X
রবিবার, ২১ এপ্রিল ২০২৪
৭ বৈশাখ ১৪৩১

ভেঙে পড়বো না, কীভাবে জেতা যায় সেই চেষ্টা করবো: জাকের

রবিউল ইসলাম, সিলেট থেকে
০৫ মার্চ ২০২৪, ০৯:৩১আপডেট : ০৫ মার্চ ২০২৪, ০৯:৩১

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ঘরের ছেলে জাকের আলী অনিক নিজের কারিশমা দেখিয়েছেন। ব্যাট হাতে লঙ্কান বোলারদের শাসন করে দলকে জয়ের বন্দরে প্রায় নিয়েই যাচ্ছিলেন। ইনিংসের শেষ ওভারের তৃতীয় বলে লম্বা শট খেলতে গিয়ে জাকির লংঅনে ক্যাচ দিতেই শেষ হয়ে যায় যাবতীয় সম্ভাবনা! বাকি তিন বলে তাসকিন-শরিফুল মিলে প্রয়োজনীয় ১০ রানও তুলতে পারেননি। তাতে ৩ রানে হারের তিক্ত স্বাদ নিয়ে বাংলাদেশ মাঠ ছেড়েছে। দারুণ ব্যাটিং করেও দলকে জেতাতে না পারায় জাকেরের মন খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক। কিন্তু ভেঙে পড়ছেন না। কীভাবে ম্যাচ জেতা যায় পরবর্তীতে সেই চেষ্টাই করবেন বলে গণমাধ্যমকে জানিয়ে গেছেন তিনি।

চারদিনের ব্যবধানে দুটি হার। বিপিএলের ফাইনালে কুমিল্লার হয়ে খেলতে নেমেও জাকের দলকে জেতাতে পারেননি। সোমবারও চেষ্টা করেছেন। সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রথম ম্যাচে তার ৬৮ রানের দুর্দান্ত ইনিংসে ভর করেই বাংলাদেশ জয়ের স্বপ্ন দেখছিল। হয়নি যদিও। শেষ পর্যন্ত আক্ষেপ-হতাশা সঙ্গী হয়েছে জাকেরের। 

গত শুক্রবার বিপিএলের ফাইনালে হেরে এই উইকেট কিপার ব্যাটারের নির্ঘুম রাত কেটেছিল। একদিন অনুশীলন করে সোমবার আরও একটি হার জাকেরের জন্য বেশ পীড়াদায়কও বটে। তবে মানসিক ভাবে শক্তিশালী জাকের জানিয়ে গেছেন, ব্যর্থ হলেও ভবিষ্যতে কী করে জেতা যায় সেই চেষ্টাই করবেন তিনি, ‘আমার চেহারায় কিন্তু বুঝতে পারছেন কীরকম আছি। হার সবসময়ই বেদনার। বিপিএলের ফাইনাল হেরে এসেছি। রাতে ঘুম হয়নি। দেশের হয়ে জিততে পারলে আরেকটু ভালো লাগত। আমি ভেঙে পড়বো না। কীভাবে জেতা যায় পরের ম্যাচ সেই চেষ্টা করবো। এই ম্যাচে আমাদের পাওয়ার অনেক কিছু আছে। খাতা কলম নিয়ে নোট করতে বসলে দল হিসেবে আমাদের অনেক প্রাপ্তি আছে।’

২০৬ রানের পাহাড় টপকাতে বাংলাদেশের টপ অর্ডারকে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করতে হতো। কিন্তু পাওয়ার প্লের আগেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটারকে হারিয়ে ম্যাচ থেকে প্রায় ছিটকেই গিয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথম ওভারেই রানের খাতা না খুলে বাজে শটে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন লিটন। এরপর সৌম্য সরকার (১২) ও তাওহীদ হৃদয় (৮) দলীয় ৩০ রানে বিদায় নিলে প্রবল চাপে পড়ে যায় স্বাগতিকরা। সেখান থেকে দলকে টেনে তোলেন মাহমুদউল্লাহ ও জাকের। অভিজ্ঞ মাহমুদউল্লাহও করেন বিস্ফোরক ব্যাটিং। সিনিয়র বড় ভাইয়ের এমন ব্যাটিং দেখেন মনে জোড় পান জাকের নিজেও। এমন বিপর্যয়ের পর বাংলাদেশ সাধারণত ঘুরে দাঁড়াতে পারে না। কিন্তু মাহমুদউল্লাহর ব্যাটিং দেখে জাকের ভরসা পেয়েছিলেন, ‘আমি যখন ব্যাটিংয়ে যাই, ক্রিজে রিয়াদ (মাহমুদউল্লাহ) ভাই ছিলেন। উনি আমাকে স্বাভাবিক ব্যাটিং করতে বলেছেন। ওরকমই চেষ্টা করেছি যেরকম আমি সচরাচর খেলি। বাড়তি কোনও পরিকল্পনা ছিল না। রিয়াদ ভাই ঝুঁকি নিয়ে কিছু বাউন্ডারি বের করায়, আমার কাজ সহজ হয়ে যায়।’ 

জাকেরের সঙ্গে ২৯ বলে ৪৭ রানের জুটি গড়ে আউট হন মাহমুদউল্লাহ। দু’জন কী পরিকল্পনায় ব্যাটিং করেছেন সেই প্রশ্নের জবাবে জাকের বলেছেন, ‘দুজনেরই এরকম পরিকল্পনা ছিল। রিয়াদ ভাই চান্স নিচ্ছিল, তখন আমারও পরিকল্পনা ছিল এক ওভারে কীভাবে ১০-১২ রান বের করা যায়। রিয়াদ ভাই থাকলেও আমি আমার ভূমিকাটা এরকমই রাখতাম। উনি চলে যাওয়ার পর আমি গিয়ার শিফট করিনি।’ 

