X
শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪
১৮ ফাল্গুন ১৪৩০

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য ইউজিসির অর্থ বরাদ্দ থাকলে ভালো হতো

নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম
০২ জানুয়ারি ২০২৩, ২০:৩৬আপডেট : ০৪ মার্চ ২০২৩, ১৬:১০

বেসরকারি উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) অর্থ বরাদ্দ থাকলে ভালো হতো। আমরা বিভিন্ন সময় এই দাবি তুলেছি। ভবিষ্যতে হয়তো বাস্তবতার আলোকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইউজিসির অর্থ বরাদ্দ পাবে। যা জনবান্ধব হবে এবং সরকারের ‘সবার জন্য শিক্ষা’ এই কথার বাস্তবতাও থাকবে।

বাংলা ট্রিবিউনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. মো. নুরল আনোয়ার। তিনি দীর্ঘদিন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগে অধ্যাপনা করেছেন।

২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে চারটি অনুমোদিত অনুষদ রয়েছে। চট্টগ্রামের দক্ষিণ খুলশীর নিকুঞ্জ আবাসিক এলাকায় ইউনিভার্সিটির অস্থায়ী ক্যাম্পাস। এরই মধ্যে শিক্ষার্থী-অভিভাবকদের আস্থা অর্জন করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এখানে ১০টি বিভাগে অধ্যয়ন করছেন পাঁচ হাজার পাঁচশ শিক্ষার্থী। প্রতিষ্ঠানের পরিধি বৃদ্ধি পাওয়ায় নগরীর কল্পলোক আবাসিক এলাকায় হচ্ছে স্থায়ী ক্যাম্পাস। যুগোপযোগী শিক্ষা প্রবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষিত সমাজ তৈরিতে ইউনিভার্সিটির চলমান কর্মকৌশল ও ভবিষ্যত পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন ভিসি অধ্যাপক ড. মো. নুরল আনোয়ার।

বাংলা ট্রিবিউন: যুগোপযোগী শিক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরিতে কি ধরনের ভূমিকা রাখছে পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি?

ড. মো. নুরল আনোয়ার: আধুনিক জ্ঞান ও যুগোপযোগী শিক্ষার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরির লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি। শিক্ষার্থীদের দক্ষ, সৃজনশীল ও উদ্ভাবনী শক্তি বিকাশ এবং শিক্ষা কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে প্রতিনিয়ত নানা পদক্ষেপ নিচ্ছি আমরা। আজকের শিক্ষার্থীরা যাতে ভবিষ্যতে নেতৃত্ব দিতে পারেন সেভাবে তৈরি করছি তাদের। আধুনিক কর্মকৌশল ও যুগোপযোগী শিক্ষা পাচ্ছেন বলেই শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আস্থা বেড়েছে আমাদের ওপর। বর্তমানে ১০ বিভাগের ৯টিতে ডিগ্রি প্রদান অব্যাহত আছে। পাঁচ হাজার পাঁচশ শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। আগামী দিনে শিক্ষার্থী আরও বাড়বে। 

বাংলা ট্রিবিউন: বছর বছর শিক্ষার্থী বাড়ছে, সেক্ষেত্রে ভবিষ্যতে আরও বিভাগ বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে কিনা?

ড. মো. নুরল আনোয়ার: বর্তমানে পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন, জার্নালিজম, ইংরেজি, আইন, কম্পিউটার সাইন্স, ইলেক্ট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং, টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং, ফ্যাশন ডিজাইন অ্যান্ড টেকনোলজি ও ন্যাচারাল সাইন্স বিভাগ আছে। ভবিষ্যতে আরও কয়েকটি নতুন বিভাগ খোলার পরিকল্পনা আছে। সে লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছি আমরা।’

উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. নুরল আনোয়ার

বাংলা ট্রিবিউন: শিক্ষার্থী বাড়লে সেক্ষেত্রে ক্যাম্পাস বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে কিনা?

ড. মো. নুরল আনোয়ার: খুলশী থেকে বড় পরিসরে নান্দনিক ও পরিবেশবান্ধব নতুন একটি ক্যাম্পাসে স্থানান্তরিত হওয়ার অপেক্ষায় আছি আমরা। কল্পলোক আবাসিক এলাকায় ক্যাম্পাস নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত। সেখানে এক একরের সমান জায়গা কেনা আছে আমাদের। ১০তলা ভবনের জন্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) প্ল্যান পাস হয়েছে। ২৪ কোটি টাকা সিডিএকে দেওয়া হয়েছে। আশা করছি, স্থায়ী ক্যাম্পাস সেখানেই স্থানান্তরিত হবে। সেখানে ক্যাম্পাসের পরিধি বর্তমানের চেয়ে বড় হবে। তবে খুলশীর ক্যাম্পাস পুরোপুরি সরানো হবে না। কিছু স্থাপনা হয়তো থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য স্থাপনাকে পূর্ণতা দেবে নতুন ক্যাম্পাস।

বাংলা ট্রিবিউন: মানসম্মত শিক্ষা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে আপনারা কেমন কর্মকৌশল অনুসরণ করছেন?

