ঢাকা ও চট্টগ্রাম ওয়াসায় বিতর্কিতদের পুনর্নিয়োগ নয়, আহ্বান ক্যাবের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৬:২১, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৬:২৩, সেপ্টেম্বর ২০, ২০২০

 

ক্যাবঢাকা ও চট্টগ্রাম ওয়াসায় বিতর্কিত,  দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাকসিন এ খান ও ফজুল্লাকে পুনর্নিয়োগ না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে দেশের ক্রেতা-ভোক্তাদের জাতীয় প্রতিনিধিত্বকারী প্রতিষ্ঠান কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো  বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, কোনও প্রকার সার্চ কমিটি না করে ও নিয়োগ বিজ্ঞাপন প্রকাশ না করে এক ব্যক্তিকে বারবার নিয়োগ দিয়ে সরকারি ক্রয়নীতিকে উপক্ষো করা হয়েছে। আর ওয়াসা পরিচালনা পর্ষদ কোন যুক্তিতে এক ব্যক্তিকে বারবার নিয়োগ দেওেয়ার সুপারিশ করেছে, তার সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা ছিল না। ফলে দুই ওয়াসা বোর্ডের কাজ অনেকটাই ব্যবস্থাপনা পরিচালকের রাবার স্টাম্প হিসেবে কাজ করছে বলে মন্তব্য করা হয়। ক্যাব এই দুই ব্যবস্থাপনা পরিচালকের প্রশ্নবিদ্ধ পূনঃ নিয়োগ না দিয়ে নতুন যোগ্য ব্যক্তিকে খুঁজে বের করার জন্য সার্চ কমিটি ও বিজ্ঞাপন প্রদান করে সরকারি ক্রয় ও নিয়োগ-নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণের দাবি জানিয়েছে।

রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো বিবৃতিতে ক্যাবের কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট এস এম নাজের হোসাইন, ক্যাব চট্টগ্রাম বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক কাজী ইকবাল বাহার ছাবেরী, ক্যাব মহানগরের সভাপতি জেসমিন সুলতানা পারু, সাধারণ সম্পাদক অজয় মিত্র শংকু, যুগ্ন সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম,ক্যাব চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল মান্নান, ক্যাব যুব গ্রুপের সভাপতি চৌধুরী কে এনএম রিয়াদ ও সম্পাদক নিপা দাস প্রমুখ উপরোক্ত দাবি জানান।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সেবাদানকারী ঢাকা ও চট্টগ্রাম ওয়াসার এ উদ্যোগের প্রতিবাদ জানিয়ে ক্যাব নেতারা বলেন, বর্তমান দুই এমডিকে অনৈতিক ও বিধিবহির্ভূতভাবে পুনর্নিয়োগ দেওয়ার সুপারিশ করেছে ওয়াসার বোর্ড।  যা ওয়াসার কার্যক্রম ও নীতিমালাকে সহায়তা করার জন্য বোর্ড সদস্যদেরকে অর্পিত দায়িত্বের বরখেলাপ। কারণ, ওয়াসার স্বার্থ সুরক্ষার জন্য সরকার বোর্ড সদস্যদের  নিয়োগ প্রদান করেছেন। কিন্তু তারা ব্যবস্থাপনা পরিচালকের স্বার্থ রক্ষা ছাড়া কিছুই করতে পারেননি। এক ব্যক্তির পুনর্নিয়োগের জন্য বোর্ড সভা আহ্বান করা কতটা যুক্তিসঙ্গত ও নীতি নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ?

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই ঢাকা ও চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনায় এক ব্যক্তির অনৈতিক ও অবৈধ বহাল অব্যাহত রেখে দীর্ঘকালের লালিত এককেন্দ্রিক আধিপত্যবাদ অপরিবর্তিত রাখার সুযোগ তৈরি করেছে।

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সেবা প্রতিষ্ঠানের ধারাবাহিক ব্যর্থতা ও গ্রাহকদের কাছে কাঙ্ক্ষিত সেবা প্রদানে অনিয়মের গুরুতর সব অভিযোগ থাকার পরও এই পদে প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগ ও পুনর্নিয়োগ দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে মাননীয় প্রধান মন্ত্রীর ‘শূন্য সহনশীলতাকে’ বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শনের সামিল বলে মন্তব্য করছে ক্যাব।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালকের প্রায় এক যুগ দায়িত্বকালে জনদুর্ভোগের বিষয়টি কারও অজানা নয়। বিভিন্ন গবেষণা ও গণমাধ্যমের সূত্রে ওয়াসার ছোট-বড় অনেক প্রকল্প বাস্তবায়ন ও সেবা প্রদানে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির ব্যাপক বিস্তারের অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। সরকারের দুর্নীতি দমন কমিশনে অনেকগুলো অভিযোগ তদন্তাধীন।

বিবৃতিতে ক্যাব নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম ওয়াসার দুই বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ২০০৯ সালে প্রশ্নবিদ্ধ বিতর্কিত নিয়োগের পর টানা পাঁচ মেয়াদে ১১-১২ বছর ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিবারই নিয়োগ নবায়নের ক্ষেত্রে কোনও না কোনোভাবে আইন ও নীতিমালাকে ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় থেকে পরবর্তী নিয়োগে সতর্কতা অবলম্বনের জন্য পরামর্শ দেওয়া হলেও কখনও বয়সসীমা বাড়িয়ে, আবার কখনও বোর্ডের সাম্প্রতিক সভার সুপারিশ পাশ কাটিয়ে পুরনো সভার তামাদি সুপারিশ ব্যবহার করে, এমনকি বোর্ডের মতামত গ্রহণেরই তোয়াক্কা না করে প্রভাবশালী মহলের যোগসাজশে পুনর্নিয়োগ দেওয়া হয়।

তাই আবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তির না ঘটিয়ে বর্তমান দুই ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নিয়োগে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় সংশ্লিষ্ট খাতে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও কর্মট নতুন ব্যবস্থাপনা পরিচালক নিয়োগ দেওয়ার  দাবি জানানো হয়। একইসঙ্গে এই রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সেবা সংস্থার গ্রাহকদের স্বার্থ সুরক্ষায় বর্তমান এমডি’সহ ওয়াসার যাবতীয় নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিষয়ে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিরীক্ষার দাবি জানান ক্যাব নেতারা।

 

/জিএম/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