সরকারের উদাসীনতার কারণেই অগ্নিকাণ্ড, অভিযোগ জামায়াত আমিরের

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০৪:৫৩, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০৭:০৩, ডিসেম্বর ৩০, ২০১৯

BT New Temp‘সরকার ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণেই দেশে অগ্নিদুর্ঘটনা প্রায় অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে।’ এ অভিযোগ করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার (৩০ ডিসেম্বর) রাজধানীর মিরপুরের কালশীর বাউনিয়া বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়ে এ কথা বলেন তিনি। জামায়াতের ঢাকা মহানগর উত্তরের প্রচার সহকারী এসএম আব্দুল্লাহ বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য জানান।

এসএম আব্দুল্লাহ জানান, জামায়াতের আমির অগ্নিদুর্গত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে একান্তে কথা বলেন। তিনি তাদের বিপদে ধৈর্য না হারিয়ে মহান আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে উদ্ভূত সঙ্কট কাটিয়ে ওঠার পরামর্শ দেন।

বারবার কেন আগুন লাগার ঘটনা ঘটছে তা খতিয়ে দেখার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার কারণ তদন্তে একটি বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিটি গঠন জরুরি হয়ে পড়েছে।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো ফায়ার সার্ভিসের প্রতিবেদন উদ্ধৃত করে জামায়াতের আমির বলেন, ‘চলতি বছর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ও প্রাণহানি দুটোই ছিল গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালে সারাদেশে মোট অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে ২২ হাজার ২৮৩টি। এতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮৬ জন মানুষ।’

তিনি জানান, ফায়ার সার্ভিসের প্রতিবেদনে ২০১৮ সালে আগুন লাগার ঘটনা ছিল ১৯ হাজার ৬৪২টি। প্রাণ গেছে ১৩০ জনের। অর্থাৎ ২০১৮ সালের চেয়ে চলতি বছর ২ হাজার ৬৪১টি আগুনের ঘটনা এবং ৫৬ জনের মৃত্যু বেশি ছিল।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বিদায়ী বছরে বনানীর এফআর টাওয়ার, পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টা, কেরানীগঞ্জ ও গাজীপুরের কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ছিল খুবই ভয়াবহ। সারাদেশে বছরজুড়ে এরকম ছোট-বড় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে প্রায় ২৩ হাজার। প্রাণ হারিয়েছেন ১৮৬ জন। জান-মালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ছাড়াও অনেকে পঙ্গুত্বও বরণ করেছেন।’ তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘কিন্তু এর পরেও সরকার বা সংশ্লিষ্ট বিভাগের বোধোদয় হয়নি। অগ্নিনির্বাপণে সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারও নিশ্চিত করা হচ্ছে না।’

পরিদর্শনকালে জামায়াতের আমিরের সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন– জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী সেক্রেটারি ড. মুহা. রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি লস্কর মো. তসলিম ও মাহফুজুর রহমান এবং ঢাকা মহানগরী উত্তরের মজলিসে শূরা সদস্য সাইফুল কাদের প্রমুখ।

 

/এসটিএস/এমএএ/

লাইভ

টপ