ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের জয়জয়কার, ফাইভ-জির আগমনী ধ্বনি

Send
হিটলার এ. হালিম
প্রকাশিত : ১৯:৫০, জানুয়ারি ১৬, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ২১:০৩, জানুয়ারি ১৬, ২০২০

স্মার্টফোনে ফাইভ-জির গতি পরীক্ষাদেশে এখন ব্রডব্যান্ড (উচ্চগতি) ইন্টারনেটের জয়জয়কার। পঞ্চম প্রজন্মের নেটওয়ার্ক তথা ফাইভ-জি চালু হওয়ার আগে প্রযুক্তিপ্রেমীদের সত্যিকারের গতির অভিজ্ঞতা দিতে তাদের পছন্দের শীর্ষে এখন ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট। রাজধানীতে শুরু হওয়া ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা ঘুরে এমনটাই জানা গেলো। জানা গেলো, ফোর-জির চেয়ে অন্তত ২০ গুণ বেশি গতির হবে ফাইভ-জি।

মেলায় দেশের ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান আইএসপিগুলো তাদের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের নতুন নতুন প্যাকেজ অফার করছে। দাম কমিয়ে ভ্যালু অ্যাড করে (নতুন নতুন সেবা যোগ করে) গ্রাহকদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। সেফ ইন্টারনেট তথা প্যারেন্টাল কন্ট্রোল, আইপি টেলিফোনি, আইপি টিভি ইত্যাদি যোগ করে গ্রাহককে তুলনামূলক কম দামে মেলায় তাদের সেবা অফার করছে।

এ বিষয়ে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবির সভাপতি মো. আমিনুল হাকিম বলেন, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ প্রথমবারের মতো ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা আয়োজন করলো। এতে সার্বিক সহযোগিতা করেছে আইএসপিএবি। আইএসপিএবির সব ধরনের সহযোগিতায় সফলভাবে শুরু হলো প্রথম ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা।

মো. আমিনুল হাকিম আরও বলেন, আমরা ফিক্সড ব্রডব্যান্ড নিয়ে আশাবাদী। বাসাবাড়িতে এর ব্যবহার দ্রুতগতিতে বাড়ছে। প্রবৃদ্ধি ভালো। গত মাসে আমরা গ্রাহকদের যে পরিমাণ ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের ব্যবহার দেখেছি, এটা এই মাসে ৪-৫ শতাংশ হারে বাড়ছে। এটা আমাদের জন্য একটা আশার খবর।

এদিকে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসি গত ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত দেশে ফিক্সড ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহারের যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, এ সংখ্যা ৫৭ লাখ ৩৯ হাজার।

জানা গেছে, করপোরেট অফিসের চেয়ে বাসাবাড়িতে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট এখন বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে। কিছুদিন আগে যার ছিল উল্টোচিত্র। আইএসপিএবি বলেছে, বাসাবাড়িতে বর্তমানে মোট ব্যবহার হওয়া ব্যান্ডউইথের প্রায় অর্ধেক ব্যবহৃত হচ্ছে। বাসাবাড়িতে ১০ ও ২০ এমবিপিএস গতির ব্যান্ডউইথের চাহিদা বেশি। সংগঠনটি আরও জানায়, গত এক বছরে দেশে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেটের গ্রাহক বেড়েছে ১৫ লাখের বেশি, যার বেশিরভাগই বাসাবাড়িতে। সংগঠনটির পর্যবেক্ষণ, মোবাইল ইন্টারনেট থাকার পরও বাসাবাড়িতে ওয়াই-ফাই সংযোগ চালুর হার বেড়েছে। বাসাবাড়ির ইন্টারনেটে ভালো রেজ্যুলেশনে মুভি দেখা, ইউটিউবে শিক্ষামূলক ভিডিও দেখা, অনলাইনে গেম খেলা, রান্নার অনুষ্ঠান দেখা, নাটক দেখা হয় বেশি।

