২০১৮ বিশ্বকাপের বছর। ফুটবল মহাযজ্ঞের উত্তেজনার আঁচ এখনই পেতে শুরু করেছে বিশ্ব। ফুটবল উৎসবে মেতে ওঠার আগে অংশ নিতে যাওয়া দলগুলোকে নিয়ে আগ্রহের কমতি নেই ভক্ত-সমর্থকদের। এবারও অংশ নিচ্ছে ৩২ দল। তাদের শক্তি-দুর্বলতা, স্কোয়াড, প্রতিপক্ষ নিয়ে সাজানো আমাদের এই আয়োজন। আজ থাকছে ‘এফ’ গ্রুপের মেক্সিকো-
শেষ ষোলোর চৌকাঠ কিছুতেই পেরোতে পারছে না মেক্সিকো। বারবার আটকে যাচ্ছে নকআউট পর্বের প্রথম রাউন্ডে। সেই ১৯৯৪ সালের বিশ্বকাপ থেকে শুরু হয়েছে, ২০১৪ বিশ্বকাপে এসেও একই জায়গা থেকে শেষ হয়েছে কনকাকাফ অঞ্চলের দলটির দৌড়। টানা ছয়বার শেষ ষোলোতে আটকে যাওয়া মেক্সিকো অতীত ইতিহাস পাল্টে কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য নিয়ে নামতে যাচ্ছে রাশিয়ার আসরে।
বিশ্বকাপের নিয়মিত মুখ তারা। মূল আসর দারুণভাবে শুরু করলেও গতিটা ধরে রাখতে পারে না। নকআউট পর্বে গেলেই এলোমেলো হয়ে যায় মেক্সিকোর পারফরম্যান্স। তবে এবার গ্রুপ পর্বেই দিতে হবে তাদের কঠিন পরীক্ষা। ‘এফ’ গ্রুপে তাদের লড়তে হবে বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির বিপক্ষে। আরও রয়েছে সুইডেন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দল।
একনজরে:
অধিনায়ক: রাফায়েল মারকেস
কোচ: হুয়ান কার্লোস অসোরিও
ডাকনাম: এল ত্রি
র্যাংকিং: ১৫ (জুন ৭ পর্যন্ত)।
বিশ্বকাপে অংশ নিয়েছে: ১৫বার- ১৯৩০, ১৯৫০, ১৯৫৪, ১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৬৬, ১৯৭০, ১৯৭৮, ১৯৮৬, ১৯৯৪, ১৯৯৮, ২০০২, ২০০৬, ২০১০, ২০১৪।
বিশ্বকাপে সেরা সাফল্য: কোয়ার্টার ফাইনাল- ১৯৭০, ১৯৮৬।
ফিরে দেখা বাছাই পর্ব:
কনকাকাফ অঞ্চলের বাছাইয়ে চমৎকার সময় পার করে বিশ্বকাপে নাম লিখিয়েছে মেক্সিকো। বাছাইয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ‘এল ত্রি’ পায় রাশিয়ার টিকিট। ১০ ম্যাচে মাত্র একটিতে হেরে ২১ পয়েন্ট পায় মেক্সিকো। জমাট রক্ষণে বাছাই পর্বের চূড়ান্ত রাউন্ডে মাত্র ৭ গোল হজম করেছে তারা।
মেক্সিকোর বিশ্বকাপ গ্রুপ:
বিশ্বকাপে মেক্সিকো রয়েছে ‘এফ’ গ্রুপে। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির সঙ্গে তাদের প্রতিপক্ষ সুইডেন ও দক্ষিণ কোরিয়া।
মেক্সিকোর বিশ্বকাপ সূচি:
মেক্সিকোকে প্রথম ম্যাচেই দিতে হবে কঠিন পরীক্ষা। ১৭ জুন নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। ২৩ জুন দ্বিতীয় ম্যাচে খেলবে দক্ষিণ কোরিয়ার বিপক্ষে। আর ২৭ জুন গ্রুপের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে সুইডেনের।
১৭ জুন: জার্মানি
২৩ জুন: দক্ষিণ কোরিয়া
২৭ জুন: সুইডেন
নজরে থাকবেন:
হাভিয়ের এর্নান্দেস: ‘চিচারিতো’ মেক্সিকোর সর্বোচ্চ গোলদাতা। জাতীয় দলের জার্সিতে ৪৯ গোল করলেও সেখানে বিশ্বকাপের দুই আসর থেকে এসেছে মাত্র ৩ গোল। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, রিয়াল মাদ্রিদ ও বেয়ার লেভারকুসেনের সাবেক ফরোয়ার্ড ওয়েস্ট হ্যাম ইউনাইটেড দিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ফিরেছেন গত মৌসুমে। যদিও কঠিন সময় পার করেছেন ইংল্যান্ডে ফিরে। এরপরও ৩০ বছর বয়সী এর্নান্দেস এখনও মেক্সিকোর সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়।
শক্তি: রক্ষণভাগ।
দুর্বলতা: মাঝমাঠ।
ভবিষ্যদ্বাণী: শেষ ষোলো।
চূড়ান্ত স্কোয়াড:
গোলরক্ষক: গিয়েরমো ওচোয়া, আলফ্রেদো তারাভেরা, হেসুস কোরোনা; ডিফেন্ডার: কার্লোস সালসেদো, ডিয়েগো রিয়েস, হেক্তর মোরেনো, উগো আইয়ালা, এদসন আলভারেস, হেসুস গায়ার্দো, মিগেল লাউন; মিডফিল্ডার: রাফায়েল মারকেস, এক্তর এরেরা, জনাথান দস সান্তোস, জিওভানি দস সান্তোস, আন্দ্রেস গার্দাদো, মার্কো ফাবিয়ান; ফরোয়ার্ড: হাভিয়ের এর্নান্দেস, রাউল হিমেনেস, অরিবে পেরাল্তা, হেসুস মানুয়েল কোরোনা, কার্লোস ভেলা, হাভিয়ের আকিনো, ইরভিং লোসানো।







