X
বুধবার, ১০ আগস্ট ২০২২
২৫ শ্রাবণ ১৪২৯

৭ দলের ঐক্যে ইতিবাচক বিএনপি

সালমান তারেক শাকিল
২৯ এপ্রিল ২০২২, ২১:৪৭আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২২, ২২:৪৮

সাতটি রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের ঐক্যবদ্ধ ‘রাজনৈতিক মঞ্চ’ গড়ে তোলার প্রক্রিয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে বিএনপি। দলটির প্রভাবশালী নেতারা মনে করছেন, ঐক্যবদ্ধ সাতটি সংগঠন যেসব লক্ষ্য স্থির করেছে বা আলোচনা করছে সেই একই লক্ষ্য বিএনপিরও। সেক্ষেত্রে পথ ভিন্ন হলেও লক্ষ্য অভিন্ন হওয়ায় সাতদলীয় এই ঐক্য আগামী দিনে দাবি আদায়ে সামগ্রিক আন্দোলনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির কয়েকজন সদস্য ও দলের প্রভাবশালী একাধিক দায়িত্বশীল আলাপকালে বাংলা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন, ক্ষমতাসীনদের অধীনে নির্বাচন না করা, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে নির্বাচন আদায়ে সাতটি সংগঠনের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ রাজনৈতিক মঞ্চ ও কর্মসূচি দেওয়ার যে তাগিদ সৃষ্টি হয়েছে, তা সরকারবিরোধী আন্দোলনকে বেগবান করবে।

স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিষয়টা হলো লক্ষ্য ঠিক আছে। সবাই উপলব্ধি করছে দেশে সুষ্ঠু নির্বাচন দরকার। আর এই পথে বাধা হচ্ছে ক্ষমতাসীন সরকার। এই সরকারের অধীনে কোনও সুষ্ঠু নির্বাচন হবে না। ফলে, অনৈক্য কোথায়?’ বলে প্রশ্ন রাখেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায়।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় আরও বলেন, ‘দেশে নিবন্ধিত, অনিবন্ধিত সব দল সরকারের বিরুদ্ধে একই দাবিতে আন্দোলন করতে পারে। ধরা যাক, ষাটটি দল এক মঞ্চে না উঠে ষাটটি মঞ্চে উঠে একই দাবি করা যায়, সেক্ষেত্রে বেশি সুবিধা হয়। মূলকথা হচ্ছে, মূল চেতনাবোধ ঠিক আছে কিনা। একাত্তরের যুদ্ধও কিন্তু নানাজনের নেতৃত্বে হয়েছে। সেই একাত্তরের যুদ্ধের যে অভিজ্ঞগুলো দেখেছি— তাতে যদি লক্ষ্য স্থির থাকে, তাগিদ অনুভব করি, তাহলে ভিন্ন কক্ষপথে থেকেও লক্ষ্য অর্জন করা যায়।’

গতকাল বৃহস্পতিবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রে জেএসডি, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি, নাগরিক ঐক্য, গণ অধিকার পরিষদ, ভাসানী অনুসারী পরিষদ, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন ও গণসংহতি আন্দোলনের শীর্ষ নেতারা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে তোলার পক্ষে একমত পোষণ করেন।

বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে সম্ভাব্যমঞ্চের প্রায় সবনেতাই জানিয়েছেন, এই সরকারের অধীনে নির্বাচন নয় ও দল নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন করার বিষয়ে তাদের মধ্যে ঐকমত হয়েছে। আগামী ১০ মে পরবর্তী বৈঠকে কর্মসূচি নির্ধারণ করার সম্ভাবনা রয়েছে দলগুলোর।

‘বিএনপি চায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক ঐক্য’

বিএনপির দায়িত্বশীল সূত্রগুলোর দাবি, সাতটি সংগঠনের মধ্যে চলমান এই ঐক্য রাজনৈতিকভাবে আশার সঞ্চার করেছে। যদিও প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত কারও-কারও ভিন্ন উদ্দেশ্য অর্জনের লক্ষ্য থাকতে পারে। আর সেটা সময়মত স্পষ্ট হবে। এক্ষেত্রে সূত্রের দাবি, এর আগেও অলি আহমেদ, সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমকে সামনে রেখে কোনও-কোনও বিশেষ দল এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেছে। সেদিক থেকে নতুন এই মঞ্চে বিশেষ ওই দলটির কোনও ভূমিকা থাকবে কিনা বা এজেন্ডা রয়েছে কিনা, তা আরও সময় গেলে স্পষ্ট হবে। সেক্ষেত্রে বিএনপির নেতৃত্ব চায় বিশ্বাসী রাজনৈতিক ঐক্য—যে ঐক্যের উপর আস্থাশীল হওয়া যায়।

শুক্রবার (২৯ এপ্রিল) এ বিষয়ে আলাপকালে উদ্যোক্তাদের একজন বাংলা ট্রিবিউনের কাছে অভিমত জানান এভাবে, ‘যেকোনও রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হলে কেউ বেরুয়, কেউ নতুন করে যুক্ত হয়। তবে বাইরে থেকে কোনও বিশেষ দল বা গোষ্ঠীর লক্ষ্য অর্জনে ‘রাজনৈতিক মঞ্চ’ কাজ করবে না।’ তার ভাষ্য, মঞ্চ যেসব দাবিকে সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার সংকল্প করেছে, তা দেশের মানুষের দাবি।

