X
বৃহস্পতিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৮

সেকশনস

আবার বঙ্গবন্ধু

আপডেট : ০৯ ডিসেম্বর ২০২০, ১৫:৪৬

সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা ডিসেম্বর মাস, বিজয়ের মাস। এই বিজয়ের মাসে আবারও আমাদের সামনে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সত্য হিসেবে উপস্থিত বঙ্গবন্ধু। মৃত জাতির পিতা শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছেন আমাদের মাঝে। একাত্তরের পরাজিত শক্তি এটা জানে বলেই তারা বাঙালির জনককে সুযোগ পেলেই আঘাত হানে। তারা তার ভাস্কর্যকে ভয় পায়, কারণ তারা জানে তার ছবি, তার মুখ বাঙালিকে ঠিক পথে নিয়ে আসে বারবার। এবারও ব্যতিক্রম হয়নি। বঙ্গবন্ধু ওপর আঘাত, তাই সুদৃঢ় ঐক্যের ধ্বনি চারদিকে। তিনি বারবার প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠেন। কখনও তিনি শোষিত মানুষের কণ্ঠস্বর, কখনও তিনি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে যে দৃঢ়তা লাগে তার দৃষ্টান্ত।
বঙ্গবন্ধুর আগে পরে অনেক রাজনীতিক এসেছেন। কিন্তু রাজনীতির সব ক্ষেত্রে তাঁর ওজন ও প্রভাব তাঁকে স্বাতন্ত্র্যে বিশিষ্ট করেছে। তাই আঘাতটা তার ওপরই আসে বারংবার। ১৯৭৫-এ তাঁকে সপরিবারে হত্যা করেও দমে যায়নি পূর্ব পাকিস্তান পুনরুদ্ধার প্রকল্পের শক্তি। গোপালগঞ্জের গহিন গ্রাম থেকে উঠে এসে শেখ মুজিবুর রহমান অনায়াসে আপামর সকলের ‘মুজিব ভাই’ হয়ে উঠতে পেরেছিলেন।

শেখ মুজিব ক্ষমতায় ছিলেন মাত্র সাড়ে তিন বছর, কিন্তু মানুষের নেতা ছিলেন আজীবন। ব্যক্তিগত জীবনে চরম বন্ধু-বৎসল, পরম স্নেহশীল, আন্তরিক, রুচিসম্পন্ন, অভিজাত মুজিব ছিলেন ধর্মপ্রাণ, কিন্তু একইসঙ্গে উদার ও অসাম্প্রদায়িক। নিজের বর্ণময় ব্যক্তিত্বের উচ্চতা দিয়ে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাঙালির জাতির পিতা।

আজ সাম্প্রদায়িক শক্তি যখন মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চায়, তখন তারা প্রথম আঘাত হানে বঙ্গবন্ধুর ওপর। কারণ বঙ্গবন্ধু শুধু পাকিস্তান থেকে বের হয়ে আলাদা একটি দেশ চাননি, তিনি স্বাধীন দেশের ভবিষ্যৎ রচনার কাজটিকে বড় করেই ভেবেছিলেন। এই বৃহৎ ভাবনার একটি হলো তিনি সমাজে শ্রেণি, জাতি, ধর্ম বা বর্ণের বাইরে মানুষকে গুরুত্ব দিতে চেয়েছিলেন। এবং তিনি অর্থনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি মানুষের হৃদয়ের উন্নয়নকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। তাই পুঁজিবাদী আর সাম্প্রদায়িক শক্তি—উভয়েরই শত্রু ছিলেন বঙ্গবন্ধু। সেই বিরোধিতা অতিক্রম করতে তাঁর বলিষ্ঠতার অভাব ছিল না বলেই বুক পেতে গুলি গ্রহণ করেছিলেন।

গত ১০/১১ বছরে দেশে বঙ্গবন্ধু কন্যার হাত ধরে উন্নয়ন হয়েছে। কিন্তু একইসঙ্গে নগ্ন সাম্প্রদায়িকতার বিকাশও ঘটেছে। এখানে যারা ইসলামের নামে শহিদ মিনার, ভাস্কর্য আর সংস্কৃতির বিরোধিতা করে তারা রাজনৈতিক ইসলামের সহিংস সৈনিক, প্রকৃত ধার্মিক নয়।

