X
শুক্রবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

কিউবায় বিক্ষোভের সঙ্গে চলছে গ্রেফতারও

আপডেট : ১৩ জুলাই ২০২১, ০৫:৩৭
image

কমিউনিস্ট শাসিত কিউবায় সরকারবিরোধী বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় এই বিক্ষোভের জেরে দেশটির বহু মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিক্ষোভ মোকাবিলার মাধ্যমে বিপ্লবের সুরক্ষায় সমর্থকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

কমিউনিস্ট শাসিত কিউবায় যে কোনও বিক্ষোভই বিরল ঘটনা। এবারের বিক্ষোভ হচ্ছে দেশটিতে রেকর্ড পরিমাণ করোনা সংক্রমণের সময়। বিক্ষোভকারীদের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং করোনা মহামারি মোকাবিলায় ভ্যাকসিনের দাবিতে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। বিক্ষোভের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘ভাড়াটেদের’ দায়ী করেছেন কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল। রাজধানী হাভানায় মিছিল করেছে দেশটির কমিউনিস্ট সরকারের সমর্থকেরাও।

সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের গ্রেফতার করছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। তাদের সঙ্গে রয়েছে সাদা পোশাকের কর্মকর্তারাও। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের আটক, মারপিট, পিপার স্প্রে প্রয়োগ করতে দেখা গেছে। নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আহত হয়োছন মার্কিন বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস এর ফটোগ্রাফার। এছাড়া দেশটিতে ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার খবরও পাওয়া যাচ্ছে।

বিরল বিক্ষোভের জেরে রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল দিয়াজ-ক্যানেল। সেখানে তিনি বিক্ষোভের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেন। প্রেসিডেন্ট বলেন বিগত কয়েক দশকের জোরালো মার্কিন অবরোধের কারণেই অর্থনৈতিক দুর্দশায় পড়েছে কিউবা। ১৯৫৯ সালের কিউবান বিপ্লব রক্ষায় সমর্থকদের বের হয়ে আসার তাগিদ দেন তিনি। প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল বলেন, ‘রাজপথে লড়াইয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিপ্লবীরা!’

এরপরই লাতিন আমেরিকা বিষয়ক শীর্ষ মার্কিন কূটনীতিক জুলি চাং টুইটারে লিখেছেন, ‘কিউবায় লড়াইয়ের ডাক দেওয়া নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।’ কিউবার শাসকদের সহিংসতা থেকে বিরত থেকে জনগণের দাবি শোনার আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘কিউবার জনগণ সাহসের সঙ্গে মৌলিক ও সার্বজনীন অধিকার বর্ণনা করছেন।’

/জেজে/

সম্পর্কিত

অস্ট্রেলিয়ার কাছে বড় অংকের ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে ফ্রান্স

অস্ট্রেলিয়ার কাছে বড় অংকের ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে ফ্রান্স

চীন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার চুক্তি স্বাক্ষর

চীন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার চুক্তি স্বাক্ষর

এক বছরে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে হামলার সক্ষমতা অর্জন করবে আল কায়েদা

আফগানিস্তানে আল কায়েদার কর্মকাণ্ড নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দাদের শঙ্কা

আফগানিস্তান ইস্যুতে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক পর্যালোচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক পর্যালোচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র

কয়েদিদের প্রেমের সম্পর্কে জড়ানো নিষিদ্ধ করলো ডেনমার্ক

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:৫২

ডেনমার্ক সরকার একটি আইন পাস করেছে যাতে যাবজ্জীবন সাজা ভোগকারী কয়েদিদের নতুন প্রেমের সম্পর্কে জড়ানো নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার ফলে অপরাধী গোষ্ঠীদের উত্থান ঠেকানো সম্ভব মনে করছেন দেশটির মন্ত্রীরা। 

এমন আইনের পেছনে কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে, সম্প্রতি ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী ক্যামিলা কারস্টাইন এক খুনী পিটার ম্যাডসনের প্রেমে পড়েছিলেন। ম্যাডসন সাংবাদিক কিম ওয়ালকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত হন। পরে সাংবাদিকের মরদেহ টুকরো টুকরো করে সাগরে ফেলে দেন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত ২০১৮ সালে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।

ক্যামিলা কারস্টাইন স্বীকার করেছেন যে তিনি দুই বছর ধরে চিঠি বিনিময় ও ফোনে কথা বলার পর ম্যাডসেনের প্রেমে পড়েন। কিন্তু ২০২০ সালে কারাবন্দি অবস্থায় জেনিন কার্পেন (৩৯) নামের এক রুশ নারীকে বিয়ে করেন ম্যাডসন। আর ঘটনাটি জানতে পারেন কিশোরী ক্যামিলা। 

