অতি রাজনীতির কারণে পেশার মান কমেছে: ইকবাল আর্সলান

Send
বাংলা ট্রিবিউন ডেস্ক
প্রকাশিত : ০৫:১৭, জানুয়ারি ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০৫:২৫, জানুয়ারি ১৯, ২০২০




অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান (ছবি সংগৃহীত)বিভিন্ন পেশার গুণগত মান কমেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের নেতা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) বেসিক সায়েন্স অ্যান্ড প্যারা ক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. ইকবাল আর্সলান। তিনি বলেন, অতি রাজনীতির কারণে বিভিন্ন পেশার গুণগত মান কমে গেছে। এ কারণে সব পেশার মধ্যে যে কম্পিটেন্সি তৈরি হওয়া বা কোয়ালিটি ও এফিসিয়েন্সির যে ডেভেলপড হওয়ার কম্পিটিশন ছিল তা কমে এসেছে। এই সমস্যায় সব পেশাই আক্রান্ত। অতি রাজনীতির কারণে পেশাগত উৎকর্ষ সাধন না করে অনেকেই দলীয় লেজুড়বৃত্তিতে জড়িয়ে পড়ছেন। আর অতি রাজনীতিকেই ভাবছেন তাদের পেশাগত উৎকর্ষতা।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের একাত্তর জার্নালের আলোচনায় যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। কাওসার মাহমুদের সঞ্চালনায় আলোচনায় আরও অংশ নেন সাংবাদিক জায়েদুল আহসান পিন্টু ও আশরাফ কায়সার।

দেশ ও জাতির স্বার্থে অবস্থার পরিবর্তন দাবি করে ইকবাল আর্সলান আরও বলেন, আমি পেশাজীবীদের নেতৃত্ব দিলেও, আমিই বলছি অতি রাজনীতিকরণ থেকে সব পেশা ও কর্মকে সরিয়ে বা বের করে আনতে হবে। এখানে কোয়ালিটি বা গুণগত মানের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। আমাদের মধ্যে ব্লেম গেম রয়েছে, দেশ ও জাতির স্বার্থে আমাদের এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।

এসময় চিকিৎসকদের উচ্চশিক্ষা কোর্সে শূন্য পাসের বিষয়েও মন্তব্য করেন বিএসএমএমইউ’র বেসিক সায়েন্স অ্যান্ড প্যারা ক্লিনিক্যাল সায়েন্স অনুষদের সাবেক ডিন। তিনি বলেন, আমাদের আন্ডারগ্র্যাজুয়েট ও পোস্টগ্র্যাজুয়েট লেভেলে ত্রুটি আছে। এর জন্য সরকার, শিক্ষক, শিক্ষার্থী সবার দায় রয়েছে। আমাদের প্রশিক্ষকের কমতি রয়েছে। অন্যদিকে আমাদের শিক্ষার্থীরা তাত্ত্বিক জ্ঞানে ভালো হলেও, প্রায়োগিক দিকে দুর্বল। কারণ ট্রেনিংসহ অন্য বিষয়ে শিক্ষার্থীদের মাত্র ১০ শতাংশ সাপোর্ট দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এ অবস্থা আশঙ্কাজনক।

জায়েদুল ইসলাম পিন্টু এর জন্য শিক্ষক ও প্রশিক্ষকদের দায়ী করেন। এছাড়া উচ্চশিক্ষা কোর্সে পড়ার পাশাপাশি শেখার যে বিষয়টি রয়েছে তাও হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। এসময় এফসিপিএস এবং এমডি ডিগ্রিধারীদের মধ্যে দ্বন্দ্বের কারণেও ফলাফলের বিপর্যয় হচ্ছে কিনা প্রশ্ন তোলেন তিনি।

জবাবে অধ্যাপক আর্সলান বলেন, ‘দ্বন্দ্ব রয়েছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের অনেক অভিযোগ পাওয়া গেছে।’

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে প্রশিক্ষণের পূর্বশর্তগুলো পূরণ না করেই বিভিন্ন কোর্স চালু করা হচ্ছে। এসব কোর্সে সুপারভিশনের ঘাটতি আছে। মডিউল নেই, আবার অনেক বিষয়ই ঠিকমতো মেইনটেইন করা হচ্ছে না।

তিনি বলেন, ছাত্র অবস্থায় আমাদের রেজিস্ট্রার ও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেজিস্ট্রাররা ঠিকমতো সাপোর্ট দিতেন। অধ্যাপকদের মনিটরিং ছিল বলে তারা এবং আমরা সক্রিয় থাকতাম। এখন তা হচ্ছে না। এগুলো খুবই অ্যালার্মিং। এখন আমাদের আত্মশুদ্ধি ও নিজেদের নিয়ে ভাববার সময় এসেছে।

ত্রুটি কাটাতে সবাইকে ভাববার আহ্বান জানিয়ে অধ্যাপক ইকবাল আর্সলান বলেন, সরকার লাগামহীনভাবে একের পর এক প্রতিষ্ঠান খোলে যাচ্ছে। তবে সেগুলোর মান নিয়ে ভাবছে না। মানোন্নয়নে প্রধানমন্ত্রী অ্যাক্রিটেশন কাউন্সিল খোলার কথা বলেছেন। এটির বাস্তবায়ন হলে এবং সব পক্ষ এক হলে অবস্থার পরিবর্তন আসবে।

 

আরও পড়ুন:
চিকিৎসকদের ‘জিরো পার্সেন্ট’ পাসের দায় কার?

 

/টিটি/

লাইভ

টপ