তাই এদের মোকাবিলা বা প্রতিরোধ সবসময়ই রাজনৈতিক বিষয়, ধর্মীয় ইস্যু নয়। কিন্তু সেই রাজনীতি রাজনীতি আছে কিনা, সেটি একটি বড় প্রশ্ন। ক্রান্তিলগ্নে এমন প্রশ্ন আসবেই। তবুও মনে রাখতে হয়, দেশজুড়ে যে রাজনীতি সাম্প্রদায়িক আগুন লাগাতে চায় সেই আগুনকে ছড়াতে না দেওয়াই সবার এখনকার কর্তব্য।   

নিকট অতীতে গোটা দেশেই সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বেড়েছে। রাজনীতির নানা কৌশল আর আপসে এটি হয়েছে। দেশের বেশ কিছু এলাকায় এই শক্তির দৌর্দণ্ড প্রতাপ। এদের রাজনীতি কতটা মারাত্মক, তার প্রমাণ আমরা কক্সবাজার, রংপুর, লালমনিরহাট, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দেখেছি। দেখেছি ২০১৩ সালের ৫ মে খোদ রাজধানীতেও।

অস্থির সময় এখন। কিন্তু কারা উন্নয়নের অগ্রযাত্রাকে রুখে দিতে অস্থিরতা সাজায়, সেটা ভাবা দরকার। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখবার ঐতিহ্য আমাদের আছে। প্রতিবেশী দেশে একাধিক ঘটনার সময় এর প্রতিক্রিয়ায় এখানকার একটি চক্র দেশজুড়ে দাঙ্গা লাগাবার উছিলা খোঁজে। অশান্তি হয়েছে, কিন্তু বারবারই সামলে উঠতে হয়েছে।

এই দফায়ও কাজটিকে হাল্কা করে দেখবার জো নেই। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যে আঘাত করে তারা স্বাধীনতার পক্ষের শক্তির শক্তি পরীক্ষায় নেমেছে হয়তো। উগ্রবাদের তুষের আগুন ঠেকাতে হবে। আমরা জানি চোরা আগুন নিভাবার কাজটি সহজ নয় মোটেও।

যে কথা আগেই বলেছি। নগ্ন সাম্প্রদায়িকতার জোর বেড়েছে, প্রকাশ বেড়েছে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য নিয়ে যা হয়েছে সেই বেয়াদবি রুখে দিতে প্রশাসন সক্রিয়। সাম্প্রদায়িক সংগঠনকে কঠোর হাতে নিয়ন্ত্রণ করতেই হয়। কিন্তু বল প্রয়োগে সবকিছু অর্জন হয় না। প্রয়োজন সেই রাজনীতি যে রাজনীতি জনগণ গ্রহণ করে নিজেরাই উদ্যমী সত্য খুঁজবে, সম্প্রীতির পথের সৈনিক হয়ে দাঁড়াবে।

রাজনৈতিক দল সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করলে তাকে চেনা যায়। কিন্তু অরাজনৈতিক সংগঠনের সাম্প্রদায়িক রাজনীতি বিপজ্জনক দেশের জন্য। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার রাজনীতি করে, তাদের নিজেদের ভেতরকার বিভেদমূলক রাজনীতির অবসান কী করে ঘটাবেন সেটা একবার ভাবুন।

যে রাজনীতি মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সেই রাজনীতিতে হিন্দু-মুসলমান বিভেদের রাজনীতি উপজীব্য হতে পারে না। রাজনীতি ক্ষমতা বা ক্ষমতার বাইরে–এমন ভাবনাকে বাড়তে দেওয়া যায় না। আওয়ামী লীগ ও বামপন্থী দলগুলো একে অন্যের সমালোচনার বদলে  যে কোনও মূল্যে বিভেদের রাজনীতি ঠেকানোর পথ খুঁজুন। মান ও অভিমান আছে, থাকবে এবং থাকাটা স্বাভাবিক। ক্ষমসতাসীন দল হিসেবে আওয়ামী লীগ সব জায়গায় কার্যত একচেটিয়া দখল প্রতিষ্ঠা করেছে। কিন্তু তবুও সময়টা এরকম ভাবে দেখবার জন্য নয়। সময়টা এখন সমস্বরে বলবার–‘বাংলাদেশ চলবে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে নির্ধারিত অর্জিত উদার-অসাম্প্রদায়িক পথে’।