বিএনপির প্রভাবশালী নেতারা মনে করছেন, সাতদলীয় মঞ্চ গড়ে তোলার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, তার সঙ্গে মৌলিকভাবে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থানের কোনও পার্থক্য নেই। দাবি এক, লক্ষ্য এক। অর্জনের পথ ভিন্ন হলেও দলীয়ভাবে তা সাধুবাদপ্রাপ্য। তাদের দাবি, যেসব দল ঐক্যবদ্ধ হয়েছে, তাদের সাংগঠনিক তৎপরতা বিএনপির তুলনায় লঘু হলেও রাজনৈতিকভাবে সাতদলীয় রাজনৈতিক মঞ্চের আবেদন অনেক বেশি। বিশেষত, সরকারবিরোধী অবস্থান গড়ে তুলতে বিএনপির প্রাথমিক লক্ষ্য অর্জন বলে জানিয়েছেন প্রভাবশালী একাধিক নেতা।

স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য জানান, সরকারবিরোধী দাবি আদায়ে বিএনপি সমমনা বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে মতবিনিময় করার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো, আড়ালে সেই সিদ্ধান্ত অনেকখানি বাস্তবায়ন হয়েছে। ঈদের পর অনুষ্ঠেয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে প্রকাশ্য মতবিনিময় করার বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হবে। এরপরই আলোচনা শুরু হবে। সাতদলীয় রাজনৈতিক মঞ্চ গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরুর পর বিষয়টি আরও শক্তিশালী অবস্থান পেয়েছে, বলে জানিয়েছেন একাধিক সদস্য।

সাতদলীয় মঞ্চের উদ্যোক্তাদের একজনের দাবি, সাতটি রাজনৈতিক দল একটি মঞ্চে একীভূত হওয়ার ফলে বিএনপির সঙ্গে আলোচনায় ভারসাম্য তৈরি হবে। রাজনৈতিকভাবে দেশের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক পরিবর্তনে বিএনপির উপর চাপ প্রয়োগ করাও সহজ হলো বলে জানান তিনি। যদিও স্থায়ী কমিটির একজন সদস্য ‘চাপ তৈরির’ বিষয়টি মানতে নারাজ।

জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের দুর্নীতি, বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের উপর নির্যাতন, দেশের পররাষ্ট্রনীতিসহ সর্বক্ষেত্রে ব্যর্থতার জন্য ক্ষমতাসীন সরকারের পতনের আন্দোলনে আছি আমরা। নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতেও আমরা সক্রিয়। সাত দলের যারা ‘রাজনৈতিক মঞ্চ’ গড়ে তোলার চেষ্টা শুরু করেছেন, তাদের উদ্দেশ্যও এটাই। যেহেতু উদ্দেশ্য এক, আমরা বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে দেখি।’

ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু উল্লেখ করেন, উদ্দেশ্য যখন এক, তখন যুগপৎ আন্দোলনের ক্ষেত্রেও কোনও অসুবিধা নেই।

আরও পড়ুন: ৭ দলের বৈঠক, নতুন ‘রাজনৈতিক মঞ্চ’ গড়ে তোলার প্রক্রিয়া শুরু

/এসটিএস/এমএস/
বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
রুশ পর্যটকদের নিষিদ্ধ করুন, পশ্চিমাদের জেলেনস্কি
রুশ পর্যটকদের নিষিদ্ধ করুন, পশ্চিমাদের জেলেনস্কি
কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফিরলেন যুবক
কুমিরের সঙ্গে লড়াই করে বেঁচে ফিরলেন যুবক
নারী উদ্যোক্তাকে হত্যার অভিযোগে স্বামী ও শিক্ষিকা গ্রেফতার
নারী উদ্যোক্তাকে হত্যার অভিযোগে স্বামী ও শিক্ষিকা গ্রেফতার
নিষিদ্ধ আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আবু তাল্লাহর খোঁজে আসাম পুলিশ
নিষিদ্ধ আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের আবু তাল্লাহর খোঁজে আসাম পুলিশ
এ বিভাগের সর্বশেষ
ছেলেধরা গুজবে হত্যাকাণ্ডের শিকার রেণুর পরিবারের পাশে তথ্যমন্ত্রী
ছেলেধরা গুজবে হত্যাকাণ্ডের শিকার রেণুর পরিবারের পাশে তথ্যমন্ত্রী
‌‘তেলের মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির কারণ হবে’
‌‘তেলের মূল্যবৃদ্ধি মূল্যস্ফীতির কারণ হবে’
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে: জিএম কাদের
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে: জিএম কাদের
আ.লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না: তোফায়েল আহমেদ
আ.লীগ প্রতিহিংসার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না: তোফায়েল আহমেদ
সরকারের সময় ফুরিয়ে এসেছে: মির্জা ফখরুল
সরকারের সময় ফুরিয়ে এসেছে: মির্জা ফখরুল