X
বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪
২ শ্রাবণ ১৪৩১

 ‘রান আপের গতি আর হ্যান্ড সুইংয়ে বদল এনেই সাফল্য পাচ্ছি’

রবিউল ইসলাম
০৬ মে ২০২৪, ১৬:৫১আপডেট : ০৬ মে ২০২৪, ১৬:৫১

মোহামেডান ও গাজী টায়ার্স ক্রিকেট একাডেমির মধ্যকার ১০০ ওভারের ওয়ানডে ম্যাচের আয়ু স্থায়ী হলো স্রেফ ১৮.১  ওভার।  আবু হায়দার রনির বিধ্বংসী বোলিংয়ে বিকেএসপিতে এমন দৃশ্যই দেখা গেছে। শুধু ওই একটি ম্যাচেই নয়। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে মোহামেডানের জার্সিতে বেশ কিছু ম্যাচে দলের জয়ে বড় অবদান রেখেছেন রনি। শুধু বোলিং দিয়ে নয়, ব্যাটিংয়ে প্রভাব রেখেছেন নিয়মিত। ১৬ ম্যাচে ৩১ উইকেট নিয়ে প্রিমিয়ার লিগের শীর্ষ বোলার তিনি। পাশাপাশি ব্যাট হাতে ২ হাফ সেঞ্চুরিতে করেছেন ২৫০ রান।

২০১৫ সালে বিপিএল দিয়ে পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন রনি। ওই আসরের সর্বোচ্চ উইকেট নিয়ে পরের বছরই পেয়ে যান জাতীয় দলের টিকিট। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী হয়নি রনির জাতীয় দলের ক্যারিয়ার। তিন বছরের মধ্যে ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে ১৫ ম্যাচ খেলেই ২০১৮ সালে জাতীয় দল থেকে ছিটকে পড়েছেন। ৫ বছর ধরে জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই তরুণ পেসার গত জাতীয় লিগ দিয়ে ফের ছন্দে ফিরেছেন। গত বিপিএলে বোলিং করেছেন দারুণ। এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত ছিল এই ঢাকা লিগেও। সোমবার নিজের বদলে যাওয়া নিয়ে কথা হয় বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে।  

বাংলা ট্রিবিউন: অনেক দিন পর মোহামেডান রানার্সআপ হয়েছে। গেম প্ল্যানে আরও একটু সচেতন হলে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ থাকতো কিনা?

আবু হায়দার রনি: হয়তো সুযোগ ছিল। তবে আবাহনী এবার যেমন দল গড়েছে, তাদের সঙ্গে পেরে ওঠা সত্যিই কঠিন। বর্তমান জাতীয় দলের দশ এগারো জন ক্রিকেটার আছে এই আবাহনীতে। ওদের বেঞ্চও অনেক শক্তিশালী। ফলে এই দলটা অপ্রতিরোধ্য থেকেই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে।  

বাংলা ট্রিবিউন: তাহলে শেষ ম্যাচটায় খর্বশক্তির আবাহনীর সাথেও পারলেন না কেন?

রনি: ওই ম্যাচে আমাদের ব্যাটিংয়ে ধস নেমেছে। পাশাপাশি বোলিংয়ে ওই আমরা কেউই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারিনি। তিনশ প্লাস রান হয়ে যাওয়ার পর আমাদের টপ অর্ডারের যেভাবে শুরুর প্রয়োজন ছিল, সেটাও পারিনি। শুরুতে উইকেট হারিয়ে আমরা চাপে পড়ে যাই। মাঝের সময়টাতে খেলাটা প্রায় ধরেই ফেলেছিলাম। কিছু ওভারে রান নিতে না পারায় আবার পিছিয়ে যাই। পরবর্তীতে চেষ্টা করেও সেটা কভার করতে পারিনি।

  

সতীর্থ মিরাজের সঙ্গে রনি। বাংলা ট্রিবিউন: প্রিমিয়ার লিগে মোহামেডানকে একাই প্রায় টেনে নিয়ে গেলেন। ব্যাটিং-বোলিংয়ে সাফল্যের রহস্য কী?

রনি: স্পেশালিটির আসলে কিছু নেই। নিজেকে নিয়ে ভেবেছি, আমাকে জাতীয় দলে ফিরতে হলে শুধু বোলিং নয়, ব্যাটিংয়েও সমান পারদর্শী হতে হবে। এখনকার পরিস্থিতিতে শুধু বোলিং দিয়ে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া সম্ভব না। বাদ পড়ার পর থেকেই চেষ্টার মধ্যে ছিলাম। তবে গত দুই বছর অনেক চেষ্টা করছিলাম। কীভাবে নিজের পারফরম্যান্সে উন্নতি আনা যায়। বাংলাদেশ টাইগার্সে শেষবার আমাদের যে ক্যাম্পটা হয়েছে, সেখানে ব্যাটিং-বোলিং নিয়ে অনেক পরিশ্রম করেছি। গত কিছুদিনের পরিশ্রম, ত্যাগেই আজকের এই পারফরম্যান্স।

বাংলা ট্রিবিউন: পরিশ্রমতো অনেকেই করে, আপনি বাড়তি কী চেষ্টা করেছেন?

