‘আইডিয়াল স্কুলে ওড়না নিষিদ্ধ নয়, ড্রেস কোড নিয়ে অপপ্রচার চলছে’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২২:৪৮, জানুয়ারি ১৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৭:০৩, জানুয়ারি ২২, ২০২০

নতুন ড্রেস কোডে আইডিয়ালের শিক্ষার্থীরা

রাজধানীর ঐহিত্যবাহী আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের ড্রেস কোডে পরিবর্তন আনা হয়েছে। পরিবর্তিত মূল ড্রেস কোডে রয়েছে সালোয়ার, কামিজ, ক্রস বেল্ট ওড়না ও জুতা। এর আগে মেয়েদের ড্রেস কোডে ফ্রগ নির্ধারিত ছিলো, এখন কামিজ নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন থেকে দেশের প্রচলিত ড্রেস কোডের বাইরে ছিল এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি। ছেলেদের জন্য টুপি, মেয়েদের জন্য স্কার্ফ ও অতিরিক্ত হিসেবে বড় ওড়না বাধ্যতামূলক ছিল। নতুন শিক্ষাবর্ষ থেকে এগুলোকে ঐচ্ছিক করা হয়েছে মাধ্যমিক শাখার জন্য। তবে কলেজ শাখার ড্রেস কোড আগের মতোই রয়েছে।

এই ড্রেস কোড পরিবর্তনের পর কয়েকদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। ফেসবুকে অনেকেই দাবি করেন আইডিয়াল স্কুলে ওড়না ‘নিষিদ্ধ’ করা হয়েছে। যদিও প্রকৃতপক্ষে ওড়না নিষিদ্ধ করা হয়নি, ঐচ্ছিক করা হয়েছে। বিষয়টিকে ‘উদ্দেশ্যমূলক অপপ্রচার’ বলছে আইডিয়াল স্কুল কর্তৃপক্ষ।

সামাজিক যোগোযোগ মাধ্যমে এই প্রচারণার পর বনশ্রী শাখায় সাধারণ অভিভাবকদের একাংশ বৃহস্পতিবার বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে অভিভাবক ঐক্য ফেরাম বিক্ষোভ করে বিস্তারিত কর্মসূচি ঘোষণা দেবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. শাহান আরা বেগম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “ওড়না নিষিদ্ধ করা হয়নি। এটা অপপ্রচার। ড্রেস কোড পরিবর্তন করা হয়েছে। পরিবর্তিত ড্রেস কোডে রয়েছে সালোয়ার, কামিজ ও ‘ক্রস বেল্ট ওড়না’। মেয়েরা আগে যে অতিরিক্ত বড় ওড়নাটি ব্যবহার করতো তা ঐচ্ছিক করা হয়েছে। মূল ড্রেসের সঙ্গে যারা অতিরিক্ত বড় ওড়না ব্যবহার করতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করবে, তারা ব্যবহার করতে পারবে। টুপিও ঐচ্ছিক করা হয়েছে। কোনও শিক্ষার্থী চাইলে বড় ওড়না বা টুপি ব্যবহারে কোনও নিষেধ নেই।’’

প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটির সদস্য (শিক্ষক প্রতিনিধি) মাকসুদা আক্তার মালা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “সারাদেশের স্কুল ড্রেসে ‘ক্রস বেল্ড ওড়না’ থাকে ৪ ইঞ্চি। আমাদেরও আগে ৪ ইঞ্চি ছিলো, পরিবর্তিত ড্রেস কোডে করা হয়েছে ৬ ইঞ্চি। ফ্রগ বদলে কামিজ করা হয়েছে। স্কুল ড্রেসে প্রচলিত কামিজের ঘের থাকে ২৪ ইঞ্চি, সেটি বাড়িয়ে ২৬ থেকে ২৮ ইঞ্চি করা হয়েছে। এছাড়া ছেলেদের টুপি, মেয়েদের স্কার্ফ, হিজাব ও অতিরিক্ত বড় ওড়নাটি ঐচ্ছিক করা হয়েছে। এই বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে। আইডিয়াল স্কুলের বিভিন্ন ইস্যুতে যাদের স্বার্থ সংরক্ষিত হয়নি তারাই এই বিষয়টি নিয়ে জল ঘোলা করার চেষ্টা করছে।’’

