বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ১৬ নির্দেশনা, ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রপতির ছবি নয়

Send
এস এম আববাস
প্রকাশিত : ১০:২০, এপ্রিল ০৫, ২০১৮ | সর্বশেষ আপডেট : ১৩:৩০, এপ্রিল ০৫, ২০১৮

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে রাষ্ট্রপতির ছবি ব্যবহারে নিষেধ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আচার্য ও রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। কিছু কিছু বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় সমাবর্তন বা অন্য কোনও অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রপতির ছবি ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ব্যবহার করে থাকে। এ বিষয়টি অনভিপ্রেত উল্লেখ করে এসব ছবি ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ব্যবহারের ক্ষেত্রে এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। এছাড়া, কোনও বিশ্ববিদ্যালয় যেন ভর্তি ও সার্টিফিকেট বাণিজ্য করতে না পারে সে জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য এই বিষয়গুলোসহ মোট ১৬টি নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে। এই ১৬টি নির্দেশনা বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদনও রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে। সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়ে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলা হয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইনকে পাঠানো চিঠিটি গত ৮ মার্চ মন্ত্রণালয়ে পৌঁছায়। চিঠিতে রাষ্ট্রপতির নির্দেশনা ও সিদ্ধান্তগুলো সব বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের ডিও (ডিমান্ড অব অর্ডার) পত্রের মাধ্যমে অবহিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ ও কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা রাষ্ট্রপতির কাছে উপস্থাপন করতে একটি সমন্বিত প্রতিবেদন পাঠাতেও নির্দেশ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতি কার্যালয়ের ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছে শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টি রাষ্ট্রপতি জেনেছেন। আমরা ব্যবস্থা নিচ্ছি। বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হবে।’
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আবদুল হামিদ গত ৬ ফেব্রুয়ারি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যদের সঙ্গে উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন নিয়ে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আব্দুল মান্নানসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেন রাষ্ট্রপতি। ওই দিকনির্দেশনার আলোকে ১৬টি বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে চিঠি পাঠায় রাষ্ট্রপতি কার্যালয়। চিঠিতে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রতিবছর অন্তত একবার এ ধরনের সভা করার পরামর্শও দেওয়া হয়।
রাষ্ট্রপতির নির্দেশনায় যা আছে
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উদ্দেশে রাষ্ট্রপতি তার নির্দেশনায় বলেছেন, দেশের আগামী দিনের যোগ্য নাগরিক গঠনে বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। তাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পাশাপাশি উন্নত নৈতিক চরিত্র গঠনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে আরও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি করা যেতে পারে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তির বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করতে হবে। এছাড়া, শিক্ষার মানোন্নয়নের লক্ষ্যে যুগোপযোগী পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়ন করতে হবে। এক্ষেত্রে দ্রুত অ্যাক্রিডিটেশন কাউন্সিল গঠন করে এর কার্যক্রম শুরুর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যেন সার্টিফিকেট বাণিজ্য, ভর্তি বাণিজ্য ও অতিরিক্ত ভর্তি ফি আদায় করতে না পারে, সে বিষয়েও শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন রাষ্ট্রপতি।
শিক্ষার্থী ভর্তিতে মান ধরে রাখার পাশাপাশি ব্সেরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও মান নিশ্চিত করতে স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া চালুর নির্দেশনা দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। এক্ষেত্রে যোগ্যতার সমন্বিত মানদণ্ড উল্লেখ করে সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অনুসরণীয় একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা যেতে পারে বলে মত দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
এছাড়া, যেসব বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য, সেগুলোতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় নতুন বিভাগ খোলার প্রস্তাবের বিষয়েও এই দুই সংস্থাকে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলেছেন রাষ্ট্রপতি।
শিক্ষার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও জোর দিতেও নির্দেশ দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। জোর দিতে বলেছেন কারিগরি শিক্ষাতেও। ক্রীড়া, বিতর্ক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড জোরদার করার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা যেন উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড জড়িয়ে না পড়ে, তা পর্যবেক্ষণের জন্য কমিটি গঠন করে এর কার্যক্রম সম্পর্কে সরকারকে নিয়মিত অবহিত করতে বলেছেন রাষ্ট্রপতি।
‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০১০’ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করার তাগাদা দিয়ে রাষ্ট্রপতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে তাদের অন্যতম কাজ গবেষণায় মনোযোগী হতে বলেছেন। এই গবেষণাকে উৎসাহিত করতে প্রণোদনার ব্যবস্থাও নিতে বলা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব জমি বন্ধক দেওয়ার বিষয়টি শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। এছাড়া, স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণ করে সেখানে একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত স্থানান্তরের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের দিকনির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়নের তাগাদা দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আর্থিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে নিয়মিত নিরীক্ষা করার প্রতিও জোর দেন তিনি। নিরীক্ষা প্রতিবেদন শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পাশাপাশি আচার্যের অবগতির জন্য রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নির্দেশনায় রাষ্ট্রপতির সঙ্গে উপচার্যদের এ ধরনের সভা বছরে ন্যূনতম একবার করা যেতে পারে বলে মত দেওয়া হয়েছে।

/টিআর/চেক-এমওএফ/

লাইভ

টপ