রনি: গত জাতীয় লিগ থেকেই আমার বোলিংয়ের উন্নতি শুরু। তারপর বিপিএলে বোলিংটাও ভালো হয়েছে। আমার কাছে মনে হয় ফিটনেস আগের চেয়ে ভালো হয়েছে। মাঝখানে ফিটনেস খারাপ হয়ে গিয়েছিল, যে কারণে পারফেক্টভাবে নিজেকে ডেলিভার করতে পারছিলাম না। এখন শরীরের রিদমটা খুব ভালো আছে। আপনি জানেন যে একজন পেস বোলারের রিদমটা আসলে খুব গুরুত্বপূর্ণ। রিদম ভালো থাকলে পারফেক্ট ডেলিভার করা যায়। ভাবনাগুলোর প্রতিফলন স্পষ্টভাবে মাঠে ঘটানো যায়। এর জন্য অনুশীলনটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমি বাংলাদেশ টাইগার্সে যখন কাজ করেছি, যে ত্রুটিগুলো ছিল সেগুলো আমি গুরুত্বসহকারে করেছি। এই কাজগুলো আমাকে দারুণ ভাবে সহায়তা করেছে।   

বাংলা ট্রিবিউন: সেই কাজগুলো কী…

রনি: আমার রানআপ কিছুটা স্লো ছিল। এখন রানআপ ফাস্ট করার চেষ্টা করেছি। আরেকটা বিষয় হচ্ছে হ্যান্ড সুইংয়ে উন্নতি হয়েছে। হ্যান্ড সুইংটা বাড়ানোর চেষ্টা করছি। এটা পারফেক্ট হওয়ার কারণে অফ দ্য পিচ বলটা একটু গতিতে আসছে। ব্যাটারদের খেলতে একটু সমস্যা হয়, কারণ বলটা একটু জোরে যায়। ব্যাটারদের জন্য একটু কষ্ট হয় বলটা রিড করা। আমার কাছে মনে হয় এই ছোট ছোট পরিবর্তনগুলো বোলিংয়ের উন্নতিতে ভূমিকা রেখেছে।

বাংলা ট্রিবিউন: ব্যাটিংতো আগেও টুকটাক করতে পারতেন, প্রিমিয়ার লিগে বেশ উন্নতি হয়েছে। কীভাবে কি করলেন?

রনি: বাংলা টাইগার্সে জেমি সিডন্সের সঙ্গে ব্যাটিং নিয়ে অনেক কাজ করেছি। বিশেষ করে পাওয়ার হিটিং নিয়ে। আমাদের কোচ বাবুল স্যারের সঙ্গে গেম সেন্স নিয়ে কাজ করেছি। আসলে আমি যখন ব্যাটিংয়ে নামি, খুব বেশি বল থাকে না। ওই সময় পাওয়ার হিটিংটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বোলারদের মাইন্ড রিড করা খুব জরুরি; বিশেষ করে স্লগ ওভারগুলোতে। যেহেতু আমি একজন বোলার, জানি বোলারদের মাইন্ড রিড করাটা খুব জরুরি। এটা বোঝা ফিল্ডিং সেটআপ দিয়ে বোলাররা কী কী করতে চাইছে। আমার মনে হয় সাম্প্রতিক সময়গুলোতে এই বিষয়টা ঠিকঠাক ভাবে বুঝতে পারছি। পাওয়ার হিটিংয়ে বাইরে নরম্যাল ব্যাটিং নিয়েও কাজ করেছি। টিম যখন বিপদে পড়ে যায়, তখন পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যাটিং করাটাও রপ্ত করেছি। শেখ জামাল ও শাইনপুকুরের বিপক্ষে ম্যাচটা আমি ওইরকম পরিস্থিতিতে থেকে বের করে দলকে জিতিয়েছিলাম।

আবু হায়দার রনি। বাংলা ট্রিবিউন: সীমিত ওভারের ক্রিকেটে অন্যতম সেরা অপশন হওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু লম্বা সময় ধরে আপনি জাতীয় দলের বাইরে। কতটা আক্ষেপ লাগে?