শেষ দুই ওভারে বাংলাদেশের জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ২৭ রান। পাথিরানার ছন্দহীন বোলিংয়ের সুযোগ নিয়ে জাকের ১৯তম ওভারে তুলে নেন ১৫। তাতে করে জিততে বাংলাদেশের লাগতো ১২ রান। কিন্তু দাসুন শানাকার প্রথম বলে রিশাদ বিদায় নিলে ঘটে ছন্দপতন। একটি ওয়াইডের পর সিঙ্গেল নিয়ে জাকেরকে ব্যাটিং প্রান্তে পাঠান তাসকিন। ওভারের তৃতীয় বলে শানাকাকে লংঅন দিয়ে খেলতে চেয়েছিলেন জাকের। কিন্তু বলটাকে সীমানা ছাড়াতে পারেননি। চারিথ আসালাঙ্কার হাতে তালুবন্দি হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় ঘরের ছেলেকে। শেষ ওভারের পরিকল্পনা নিয়ে জাকের বলেছেন, ‘রিশাদকে বলেছিলাম চেষ্টা কর আমাকে স্ট্রাইক দিতে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ওর উইকেট পড়ে যায়। আমি তারপরও স্ট্রাইকে ছিলাম যখন ৪ বলে ১০ রান লাগতো। আত্মবিশ্বাস ছিল পারবো। যেহেতু পুরো ইনিংস জুড়েই ভালো যাচ্ছিল। কানেক্ট হয়নি…।’

এমন ইনিংসের পরও জাকেরির মন ভরেনি। ভরবেই বা কী করে? দলতো জেতেনি, ‘যদি ম্যাচ জিততে পারতাম, তাহলে ১০-১২ রান করলেও বেশি খুশি লাগতো। ভালো খেলেছি আলহামদুলিল্লাহ, আল্লাহতায়ালা যা দিয়েছেন। তবে ম্যাচ জেতাতে পারলে হয়ত আরও বেশি খুশি হতাম।’
 
গত বছর এশিয়ান গেমেসের মধ্য দিয়েই জাকেরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সঙ্গে পরিচয়। ওই তিন ম্যাচের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থাকলেও জাতীয় দলের জার্সিতে সোমবারই অভিষেক হয়েছে তার। কিন্তু জাকেরের মনে জাতীয় দল নিয়ে কখনোই কোন ভাবনা ছিল না। পারফর্ম করার পাশাপাশি সব সময় সৃষ্টিকর্তার ওপরে ভরসা রাখতেন তিনি, ‘আমি সবাইকেই বলতাম, আল্লাহতায়ালা যখন আমার জাতীয় দলে খেলার সময় লিখে রেখেছেন তখন এমনিতেই খেলতে পারবো। এখন আমার সুযোগ এসেছে। মানসিকভাবেও প্রস্তুত ছিলাম। আলিসের যখন ইনজুরি হলো, প্রস্তুতি নিয়ে গিয়েছিলাম। শান্ত আমার সঙ্গে কথা বলেছিল যে তোর কিন্তু যাওয়ার সম্ভাবনা আছে। মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকিস। তো আমি প্রস্তুত ছিলাম। ’

/এফআইআর/
সম্পর্কিত
জোড়া সেঞ্চুরিতে বাংলাদেশকে ভুগিয়ে মাস সেরা কামিন্দু
সিরিজ হারে সাতে নেমে গেছে বাংলাদেশ
এমন ব্যর্থতায় ‘অপরাধবোধ’ নেই শান্তর
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কোনও নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা দেওয়া হয় না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
বিএনপির কোনও নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক মামলা দেওয়া হয় না: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
গরমে সুপেয় পানি নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে পুলিশ
গরমে সুপেয় পানি নিয়ে সাধারণ মানুষের পাশে পুলিশ
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিললো রেকর্ড ৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা
পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার মিললো রেকর্ড ৭ কোটি ৭৮ লাখ টাকা
ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট, হিন্দু মহাজোট ‘নেতা’ পুলিশ হেফাজতে
ফেসবুকে উসকানিমূলক পোস্ট, হিন্দু মহাজোট ‘নেতা’ পুলিশ হেফাজতে
সর্বাধিক পঠিত
দুর্নীতির অভিযোগ: সাবেক আইজিপি বেনজীরের পাল্টা চ্যালেঞ্জ
দুর্নীতির অভিযোগ: সাবেক আইজিপি বেনজীরের পাল্টা চ্যালেঞ্জ
সারা দেশে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় ছুটি ঘোষণা
সারা দেশে স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসায় ছুটি ঘোষণা
সোনার দাম কমেছে, আজ থেকেই কার্যকর
সোনার দাম কমেছে, আজ থেকেই কার্যকর
শিল্পী সমিতির নির্বাচন: সভাপতি মিশা, সম্পাদক ডিপজল
শিল্পী সমিতির নির্বাচন: সভাপতি মিশা, সম্পাদক ডিপজল
দেশের ৯ অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির বেশি, পারদ উঠতে পারে আরও
দেশের ৯ অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রির বেশি, পারদ উঠতে পারে আরও