X
রবিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৪ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

নিউ জিল্যান্ডে করোনার ‘ইমিউনিটি দায়’ চুকাচ্ছে শিশুরা

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২১, ১৮:৫৫

চিকিৎসকরা এই পরিস্থিতিকে বলছেন ইমিউনিটি দায় (ডেবট): যখন মহামারিতে মানুষ লকডাউনের কারণে একে অন্যের সংস্পর্শে আসা থেকে বিরত ছিল তখন তাদের দেহে স্বাভাবিক যোগাযোগে যেসব ভাইরাস ছড়ায় সেগুলোর বিরুদ্ধে ইমিউনিটি গড়ে ওঠে না। নিউ জিল্যান্ডে কোভিড-১৯ লকডাউনের এই ইমিউনিটি ঋণের কারণে অনেক শিশু রেসিপাইরেটরি সিনসিয়াল ভাইরাস বা আরএসভিতে আক্রান্ত হচ্ছে। চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলছেন, হাসপাতালগুলোর শিশু ওয়ার্ড পূর্ণ হয়ে গেছে। অনেক হাসপাতালে বাচ্চাদের খেলার স্থানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এখবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, ওয়েলিংটনে ৪৬ শিশু শ্বাসজনিত অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এদের মধ্যে অনেক নবজাতককে অক্সিজেন লাগিয়ে রাখা হয়েছে। অন্যান্য হাসপাতালেও এমন রোগী বাড়ছে।

আরএসভি একটি সাধারণ শ্বাসজনিত রোগ। প্রাপ্ত বয়স্কদের দেহে এটি হালকা উপসর্গ তৈরি করে। কিন্তু ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে ভয়াবহ অসুস্থ বা প্রাণঘাতী হতে পারে। নিউ জিল্যান্ডের চিকিৎসকরা এই পরিস্থিতিতে ইমিউনিটি ঋণ বলে উল্লেখ করছেন।

এপিডেমিওলজিস্ট ও জনস্বাস্থ্য অধ্যাপক মাইকেল বাকের পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিতে বনের ব্রাশফায়ারকে রূপক হিসেবে ব্যবহার করেছেন। যখন এক বা দুই বছর কোনও আগুনের ঘটনা ছাড়া পার হয়ে যায় তখন আগুন জ্বলে ওঠার মতো অনেক জ্বালানি থাকে। শেষ পর্যন্ত যখন তা জ্বলে ওঠে, তা হয় ভয়ানক।

বাকের বলেন, আমরা যা দেখতে পাচ্ছি তা হলো অনেক শিশু স্বাভাবিক সংস্পর্শ থেকে বিরত ছিল। তাই তাদের দেহে এখন সাধারণভাবে বিরাজমান ভাইরাসগুলো প্রথমবারের মতো আক্রমণ করছে।

ইমিউনিটি দায় তৈরি হয়েছে তৈরি হয়েছে লকডাউন, হাত ধোয়া, সামাজিক দূরত্ব ও মাস্কবিধির মতো পদক্ষেপের কারণে। এসব পদক্ষেপ শুধু যে করোনা ঠেকাতে কার্যকর তা নয়, এর ফলে একইভাবে ছড়ায় এমন অনেক রোগের সংক্রমণও ঠেকানো যায়। যেমন, ফ্লু, সাধারণ ঠান্ডা ও খুব কম পরিচিত আরএসভি।

নিউ জিল্যান্ডে লকডাউনের কারণে গত শীতে ফ্লু’র সংক্রমণ কমেছিল ৯৯.৯ শতাংশ এবং আরএসভি কমেছিল ৯৮ শতাংশ। অথচ দেশটিতে শীতের সময় এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা খুব কম থাকে না।

