আর আইনের ব্যত্যয় ঘটতে দেবো না: কুড়িগ্রামের নতুন ডিসি

Send
নুরুজ্জামান লাবু ও মোয়াজ্জেম হোসেন, কুড়িগ্রাম থেকে
প্রকাশিত : ২৩:৩৯, মার্চ ১৯, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩১, মার্চ ২০, ২০২০

কুড়িগ্রামের নতুন ডিসি মোহাম্মদ রেজাউল করিম‘আর আইনের ব্যতয় ঘটতে দেবো না। আমরা আইনের পথে হাঁটবো। এটাই হচ্ছে আমার প্রধান কাজ। কোনও ধরনের আইনের ব্যত্যয় ঘটতে দেবো না।’ যোগদানে পর বাংলা ট্রিবিউনের কাছে এভাবেই প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন কুড়িগ্রামের নতুন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) দুপুরে তিনি জেলা প্রশাসক হিসেবে তিনি যোগদান করেন। এসময় জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তা তাকে ফুল দিয়ে অভিবাদন জানান।

সন্ধ্যায় বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে মোহাম্মদ রেজাউল করিম বলেন, ‘আইন হচ্ছে জনগণের জন্য। পজিটিভলি আমরা কাজ করবো। আইন যেন নিজস্ব গতিতে চলে সেটাই আমি চেষ্টা করবো।’

চাকরির শুরুতেই ২২ ব্যাচের এই কর্মকর্তা কুড়িগ্রামে কর্মরত ছিলেন জানিয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জেলা প্রশাসককে আপনারা যেভাবে দেখতে চান আমি সেভাবেই জনগণের কল্যাণের জন্য কাজ করে যাবো। যেন প্রত্যেক জনগণ যথাযথ সেবা পায়। ডিসিপ্লিন বা আইনের প্রয়োগটা যেন যথাযথ হয় সেভাবেই আমি কাজ করবো।’

জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতি দমনে কী করবেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি নতুন যোগদান করেছি। আমাদের কাছে সরকারের একটি স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে যে, মানুষকে সেবা করতে গিয়ে যেন কোনও ধরনের অস্পষ্টতা তৈরি না হয়। সেরকম অস্পষ্টতার কোনও বিষয় যদি আমার কাছে আসে আমি ডেফিনিটলি ব্যবস্থা নেবো।’ তিনি বলেন, ‘সরকার আমাকে পোস্টিং দিয়েছে, সরকারের যে মোটিভ সেটি আমি বাস্তবায়ন করবো। সেটা করতে গিয়ে আমি আইনের যথাযথ প্রয়োগ করবো।’

সংবাদ ও সাংবাদিকদের উদ্দেশে করে নতুন এই জেলা প্রশাসক বলেন, ‘আপনারা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশ করবেন। আমার কাজের সমালোচনা করবেন। সমালোচনা না করলে আমি ভালো কাজ করছি কিনা তা বুঝতে পারবো না। আমি গঠনমূলক সমালোচনাকে স্বাগত জানাই।’ তিনি বলেন, ‘আমি উন্নয়নের পথে হাঁটবো। আপনারা সবাই আমাকে সহযোগিতা করবেন।’

গত শুক্রবার (১৩ মার্চ) মধ্যরাতে বাংলা ট্রিবিউনের কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম রিগানকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে নির্যাতন করে সাজানো মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এক বছরের সাজা দেওয়া হয়। তৎকালীন জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীনের নির্দেশনায় আরডিসি নাজিম উদ্দীনের নেতৃত্বে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা ও রাহাতুল ইসলামসহ অন্তত ৩৫-৪০ জন রিগানকে তুলে নিয়ে প্রথমে এনকাউন্টার দেওয়ার চেষ্টা করে। পরে তাকে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে নিয়ে বিবস্ত্র করে মারধর করে। পরবর্তীতে ৪৫০ গ্রাম মদ ও ১০০ গ্রাম গাঁজা সঙ্গে দিয়ে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। যদিও আরিফুল ইসলাম অধূমপায়ী।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হলে একদিন পর চাপের মুখে জেলা প্রশাসক নিজেই উদ্যোগ নিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা না বলেই রিগানের জামিনের ব্যবস্থা করেন। তবে ঘটনার পরপরই রংপুরের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার তদন্ত করে সাজানো মোবাইল কোর্টের সত্যতা পান বলে প্রতিবেদন দেন। এরপর জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দীন, দুই ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা ও রাহাতুল ইসলামকে প্রত্যাহার করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করা হয়।

ঘটনার পর জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেছেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে বৃহস্পতিবার নির্যাতিত সাংবাদিক আরিফুর রহমান রিগান সদ্য প্রত্যাহার হওয়া জেলা প্রশাসক সুলতানা পারভীন, আরডিসি নাজিম উদ্দীন, দুই ম্যাজিস্ট্রেট রিন্টু বিকাশ চাকমা ও রাহাতুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা ৩৫-৪০ জনের বিরুদ্ধে কুড়িগ্রাম সদর থানায় একটি অভিযোগ দাখিল করেছেন।

কুড়িগ্রাম সদর থানার ওসি মাহাফুজার রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেছেন, ‘অভিযোগটির বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

/টিটি/টিএন/

লাইভ

টপ