ড. মো. নুরল আনোয়ার: দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের মানসম্মত ও যুগোপযোগী শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ করে দিচ্ছি। নানাবিধ কর্মকৌশলের মাধ্যমে তাদের গড়ে তুলছি। নিয়মিত ক্লাসের ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি একাডেমিক ক্লাসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। যাতে ক্লাস মিস না হয়। ক্লাসের উপস্থিতি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়। প্রত্যেক শিক্ষার্থীর ওপর আমাদের নজর থাকে। পাশাপাশি শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা, আচরণবিধির ব্যাপারে আমরা কঠোর। আমাদের ক্যাম্পাস রাজনীতিমুক্ত। আমাদের নেওয়া পদক্ষেপগুলো ইতিবাচক ফল দিচ্ছে। ফলে মানসম্মত শিক্ষা অর্জন করতে পারছেন আমাদের শিক্ষার্থীরা। 

বাংলা ট্রিবিউন: পোর্ট সিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের কম খরচে পড়াশোনার সুযোগ আছে কিনা?

ড. মো. নুরল আনোয়ার: সরকারি রাজস্ব ও শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা এবং প্রতিষ্ঠানের যাবতীয় খরচ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকেই আসে। সে তুলনায় কিন্তু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনায় খরচ বেশি নয়। মুনাফার জন্য নয়; জ্ঞান বিতরণের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়েছি আমরা। ফলে মেধাবী শিক্ষার্থীদের অনেক ছাড় দিই। বিভিন্ন ধরনের ফি মওকুফ করা হয়। যাদের আর্থিক সামর্থ্য নেই তারা যেন ভর্তি হয়ে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারেন সে ব্যবস্থা রেখেছি আমরা। জিপিএ-৫ পাওয়া কোনও কোনও শিক্ষার্থীকে বিনা ফি-তে পড়াই। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একসঙ্গে সব ফি গ্রহণ করি না। ধাপে ধাপে সেশনভিত্তিক ফি গ্রহণ করি। যাতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের ওপর চাপ সৃষ্টি না হয়। বছরে তিন কোটি টাকা সরকারকে রাজস্ব দিচ্ছি। এরপরও শিক্ষার্থীদের ওপর বাড়তি ফি ধার্য করিনি। সবকিছু সমন্বয় করে চলতে হয় আমাদের।’

বাংলা ট্রিবিউন: কি ধরনের পদক্ষেপ নিলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার খরচ কমবে?

ড. মো. নুরল আনোয়ার: দেশের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে অর্থ বরাদ্দ দিয়ে থাকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি)। সেইসঙ্গে শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা সরকারিভাবে হয়। অবকাঠামো উন্নয়ন ও যাবতীয় খরচ সরকার বহন করে। শিক্ষার্থীদের সরকারি নানা সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়। যার কোনোটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই। ফলে খরচ একটু বেশি হওয়া স্বাভাবিক। খরচ কমাতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অর্থ বরাদ্দ থাকলে ভালো হতো। আমরা বিভিন্ন সময় এই দাবি তুলেছি। ভবিষ্যতে হয়তো বাস্তবতার আলোকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইউজিসির অর্থ বরাদ্দ পাবে। যা জনবান্ধব হবে এবং সরকারের ‘সবার জন্য শিক্ষা’ এই কথার বাস্তবতাও থাকবে। তখন শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খরচটা কমে যাবে।’

/এএম/
সম্পর্কিত
বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা চায় ইউজিসি
বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিতের আহ্বান ইউজিসির
ইউরোপে কর্মসংস্থানের সুযোগ নিতে গ্র্যাজুয়েটদের প্রতি শিক্ষামন্ত্রীর আহ্বান
সর্বশেষ খবর
এনআইডি জালিয়াতির সহায়তাকারীদেরও ছাড় নয়: সিইসি
এনআইডি জালিয়াতির সহায়তাকারীদেরও ছাড় নয়: সিইসি
ধার করা ডায়ারের সঙ্গে সম্পর্ক পাকাপাকি করলো বায়ার্ন
ধার করা ডায়ারের সঙ্গে সম্পর্ক পাকাপাকি করলো বায়ার্ন
শিক্ষা ও ক্যারিয়ার উন্নয়নে আত্মপ্রকাশ করলো ‘এমএইচ গ্লোবাল গ্রুপ’
শিক্ষা ও ক্যারিয়ার উন্নয়নে আত্মপ্রকাশ করলো ‘এমএইচ গ্লোবাল গ্রুপ’
উন্নত বাংলাদেশ গঠনে লজিস্টিক খাতের উন্নয়ন অপরিহার্য
উন্নত বাংলাদেশ গঠনে লজিস্টিক খাতের উন্নয়ন অপরিহার্য
সর্বাধিক পঠিত
নতুন ৭ প্রতিমন্ত্রী: কে কোন দফতরে
নতুন ৭ প্রতিমন্ত্রী: কে কোন দফতরে
ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বিএসসি পাস মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ
ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের বিএসসি পাস মর্যাদা দেওয়ার উদ্যোগ
মোবাইল অপারেটররা দিতে পারবে ওয়াই-ফাই সেবা, আপত্তি আইএসপি অপারেটরগুলোর
মোবাইল অপারেটররা দিতে পারবে ওয়াই-ফাই সেবা, আপত্তি আইএসপি অপারেটরগুলোর
স্কুলে গণিত ও বিজ্ঞানের শিক্ষক হতে পারেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা: শিক্ষামন্ত্রী
স্কুলে গণিত ও বিজ্ঞানের শিক্ষক হতে পারেন ডিপ্লোমা প্রকৌশলীরা: শিক্ষামন্ত্রী
আগুনে পোড়া শহরে এসে বলিউড বাদশাহ’র নীরবতা
আগুনে পোড়া শহরে এসে বলিউড বাদশাহ’র নীরবতা