২০২১ সালের মে মাসে ইমিউনিটি দায় নিয়ে কয়েকজন ফরাসি চিকিৎসক এক গবেষণায় বলেছেন, ইতিবাচক এই সমান্তরাল প্রভাব স্বল্প মেয়াদে স্বাগত জানানোর মতো। কারণ এতে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে অতিরিক্ত চাপ নেওয়া থেকে বিরত রাখে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে এটি নিজেই সমস্যা তৈরি করে। যদি ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাল সংক্রমণ শিশুদের মধ্যে না ছড়ায় তাহলে ইমিউনিটি গড়ে ওঠে না। যা পরে বড় ধরনের সংক্রমণের দিকে নিয়ে যায়।

ফরাসি চিকিৎসকরা লিখেছেন, ইমিউন স্টিমুলেশনের অভাবে ইমিউনিটি দায় শুরু হয়। যখন মহামারি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং স্বাস্থ্যবিধি প্রত্যাহার করা হবে তখন এর নেতিবাচক প্রভাব দেখা দেবে।

গত পাঁচ সপ্তাহে নিউ জিল্যান্ডে প্রায় ১ হাজার আএসভি রোগী পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে ইন্সটিটিউট অব এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড রিসার্চ। সাধারণ ২৯ সপ্তাহের শীতকালে গড়ে ১ হাজার ৭৪৩ জন এই রোগে আক্রান্ত হন। অস্ট্রেলিয়াতেও এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

নিউ জিল্যান্ডে এরই মধ্যে এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। অকল্যান্ডের মিডলমোর হাসপাতালে একটি খেলার স্থানকে চিকিৎসার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে ১১টি স্পেশাল কেয়ার বেবি কট স্থাপন করা হয়েছে। অকল্যান্ড ও ক্যান্টারবারির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ শিশুদের ওয়ার্ডে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যেতে অস্ত্রোপচার স্থগিত করেছে। বেশ কয়েকটি হাসপাতালে ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের হাসপাতালগুলোতে না যাওয়ার জন্য বলা হয়েছে।

/এএ/

সম্পর্কিত

অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যাচার করেছে:  ফ্রান্স

অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যাচার করেছে:  ফ্রান্স

অস্ট্রেলিয়া বড় ধরনের ভুল করেছে: ফ্রান্স

অস্ট্রেলিয়া বড় ধরনের ভুল করেছে: ফ্রান্স

অস্ট্রেলিয়ায় লকডাউনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, আটক ২৬৭

অস্ট্রেলিয়ায় লকডাউনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, আটক ২৬৭

৬৫ ঊর্ধ্বদের বুস্টার ডোজের সুপারিশ এফডিএ’র

৬৫ ঊর্ধ্বদের বুস্টার ডোজের সুপারিশ এফডিএ’র

যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকতে গিয়ে চড়া মূল্য দিয়েছে পাকিস্তান: ইমরান খান

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:০২

আফগানিস্তান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকতে গিয়ে পাকিস্তানকে চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আরটি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান।

তিনি বলেন, ‘আফগানিস্তান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রকে সমর্থন দেওয়া ছিল পাকিস্তানের জন্য একটি বড় ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত। এজন্য আমাদের চড়া মূল্য দিতে হয়েছে।‌‌’

২০২১ সালের ১৫ আগস্ট প্রায় বিনা বাধায় কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেয় তালেবান। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিমানভর্তি অর্থ নিয়ে দেশ ছেড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পালিয়ে যান তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী আশরাফ গণি। এর কিছু দিনের মাথায় দীর্ঘ ২০ বছর পর আফগানিস্তান থেকে নিজ দেশের সেনাদের ফিরিয়ে নেয় যুক্তরাষ্ট্র।

অভিযোগ রয়েছে, তালেবানের এমন উত্থানে সহায়তা দিয়েছে পাকিস্তান। সম্প্রতি মার্কিন সিনেটেও দেশটির ব্যাপারে এমন অভিযোগ উঠে। এ প্রসঙ্গে ইমরান খান বলেন, ‘আফগানিস্তানে যুক্তরাষ্ট্রের পরাজয়ের দায় পাকিস্তানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এটি অত্যন্তত পীড়াদায়ক। একজন পাকিস্তানি হিসেবে মার্কিন সিনেটরদের বক্তব্য আমার ভালো লাগেনি। আমি গভীরভাবে মর্মামত।’