লেখক: সাংবাদিক

/এসএএস/এমএমজে/

সম্পর্কিত

রোগের নাম গণপরিবহন

রোগের নাম গণপরিবহন

রাজনীতির নতুন সংস্কৃতি

রাজনীতির নতুন সংস্কৃতি

রাজনৈতিক চর্চা বাদ দিয়ে ক্ষমতার চর্চা সংঘাত বাড়ায়

রাজনৈতিক চর্চা বাদ দিয়ে ক্ষমতার চর্চা সংঘাত বাড়ায়

জ্বালানির জ্বালা, দ্রব্যমূল্য ও পকেটে টান

জ্বালানির জ্বালা, দ্রব্যমূল্য ও পকেটে টান

অভিবাসী শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধি জরুরি

আপডেট : ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৭:৩০

মো. আখতার হোসেন জীবন ও জীবিকার তাগিদে প্রতি বছর বিশ্বের অগণিত মানুষ নিজ দেশ ছেড়ে পাড়ি জমান বিভিন্ন দেশে। বিশ্ব অর্থনীতিতে অভিবাসন তাই একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বেশিরভাগ উন্নয়নশীল দেশের মতো বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক প্রেক্ষাপটেও অভিবাসনের যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। আশির দশকের শুরু থেকেই দেশের কর্মসংস্থান সংকট মোকাবিলায় ও দারিদ্র্য বিমোচনে অভিবাসন উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে। বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাত প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স। কোভিড-১৯ ও লকডাউনের প্রভাবে সারা বিশ্বের অর্থনীতি যখন চরম সংকটের মুখোমুখি, তখন অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা ভর করেছে দেশের অভিবাসন খাতেও।  

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো’র (বিএমইটি) তথ্যমতে, গত বছর প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সের পরিমাণ দাঁড়ায় ২১,৭৫২.২৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। মার্চ-মে মাসে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হলেও জুন থেকে এর ধারাবাহিক ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে, যা করোনাভাইরাসের অভিঘাত থেকে অর্থনীতিকে পুনরুদ্ধারের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রেখেছে। প্রবাসী শ্রমিকরা মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার দেশসহ প্রায় মোট ১৬৮টি দেশে বসবাস করছেন। তারা মূলত বিভিন্ন ব্যক্তিমালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের স্বল্পমেয়াদি চুক্তিভিত্তিক কর্মী হিসেবে কাজ করেন এবং চুক্তি শেষে দেশে ফিরে আসেন।

প্রবাস ফেরত শ্রমিকদের তথ্য সংরক্ষণের কোনও যথাযথ প্রক্রিয়া নেই বলে প্রতি বছর কতজন দেশে ফিরছেন এর সঠিক সংখ্যা বের করা বেশ কঠিন।

তবে, করোনা বৈশ্বিক মহামারি উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে অন্য যেকোনও বছরের তুলনায় গত বছর দেশে ফেরত আসা প্রবাসী শ্রমিকের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি। আইওএম’র হিসাব অনুসারে, গত বছরের এপ্রিল থেকে ডিসেম্বর মাসে প্রায় চার লাখ প্রবাসী শ্রমিক কোভিড-১৯ এর কারণে দেশে ফেরত আসেন। কোভিড-১৯-এর বিস্তার ঠেকাতে বেশিরভাগ দেশে লকডাউন ঘোষণা করায় এবং জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ায় সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশ অভিবাসী শ্রমিকদের নিজ দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দেয়।

এই প্রবাস ফেরত শ্রমিকদের একটি বড় অংশ ঋণদায়গ্রস্ত এবং দেশে তারা বেকার অবস্থায় জীবনযাপন করছেন। তাই, বিদেশে যেমন তারা কষ্টে দিনযাপন করছিলেন, দেশে এসেও তারা পড়েছেন এক দুর্দশাপূর্ণ পরিস্থিতিতে। আইওএম’র গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ফেরত আসা ৭৫ শতাংশ প্রবাস শ্রমিক করোনাভাইরাস পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার বিদেশে ফেরত যেতে আগ্রহী।

