নাজমুলদের কাছে ম্যাচ হেরে তামিমদের বিদায়

Send
বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট
প্রকাশিত : ০০:৫৯, অক্টোবর ২২, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ০১:০৭, অক্টোবর ২২, ২০২০

তাসকিনের এই উইকেট-উদযাপন শেষে রূপ নিয়েছে জয়ের উচ্ছ্বাসে           -ছবি: বিসিবিফাইনালে যেতে জয়ের বিকল্প ছিল না তামিম একাদশের সামনে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় হারতে হলো তামিমের দলকে। আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করা নাজমুল একাদশ ব্যাট-বল-ফিল্ডিংয়ের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে সুবাদে তামিমের দলকে হারিয়ে দিয়েছে ৭ রানে।

শেষ ওভারে জয়ের জন্য ১৫ রান প্রয়োজন ছিল তামিমদের। চতুর্থ বলে সাইফউদ্দিনের ছক্কায় প্রয়োজন দাঁড়ায় ৩ বলে ৮ রানে। সেই লক্ষ্য ছুঁতে আবার মিডঅনে ব্যাট চালান সাইফউদ্দিন। কিন্তু ক্যাচ হয়ে ফিরতেই টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় হয়ে যায় তামিমের দলের। ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে জয়ের জন্য তামিম একাদশের লক্ষ্য ছিল ১৬৫ রান।

ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ১০ রানেই বিদায় নেন ওপেনার এনামুল হক। দ্বিতীয় উইকেটে অবশ্য মাহিদুলকে সঙ্গে নিয়ে অধিনায়ক তামিম ইকবাল ধীরস্থিরভাবে ৬৮ রানের জুটি গড়েন। উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান মাহিদুল ইসলাম ৪৫ বলে ২২ রান করে বিদায় নেন। সঙ্গীকে হারিয়ে তামিমও বেশিদূর এগোতে পারেননি। ৮৫ বলে টুর্নামেন্টে প্রথম হাফসেঞ্চুরির দেখা পান তামিম। খেলেন ৮৫ বলে ৬ চারে ৫৭ রানের ইনিংস।

এরপর ইয়াসির রাব্বির ৩৩ বলে ৬ রানের ইনিংসের পরই মূলত তামিম একাদশ চাপে পড়ে যায়। পরে মোহাম্মদ মিঠুনের ৩২ বলে ২৯ এবং মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ৯ বলে ১০ রানের চেষ্টাও বিফলে যায়। তামিম একাদশ নির্ধারিত ৪০.৪ ওভারে ১৫৬ রানে অলআউট হয়।

নাজমুল একাদশের বোলারদের মধ্যে দারুণ বোলিং করেছেন আল আমিন হোসেন ও তাসকিন আহমেদ। তাসকিন ৩৬ রান খরচায় নিয়েছেন ৪ উইকেট। ম্যাচসেরার পুরস্কারটিও জিতেছেন জাতীয় দলের এই পেসার। আল আমিন একটি উইকেট নিলেও ৯ ওভারে মাত্র ১৮ রান দিয়েছেন। এছাড়া আবু জায়েদ রাহি, নাসুম আহমেদ ও সৌম্য সরকার একটি করে উইকেট নিয়েছেন।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় নাজমুল একাদশ। আগের ম্যাচগুলোর ধারাবাহিকতায় আজও নতুন বলের সামনে টপ অর্ডার ব্যাটিং মুখ থুবড়ে পড়ে। ২৫ রানে নাজমুল একাদশের তিন ব্যাটসম্যান পারভেজ ইমন (১০), সৌম্য সরকার (৭) ও নাজমুল (৫) ফিরে যান। চতুর্থ উইকেটে মুশফিক ও আফিফের ৯০ রানের জুটিতে প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেয় নাজমুলের দল। এই জুটি গড়ে ওঠার মাঝখানে বৃষ্টির কারণে ১৫৫ মিনিট খেলা বন্ধ ছিল।

বৃষ্টি থামার পর ম্যাচের দৈর্ঘ্য নেমে আসে ৪১ ওভারে। দারুণ খেলতে থাকা মুশফিক সুইপ শটে শরিফুল ইসলামের দুর্দান্ত ক্যাচে ফিরে যান। আউট হওয়ার আগে ৭৫ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় বাংলাদেশের সাবেক অধিনায়ক খেলে যান ৫১ রানের ইনিংস। মুশফিকের বিদায়ের পর স্কুপ করতে গিয়ে ফিরে যান আফিফও। তরুণ এই অলরাউন্ডারের ব্যাট থেকে আসে ৬১ বলে ৪০ রান। লেট অর্ডারে তৌহিদ হৃদয় (১৩), ইরফান শুক্কুর (১১), নাসুম আহমেদের (১২*) ছোট ইনিংসগুলোতে ১৬৫ রানে শেষ হয় নাজমুল একাদশের ইনিংস।

তামিম একাদশের সফলতম বোলার সাইফউদ্দিন। ৮.৩ ওভারে ২৬ রান খরচায় তার শিকার ৫ উইকেট। এছাড়া ৩৬ রান দিয়ে মোস্তাফিজ ৩টি ও অফস্পিনার মেহেদী হাসান ৩৪ রান দিয়ে নিয়েছেন ২ উইকেট।

তিন দলের টুর্নামেন্টে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে আছে নাজমুল একাদশ। তিন ম্যাচে দুই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে তারা, সমান ৪ পয়েন্ট আছে মাহমুদউল্লাহ একাদশের নামের পাশেও। তবে চার ম্যাচে সমান দুটি করে জয়-পরাজয় দেখা মাহমুদউল্লাহর দল পিছিয়ে আছে রানরেটে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নাজমুল একাদশ: (সর্বোচ্চ ৪১ ওভার) ৩৯.৩ ওভারে ১৬৫(মুশফিক ৫১,আফিফ ৪০, তৌহিদ ১৩, নাসুম ১২*, ইরফান ১১, পারভেজ ১০; সাইফউদ্দিন ৫/২৬, মোস্তাফিজ ৩/৩৬, মেহেদী ২/৩৪)। তামিম একাদশ: ৪০.৪ ওভারে ১৫৬ (তামিম ৫৭, মিঠুন ২৯, মাহিদুল ২২, সাইফউদ্দিন ১০; তাসকিন ৪/৩৬, আল আমিন ১/১৮, সৌম্য ১/৭, নাসুম ১/২৭, আবু জায়েদ ১/৩৮)

ফল: নাজমুল একাদশ ৭ রানে জয়ী। ম্যাচের সেরা: তাসকিন আহমেদ, সেরা ফিল্ডার: তামিম ইকবাল, সেরা বোলার: সাইফউদ্দিন, সেরা ব্যাটসম্যান: মুশফিকুর রহিম।

 

 

/আরআই/পিকে/

লাইভ

টপ