আইনজীবীদের জন্য পৃথক বরাদ্দের আবেদন

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট 
১০ জুন ২০২৬, ১৬:১৩আপডেট : ১০ জুন ২০২৬, ১৬:১৩

আসন্ন ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে আইন ও বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং আইনজীবীদের জন্য পৃথক বাজেট অন্তর্ভুক্তির দাবি জানিয়ে অর্থমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন বাংলাদেশ আইনজীবী সুরক্ষা কাউন্সিল।  

সোমবার (৯ জুন) সংগঠনটির আহ্বায়ক আইনুল ইসলাম বিশাল ও সদস্য সচিব সুমন পুরকায়স্থের সই করা আবেদনে এই দাবি জানানো হয়েছে। 

আবেদনটিতে বলা হয়েছে, বার (আইনজীবী) ও বেঞ্চ (বিচারক) বিচার বিভাগের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে শক্তিশালী বিচার বিভাগ এবং দক্ষ আইনজীবী সমাজের বিকল্প নেই। কিন্তু বিচার বিভাগের জন্য বর্তমান বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত অপ্রতুল। 

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যার মধ্যে আইন ও বিচার বিভাগের জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র ২ হাজার ১৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ মোট বাজেটের ১ শতাংশেরও কম। এই সীমিত বরাদ্দ দিয়ে বিচার বিভাগ পরিচালনা করা সম্ভব হলেও কাঙ্ক্ষিত মানের বিচারসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। 

সংগঠনটির দাবি, দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০১৯ সালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ছিল প্রায় ৩৫ লাখ ৬৯ হাজার, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৬ লাখ ৫২ হাজারে। গত সাত বছরে প্রায় ১১ লাখ মামলা বৃদ্ধি পেয়েছে, যা শতকরা হিসাবে প্রায় ২৫ শতাংশ। অথচ এই বাড়তি চাপ মোকাবিলায় আইন ও বিচার বিভাগের বাজেট প্রয়োজনীয় হারে বৃদ্ধি পায়নি।  

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত আইনজীবীর সংখ্যা প্রায় ৭০ হাজার। গত আট বছরে অধস্তন আদালতে প্রায় ৩০ হাজার এবং সুপ্রিম কোর্টে প্রায় ৮ হাজার আইনজীবী প্র্যাকটিসের অনুমতি পেয়েছেন। কিন্তু আইনজীবীদের প্রশিক্ষণ, দক্ষতা উন্নয়ন, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা কিংবা আইনজীবী সমিতিগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য বাজেটে কোনও উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ নেই। 

বাংলাদেশ আইনজীবী সুরক্ষা কাউন্সিলের নেতারা মনে করেন, আইনজীবীর সংখ্যা বাড়লেও দক্ষ আইনজীবীর সংকট ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। নবীন ও শিক্ষানবিশ আইনজীবীদের জন্য প্রশিক্ষণ এবং আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা না থাকলে ভবিষ্যতে বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমাজ এবং বিচারপ্রার্থী জনগণ গুরুতর সংকটের মুখোমুখি হবে।  

এই পরিস্থিতিতে সংগঠনটি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেটে চার দফা প্রস্তাব তুলে ধরে। প্রস্তাবগুলো হলো— মামলা জট নিরসন, দ্রুত বিচার কার্যক্রম এবং আদালত ও আইনজীবী সমিতির অবকাঠামো উন্নয়নের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ; প্রতিটি আইনজীবী সমিতির জন্য পৃথক বরাদ্দ; শিক্ষানবিশ, নবীন ও প্রবীণ আইনজীবীদের জন্য অর্থনৈতিক প্রণোদনা ও ভাতা; এবং শিক্ষানবিশ ও নবীন আইনজীবীদের প্রশিক্ষণের জন্য বিশেষ বরাদ্দ। 

আবেদনের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রী ও আইনমন্ত্রীর কাছেও পাঠানো হয়েছে বলে জানা। সংগঠনটির নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, বিচার বিভাগের কার্যকারিতা বৃদ্ধি এবং আইন পেশার উন্নয়নের স্বার্থে সরকার তাদের প্রস্তাবগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করবে। 

/বিআই/এসটি/ 
সম্পর্কিত
অ্যাটর্নি জেনারেল আইনজীবীদের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন, বার সভাপতির অভিযোগ
চাঁদপুরে ৩ বিচারকের আদালত বর্জনের ঘোষণা আইনজীবীদের
আইনজীবীর বিরুদ্ধে কললিস্ট বুকের ১১টি পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার অভিযোগ
সর্বশেষ খবর
কফি ন্যাপ কী? এই কৌশল কেন এত কার্যকর
কফি ন্যাপ কী? এই কৌশল কেন এত কার্যকর
রাশিয়ার সর্বোচ্চ পর্বতের চূড়ায় উড়বে বাংলাদেশের পতাকা
রাশিয়ার সর্বোচ্চ পর্বতের চূড়ায় উড়বে বাংলাদেশের পতাকা
সারাভানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ
সারাভানে সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানি নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্ষ
হাসিনার শেখ সেলিম চমকের আড়ালে ঘনীভূত সংকট
হাসিনার শেখ সেলিম চমকের আড়ালে ঘনীভূত সংকট
সর্বাধিক পঠিত
সেই ভবন ভাড়া নিয়ে কী করছিলেন ৬৩ বিদেশি নাগরিক, যা জানালো পুলিশ
সেই ভবন ভাড়া নিয়ে কী করছিলেন ৬৩ বিদেশি নাগরিক, যা জানালো পুলিশ
মেসির পর আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা
মেসির পর আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়কের নাম ঘোষণা
বড় অফারে ছোট করে ‘সিএ’ লিখে প্রচারণার অভিযোগ, বিক্ষুব্ধ গ্রাহক সামলাতে পুলিশ
বড় অফারে ছোট করে ‘সিএ’ লিখে প্রচারণার অভিযোগ, বিক্ষুব্ধ গ্রাহক সামলাতে পুলিশ
শরিয়াহর দোহাই দিয়ে বাবা-মায়ের অধিকার রক্ষার আইনের বিরোধিতা কেন, প্রশ্ন চিফ হুইপের
শরিয়াহর দোহাই দিয়ে বাবা-মায়ের অধিকার রক্ষার আইনের বিরোধিতা কেন, প্রশ্ন চিফ হুইপের
জ্যান্ত সাপকেও দিতে হলো অডিশন 
জ্যান্ত সাপকেও দিতে হলো অডিশন