এইডস, যক্ষ্মা এবং ম্যালেরিয়ার চেয়েও বেশি আক্রান্ত ডায়াবেটিসে

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৪:৪৩, নভেম্বর ১৪, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:০৯, নভেম্বর ১৪, ২০১৯

 দেশে ডায়াবেটিস বিষয়ে যথাযথ সচেতনতা তৈরি করা সম্ভব হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. একে আজাদ। তিনি বলেন, দেশে এইডস, যক্ষ্মা এবং ম্যালেরিয়া মিলে যত মানুষ আক্রান্ত হয়, তার চেয়েও বেশি আক্রান্ত হয় কেবল ডায়াবেটিসে। অথচ ডায়াবেটিস নিয়ে যে সচেতনতা তৈরির কথা ছিল সেটা হয়নি, এটা আমরা যারা ডায়াবেটিস নিয়ে কাজ করি তাদের ব্যর্থতা।

বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বারডেম হাসপাতালের অডিটোরিয়ামে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সোসাইটি।

বিশ্বের ১৭০টি দেশের মতো বাংলাদেশেও দিবসটি পালিত হচ্ছে। বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবসে এবারের প্রতিপাদ্য হলো—‘আসুন, প্রতিটি পরিবারকে ডায়াবেটিস মুক্ত রাখি।’

ডা. আজাদ বলেন, ডায়াবেটিস বহুলাংশে প্রতিরোধযোগ্য। ডায়াবেটিস পুরো বিশ্বেই রয়েছে, কিন্তু উন্নত বিশ্বের চেয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ডায়াবেটিসের প্রকোপ বেশি।

দেশে বর্তমানে ৭০ লাখ ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগী রয়েছে উল্লেখ করে তিনি এ বিষয়ে এখনই জোরালো পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, এটা যদি এখনই প্রতিরোধ করা না যায়, তাহলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যেই এক কোটি পার হয়ে যাবে। তখন এটি কোনও ধনী দেশের পক্ষেও ম্যানেজ করা সম্ভব হবে না।

অতিরিক্ত ভোজন পরিহার, নিয়মিত ভ্রমণ ও ওজন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ডায়াবেটিস প্রতিরোধের কথা বলেন বারডেম জেনারেল হাসপাতালের এন্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ডায়াবেটোলজি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. ফারুক পাঠান। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন তিনি।

অধ্যাপক ডা. ফারুক পাঠান বলেন, যখন জেনেটিক কারণসহ অন্যান্য কারণ যোগ হয়, তখন এই রোগের প্রকোপ বেড়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানীদের মতে, এই রোগের ব্যবস্থাপনায় দুটি বিষয়ের ওপর জোর দিতে হয়। প্রথমত, যাদের ডায়াবেটিস হয়নি তারা যেন ডায়াবেটিসমুক্ত থাকতে পারেন, সেজন্য আগে থেকেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ। আর যারা ইতোমধ্যে আক্রান্ত হয়েছেন তাদের রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করা এবং ডায়াবেটিসজনিত যেসব জটিলতা সৃষ্টি হয় তার থেকে দূরে থাকতে হবে।

তিনি বলেন, ডায়াবেটিসের চিকিৎসা হতে হবে পরিবারভিত্তিক। কারণ রোগীর একার পক্ষে এই রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব না। এ রোগকে নিয়ন্ত্রণ করতে পরিবারের সবাইকে সহায়তা করতে হবে।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম বলেন, স্কুলের বাচ্চাদের খেলার মাঠগুলো আমরা নষ্ট করে ফেলেছি। অপরদিকে, বিভিন্ন জাঙ্ক ফুডের চমকপ্রদ বিজ্ঞাপন দিয়ে সবাইকে আকৃষ্ট করা হয়। এসব বিষয় নিয়ন্ত্রণে আইন প্রণয়নের দাবি জানান তিনি।

/জেএ/টিটি/এমএমজে/

লাইভ

টপ