ইমরান খান বলেন, আফগানিস্তান ইস্যুতে তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রকে দুই দফায় সহায়তা করেছে। প্রথমে আশির দশকে, যখন তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালিয়েছিল। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্রের অনুরোধে সোভিয়েতবিরোধী লড়াইয়ের জন্য মুজাহিদিনদের প্রশিক্ষণ দেয় পাকিস্তান।

২০০১ সালে আফগানিস্তানে মার্কিন অভিযানের সময় পাকিস্তানের ক্ষমতায় ছিলেন জেনারেল পারভেজ মোশাররফ। সদ্য ক্ষমতা দখল করা এই সেনাশাসকের জন্য মার্কিন সমর্থন অপরিহার্য ছিল। আফগানিস্তানে অভিযান সফল করতে যুক্তরাষ্ট্রেরও ইসলামাবাদকে প্রয়োজন ছিল।

ইমরান খান বলেন, ‘সবচেয়ে বড় মুশকিলটা বাধে এখানেই। যে মুজাহিদিনদের আইএসআই প্রশিক্ষণ দিয়েছিল, তাদেরকেই ফের একই আইএসআই-এর তরফ থেকে বলা হলো, যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধের মানে হচ্ছে সন্ত্রাসবাদ। মুজাহিদিনরা তখন ইসলামাবাদ থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। তারা পাকিস্তানকেও যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগী হিসেবে বিবেচনা করতে আরম্ভ করে। এখানে আমেরিকাকে সহায়তা করতে গিয়ে পাকিস্তান নিজে বিপদে পড়েছে। এর জন্য ইসলামাবাদকে এখনও ভুগতে হচ্ছে।‌‌’

/এমপি/

সম্পর্কিত

মেয়েদের স্কুলে যেতে না দেওয়ায় পাল্টা বার্তা দিলো শিশুরা

মেয়েদের স্কুলে যেতে না দেওয়ায় পাল্টা বার্তা দিলো শিশুরা

মেয়েদের সমর্থনে স্কুলে যাচ্ছে না অনেক আফগান ছেলে

মেয়েদের সমর্থনে স্কুলে যাচ্ছে না অনেক আফগান ছেলে

‘কাবুলের প্রেসিডেন্ট প্যালেসে বারাদারকে ঘুসি মেরেছিলেন হাক্কানি’

‘কাবুলের প্রেসিডেন্ট প্যালেসে বারাদারকে ঘুসি মেরেছিলেন হাক্কানি’

মেয়েদের স্কুলে যেতে না দেওয়ায় পাল্টা বার্তা দিলো শিশুরা

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:০২

আফগানিস্তানে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে শুক্রবার (১৭ সেপ্টেম্বর)  শুধু ছেলে ও পুরুষদের শ্রেণিকক্ষে ফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়। শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর)  ছেলেরা স্কুলে গেলেও ছেলে- মেয়ে নির্বিশেষে প্রতিবাদ জানিয়েছে মেয়েদের স্কুলে যেতে অনুমতি না দেওয়ায়। কেউ কেউ নানা বার্তা লিখে টুইটারে পোস্ট করেছে। যদিও এক তালেবান মুখপাত্র বলেছেন, শিগগিরই মেয়েদের স্কুল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আফগানরা তালেবানের ১৯৯০ দশকের কঠোর শাসন ফিরে আসার আশঙ্কা করছেন। ওই সময় মেয়েদের স্কুলে পড়া নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

শনিবার আবারও অন্ধকার যুগের শুরু হলো আফগানিস্তানে। স্কুল খুললো বটে, কিন্তু তা কেবল ছেলেদের জন্য।

