হামজা দেওয়ান চৌধুরী ও শমিত সোমের সঙ্গে খেলে অনুপ্রাণিত হয়েছেন শুকি ইতোফুসা। ফিফা আসিয়ান কাপে বিশ্বমানের ফুটবলারদের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা তাকে যেমন আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে, তেমনি নিজের সীমাবদ্ধতাগুলোও চিনিয়ে দিয়েছে। এবার সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ফর্টিস এফসির হয়ে এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে চান জাপানি বংশোদ্ভূত এই ফরোয়ার্ড।
রবিবার ক্লাব প্রাঙ্গণে শুকি বলেন, ‘আসিয়ান কাপে আমি সত্যিই দারুণ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের বিপক্ষে খেলার অভিজ্ঞতা সরাসরি মাঠে অনুভব করতে পেরেছি। নিজের এমন কিছু দিক দেখেছি, যা বড় মঞ্চে কাজে লেগেছে। আবার কিছু জায়গায় ঘাটতিও চোখে পড়েছে। তাই ভেবেছি সামনে আমাকে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, যেন তাদের সঙ্গে সমানে সমান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পর্যায়ে পৌঁছাতে পারি।’
হামজা ও শমিতের কাছ থেকে শেখার অনেক কিছু আছে বলে মনে করেন শুকি। তার কথায়, ‘হামজা ও শমিতের সঙ্গে একসঙ্গে খেলার সুযোগ পাওয়া আমার জন্য বিশেষ অভিজ্ঞতা। খেলোয়াড় হিসেবে তাদের দক্ষতা ছাড়াও ব্যক্তিজীবন ও ফুটবলের বাইরের মানসিকতা থেকে অনেক কিছু শেখার ছিল। আমার কাছেই এমন চমৎকার অনুকরণীয় ব্যক্তিত্বরা রয়েছেন। তাই তাদের মতো একজন দুর্দান্ত খেলোয়াড় হয়ে উঠতে চাই এবং সেই লক্ষ্যে কঠোর পরিশ্রম করতে চাই।’
এএফসি চ্যালেঞ্জ লিগ শুকির জন্য নতুন এক অভিজ্ঞতা। ক্লাব পর্যায়ে এত বড় মঞ্চে এবারই প্রথম খেলতে যাচ্ছেন তিনি। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ের চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে সচেতন এই ফরোয়ার্ডের লক্ষ্য বাছাই পর্ব পেরিয়ে দেশের মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা।
শুকি বলেন, ‘আমার নিজের জন্যও ক্লাব পর্যায়ে এত বড় মঞ্চে খেলা এবারই প্রথম। ম্যাচগুলো যে কঠিন ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হতে যাচ্ছে, সে বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। বাংলাদেশের একজন প্রতিনিধি হিসেবে এই ক্লাবের হয়ে দেশের মানুষের হৃদয় জয় করতে চাই। অবশ্যই বাছাই পর্ব পার হয়ে ফিরতে চাই।’
ভবিষ্যতে আরও উঁচু মানের লিগে খেলার ইচ্ছাও রয়েছে শুকির। তবে আপাতত নিজের ক্লাবের সাফল্যই তার প্রধান লক্ষ্য। তিনি বলেন, ‘ভবিষ্যৎ নিয়ে এখনও নির্দিষ্ট করে ভাবিনি। তবে আরও উঁচু মানের লিগে গিয়ে নিজেকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা আছে। কঠিন ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশে নিজেকে গড়ে তোলার আকাঙ্ক্ষা সব সময়ই রয়েছে। তবু আপাতত এই দলের হয়ে নিজের সেরাটা দিয়ে ভালো ফলাফল আনাই আমার প্রথম অগ্রাধিকার।’