ফাইভ-জির গতি দেখছেন অতিথিরামেলায় আম্বার আইটি তাদের প্যাকেজে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল, আইপি টেলিফোনি, আইপি টিভি অফার করছে। বিডিকম অনলাইন মাসে ৩০০ টাকায় সবার জন্য ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট অফার করছে। প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম গোলাম ফারুক আলমগীর আরমান বললেন, মেলায় আমরা নতুন প্যাকেজটি নিয়ে বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। এই প্যাকেজে আমরা সাবসিডি দিচ্ছি। তারপরও চাই যেন সবার হাতে আমাদের ইন্টারনেট সেবা পৌঁছে।   

অন্যদিকে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান হুয়াওয়ে দর্শনার্থীদের ফাইভ-জি অভিজ্ঞতা দিতে সব আয়োজনই করেছে তাদের প্যাভিলিয়নে। ফাইভ-জি সমর্থিত স্মার্টফোন, রোবট, গিয়ার ভিআর ইত্যাদি রেখেছে। রেখেছে ফাইভ-জি গতি পরীক্ষার ব্যবস্থা। মেলায় প্রতি সেকেন্ডে ১ দশমিক ৪ থেকে ১ দশমিক ৭ জিবি ডেটা ট্রান্সফার হার দেখানো হবে। প্রথম দিনই সেকেন্ডে ১ দশমিক ৬ জিবি গতিতে ডেটা ট্রান্সফারের অভিজ্ঞতা অর্জন করলেন দর্শনার্থীরা।

হুয়াওয়ের প্যাভিলিয়নে সরাসরি ফাইভ-জি স্পিড ও লো-ল্যাটেন্সি অভিজ্ঞতা নিতে পারবেন প্রযুক্তিপ্রেমীরা। এছাড়া প্যাভিলিয়নে রয়েছে বিশেষ একটি রোবট, যাকে হাতের ইশারায় পরিচালনা করে ফুটবল খেলা যাচ্ছে। ফাইভ-জি প্রযুক্তিতে কত দ্রুত ‘হিউম্যান টু মেশিন’ বা ‘মেশিন টু মেশিন’ কমিউনিকেশন সম্ভব তা তুলে ধরতে এই আয়োজন বলে জানান হুয়াওয়ে কর্তৃপক্ষ। এর পাশাপাশি প্লে-জোনে ফাইভ-জি প্রযুক্তির মাধ্যমে রিয়েল-টাইম ভি-আর (ভার্চুয়াল রিয়েলিটি) উপভোগ করতে পারছেন দর্শনার্থীরা। ফাইভ-জি ভি-আর পরলে নিজেকে খুঁজে পাওয়া যাবে স্কি-রত অবস্থায়।

ফাইভ-জি প্রযুক্তিতে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে রোবট

হুয়াওয়ে টেকনোলজিস (বাংলাদেশ) লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী ঝাং ঝেংজুন বলেন, প্রযুক্তিগত সুবিধা বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে ২১ বছর ধরে দেশের আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি, টেলিকম নিয়ে কাজ করছে হুয়াওয়ে।

মেলায় নয়টি স্ট্যান্ড নিয়ে জেডটিই বুথে ব্যবসায় সমাধান, টার্মিনাল অভিজ্ঞতার পাশাপাশি সিস্টেম সলিউশন্স প্রদর্শনী এলাকায় সহজীকরণের মাধ্যমে সব তুলে ধরা হচ্ছে। এছাড়া ফাইভ-জি প্রদর্শনীর পাশাপাশি দর্শনার্থীদের কাছে নেটওয়ার্ক একসিলারেশন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, চাহিদাভিত্তিক পরিবহন নেটওয়ার্ক, স্বয়ংক্রিয় চিপসেটের পাশাপাশি ‘কমন কোর’ নামের সেবা তুলে ধরা হচ্ছে ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দিতে। দেখা গেলো উন্নত ও ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে প্রযুক্তিপ্রেমীরা জেডটিই প্যাভিলিয়নে ভিড় করছেন।

বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে শুরু হওয়া এই মেলা শেষ হবে ১৮ জানুয়ারি শনিবার। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ আয়োজিত মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে। 

/এইচএএইচ/এমওএফ/

লাইভ

টপ