করোনা মোকাবিলায় সরঞ্জাম চেয়েও পায়নি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল

Send
জাকিয়া আহমেদ
প্রকাশিত : ১২:৩১, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৮:০৫, ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০

ঢাকার মহাখালীতে অবস্থিত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের করোনা (কোভিড-১৯) আইসোলেশন ইউনিটের জন্য জরুরি ভিত্তিতে এয়ার কন্ডিশন, আইপিএস, সিসি ক্যামেরা, টেলিভিশনসহ অন্যান্য কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসের জন্য আবেদন করা হয়েছিল। একইসঙ্গে হাসপাতালে ১০ বেডের আইসোলেশন ইউনিটের প্রতিটি বেড পৃথক করার জন্য থাই গ্লাসের পার্টিশন আবেদন করেও সাড়া পাওয়া যায়নি গণপূর্ত বিভাগ থেকে।

রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের একাধিক বিশ্বস্ত সূত্র বাংলা ট্রিবিউনকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, ১৩ ফেব্রুয়ারি সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ভোলানাথ বসাক মিরপুর-১ এ অবস্থিত গণপূর্ত ই-এম বিভাগ (৮)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী বরাবর আবেদন করেন। সেখানে হাসপাতালের করোনা ইউনিট (কোভিড-১৯)-এর আইসোলেশনের জন্য পাঁচটি এয়ারকন্ডিশন, আইপিএস, ব্যাটারি (১৫টি টিউবলাইট, ১০টি ফ্যান পরিচালনা ক্ষমতাবিশিষ্ট), ৮টি সিসি ক্যামেরাসহ ৩টি টেলিভিশন চাওয়া হয়। একইদিনে কর্তৃপক্ষ গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, মহাখালী গণপূর্ত বিভাগ, শেরে বাংলা নগর বরাবর জরুরি ভিত্তিতে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে স্থাপিত করোনা ভাইরাসের আইসোলেশন ইউনিটের বেডগুলো থাইগ্লাস দিয়ে পার্টিশন দেওয়ার জন্য আরেকটি আবেদন করা হয়। এরপর ইমেইল এবং ফোনও করা হয়েছে। কিন্তু তারা আমাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগই করেনি।

প্রসঙ্গত, বিশ্বজুড়ে কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পরার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল এবং কুয়েত বাংলাদেশ মৈত্রী সরকারি হাসপাতালকে বিশেষভাবে তৈরি করে কোয়ারেন্টাইন এবং আইসোলেশনের জন্য। তারই অংশ হিসেবে কোয়ারেন্টাইনে থেকে করোনা ছড়ানোর আশঙ্কা থেকে প্রতিটি বেড আলাদা করার পরিকল্পনা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) মহাখালীতে অবস্থিত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, দ্বিতীয় তলায় কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের জন্য ১০ বেডের আইসোলেশন ইউনিট। করোনা সন্দেহভাজন রোগীদের সেখানে রেখে কোয়ারেন্টাইন করা হবে। 

এ ব্যাপারে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের জুনিয়র কনসালটেন্ট ডা. সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘কোয়ারেন্টাইনের জন্য পাশাপাশি ১০ বেড একসঙ্গে রাখা যুক্তিসঙ্গত নয়। কারণ, কোয়ারেন্টাইনে কেউ যদি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয় তার থেকে অন্যদেরও আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আর তাই আমরা প্রতিটি বেডকে আলাদা করার কথা ভেবেছি, গণপূর্তর কাছে আবেদন করেছি। কিন্তু তারা এখন পর্যন্ত কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।’

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, কোয়ারেন্টাইন ইউনিটে সিসি টিভি আছে আর ইউনিটের বাইরের কক্ষে থেকে চিকিৎসকরা ‘সাসপেক্টেট কেস’কে পর্যবেক্ষণ করেন। এই হাসপাতালে চীন ফেরত এক শিক্ষার্থী ওই ইউনিটে ১৪ দিন কোয়ারেন্টাইনে থেকে বাড়ি ফিরেছেন।

ডা. সুলতান মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে আরও বলেন, ‘হাসপাতালে সন্দেহভাজন রোগীরা যাতে ১৪ দিনের কোয়ারেন্টাইনে ভালো থাকেন; সেজন্য আইপিএস, এসি, টেলিভিশন, ওয়াইফাই কানেকশন ও সিসি টিভি ক্যামেরার জন্য গণপূর্ত বিভাগকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’ এছাড়া সেখানে কোনও জেনারেটর নেই বলেও জানান তিনি।

জানা যায়, আবেদনপত্রটির অনুলিপি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক), জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট আট জনকেও দেওয়া হয়েছে।

তবে এই বিষয়ে কেন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি জানতে চাইলে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন অনুবিভাগ) ড. মো আফজাল হোসেনি আবেদনপত্রের বিষয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দুই এলাকার দুই নির্বাহী প্রকৌশলীকে দেওয়া হয়েছে, সচিবকে দেওয়া হয়নি, সেটা না হলে আমি বলতে পারবো না।’

মন্ত্রণালয়ের সচিবের বক্তব্য জানালে ডা. সুলতান মাহমুদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটা তো আসলে মিনিস্ট্রি পর্যন্ত দরকার হয় না। সংশ্লিষ্ট অর্থ্যাৎ দায়িত্বপ্রাপ্ত যিনি নির্বাহী প্রকৌশলী রয়েছেন, তাকেই তো জানানো হয়েছে, তিনিই তো স্টেপ ( পদক্ষেপ) নেবেন। সচিবকেই যদি জানাই তাহলে তো সেটা প্রটোকল মানা হলো না, সবকিছুই তো তাহলে সচিবকে জানাতে হবে।’

এদিকে, গণপূর্ত ই-এম বিভাগ (৮)-এর নির্বাহী প্রকৌশলী এবং গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী, মহাখালী গণপূর্ত বিভাগ, শেরে বাংলা নগর এর সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

/জেএ/এএইচ/

লাইভ

টপ