রনি: অনেক দিন ধরেই জাতীয় দলের বাইরে। আসলে আফসোসের কিছু নেই। ওই সময় আমার ত্রুটি ছিল বলেই বাদ পড়েছিলাম। যা করছিলাম, ওটা পুরোপুরি পারফেক্ট ছিল না জাতীয় দলে টিকে থাকার জন্য। আমার মনে হয় একটা ব্রেকেরও প্রয়োজন ছিল। আফসোস করে তো লাভ নেই, ওই জায়গাতে আসলে যে পারফরম্যান্স দেখাবে সেই টিকে থাকবে। এটা সাধারণ প্রসেস। এখন আলহামদুলিল্লাহ আগের চেয়ে অনেক অভিজ্ঞ হয়েছি। গেম সেন্সেও অনেক উন্নতি হয়েছে। এখন বুঝতে পারি, কোন পরিস্থিতিতে আসলে কি করা লাগবে।

বাংলা ট্রিবিউন: প্রায় সাড়ে ৫ বছর ধরে জাতীয় দলের বাইরে, ওই সময়টা নিজেকে কিভাবে মোটিভেট করেছেন?

রনি: মোটিভেশন যদি বলেন আমার পরিবার আমাকে অনেক সাপোর্ট দিয়েছে। দুই বছর আগেও খুব খারাপ পরিস্থিতির মধ্য দিয়েও যাচ্ছিলাম। কিছু করার ছিল না। কারণ পারফরম্যান্স আপ টু দ্য মার্ক ছিল না। গড়পড়তা পারফরম্যান্স ছিল। যেটা আসলে জাতীয় দলে খেলার মতো নয়। ফেরার জন্য মরিয়া ছিলাম। পরিবার থেকেও আমাকে সাপোর্ট দিয়েছে। আমিও মানসিক ভাবে শক্ত ছিলাম। আমার ভাবনায় ছিল অবশ্যই ফিরে আসতে পারবো। 

বাংলা ট্রিবিউন: এখনতো বাংলাদেশ দলে অনেক পেসার। প্রতিযোগিতাও অনেক। জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া বেশ কঠিন ব্যাপার। জাতীয় দল নিয়ে এই অবস্থায় আপনার ভাবনা কী?

রনি: জাতীয় দলে ফেরার স্বপ্ন সব সময়ই দেখি। চিন্তা থাকে জাতীয় দলকে সার্ভ করবো। এখন আসলে অনেক প্রতিযোগিতা। চেষ্টা করছি কীভাবে আরও ভালো করা যায়। জাতীয় দলে আসলে বলে কয়ে কেউ খেলতে পারবে না। এখানে প্রতিযোগিতা অনেক বেশি, আগের মতো অবস্থা নেই। সবাই ভালো করছে। এই প্রতিযোগিতা থাকাটা খুবই ভালো। যারা বাইরে আছি, ওদের জন্য চাপ তৈরি হয় ভালো করার। আবার জাতীয় দলে যারা আছে, তারা ভালো করলে আমরা আরও বেশি উজ্জীবিত হই ভালো পারফরম্যান্স দিতে। এমন প্রতিযোগিতা দেশের ক্রিকেটের জন্যই ভালো।

/এফআইআর/
সম্পর্কিত
পাইপলাইন পোক্ত করতে বিসিবির আয়োজন
স্কুলকে চ্যাম্পিয়ন করে হাসপাতালে সিফাত
ভালো বলকে রেসপেক্ট করেই ৫০ ওভার ব্যাটিং করেছি: মুর্শিদা
সর্বশেষ খবর
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জনগণ যখন আশ্বস্ত, তখনই অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা: কাদের
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে জনগণ যখন আশ্বস্ত, তখনই অরাজকতা সৃষ্টির পাঁয়তারা: কাদের
বৃহস্পতিবার সাধারণদের জন্য মার্কিন দূতাবাস বন্ধ থাকবে
কোটা আন্দোলনবৃহস্পতিবার সাধারণদের জন্য মার্কিন দূতাবাস বন্ধ থাকবে
‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ বাম জোটের সমর্থন
‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ বাম জোটের সমর্থন
‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ সমর্থন দিলো যেসব দল
‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ সমর্থন দিলো যেসব দল
সর্বাধিক পঠিত
আমার প্রাণের বাংলাদেশ এভাবে রক্তাক্ত হতে পারে না: শাকিব খান
আমার প্রাণের বাংলাদেশ এভাবে রক্তাক্ত হতে পারে না: শাকিব খান
সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা আন্দোলনকারীদের
সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা আন্দোলনকারীদের
ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের রুমে ভাঙচুর
ঢাবি ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদকের রুমে ভাঙচুর
থমথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস 
থমথমে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস 
অস্তিত্বে হামলা এসেছে, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রস্তুত হয়ে যান: ওবায়দুল কাদের
অস্তিত্বে হামলা এসেছে, ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে প্রস্তুত হয়ে যান: ওবায়দুল কাদের