হটকেক গলিতে বিশৃঙ্খলা বেশি

Send
হাসনাত নাঈম
প্রকাশিত : ১৯:৪১, জুলাই ১৫, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২২:০০, জুলাই ১৫, ২০২০

এলাকার বাইরে যাওয়ার জন্য ওয়ারীর হটকেক গলিতে মানুষের ভিড়রাজধানীর রেড জোনভুক্ত এলাকা ওয়ারী লকডাউনের ১২তম দিন আজ। তবে এখনও শৃঙ্খলা ফেরেনি সেখানে। বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে বাইরে বের হওয়ার চেষ্টা অব্যাহত আছে এলাকাবাসীর। মাঝের কয়েকদিন এই প্রবণতা কমলেও এখন আবার ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে লকডাউন অমান্য করার চেষ্টা দেখা গেছে। অন্যান্য দিন দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত ৭০ জনের মতো এলাকা থেকে বাইরে বের হয়েছেন। বুধবার (১৫ জুলাই) সকাল সাড়ে ৯টার মধ্যেই ৭০ জন বের হয়ে গেছেন। এছাড়াও গেটে সিরিয়াল লেগে রয়েছে বাইরে বের হওয়ার জন্য।

এদিকে অনেক এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্বেচ্ছাসেবকরা তাদের সঙ্গে সহজভাবে কথা না বলে রূঢ় আচরণ করছেন। ‘এমনটা হতেই পারে না’ বলে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সারোয়ার হাসান আলো।

বুধবার ১৫ জুলাই লকডাউন এলাকা ঘুরে এবং সকাল ৮টা থেকে সাড়ে ১০টা পর্যন্ত পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, ওয়ারী থেকে একমাত্র বের হওয়ার পথ হটকেক গলিতে এলাকাবাসীর ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। নানা অজুহাতে এলাকা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন তারা। গেটে কর্তব্যরত স্বেচ্ছাসেবকদের এলাকাবাসীকে বুঝিয়ে ফেরত পাঠানোর কথা থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, তারা এলাকাবাসীর সঙ্গে রূঢ় আচরণ করছেন। কয়েকজন নিজের ‘স্বেচ্ছাসেবী’ পরিচয় ভুলে ব্যক্তি পরিচয় দিচ্ছেন। সংবাদমাধ্যমের ক্যামেরা চোখে পড়লেই তারা সুশৃঙ্খল হয়ে যাচ্ছেন আবার।

ওই এলাকার বাসিন্দা সৈয়দ হাবিবুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই এলাকায় আমি দীর্ঘদিন ধরে আছি। অনেক স্বেচ্ছাসেবক আমাকে চেনেন। এরপরও কিছু স্বেচ্ছাসেবকের আচরণ খুবই অভদ্র। কথাবার্তায় ভদ্রতার লেশমাত্র নেই।'এলাকার বাইরে যাওয়ার জন্য ওয়ারীর হটকেক গলিতে মানুষের ভিড়

যে স্বেচ্ছাসেবকের সঙ্গে ওই ব্যক্তির কথা কাটাকাটি হয় সেই স্বেচ্ছাসেবক শেখ ফরহাদ রেজা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'অনেকেই অনেক কিছু বলে চলে যায়। অনেক সময় তাদের দূর থেকে ডাকতে হয়। তখন উচ্চস্বরে ডাকতে গেলে বলে আমি খারাপ ব্যবহার করছি। এলাকাবাসীর অজুহাতের কোনও শেষ নাই। কারও পেটে ব্যথা, মাথাব্যথা, টাকা নাই ব্যাংকে যাবে, অনেক রকম সমস্যা। তবে গেটে কোনও বিশৃঙ্খলা নেই। সবাই বাইরে যাওয়ার জন্য দূরত্ব মেনে লাইনে দাঁড়িয়েছেন।’

বিশৃঙ্খলার বিষয়ে জানতে চাইলে হটকেক গলিতে কর্তব্যরত ওয়ারী থানার সাব-ইন্সপেক্টর রঞ্জিত সরকার বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিশৃঙ্খলা নয়, অনেকে একসঙ্গে হুট করে চলে আসে। তখন একটা জটলা তৈরি হয়। আমরা তাদের লাইনে দাঁড় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছি। যদি কারও ইমারজেন্সি হয়, সেটা যাচাই-বাছাই করে আমরা বাইরে বের হতে দিচ্ছি। তবে মানুষের অজুহাতে সংখ্যা বাড়ছে।'

এদিকে এখন পর্যন্ত ওই এলাকায় করোনা আক্রান্তের সর্বশেষ তথ্য জানতে কন্ট্রোলরুমের কাছে গেলে সেখানে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন স্বেচ্ছাসেবক পরিচয় দেওয়া একজন। পরে তার পরিচয় জানা যায়, তিনি জয়কালী মন্দির ইউনিট আওয়ামী লীগের সভাপতি। মুখে সাধারণ মাস্ক ছাড়া আর কোনও ধরনের সুরক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করতে দেখা যায়নি তাকে। এমনকি সিটি করপোরেশন থেকে সরবরাহ করা ভলান্টিয়ার লেখা জ্যাকেটও পরা ছিলেন না তিনি।

বিশৃঙ্খলার বিষয়ে জানতে চাইলে ওই এলাকার কাউন্সিলর সারোয়ার হাসান আলো বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, 'মানুষকে আটকে রাখা খুব কঠিন কাজ। গেটে ভালোভাবে তদারকি হচ্ছে, কোনও বিশৃঙ্খলা নেই। বিশৃঙ্খলা হওয়ার মতো কোনও ঘটনা ঘটতে পারে না। কারণ, আমাদের স্বেচ্ছাসেবকরা সেখানে সুশৃঙ্খলভাবে কাজ করছে। মানুষের নানা ধরনের সমস্যা থাকে, সেগুলো বিবেচনা করেই বাইরে যেতে দেওয়া হয়। আপনারা হয়তো দেখেছেন একটু আগে একটা পোষা কুকুর অসুস্থ ছিল, সেটিকে চিকিৎসার জন্য তার মালিককে বাইরে যেতে দেওয়া হয়েছে।'

আর সংবাদকর্মীদের সঙ্গে খারাপ আচরণের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, 'এলাকার ছোট ভাই একটা ভুল করে ফেলেছে। বিষয়টা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।'

/এফএস/এমওএফ/

লাইভ

টপ