এবিপি নিউজের সাংবাদিক লিখেছেন, এটাই তালেবানদের আসল রূপ। শিক্ষামন্ত্রী স্কুল খুলে ছেলেদের আসার আহ্বান জানালেও তার ওই বার্তায় মেয়েশিশুরা কবে ক্লাসে ফিরতে পারবে, তার কোনও ইঙ্গিত ছিল না।

ডেইলি আউটলুক-আফগানিস্তানের প্রধান সম্পাদক মোহাম্মদ সাখি রেজায়ি টুইটারে লিখেছেন, ‘শিক্ষা মেয়েশিশুর মৌলিক মানবাধিকার। যদি নতুন তালেবান আন্তর্জাতিক চুক্তি ও সনদ মানে, তাহলে তারা অবশ্যই মেয়েশিশুদের স্কুলে ফিরিয়ে আনবে।’

শনিবার স্কুলে যেতে না পারা মেয়েশিশু প্ল্যাকার্ড হাতে প্রশ্ন ছুড়ে দেয়— ঠিক কী কারণে আমি স্কুলে যেতে পারবো না। এক ভাই তার বোনের স্কুলে না যেতে পারার কারণে নিজে স্কুল না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছবি আপলোড করে সে জানিয়ে দেয়, আমার বোনের স্কুলে যাওয়ার অনুমতি না মিললে আমি স্কুলে যাবো না।

ইউনিসেফ প্রধান হেনরিয়েটা ফোর মনে করেন, মেয়েদের অবশ্যই বাদ দেওয়া উচিত না। কোনও বিলম্ব ছাড়া বয়স্কসহ সব মেয়ের শিক্ষাগ্রহণ পুনরায় শুরু করা গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য আফগানিস্তানে নারী শিক্ষকদের শিক্ষাদান আমাদের জারি রাখতে হবে।

উল্লেখ্য, ২০০১ সালে তালেবানকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়ার পর আফগানিস্তানের শিক্ষাক্ষেত্রে নারীরা অনেক এগিয়ে গিয়েছিল। তবে দ্বিতীয় দফায় ক্ষমতা দখলের পর তালেবানরা বলেছিল যে, শরিয়া আইনের আওতায় নারীরা পড়াশোনা এবং কাজ করার অনুমতি পাবে। কিন্তু কর্মজীবী নারীদের নিরাপত্তার অবস্থার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত ঘরে থাকতে বলা হয়। শনিবার স্কুলে যাওয়াও রোধ করা হলো।

/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

মেয়েদের সমর্থনে স্কুলে যাচ্ছে না অনেক আফগান ছেলে

মেয়েদের সমর্থনে স্কুলে যাচ্ছে না অনেক আফগান ছেলে

‘কাবুলের প্রেসিডেন্ট প্যালেসে বারাদারকে ঘুসি মেরেছিলেন হাক্কানি’

‘কাবুলের প্রেসিডেন্ট প্যালেসে বারাদারকে ঘুসি মেরেছিলেন হাক্কানি’

আফগান মেয়েদের স্কুল থেকে বাদ দেওয়া উচিত না: ইউনিসেফ

আফগান মেয়েদের স্কুল থেকে বাদ দেওয়া উচিত না: ইউনিসেফ

‘সবকিছু অন্ধকার লাগছে’, স্কুলে যেতে না পারা আফগান মেয়ে

‘সবকিছু অন্ধকার লাগছে’, স্কুলে যেতে না পারা আফগান মেয়ে

মেয়েদের সমর্থনে স্কুলে যাচ্ছে না অনেক আফগান ছেলে

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:৪৯

তালেবান আফগানিস্তানে শুধু ছেলে ও পুরুষদের স্কুলে ফিরতে বলেছে এবং মেয়েদের বাড়িতে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ও মেয়েদের স্কুলে ফেরার প্রতি সমর্থন জানিয়ে অনেক ছেলে স্কুলে ফিরছে না। রবিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়ালস্ট্রিট জার্নাল এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

