ছেলেকে দেখার আকুতি জানিয়ে কাঠগড়ায় কাঁদলেন শাজাহান খান

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
১৭ মার্চ ২০২৫, ১৪:১৯ আপডেট : ১৭ মার্চ ২০২৫, ১৪:২৩

বড় ছেলে আসিবুর রহমান খানের সঙ্গে পাঁচ মাস দেখা নেই, এই কথা বলতে বলতে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে কাঁদতে থাকেন সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান। 

সোমবার (১৭ মার্চ) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এম এ আজহারুল ইসলামের আদালতে শুনানি চলাকালে কাঁদেন তিনি। পরে আদালত বাড্ডা থানার রফিকুল ইসলাম হত্যা মামলায় তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। 

এদিন সকাল ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে শাজাহান খানকে আদালতের কাঠগড়ায় তোলা হয়। তখন তিনি আইনজীবীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ করেন। পরে তার উপস্থিতিতে ১০টা ৮ মিনিটে শুনানি শুরু হয়। 

শুনানিতে আইনজীবী মিজানুর রহমান বাদশা বলেন, শাজাহান খান আটবারের সংসদ সদস্য ও দুইবারের মন্ত্রী। তিনি ঐতিহ্যগতভাবে রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান। এর আগে তাকে দুইবার রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে। রিমান্ডে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার বয়স ৭৬ বছর। রোজার মধ্যে রিমান্ডে নিলে হয়রানি হবে, ফের অসুস্থ হয়ে পড়বেন। তাই রিমান্ড নামঞ্জুর করা হোক। 

পরে হাসতে হাসতে তিনি হাজতখানায় যান

রিমান্ড শুনানি চলাকালে ১০টা ২৭ মিনিটে শাজাহান খান বলেন, ‘মাননীয় আদালত আমি কথা বলতে চাই।’ পরে আদালতের অনুমতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জড়িত না। কেন এই মামলা হলো? শুধু আমার বিরুদ্ধে না, আমার বড় ছেলে আসিবুর রহমানকে আসামি করা হয়েছে।’ এ সময় কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, ‘ছেলের সঙ্গে আমার পাঁচ মাস দেখা নেই।’ তখন বিচারক বলেন, আপনার বিষয়ে আইনজীবী কথা বলেছেন।

তবুও শাজাহান খান দুই হাত জোড় করে কথা বলার জন্য সময় চান। তিনি বিচারকের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আমার কথা শুনতে হবে, আমাকে একটু সময় দেন।  ষড়যন্ত্রমূলকভাবে এই মামলা দেওয়া হয়েছে।’ তিনি কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে টিস্যু দিয়ে দুই চোখ মুছতে থাকেন। শুনানি শেষে আদালত তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে ১০টা ৪০ মিনিটে হেলমেট, বুলেট প্রুভ জ্যাকেট ও হাতকড়া পরিয়ে আদালত থেকে তাকে বের করা হয়।

হাজতখানায় নেওয়ার সময় তিনি বলেন, ‘পুলিশ বলেছে কথা বলা নিষেধ। এটা গণতান্ত্রিক দেশ। আমি সারাজীবন কথা বলে এসেছি, কথা বলেই যাবো।’ পরে হাসতে হাসতে তিনি হেঁটে হাজতখানায় যান।

/এনএইচ/আরআইজে/
সম্পর্কিত
আওয়ামী লীগ নেতা শহিদুল গ্রেফতারের পর থানায় অসুস্থ, পাঠানো হলো ঢাকায়
টঙ্গীতে মাদ্রাসায় যৌন নির্যাতন: ঘটনার পরদিন মিষ্টি নিয়ে শিশুটির বাড়িতে শিক্ষক
নিউ গিনি প্রোপার্টিজে ভাঙচুর-লুট: জামায়াত এমপির জামাতাসহ ২ জনের জামিন
সর্বশেষ খবর
‘ক্রসফায়ার’: একশব্দেই ফিরে এলো গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যার ভয়ংকর স্মৃতি
‘ক্রসফায়ার’: একশব্দেই ফিরে এলো গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যার ভয়ংকর স্মৃতি
আইজিপিকে অপসারণের দাবি এনসিপির
আইজিপিকে অপসারণের দাবি এনসিপির
জালে অজগর আর বসতঘর থেকে বিষধর শঙ্খিনী সাপ উদ্ধার
জালে অজগর আর বসতঘর থেকে বিষধর শঙ্খিনী সাপ উদ্ধার
শ্রীলঙ্কার কাছে হারলো বাংলাদেশ
শ্রীলঙ্কার কাছে হারলো বাংলাদেশ
সর্বাধিক পঠিত
মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি
মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে জরুরি বিজ্ঞপ্তি
ভোট দেওয়া নিয়ে অনুশোচনা ও বিএনপি সরকারের সমালোচনা করা নারী আটক
ভোট দেওয়া নিয়ে অনুশোচনা ও বিএনপি সরকারের সমালোচনা করা নারী আটক
‘আমাদের নীরব কান্না দেখার মতো কেউ নেই’
‘আমাদের নীরব কান্না দেখার মতো কেউ নেই’
বন্ধ হয়ে গেলো ঢাকার দুই দশক পুরোনো শপিং মল
বন্ধ হয়ে গেলো ঢাকার দুই দশক পুরোনো শপিং মল
পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে শীত, ১৬ ডিগ্রিতে নামলো তাপমাত্রা
পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে শীত, ১৬ ডিগ্রিতে নামলো তাপমাত্রা