‘করোনা মোকাবিলায় সমন্বয়হীনতা নেই, দুর্নীতি থাকতে পারে’

Send
এমরান হোসাইন শেখ
প্রকাশিত : ২২:১৩, জুলাই ০২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২৩:০৮, জুলাই ০২, ২০২০

আওয়ামী লীগকরোনাভাইরাসের সংক্রমণ মোকাবিলায় সরকারের সমন্বয়হীনতার অভিযোগ মানতে নারাজ ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। দলটির নেতাদের বক্তব্য, সম্পূর্ণ নতুন এ বৈশ্বিক মহামারি নিয়ন্ত্রণে প্রথম দিকে সরকারের কিছু সীমাবদ্ধতা থাকলেও তা কাটিয়ে উঠেছে। সামর্থ্য অনুযায়ী সরকার তার সর্বোচ্চটা করার চেষ্টা করছে। সরকারের ব্যবস্থাপনায় দেশের জনগণ সন্তুষ্ট। কিছু কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতির অভিযোগ স্বীকার করে দলটির নেতারা বলেছেন, একটি জাতীয় দুর্যোগের সময় এ ধরনের দুর্নীতি কাম্য নয়।

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় শুরু থেকে সরকারের মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। বিশেষ করে কোভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণের প্রধান ভূমিকায় থাকা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মধ্যকার সমন্বয়হীনতা নিয়ে বারবার মুখ খুলেছে রাজনৈতিক মহল। বিরোধী দল বিএনপির পক্ষ থেকে শুরু থেকেই সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তোলা হয়েছে। ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের শরিক ১৪ দলীয় জোটের একাধিক নেতাও সমন্বয়হীনতা ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন। কিছু দিন আগেও আওয়ামী লীগের একাধিক নেতার বক্তব্যে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা এবং সমন্বয়হীনতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। সর্বশেষ জাতীয় সংসদে বিরোধী দল জাতীয় পার্টির পক্ষ থেকেও সুনির্দিষ্টভাবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ের অভাবের কথা তুলে ধরা হয়েছে। তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে ওই মন্ত্রণালয়ে দক্ষ কাউকে দায়িত্ব দেওয়ারও দাবি তুলেছে।

অবশ্য বর্তমানে সমন্বয়হীনতা নেই বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের নেতারা। ছোটখাটো যেসব ত্রুটির বিষয় উঠে আসছে— তা হয়েছে করোনাভাইরাসের মতো একটি নতুন মহামারি মোকাবিলার জন্য। নতুন কোনও কাজে কমবেশি দুর্বলতা সবারই হয়। তা সময়ের ব্যবধানে কেটেও গেছে বলে দাবি করেন ক্ষমতাসীন দলের নেতারা।

বর্তমানে কানাডায় অবস্থানরত আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ কিছু দিন আগে এক ভিডিও বার্তায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতার কথা বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘করোনাভাইরাসের প্রকোপ যত বৃদ্ধি পাচ্ছে, আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতাও ততটাই প্রকাশ পাচ্ছে, প্রকাশ পাচ্ছে আমাদের সামর্থ্যের ঘাটতি ও সমন্বয়ের অভাব। তবে চেষ্টা করা হচ্ছে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দুর্বলতা দ্রুত কাটিয়ে ওঠার।’

দলের সাধারণ সম্পাদক ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরও বিভিন্ন সময়ে সমন্বয়হীনতা ও দুর্বলতার প্রসঙ্গ টেনেছেন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের ডিজির বক্তব্যেরও কঠোর সমালোচনা করেছেন তিনি। সমন্বয়হীনতার অভিযোগ ছাড়াও করোনাকালে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী ক্রয় এবং ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসকদের থাকা-খাওয়ার ব্যয় নিয়েও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও সংসদে কথা বলেছেন। বিষয়টি তিনি খতিয়ে দেখারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

অবশ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক ঢাকা মেডিক্যালে থাকা-খাওয়ার দুর্নীতির অভিযোগ এবং সমন্বয়হীনতার অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছেন।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজী জাফরউল্লাহ সমন্বয়হীনতার অভিযোগ মানতে রাজি নন। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে সমন্বয়হীনতা আছে বলে আমার মনে হয় না। কোভিডের শুরুতে প্রথম যখন সরকারি ছুটি হয়, তখন কিছুটা সমন্বয়হীনতা মনে হয়েছিল। তবে এখন সেই পরিস্থিতি কেটে গেছে। আমার মনে হয় সরকারের কার্যক্রমে মানুষ সন্তুষ্ট। করোনাভাইরাস সংক্রমণ যেভাবে বেড়ে যাচ্ছে, সেক্ষেত্রে সরকারের নতুন করে কিছু করণীয় আছে বলে মনে হচ্ছে না। আর বেড়ে যাওয়ায় মানুষের মধ্যে একটা আতঙ্ক কাজ করছে। এ কারণে চিকিৎসা সেবা না পাওয়ার আশঙ্কায় কারও কারও মধ্যে নানা ধরনের প্রশ্ন জাগছে।’

দুর্নীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এই মহামারির মধ্যে কোনও দুর্নীতি হচ্ছে না তা আমি বলবো না। কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতি নিশ্চয়ই হচ্ছে। জাতীয় দুর্যোগে কোনও ধরনের দুর্নীতির অভিযোগ প্রত্যাশিত নয়। কিছু কিছু লোক সব সময় ঘোলা পানিতে মাছ শিকারে নামে। তবে এর জন্য সরকার বা মন্ত্রণালয়কে ঢালাওভাবে দোষারোপ দেওয়া যায় না।’

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মুহম্মদ ফারুক খান বলেন, ‘সমন্বয়হীনতা একটি ভেক টার্ম। ঢালাওভাবে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তোলার কোনও সুযোগ নেই। যারা অভিযোগ করছেন তাদের সুনির্দিষ্ট করে বলতে হবে কোথায় কীভাবে সমন্বয়হীনতা রয়েছে।’

দলের এই নেতা বলেন, ‘করোনাভাইরাস মোকাবিলা সরকারের জন্য একটি নতুন পরিস্থিতি। বিশ্বের অনেক উন্নত দেশ এটিকে সঠিকভাবে হ্যান্ডেল করতে পারেনি। কাজেই কিছু ক্ষেত্রে আমাদেরও ত্রুটি বা দুর্বলতা থাকতে পারে। এটাকে ইস্যু করে ঢালাও অভিযোগ তোলা উচিত হবে না। তাছাড়া, প্রথম দিকে কিছু সমস্যা দেখা দিলেও সরকার তা আস্তে আস্তে কাটিয়ে উঠেছে।’

দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সমন্বয়হীনতার অভিযোগ তোলার কোনও যৌক্তিক কারণ দেখছি না। বৃহৎ পরিসরে কোনও কাজ করতে গেলে কখনও কখনও ছন্দপতন হতে পারে। এর অর্থ এই নয় যে এটা সমন্বয়হীনতা। দুর্নীতির যে বিষয়টা উঠেছে— এটা সত্য কী মিথ্যা, তা সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার তদন্ত করে দেখা উচিত। যেসব উইংয়ে দুর্নীতির অভিযোগ এসেছে, তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের উচিত হবে এটি খতিয়ে দেখে কোনও দুর্নীতি থাকলে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা।’

/এপিএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