দশম শ্রেণির ১৮ বছর বয়সের রহুল্লাহ নামের এক ছাত্র বলে, নারীরা আমাদের সমাজের অর্ধেক জনগোষ্ঠী। মেয়েদের জন্য স্কুল খুলে দেওয়ার আগ পর্যন্ত আমি ক্লাসে যাব না।

কাবুলের একটি বেসরকারি স্কুলের শিক্ষক নাজিফে জানান, পুনরায় স্কুল চালুর জন্য তারা কিছু পরিবর্তন এনেছেন। তিনি বলেন, মেয়েরা সকালে এবং ছেলে দুপুরে ক্লাস করবে। পুরুষ শিক্ষকরা ছেলেদের এবং মেয়েদের পড়াবেন নারী শিক্ষকরা।

শনিবার প্রাথমিক স্কুলের অনেক মেয়ে শিক্ষার্থী স্কুলে গেছে। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়ুয়া মেয়েরা এখনও জানে না তাদের জন্য স্কুল খোলা হবে কিনা।

মেয়েদের মাধ্যমিক পর্যায়ে পড়ানো শিক্ষক হাদিস রিজায়ি বলেন, মেয়েদের মন ভেঙে গেছে এবং পড়াশোনা পুনরায় শুরুর জন্য তারা সরকারের ঘোষণার অপেক্ষায় আছে।

একটি স্কুলের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ রেজা বলেন, মেয়েদের শিক্ষা হলো একটি প্রজন্মকে সঠিক পথে নিয়ে আসা। ছেলেদের শিক্ষা হয়ত পরিবারকে সহযোগিতা করে। কিন্তু মেয়েদের শিক্ষা পুরো সমাজকে প্রভাবিত করে। আমরা বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি যাতে করে মেয়েরা স্কুলে ফিরতে এবং নিজেদের পড়াশোনা সম্পূর্ণ করতে পারে।

জাতিসংঘ জানিয়েছে, আফগানিস্তানে মেয়েদের শিক্ষা নিয়ে তারা গভীর উদ্বিগ্ন। জাতিসংঘ শিশু তহবিল বা ইউনিসেফ বলেছে, সব বয়সী মেয়েদের জন্য আর দেরি না করে পুনরায় শিক্ষা শুরু করার সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

/এএ/

সম্পর্কিত

যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকতে গিয়ে চড়া মূল্য দিয়েছে পাকিস্তান: ইমরান খান

যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকতে গিয়ে চড়া মূল্য দিয়েছে পাকিস্তান: ইমরান খান

মেয়েদের স্কুলে যেতে না দেওয়ায় পাল্টা বার্তা দিলো শিশুরা

মেয়েদের স্কুলে যেতে না দেওয়ায় পাল্টা বার্তা দিলো শিশুরা

‘কাবুলের প্রেসিডেন্ট প্যালেসে বারাদারকে ঘুসি মেরেছিলেন হাক্কানি’

‘কাবুলের প্রেসিডেন্ট প্যালেসে বারাদারকে ঘুসি মেরেছিলেন হাক্কানি’

এক রুপি বিক্রি হলো ১০ কোটিতে!

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:০৭

মুদ্রার এক পিঠে খোদায় করা ব্রিটেনের রানী ভিক্টোরিয়ার ছবি। অন্য পিঠে ইংরেজি অক্ষরে লেখা ‘ওয়ান রুপি ইন্ডিয়া ১৮৮৫’। ভারতের ১৩৬ বছর আগের এমনই এক রুপি বিক্রি হয়েছে ১০ কোটি রুপিতে।

ভারতের অন্যান্য কয়েনের চেয়ে এই এক রুপি আকৃতিতে কিছুটা বড়। মুদ্রাটির বিশেষত্ব হল, এর এক পিঠে খোদাই করা রয়েছে ইংল্যান্ডের রানি ভিক্টোরিয়ার ছবি।