অভিভাবক ঐক্য ফেরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কয়েকদিন থেকে সাধারণ অভিভাবকরা বনশ্রী শাখায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। অভিভাবকদের দাবি পুরনো ড্রেস কোড রাখতে হবে। পরিবর্তিত ড্রেস কোড বাদ দিতে হবে। যদি ৩১ জানুয়ারি মধ্যে নতুন ড্রেস কোড বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত না নেওয়া হয়, তাহলে ঢাকার দুই সিটির নির্বাচন পর্যন্ত আমাদের ফোরাম পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে। এরপর আন্দোলনে নামবে।’

জিয়াউল কবির দুলু জানান, ‘পরিবর্তিত ড্রেস কোডের মধ্যে ছেলেদের মাথায় টুপি পরার বিষয়টি ঐচ্ছিক করা নিয়ে অভিভাবকদের কোনও উৎকণ্ঠা নেই। যদিও এটি বাধ্যতামূলক থাকলে ভালো হতো। তবে অতিরিক্ত বড় ওড়না ঐচ্ছিক করা হয়েছে। এটি বাধ্যতামূলক করতে অভিভাবকদের দাবি রয়েছে।’ ছেলেদের টুপি ঐচ্ছিক করায় আপত্তি না থাকলে মেয়েদের বড় ওড়না ঐচ্ছিক করায় আপত্তি কেন—এমন প্রশ্ন করা হলে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।

এ বিষয়ে স্কুলের গভর্নিং বডির সভাপতি ও অতিরিক্ত সচিব (বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশন) আবু হেনা মোরশেদ জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন ‘অনেকেই অপপ্রচার চালাচ্ছে, আমরা নাকি মেয়েদের ওড়না নিয়ে নিয়েছি। আপনারা স্কুলে এসে দেখে যান। বাংলাদেশে যতগুলো স্কুল আছে সব স্কুলে মেয়েদের পোশাক হচ্ছে সালোয়ার, কামিজ ও ক্রস বেল্ট ওড়না। ভিকারুননিসা, হলিক্রসসহ দেশের সেরা বিদ্যালয়গুলোতেও এই ড্রেস কোড রাখা রয়েছে। তাহলে এসব স্কুলের পোশাক কি অনৈসলামিক? আমাদের স্কুলে এমনও নিয়ম রয়েছে কেউ যদি চায় তাহলে সে মাথায় হিজাবও পরতে পারবে।’

আবু হেনা মোরশেদ জামান দাবি করেন, গভর্নিং বডি এক বছর আগেই ড্রেস কোড পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। গভর্নিং বডির সর্বসম্মতি ক্রমে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেখা যাচ্ছে অন্য ১০টি স্কুলে যেমন পোশাক রয়েছে আমাদের স্কুলেও একই পোশাক করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের স্কুলে ২৬ হাজার শিক্ষার্থীর ৫২ হাজার অভিভাবক আছে। ৫২ হাজারের মধ্যে সর্বোচ্চ ২০০/৩০০ অভিভাবক বিক্ষোভ করেছেন। তারা সবাই প্রকৃতপক্ষে অভিভাবক কিনা তাও নিশ্চিত নই।’

আবু হেনা মোরশেদ জামান আরও বলেন, ‘অনেকেই বিভিন্ন সময় আমাদের কাছে শিক্ষক নিয়োগ ও ভর্তির জন্য তদবির করতে আসেন। যেগুলো আমরা শুনতে চাই না বা মানি না। তাদের একটি অংশ এই বিষয়টি নিয়ে অযৌক্তিকভাবে জল ঘোলা করছেন। যদি সব অভিভাবক এটার বিরুদ্ধে থাকতেন তাহলে কিন্তু স্কুলের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলতো না।’

/এসএমএ/এমআর/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