ্ঠানিক শর্তাবলীর উল্লেখ ছাড়াই তা নিবন্ধিত। 

কর্মশালায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে তাপের প্রভাবে কীভাবে দীর্ঘস্থায়ী ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যায় কর্মীরা তা নিয়ে বিষদ আলোচনা করেন। এ সময় কর্মীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

কর্মশালায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের কিডনি রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. মো. দিলদার হোসেন বাদল, ক্রিটিকাল কেয়ার বিশেষজ্ঞ ডা. মো. মনিরুল ইসলাম, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেনসহ অভিবাসন খাতে কাজ করা বেসরকারি সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।  

/এসও/আরকে/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
সবাই মিলেও পাননি একজনের সমান ভোট, হারাচ্ছেন জামানত
সবাই মিলেও পাননি একজনের সমান ভোট, হারাচ্ছেন জামানত
খারকিভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৭
খারকিভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত ৭
নির্মাণের ২ মাস পর থেকেই বন্ধ চট্টগ্রামের একমাত্র এস্কেলেটর ফুটওভার ব্রিজটি
নির্মাণের ২ মাস পর থেকেই বন্ধ চট্টগ্রামের একমাত্র এস্কেলেটর ফুটওভার ব্রিজটি
সোহাগসহ পাঁচ জনকে ফিফার সাজা
সোহাগসহ পাঁচ জনকে ফিফার সাজা
সর্বাধিক পঠিত
নেপথ্যে ২০০ কোটি টাকার লেনদেন, সিলিস্তাকে দিয়ে হানি ট্র্যাপ
এমপি আজীম হত্যাকাণ্ডনেপথ্যে ২০০ কোটি টাকার লেনদেন, সিলিস্তাকে দিয়ে হানি ট্র্যাপ
পূর্ব তিমুরের মতো খ্রিষ্টান দেশ বানানোর চক্রান্ত চলছে: শেখ হাসিনা
পূর্ব তিমুরের মতো খ্রিষ্টান দেশ বানানোর চক্রান্ত চলছে: শেখ হাসিনা
কবে থেকে পরিকল্পনা ও কেন কলকাতায় হত্যা, জানালো ডিবি
এমপি আনার হত্যাকবে থেকে পরিকল্পনা ও কেন কলকাতায় হত্যা, জানালো ডিবি
বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র?
বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের নিয়ে নতুন ষড়যন্ত্র?
এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না আমার ভাই এমপি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে: মেয়র সেলিম
এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না আমার ভাই এমপি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে: মেয়র সেলিম