পুরনো কয়েন, নোট বা বিদেশ মুদ্রা জমানোর শখ অনেকেরই। অনলাইনের বিভিন্ন সাইটে পুরনো মুদ্রা কেনা-বেচার সুযোগ থাকে। তেমনই এক ওয়েবসাইটে নিজের সংগ্রহ থেকে ওই কয়েনের ছবিটি পোস্ট করেন এক সংগ্রাহক। ভারতে ব্রিটিশ শাসনকাল ১৮৮৫ সালে মুম্বইয়ের কোনও মিন্টে কয়েনটি বানানো হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এর আগে, গত জুন মাসে ১৯৩৩ সালের যুক্তরাষ্ট্রের একটি কয়েন ১ কোটি ৮৯ লাখ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। ভারতীয় মুদ্রায় যা প্রায় ১৩৮ কোটির সমান।

সূত্র: আনন্দবাজার

/এলকে/

সম্পর্কিত

মন্ত্রিসভা নিয়ে পদত্যাগ করলেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর

মন্ত্রিসভা নিয়ে পদত্যাগ করলেন পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর

অবশেষে তৃণমূলে বিজেপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়

অবশেষে তৃণমূলে বিজেপি সরকারের সাবেক মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়

ফ্রান্সের ২৪টি পুরাতন বিমান কিনতে যাচ্ছে ভারত

ফ্রান্সের ২৪টি পুরাতন বিমান কিনতে যাচ্ছে ভারত

মোদির জন্মদিনে দুই কোটি টিকা প্রয়োগের রেকর্ড ভারতের

মোদির জন্মদিনে দুই কোটি টিকা প্রয়োগের রেকর্ড ভারতের

‘কাবুলের প্রেসিডেন্ট প্যালেসে বারাদারকে ঘুসি মেরেছিলেন হাক্কানি’

আপডেট : ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৬:৫৬

আফগানিস্তানের নতুন সরকার গঠন নিয়ে সম্প্রতি রাজধানী কাবুলে প্রেসিডেন্ট প্যালেসে নেতাদের মধ্যে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। আলোচনায় সভায় তালেবান সরকারের উপ-প্রধানমন্ত্রী মোল্লা আব্দুল গণি বারাদারকে ঘুসি মারেন হাক্কানি নেটওয়ার্কের নেতা খলিল-উর-রহমান হাক্কানি। মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাতে এ খবর প্রকাশ করেছে হিন্দুস্তান টাইমস।

সরকার গঠন নিয়ে আলোচনাকালে সংখ্যালঘু নৃগোষ্ঠীর প্রতিনিধিসহ ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ একটি মন্ত্রিসভা গঠনের জন্য জোর দিচ্ছিলেন বারাদার। আলোচনার একপর্যায়ে আফগান শরণার্থী বিষয়কমন্ত্রী খলিলুর রহমান হাক্কানি চেয়ার থেকে উঠে বারাদারকে ‘ঘুসি’ মারেন।

তালেবানের একটি সূত্র বিবিসি পশতুকে জানিয়েছে, মোল্লা বারাদার এবং শরণার্থী বিষয়কমন্ত্রী খলিল উর-রহমানের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ বাক্যবিনিময় হয়। তখন সেখানে থাকা তাদের অনুসারীরাও পরস্পরের সঙ্গে বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। খলিল উর-রহমান হাক্কানি আফগানিস্তানের সশস্ত্র গোষ্ঠী হাক্কানি নেটওয়ার্কের একজন গুরুত্বপূর্ণ নেতা।

তালেবান নেতাদের এই টানাপড়েন পর্দার আড়ালে ঘটছে। তবে এ বিষয়ে জল্পনা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে প্রেসিডেন্ট প্যালেসে দুই পক্ষের সহিংস সংঘর্ষের পর তার নিরাপত্তা আরও জোরদার হয়। গুজব ছড়ায় বাস্তববাদী অংশের নেতা আবদুল গণি বারাদার নিহত হয়েছেন। পরে আফগানিস্তানের জাতীয় টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারে হাজির হয়ে মৃত্যুর খবর উড়িয়ে দেন তিনি।

