সেন্ট পিটার্সবার্গে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে অগণিত সুযোগ নষ্টের ম্যাচে এক গোল গড়ে দিলো পার্থক্য। যাতে সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সুইডেন উঠে গেল রাশিয়া বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে। ১-০ গোলে জিতে ১৯৯৪ সালের পর প্রথমবার শেষ আটের টিকিট পেল সুইডিশরা।
আগামী ৭ জুলাই সামারা অ্যারেনায় সুইডিশদের প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড কিংবা কলম্বিয়া।
প্রথম মিনিটে সুইডিশ ডিফেন্ডারের পা ফসকে বল পান জারদান শাকিরি। সুইজারল্যান্ড তারকার শক্তিশালী শট গোলবারের পাশ দিয়ে চলে যায়। জুবের বাঁ দিক থেকে ৭ মিনিটে বাঁকানো শট নেন লক্ষ্যে, বল সোজা ধরা পড়ে সুইডেন গোলরক্ষক ওলসেনের হাতে।
৮ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করে সুইডেন। অফসাইডের ফাঁদে ধরা দেননি বার্গ, একটু পেছনে থেকে শট নেন লক্ষ্যে। সামনে কেবল ছিলেন সুইজারল্যান্ড গোলরক্ষক ইয়ান সমার। কিন্তু বল চলে যায় গোলবারের পাশ দিয়ে। পরের মিনিটে সমারের ভুলে বিপজ্জনক জায়গায় বল পান বার্গ, তার শট ব্লক করেন মানুয়েল আকানজি।
২৪ মিনিটে স্টিভেন জুবেরের ক্রস থেকে শাকিরির শট লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে এগিয়ে যেতে পারেনি সুইসরা। চার মিনিট পর ওলা তোইভনেনের হাফ ভলি দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন তাদের গোলরক্ষক। ৩৪ মিনিটে আবারও শাকিরি ক্রসবারের উপর দিয়ে বল মারেন।
ম্যাচের সবচেয়ে ভালো সুযোগ পায় সুইজারল্যান্ড ৩৮ মিনিটে। কর্নার থেকে জুবেরের কাট ব্যাকে ব্লেরিম জামাইলি বল পান। বক্সের মধ্যে থেকে লক্ষ্যে শট নিয়েও সফল হননি তিনি।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার ৩ মিনিট আগে এগিয়ে যেতে পারতো সুইডেন। মাইকেল লুস্তিগের ক্রস থেকে ব্যাক পোস্টে বল পান আলবিন একডাল। গোলমুখের কয়েক গজ দূর থেকে তার ভলি বিস্ময়করভাবে গোলবারের উপর দিয়ে চলে যায়।
এভাবেই একের পর এক সুযোগ নষ্টের আক্ষেপ নিয়ে প্রথমার্ধ শেষ করে দুই দল।
বিরতি থেকে ফিরে ৪৯ মিনিটে এমিল ফোর্সবার্গের সৌজন্যে সুযোগ পান তোইভনেন। আবারও বল গোলবারের উপর দিয়ে গেলে সুইডেন এগিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়।
পরের মিনিটে শাকিরি বক্সের মধ্যে বল পেয়েও সুইডিশ ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষকের কারণে শট নিতে পারেননি।
অবশেষে ম্যাচে প্রথম গোলের দেখা পাওয়া যায় ৬৬ মিনিটে। তোইভনেনের সঙ্গে ওয়ান টু পাসে বক্সের বাইরে থেকে একমাত্র গোল করেন ফোর্সবার্গ। তার নিচু শট হয়তো ঠেকাতে পারতেন সমার। কিন্তু তার আগেই সুইস ডিফেন্ডার আকানজির পায়ে আঘাত করে বল ঢুকে যায় জালে।
এই ফোর্সবার্গ দারুণ ব্লকে সুইসদের গোলবঞ্চিত করেন ৮০ মিনিটে। কর্নার থেকে বল পেয়ে ব্রিল এম্বোলো বাঁ পোস্টের দিকে শট নেন। কিন্তু গোলমুখে তার সামনে বাধা হয়ে দাঁড়ান ফোর্সবার্গ। গোলরক্ষক বল ঠেকানোর আগেই বিপদমুক্ত করেন আরবি লিপজিগের ২৬ বছর বয়সী তারকা।
ইনজুরি সময়ের চতুর্থ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পেয়েছিল সুইডেন। মার্টিন ওলসোন বক্সের মধ্যে পড়ে গেলে ল্যাংকে লাল কার্ড দেখিয়ে পেনাল্টি দেন রেফারি। যদিও ভিএআর দেখিয়েছে, ফাউল হয়েছে বক্সের বাইরে। পেনাল্টি বাতিল হয়ে ফ্রি কিক হলেও ল্যাংয়ের লাল কার্ড বহাল থাকে। বক্সের প্রান্ত থেকে তোইভনেনের ফ্রি কিক সমার প্রতিহত করলেও ম্যাচের ফল পাল্টায়নি।
দারুণ এই সাফল্যের দিনে সুইডেনের হতাশা একটাই, লুস্তিগ প্রথমার্ধে হলুদ কার্ড দেখেছেন। পরপর দুই ম্যাচে হলুদ কার্ডের কারণে শেষ আটে খেলতে পারবেন না এই ডিফেন্ডার।







