দেশের টাকা বিদেশে পাচারকারীরা জালিম শাসক: ড. কামাল

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ২১:১৫, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:৩১, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০

দেশের টাকা পাচারে জড়িতদের রাষ্ট্রীয়ভাবে সহায়তার অভিযোগ তুলেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘ক্ষমতার অপব্যবহার করে যারা দেশের টাকা বিদেশে পাচার করে তারা জালিম শাসক। দীর্ঘ ৯ মাস যুদ্ধ করে এই দেশের মানুষ পাকিস্তানের কাছ থেকে দেশের স্বাধীনতা এনেছে। দেশের প্রতিটি নাগরিক এ দেশের মালিক। কিন্তু আজ ক্ষণিক সময়ের শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতার অপব্যবহার করে, দুর্নীতি করে দেশের হাজার হাজার কোটি টাকা বিদেশে পাচার করছে। আসলে তারা জালিম শাসক, এ জন্যই টাকা পাচারে সহযোগিতা করে, পাচার বন্ধ করতে পারে না।’

বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে গণফোরাম আয়োজিত ‘একুশ মানে অধিকার আদায়ের অঙ্গীকার’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন ড. কামাল।

ড. কামাল বলেন, ‘দেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা পাচার করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের ডাকাতরা আজ বিদেশে টাকা পাচারে ব্যস্ত। একদিন অবশ্যই দেশের পাচার হওয়া অর্থ ফিরিয়ে আনা হবে। এ পাচার রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের ডাকাতি এবং পাচারকারীরা রাষ্ট্রীয় ডাকাত। লুটপাট, ফ্যাসিবাদ, নৈরাজ্য থেকে মুক্তি পেতে কার্যকর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় গোটা জাতিকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। তারা (ক্ষমতাসীনরা) ভুলে গেছে যে, জনগণই দেশের মালিক।’

তিনি আরও বলেন, ‘যারা আমাদের বঞ্চিত করে রাখতে চায়, যারা পুঁজি পাচার করে বিদেশে সম্পত্তি গড়ছে, তাদের থামাতে হবে ঐক্যবদ্ধ শক্তি দিয়ে। বলতে হবে- তোমাদের থেকে আমরা মুক্ত হতে চাই। তোমরা সম্পত্তি-টম্পত্তি করেছো, তোমরা চলে যাও। তোমাদের সম্পত্তি ফেরানোর ব্যবস্থা আমরা করছি।’

এসময় গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বলেন, “ব্রিটিশ এমপি রূপা হক ‘বাংলাদেশ দুর্বৃত্ত রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে’ বলে ঠিকই করেছেন। রূপা হক তো মিথ্যা বলেননি। কিন্তু আওয়ামী লীগের খুব গোস্বা হয়েছে। আপনারা শুধু দুর্বৃত্ত না, আপনারা ডাকাত, আপনারা দস্যু। আবার মুজিববর্ষের নামে দেশে লুটপাট শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মুজিববর্ষ নিয়ে বাড়াবাড়ি করতে মানা করেছেন, তার মানে তো হচ্ছে, নাকি? মুজিববর্ষ শুরু হয়েছে ছয় মাস আগে, আর এরা নাকি আরও ছয় মাস চালাবে। পৃথিবীর কোনও দেশের কোনও নেতার জন্মশতবার্ষিকী ছয় মাস আগে থেকে শুরু করে পুরো এক বছর এবং পরে আরও ছয় মাস কন্টিনিউ করে বলে জানা নেই।”

তিনি আরও বলেন, ‘চিকিৎসকদের দলবাজির কারণে দেশে কোনও সুচিকিৎসা নাই। গরিবের কোনও চিকিৎসা নাই। বড়লোকরা তো না পারলে বিদেশ যাচ্ছেন। উনি (প্রধানমন্ত্রী) তামাশা করে ১০ টাকা দিয়ে টিকেট কেটে চোখ দেখান, বিরাট করে নিউজ করেন সাংবাদিকরা। আবার চিকিৎসা করানোর জন্য পরের দিন লন্ডনে চলে যান।’

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অধ্যাপক আবু সাঈদ, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জগলুল হায়দার আফ্রিক, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. হেলাল উদ্দিন, গণফোরামের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তাক আহমেদ ও প্রচার সম্পাদক খান সিদ্দিক প্রমুখ।

 

/এসও/টিটি/

সম্পর্কিত

লাইভ

টপ