/এলকে/এমওএফ/
টাইমলাইন: আফগানিস্তান সংকট
১৯ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৫:১১
‘কাবুলের প্রেসিডেন্ট প্যালেসে বারাদারকে ঘুসি মেরেছিলেন হাক্কানি’
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:১৮

সম্পর্কিত

যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকতে গিয়ে চড়া মূল্য দিয়েছে পাকিস্তান: ইমরান খান

যুক্তরাষ্ট্রের পাশে থাকতে গিয়ে চড়া মূল্য দিয়েছে পাকিস্তান: ইমরান খান

মেয়েদের স্কুলে যেতে না দেওয়ায় পাল্টা বার্তা দিলো শিশুরা

মেয়েদের স্কুলে যেতে না দেওয়ায় পাল্টা বার্তা দিলো শিশুরা

মেয়েদের সমর্থনে স্কুলে যাচ্ছে না অনেক আফগান ছেলে

মেয়েদের সমর্থনে স্কুলে যাচ্ছে না অনেক আফগান ছেলে

আফগান মেয়েদের স্কুল থেকে বাদ দেওয়া উচিত না: ইউনিসেফ

আফগান মেয়েদের স্কুল থেকে বাদ দেওয়া উচিত না: ইউনিসেফ

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যাচার করেছে:  ফ্রান্স

অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্র মিথ্যাচার করেছে:  ফ্রান্স

অস্ট্রেলিয়া বড় ধরনের ভুল করেছে: ফ্রান্স

অস্ট্রেলিয়া বড় ধরনের ভুল করেছে: ফ্রান্স

অস্ট্রেলিয়ায় লকডাউনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, আটক ২৬৭

অস্ট্রেলিয়ায় লকডাউনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ, আটক ২৬৭

৬৫ ঊর্ধ্বদের বুস্টার ডোজের সুপারিশ এফডিএ’র

৬৫ ঊর্ধ্বদের বুস্টার ডোজের সুপারিশ এফডিএ’র

অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাষ্ট্রদূতদের ডেকে পাঠালো ফ্রান্স

অস্ট্রেলিয়া-যুক্তরাষ্ট্র থেকে রাষ্ট্রদূতদের ডেকে পাঠালো ফ্রান্স

কোভিড-১৯: ২ বছরের শিশুদের টিকা দিচ্ছে কিউবা

কোভিড-১৯: ২ বছরের শিশুদের টিকা দিচ্ছে কিউবা

সব শ্রমিকের জন্য হেলথ পাস বাধ্যতামূলক করলো ইতালি

সব শ্রমিকের জন্য হেলথ পাস বাধ্যতামূলক করলো ইতালি

৩ দেশের চুক্তি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা: চীন

৩ দেশের চুক্তি চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা: চীন

অস্ট্রেলিয়ার কাছে বড় অংকের ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে ফ্রান্স

অস্ট্রেলিয়ার কাছে বড় অংকের ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে ফ্রান্স

সাবমেরিন চুক্তি ‘পিঠে ছুরিকাঘাত’: ক্ষুব্ধ ফ্রান্স

সাবমেরিন চুক্তি ‘পিঠে ছুরিকাঘাত’: ক্ষুব্ধ ফ্রান্স

সর্বশেষ

রাজারবাগ দরবারের বিষয়ে দুদক, সিটিটিসি ও সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ

রাজারবাগ দরবারের বিষয়ে দুদক, সিটিটিসি ও সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ

হাজার কোটি টাকা ফেরত চান গ্রাহকরা

হাজার কোটি টাকা ফেরত চান গ্রাহকরা

ঢাকার সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

ঢাকার সঙ্গে উত্তর-দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের প্রতিবাদ রিজভীর

সাংবাদিক নেতাদের ব্যাংক হিসাব তলবের প্রতিবাদ রিজভীর

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বপ্ন দেখে লাভ নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের স্বপ্ন দেখে লাভ নেই: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

© 2021 Bangla Tribune