রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৩:৫০, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ১৪:২২, ডিসেম্বর ১০, ২০১৯




আসকের মানববন্ধন কর্মসূচিরাষ্ট্রীয় বাহিনীর হাতে যেকোনও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে রাজধানীর আসাদ গেটে আয়োজিত এক মানববন্ধন থেকে আসক এসব দাবি জানায়।

মানববন্ধনে আসকের নির্বাহী পরিচালক শিপা হাফিজসহ মানবাধিকারকর্মীরা অংশ নেন। বেলা ১১টা থেকে ১২টা পর্যন্ত মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।

আসকের দাবি 
রাষ্ট্রীয় বাহিনীর যেকোনও ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা, যেমন−বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, হেফাজতে নির্যাতন ও মৃত্যু, দায়িত্বে অবহেলা ইত্যাদির অভিযোগ উঠলে তা দ্রুততম সময়ে নিরপেক্ষভাবে তদন্ত এবং সম্পৃক্তদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে শাস্তি প্রদান করতে হবে। এ পর্যন্ত সংঘটিত সকল গুম, অপহরণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগ তদন্তে নিরপেক্ষ কমিশন গঠন করে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে। রাষ্ট্রীয় বাহিনীকে আটক বা গ্রেফতারের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা সম্পূর্ণভাবে মেনে চলতে হবে।

নাগরিকদের মত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার ও মৌলিক মানবাধিকার যাতে খর্ব না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। কোনও ধরনের ভয়ভীতি কিংবা প্রতিহিংসার শিকার হওয়া ছাড়াই নাগরিকরা যাতে এ অধিকারগুলো চর্চা করতে পারে, সে পরিবেশ নিশ্চিতে জোর দিতে হবে।

গণমাধ্যম ও নাগরিকদের মত প্রকাশের অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে অংশীজনদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধন আনতে হবে।

নারী ও শিশুর ওপর সহিংসতা বন্ধে কার্যকর সচেতনতামূলক ও প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি জোরদার করতে হবে। নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসন সংক্রান্ত সনদের ধারা ২ এবং ১৬ (গ) থেকে আপত্তি প্রত্যাহার করা হবে।

প্রতিবন্ধী, ইনডিজিনিয়াস, দলিত, তৃতীয় লিঙ্গ, অন্য অনগ্রসর জনগোষ্ঠী ও চা বাগানে কর্মরত শ্রমজীবী মানুষের নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের পূর্ণ চর্চা নিশ্চিত এবং রাষ্ট্র ও সমাজ জীবনের সর্বক্ষেত্রে সমান অধিকারের বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিজ বিশ্বাস ও রীতি চর্চার অধিকার ও তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

অংশীজনের মতামতের ভিত্তিতে বৈষম্যবিরোধী আইন দ্রুততম সময়ে অনুমোদন করতে হবে।

জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, তথ্য কমিশন, আইন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন ও নির্বাচন কমিশনকে কার্যকর করে তুলতে হবে এবং এসব প্রতিষ্ঠানে অবসরপ্রাপ্ত আমলা নিয়োগের যে ধারাবাহিকতা চলছে তা বন্ধ করতে হবে। জাতীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যেন স্বাধীনভাবে তাদের ম্যান্ডেট বাস্তবায়ন করতে পারে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা ও গুরুত্বারোপ করতে হবে।

মানববন্ধনে আসকের লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ‘দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, নির্যাতন, মত প্রকাশ ও মুক্তচিন্তার ওপর আঘাত, নারী ও শিশু নির্যাতন, হত্যা ও ধর্ষণের মতো জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে চলছে। কার্যকর জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার প্রাপ্তির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা, বিচারের দীর্ঘসূত্রতা জনগণের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ক্ষেত্র আরও প্রসারিত করছে।’

টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে কেবল জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়ন নয় বরং সামগ্রিক উন্নয়ন, নাগরিকের জীবনের নিরাপত্তাসহ সব মৌলিক অধিকার, জবাবদিহিতা, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয়।

/এআরআর/টিটি/এমএমজে/

লাইভ

টপ