মৃত রোগীর হাত বেঁধে টাকা আদায়ের ঘটনা তদন্ত ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:৪৬, জুলাই ০৭, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২০:৩৭, জুলাই ০৭, ২০২০

সুপ্রিম কোর্টরাজধানীর মালিবাগে প্রশান্তি হাসপাতালে মৃত রোগীর হাত বেঁধে রেখে টাকা আদায়ের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত এবং মৃত ব্যক্তির পরিবারকে এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) নোয়াখালীর সুবর্ণচরের সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কর্মকর্তা মৃত ডা. মহিন উদ্দীন পারভেজের বড় ভাই জসিম উদ্দিন রুবেলের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জহির উদ্দিন লিমন এই রিট দায়ের করেন। তিনি বলেন, ‘রিট আবেদনটির ওপর বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হবে।’

এছাড়া, রিটে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ এনে হাসপাতালের মালিক ডা. এসএম আলিমের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

রিটে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদফতরের (ডিজি) মহাপরিচালক, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) পরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি), শাজাহানপুর থানার (ওসি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, প্রশান্তি হাসপাতালের মালিক ও পরিচালকসহ ১১ জনকে বিবাদী করা হয়েছে।

করোনা আক্রান্ত হয়ে প্রশান্তি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন নোয়াখালীর সুবর্ণচরের সাগরিকা সমাজ উন্নয়ন সংস্থার মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন কর্মকর্তা ডা. মহিন উদ্দীন পারভেজ। রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, অনেকটা সুস্থ থাকার পরও গত ১৪ জুন ভর্তি হওয়ার পরই তাকে প্রায় জোর করে আইসিইউতে পাঠিয়ে দেন আইসিইউ কনসালট্যান্ট ডা. এসএম আলীম।

রিটে উল্লেখ করা হয়, এরপর গত ১৮ জুন ভোরে মহিন উদ্দীন পারভেজ মারা যান। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃতের স্বজনদের কাছে এক লাখ ৫৬ হাজার টাকার বিল ধরিয়ে দেয়। এত টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় রোগীর স্বজন রুবেলের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন ডা. আলীমের ম্যানেজার সাইফুল। রুবেলকে একটি রুমে আটকে রাখা হয়। বলা হয়, টাকা না দিলে তাকে র‌্যাবে দেওয়া হবে। তার ভাইয়ের লাশ আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলামে ‘বেওয়ারিশ’ হিসেবে দিয়ে দেওয়া হবে। পরে রুবেল তার স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। টাকা সংগ্রহের পর এক লাখ ৪০ হাজার টাকা হাসপাতালের খরচ ও প্রায় ৬০ হাজার টাকা ওষুধের দাম পরিশোধ করে ওইদিন সন্ধ্যায় পারভেজের লাশসহ ছাড়া পান রুবেল।

এভাবে রোগীর লাশ আটকে রেখে টাকা আদায়ের ঘটনা ফৌজদারি অপরাধ হওয়ায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশনা ও ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিটটি দায়ের করা হয় বলে জানান রিটকারীর আইনজীবী।

 

/বিআই/এপিএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