ধর্ষণের প্রতিবাদে এসে পোশাকের দোষ খুঁজলেন মুফতি ফয়জুল করীম

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ১৯:২০, অক্টোবর ১৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:২৩, অক্টোবর ১৬, ২০২০

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) জুমার নামাজের আগে থেকেই জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে জড়ো হতে থাকেন ইসলামী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। নারীর প্রতি বর্বরতা ও সিলেটে পুলিশ হেফাজতে যুবকের মৃত্যুর প্রতিবাদে বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিলে আসেন দলটির নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম। নামাজের পর বক্তব্য রাখেন নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে। ধর্ষণের প্রতিবাদ করতে এসে একপর্যায়ে নারীর পোশাকেই দোষ খুঁজলেন তিনি। বললেন, এ নিয়ে ‘গবেষণা’ করতে হবে। একইসঙ্গে ধর্ষকের ফাঁসির আইনে উদ্বেগ প্রকাশ করে মুফতি ফয়জুল বললেন, ‘জানি না কত পুরুষ এই ফাঁসির দড়িতে ঝুলবে।’

বিক্ষোভপূর্ব সমাবেশে ইসলামী আন্দোলনের নায়েবে আমির বলেন, ‘ধর্ষণের বিরুদ্ধে আন্দোলন চলছে, আইনও হয়েছে। প্রশ্ন হলো বিশ্বের বহু দেশেই ধর্ষণের বিরুদ্ধে আইন আছে। কিন্তু ধর্ষণ বন্ধ হচ্ছে? এর কারণ খুঁজতে হবে। কেউ কেউ মনে করে খোলামেলা পোশাক ধর্ষণের জন্য দায়ী নয়। এ নিয়ে আলোচনা চলছে।  টকশো হচ্ছে। আমি মনে করি সরকারি উদ্যোগে একদল মনোবিজ্ঞানী নিয়োগ করা হবে যারা গবেষণা করে বের করবেন কেন ধর্ষণ হয়। সেটা উদঘাটন করে  করে পথটাকে বন্ধ করতে হবে। যদি নারীর পোশাক পুরুষদের উত্তেজিত না করে, তবে পোশাক দায়ী নয়। মনোবিজ্ঞানীরা যদি বলেন পোশাকই পুরুষকে উত্তেজিত করছে, তা হলে পোশাকই দায়ী।’

মুহাম্মদ ফয়জুল করীম আরও বলেন, ‘আমার মায়া লাগে, আপনি একজনকে বাঘের মুখে ঠেলে দেবেন, আর বাঘকে বলবেন খবরদার কিছু করবে না। এটা ইনসাফ হতে পারে না। বরং বাঘ থেকে দূরে থেকে বাঁচতে হবে। ধর্ষণের আইন হয়েছে। আমি অনুরোধ করব অপপ্রয়োগ যেন না হয়।’

‘ধর্ষণ বন্ধে ইসলাম কী বলছে সে বিষয়ে গবেষণা করা উচিত এবং ইসলামি আইন প্রণয়ন করা উচিত। এ ছাড়া ধর্ষণ বন্ধ হবে না। চুরি-খুনের বিরুদ্ধে আইন নেই? চুরি বা খুন বন্ধ হয়েছে? এটা বন্ধ হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত চরিত্র গঠন না করবেন।’ বললেন মুফতি ফয়জুল।

বিক্ষোভে আরও উপস্থিত ছিলেন, দলটির ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউস, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মুহাম্মদ ইমতিয়াজ, মাওলানা আহমদ আবদুল কাইয়ূম, কেএম আতিকুর রহমান, এম. হাছিবুল ইসলাম, মাওলানা এবিএম জাকারিয়া, মাওলানা আরিফুল ইসলাম, ঢাকা জেলা সেক্রেটারী শাহাদাত হোসাইন, হুমায়ুন কবির, মুফতি ফরিদুল ইসলাম, মাওলানা এইচএম সাইফুল ইসলাম, মাওলানা বাছির মাহমুদ প্রমুখ।

 

/সিএ/এফএ/

লাইভ

টপ
X