সেক্ষেত্রে আমাদের দরকার প্রবাস ফেরত এই শ্রমিকদের দক্ষতা উন্নয়নের জন্য একটি কাঠামোভিত্তিক রি-স্কিলিং ও আপস্কিলিং প্রোগ্রামে অন্তর্ভুক্ত করা, যেটি পরবর্তীতে দক্ষতার বিচারের মাপকাঠিতে প্রবাসে চাকরি নিশ্চিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনে সক্ষম হবে।

দক্ষতার বিচারে বাংলাদেশ থেকে সাধারণত তিন রকমের অভিবাসন হয়– দক্ষ, স্বল্প দক্ষ এবং অদক্ষ। সাধারণত আমাদের দেশের প্রবাসী শ্রমিকরা অবকাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত কাজ, পরিবহন, হোটেল-রেস্টুরেন্টের কাজ, স্বাস্থ্য সেবা, ঘরের কাজসহ স্বল্প দক্ষ ও নিম্ন উৎপাদনশীল কাজে নিয়োজিত থাকায় যেকোনও ধরনের অর্থনৈতিক অভিঘাতে তারা সমস্যার সম্মুখীন হন। করোনায় বেশিরভাগ দেশে এসব কাজের চাহিদা কমে যাওয়ায় অনেক প্রবাসী শ্রমিকই চাকরি হারিয়েছেন।

বিদেশ গমন করা অধিকাংশ শ্রমিকই কোনও প্রশিক্ষণ ছাড়া বিদেশে যান। অথচ ছয় মাস কিংবা এক বছরের একটি প্রশিক্ষণ বিদেশে তাদের পারিশ্রমিক দুই থেকে তিনগুণ বাড়িয়ে দিতে সক্ষম। তাই দেশে ফেরত আসা শ্রমিকরা যাতে ফের বিদেশ গমনের পর অধিক উপার্জন করতে পারেন, সেজন্য বহির্বিশ্বের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী যেসব খাতে দক্ষ জনবল প্রয়োজন, সেসব খাতে তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে মনোযোগ দিতে হবে। এক্ষেত্রে মনে রাখা প্রয়োজন, করোনা পরিস্থিতি শ্রমবাজারের রূপ অনেকটাই পাল্টে দিয়েছে। যার মধ্যে রয়েছে প্রযুক্তি নির্ভরতা ও উদ্ভাবন এবং নতুন দক্ষতার সুযোগ সৃষ্টি কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। কোভিড-১৯ যেমন কাজের ক্ষেত্রকে বিভিন্নভাবে পরিবর্তন করেছে, একইসাথে অনেক নতুন সুযোগও সৃষ্টি করেছে। দেশের অভিবাসী শ্রমিকদের বেশিরভাগেরই ভাষাগত দক্ষতা ও প্রযুক্তি জ্ঞান কম থাকায় তারা বিদেশে কাজ করতে গিয়ে বিভিন্ন রকম সমস্যার সম্মুখীন হন।

এসব ক্ষেত্রে বিদেশ ফেরত শ্রমিকদের দক্ষতা বৃদ্ধির মাধ্যমে শ্রম পরিস্থিতি আরও সুসংহত করা যেতে পারে। এছাড়া, অবকাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত কাজ, অটোমোবাইল ও ডিজিটাল খাতের কাজে বিদেশে অধিক চাহিদা থাকায়, তাদের এসব কাজ সংশ্লিষ্ট প্রশিক্ষণ প্রদান করার ব্যাপারে নজর দেওয়া যেতে পারে। আমাদের নারী প্রবাসী শ্রমিকদের একটি বড় অংশই বিদেশে ঘরের কাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের যদি ভারতের কেরালা, ফিলিপাইন বা ভিয়েতনামের মতো নার্সিং কোর্স করানো হয়, অথবা দক্ষভাবে গৃহপরিচালনা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ দেওয়া যায়, তবে তা তাদের জন্য যেমন মঙ্গলজনক হবে, তেমনি আমাদের সমতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক কাঠামোও সুনিশ্চিত হবে।

