মানুষকে হাসিয়েই স্বাবলম্বী শামস

Send
নওরিন আক্তার
প্রকাশিত : ১৯:০০, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২০ | সর্বশেষ আপডেট : ১৯:১১, সেপ্টেম্বর ০৩, ২০২০

পাশের বাসার কুলসুমের সঙ্গে শামসুর প্রেমকাহিনী দেখে হাসেননি এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া কঠিন। ফেসবুক ও ইউটিউবের জন্য মজার মজার ভিডিওগুলো বানান শামস আফরোজ চৌধুরী। বাংলা ট্রিবিউনকে জানালেন তার গল্প।  

শামস আফরোজ চৌধুরী
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ শেষ করে এমবিএ করতে শামস ভর্তি হয়েছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেই সঙ্গে চলছিল বিসিএস এর প্রস্তুতি। চাকরির চেষ্টা করছিলেন জোরেশোরে। কিন্তু সোনার হরিণ ধরা দিচ্ছিলো না কিছুতেই। দিনরাত প্রস্তুতি, তারপর ইন্টার্ভিউ বোর্ড থেকে হতাশ হয়ে ফিরে আসা। এভাবেই চলছিল শামসের সময়। হতাশা কাটানোর জন্য ছোট ছোট ভিডিও বানিয়ে ফেসবুকে দিতে শুরু করেছিলেন। এখন সেই শখই পরিণত হয়েছে পেশায়। ইউটিউবার ও কনটেন্ট ক্রিয়েটর শামস আফরোজ চৌধুরির এক একটি ভিডিও দেখছেন মিলিয়ন মিলিয়ন দর্শক।

শামস আফরোজ চৌধুরী
ব্যাংকে চাকরি করার ইচ্ছে ছিল শামসের। সেই সুযোগ না পেয়ে একটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলে যোগ দিয়েছিলেন শিক্ষক হিসেবে। তবে বেতন দিতে গড়িমসি, মূল্যায়নের অভাবসহ নানা কারণে বিষিয়ে উঠেছিল মন। সে সময় ‘থটস অব শামস’ নামে ফেসবুকে একটি পেইজ খুলে নিজের মনের কথাগুলো সাজিয়ে ভিডিও করতে থাকেন। ২০১৮ সালে প্রথম ভিডিও আপলোড করেন পেইজে। সেই ভিডিও নিমিষেই ছড়িয়ে পড়ে নেটিজেনদের মধ্যে। নারীদের যে বঞ্চনার শিকার হতে হয় প্রতিনিয়ত, শামসের ভাবনায় ভিডিও আকারে উঠে আসতো এগুলো।

বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন নিজেই

এরপর এক সময় ভাবলেন, এত কঠিন কথা বলে কী হবে? সোশ্যাল মিডিয়ায় কমবেশি সবাই কঠিন কথাই বলে বা নানা বিষয়ে পরামর্শ দেয়। বরং যারা সোশ্যাল মিডিয়ায় আসেন খানিকটা আনন্দের আশায়, তাদের জন্য কিছু করলে কেমন হয়? এই চিন্তা থেকেই মজার মজার ভিডিও বানাতে শুরু করেন শামস। পারিবারিক ভিডিওগুলোর বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন নিজেই। শামস, শামসু, কুলসুম, নানী, মা, বাবা- সব চরিত্রে অভিনয়ের পাশাপাশি ভিডিও এডিটিংও নিজেই করেন। পরিবারের মজার কাহিনীর মধ্য দিয়ে চেষ্টা করেন গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরার জন্য। শামস জানালেন, এমন কাহিনী নিয়ে তিনি ভিডিও বানান, যেন সবাই নিজের সাথে রিলেট করতে পারে। সাড়া পড়ে যায় এসব ভিডিও নিয়েও। শেয়ার হতে থাকে একের পর এক।
শামসের ভিডিও তখন তুমুল জনপ্রিয় হয়ে উঠতে শুরু করেছে। এমন সময় স্কুলের চাকরিটা ছেড়ে দেন তিনি। হয়ে ওঠেন পুরোদস্তুর কনটেন্ট ক্রিয়েটর। এখন নিজের পুরোটা সময়ই তিনি দিচ্ছেন ভিডিও বানানোতে। উপার্জনও হচ্ছে বেশ। হাসতে হাসতে শামস বলেন, ‘ভাগ্যিস সে সময় ব্যাংকের চাকরিটা হয়নি!’
‘যারা কনটেন্ট ক্রিয়েটর হতে চান, তাদের উদ্দেশ্যে কিছু বলবেন?’ এমন প্রশ্নের উত্তরে শামস বলেন, কনটেন্ট ক্রিয়েট করে অবশ্যই ভালো অংকের টাকা উপার্জন সম্ভব, কিন্তু সেজন্য নিয়মিত হতে হবে। সৃজনশীলতা ভীষণ জরুরি। সেই সঙ্গে হতে হবে পরিশ্রমী। কাজকে ভালোবেসে করতে হবে, তবেই আসবে সফলতা। 

 

/এনএ/

লাইভ

টপ
X