মান্নার নতুন উদ্যোগ ‘গণতন্ত্র উদ্ধার আন্দোলন’

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০০:৫৩, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:৩৮, ডিসেম্বর ৩১, ২০১৯

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অন্যতম নেতা নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্নার উদ্যোগে ‘গণতন্ত্র উদ্ধার আন্দোলনে’র আত্মপ্রকাশ হয়েছে। গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে নতুন এ ব্যানারে তিনি সক্রিয় হয়েছেন বলে নিজেই জানিয়েছেন। সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) মৎস্য ভবনের সামনের সড়কে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ পালনে ‘গণতন্ত্র উদ্ধার আন্দোলনের’ ব্যানারে এক সমাবেশ থেকে নতুন উদ্যোগ শুরু করেন মান্না।

সমাবেশে নেতাকর্মীরা জাতীয় পতাকা ও কালো পতাকা ছাড়াও সরকারের পদত্যাগের দাবি সম্বলিত বিভিন্ন ব্যানার নিয়ে অংশগ্রহণ করেন।

সভাপতির বক্তব্যে মান্না বলেন, ‘আমি বলি, পাড়ায়-পাড়ায় কমিটি গঠন শুরু করেন। যত তাড়াতাড়ি করবো, তত তাড়াতাড়ি এই সরকারকে কার্ড দেখাবো। কী কার্ড? আগে হলুদ কার্ড দেখাই, পরে আরেকটা হলুদ কার্ড দেবো। কার্ড যদি দেই তাহলে ওই কার্ড কার্য্করী করতে হবে। অতত্রব একটু হিসাব করেই নামছি। আমি শুধু এটা বলতে চাই, যেভাবে আজ এখানে ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন, এভাবে সারাদেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য যেটুকু কাজ করা দরকার তা করতে হবে।’

মান্না বলেন, ‘‘এরমধ্যে যদি বড় কিছু ঘটে তাহলে তৈরি থাকেন যেকোনও সময়ে এই সরকারের পতনের জন্য সর্বাত্মক আন্দোলনের কর্মসূচি দেবো। প্রতিজ্ঞা একটা, আমরা এই আন্দোলন করবো, আজ থেকে সেই আন্দোলনের শুরু। আজ থেকেই লড়াই শুরু। এই লড়াই চলবে যতক্ষণ পর্যন্ত বিজয় অর্জিত না হচ্ছে ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে।”

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সভাপতি আসম আবদুর রব বলেন, ‘এরা দেশটা বিক্রি করে দিয়ে ক্ষমতায় থাকতে চায়। আজ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আমি কবর থেকে তুলতে পারলে জিজ্ঞাসা করতাম, এজন্য কী জীবন দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে গিয়েছিলাম। অনেকে লন্ডনে বাড়ি করেছে, আমেরিকা ও কানাডায় বাড়ি করেছে। এরা গোষ্ঠীতন্ত্র, পরিবারতন্ত্র কায়েম করেছে। একে রুখতে হবে, এদের বিদায় করতে হবে।’

আন্তর্জাতিক আলোকচিত্রী শহিদুল আলম বলেন, ‘আমাকে অনেকে প্রশ্ন করে, তুমি কি স্বাধীনতা বিরোধী। নিশ্চয়ই না। এই সরকারকে প্রশ্ন করলে যদি স্বাধীনতা বিরোধী হয়ে যায়, তাহলে দেশের ১৬ কোটি মানুষই স্বাধীনতা বিরোধী হয়ে যাবে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেন, ‘২০১৪ সালে আমরা দেখেছি রাজনৈতিক দলকে বাদ দিয়ে নির্বাচন করা হয়েছে। ২০১৮ সালে আমরা দেখলাম ভোটারদের বাদ দিয়ে নির্বাচন করা হলো। আমার আশঙ্কা হয়, আগামী দিনে যে নির্বাচন হবে, মানুষকে বাদ দিয়ে, যন্ত্র দিয়ে কারচুপি করা হবে, ইভিএম দিয়ে কারচুপি করা হবে। আজ মানুষের মনে কোনও রকম বিশ্বাস নেই।’

সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন অভিযোগ করেন, তাদের সমর্থিত আইনজীবীরা যেন এই সমাবেশে  আসতে না পারে, সেজন্য গেটে তালা দিয়ে বাধা দেওয়া হয়েছে।

 

/এসটিএস/এনআই/

লাইভ

টপ