অভিবাসীদের জন্য বৈশ্বিক মহামারি সৃষ্ট চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য সরকার কয়েক ধাপে নগদ সহায়তাসহ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করলেও এর মাত্র পাঁচ শতাংশ প্রবাস ফেরত শ্রমিকরা কাজে লাগিয়েছেন। প্রবাসীদের সহায়তার প্রক্রিয়া ও ব্যবস্থাপনায় সুফল পেতে তাই নীতিনির্ধারকদের নতুন করে চিন্তাভাবনা করা জরুরি।  আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ তৈরির ব্যাপারে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কাকে উদাহরণ বিবেচনা করা যেতে পারে। এসব দেশ, বিদেশ ফেরত শ্রমিকদের নগদ আর্থিক সহায়তা প্রদানসহ তাদের দক্ষ করে তুলতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারি বিভিন্ন উদ্যোগের পাশাপাশি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান একসঙ্গে এগিয়ে আসতে পারে।

করোনাকালীন ও পরবর্তী দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে প্রশিক্ষিত দক্ষ জনবলের বিকল্প নেই। তাই, দক্ষ জনশক্তি সৃষ্টি ও নতুন সম্ভাবনাময় বাজার অনুসন্ধান একসঙ্গে দুটোই চালিয়ে যেতে হবে। আর এটা করা সম্ভব হবে বহুমুখী অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই।

লেখক: সিনিয়র সচিব, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, ‎গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার।

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

সর্বশেষ

সিলেট বোর্ডে কমেছে সাড়ে ৭ হাজার এইচএসসি পরীক্ষার্থী

সিলেট বোর্ডে কমেছে সাড়ে ৭ হাজার এইচএসসি পরীক্ষার্থী

মধ্যরাতে দুই কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে এক চালকের মৃত্যু

মধ্যরাতে দুই কাভার্ডভ্যানের সংঘর্ষে এক চালকের মৃত্যু

উড়োজাহাজে বোমার ভুয়া তথ্যটি আসে মালয়েশিয়ান নম্বরের ফোন কলে

উড়োজাহাজে বোমার ভুয়া তথ্যটি আসে মালয়েশিয়ান নম্বরের ফোন কলে

‘জরুরি অবতরণ করা’ বিদেশি উড়োজাহাজটিতে বোমা পাওয়া যায়নি

‘জরুরি অবতরণ করা’ বিদেশি উড়োজাহাজটিতে বোমা পাওয়া যায়নি

চিকিৎসার সুযোগ ‘উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি’র জন্য ইতিবাচক হবে

২৩ নাগরিকের বিবৃতিচিকিৎসার সুযোগ ‘উন্নত রাজনৈতিক সংস্কৃতি’র জন্য ইতিবাচক হবে

বোমা সন্দেহে শাহজালালে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ‘জরুরি অবতরণ’

বোমা সন্দেহে শাহজালালে মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের ‘জরুরি অবতরণ’

ভারত থেকে এলো ৪৫ লাখ ডোজ টিকা

ভারত থেকে এলো ৪৫ লাখ ডোজ টিকা

খিলগাঁওয়ে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

খিলগাঁওয়ে নির্মাণাধীন ভবন থেকে পড়ে শ্রমিকের মৃত্যু

দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ান: ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী

দরিদ্রদের পাশে দাঁড়ান: ব্যবসায়ীদের প্রধানমন্ত্রী

'ওমিক্রন সন্দেহে বাড়িতে লাল পতাকা অমানবিক, অনৈতিক'

'ওমিক্রন সন্দেহে বাড়িতে লাল পতাকা অমানবিক, অনৈতিক'

জানুয়ারির মধ্যেই প্রাপ্তবয়স্ক সবাইকে বুস্টার ডোজ দেবে যুক্তরাজ্য

জানুয়ারির মধ্যেই প্রাপ্তবয়স্ক সবাইকে বুস্টার ডোজ দেবে যুক্তরাজ্য

২৪ দিনে কোটি টাকা নিয়ে উধাও

২৪ দিনে কোটি টাকা নিয়ে উধাও

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

© 2021 Bangla Tribune