বিভিন্ন প্রকল্পের কার্যাদেশ দেওয়া ও প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম-দুর্নীতির আশ্রয় নিয়ে রাষ্ট্রীয় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ যাচাইয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে অভিযান চালানো হয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান কার্যালয়ে। বুধবার (১২ মার্চ) দুপুরে দুদকের এ অভিযানে রেল খাতের অন্তত ৩০ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের কার্যাদেশপ্রাপ্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারের মাধ্যমে বাস্তবায়িত চিনকি আস্তানা-আশুগঞ্জ ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ সংস্কার প্রকল্প, দোহাজারি-কক্সবাজার রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প, কাশিয়ানী-গোপালগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ ও আখাউড়া-লাকসাম রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করা হয়।
দুদকের উপ-পরিচালক ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানান, রেলওয়ে কার্যালয় থেকে পাওয়া রেকর্ডপত্রের তাৎক্ষণিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, প্রায় ২৯৯ কোটি টাকার চিনকি আস্তানা-আশুগঞ্জ প্রকল্পের সুনির্দিষ্ট অভিজ্ঞতা চাহিদা ছিল বিগত পাঁচ বছরের মধ্যে ৫০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ ও ১১০ কোটি টাকার একই কাজ সম্পাদনা এবং ১৪০ কোটি টাকার বাৎসরিক টার্নওভার। অন্যদিকে প্রায় ৬২৮ কোটি টাকার কাশিয়ানী-গোপালগঞ্জ রেলপথ নির্মাণ প্রকল্প যোগ্যতা ছিল বিগত ১০ বছরে একই প্রকৃতির ২০ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণের দুটি চুক্তির কার্য সম্পাদন। এর মূল্যমান ৩০০ কোটি টাকা এবং যে কোনও তিন বছরের ৩০০ কোটি টাকার বাৎসরিক টার্নওভার। এ কাজ দুটি এককভাবে পায় ম্যাক্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার। কিন্তু ওই সময়ে প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক যোগ্যতা চুক্তি অনুযায়ী ছিল না বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়।
সার্বিক পর্যালোচনায় ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোহাম্মদ আলমগীরের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানটিতে অনৈতিক প্রক্রিয়ায় কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে বলে টিমের কাছে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে। এছাড়াও আখাউড়া-লাকসাম ও দোহাজারি-কক্সবাজার প্রকল্পসহ ম্যাক্স গ্রুপের অন্যান্য প্রকল্প সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র চাওয়া হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যাদি প্রাপ্তিসাপেক্ষে যাচাই ও বিশ্লেষণ করে টিম একটি পূর্ণাঙ্গ এনফোর্সমেন্ট প্রতিবেদন কমিশন বরাবর দাখিল করবে।