এমন ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে ডেনামার্ক প্রশাসন। দেশটির বিচারমন্ত্রী নিক হেককারুপ এক বিবৃতিতে বলেন, ‘এই ধরনের সম্পর্ক অবশ্যই বন্ধ করা উচিত। অপরাধীরা আমাদের কারাগারগুলোকে ডেটিং সেন্টার কিংবা মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করতে পারবেন না’।

মন্ত্রী আরও যোগ করে বলেন, ‘কারাগারে বন্দি অপরাধীরা সহানুভূতি পেতে তরুণদের সঙ্গে যোগাযোগ করে গুরুতর অপরাধ করেছেন’। 

এ অবস্থায় নতুন আইনের ফলে কারাগারের দীর্ঘমেয়াদি বন্দিদের অপরাধ বন্ধ হবে মনে করছেন অনেকে। নতুন বিলে ড্যানিশ পার্লামেন্টের ডানপন্থী বিরোধী দল সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছে। সব ঠিক থাকলে আগামী বছরের শুরুতেই নতুন আইন কার্যকর হতে পারে।

/এলকে/

সম্পর্কিত

টিকাদানের হার ৮০ শতাংশ, সব বিধিনিষেধ তুললো ডেনমার্ক

করোনা সংক্রান্ত সব বিধিনিষেধ তুললো ডেনমার্ক

কারাগারে অগ্নিকাণ্ডে ইন্দোনেশিয়ায় অন্তত ৪১ জনের মৃত্যু

ইন্দোনেশিয়ার কারাগারে আগুন, অন্তত ৪১ জনের মৃত্যু

পৃথিবীর সর্ব উত্তরের দ্বীপের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

পৃথিবীর সর্ব উত্তরের দ্বীপের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

আফগানিস্তানে দূতাবাস বন্ধের ঘোষণা ইউরোপের একাধিক দেশের

আফগানিস্তানে দূতাবাস বন্ধের ঘোষণা ইউরোপের একাধিক দেশের

নিয়ন্ত্রণ নয়, তালেবানকে ‘উৎসাহিত’ করার কথা বললেন ইমরান খান

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২৩:২৪

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, আফগানিস্তানে শান্তি ও স্থিতিশীলতার সবচেয়ে ভালো উপায় তালেবানকে নারীর অধিকার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার ইস্যুতে ‘উৎসাহ’ দিয়ে তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়া। বুধবার ইসলামাবাদে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই মন্তব্য করেন। কাবুলে তালেবানদের ক্ষমতা দখল ও মার্কিন সেনাদের আফগানিস্তান ত্যাগের পর কোনও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া ইমরান খানের এটাই প্রথম সাক্ষাৎকার।

ইমরান খান দাবি করেছেন, সংকট এড়াতে তালেবানরা আন্তর্জাতিক ত্রাণের সন্ধানে রয়েছে। যেটিকে কাজে লাগিয়ে তাদের বৈধ পথের সঠিক দিশায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব। তবে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বাইরের শক্তি দ্বারা আফগানিস্তানকে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব না।

তার কথায়, কোনও পুতুল সরকার আফগান জনগণের সমর্থন পায়নি। তাই তাদেরকে নিয়ন্ত্রণ করার কথা বসে বসে চিন্তা করার চেয়ে আমাদের উচিত উৎসাহিত করা। কারণ, আফগানিস্তানের বর্তমান সরকার স্পষ্টভাবে অনুভব করে যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও ত্রাণ ছাড়া তারা এই সংকট এড়াতে পারবে না। তাই আমাদের উচিত তাদেরকে সঠিক পথে ঠেলে নিয়ে যাওয়া।

তালেবান সরকারকে সময় দেওয়া উচিত উল্লেখ করে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখান থেকে আফগানিস্তান কোথায় যাবে আমরা কেউ তা ধারণা করতে পারি না। আমরা আশা করি এবং প্রার্থনা করি যে, ৪০ বছর পর দেশটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠা হবে।

ইমরান খান বলেন, তালেবান আগেই বলেছে, তারা অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকার গঠন করবে। তারা তাদের প্রেক্ষাপট থেকে নারীর অধিকার দিতে চায়। তারা মানবাধিকার চায়, তারা সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেছে। এখন পর্যন্ত তারা যা বলেছে তাতে পরিষ্কার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তারা আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা চাইছে। কিন্তু যদি ভুল হয়, তাহলে সত্যিই আমরা চিন্তিত আফগানিস্তানে আবার গোলযোগ ও বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। বৃহত্তম মানবিক সংকট সৃষ্টি হবে, বিশাল আকারের উদ্বাস্তু সমস্যা তৈরি হবে।

আফগানিস্তান আবার অস্থিতিশীল হবে এবং আফগান ভূখণ্ডে সন্ত্রাসবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে বলেও সতর্ক করেন ইমরান খান।

 

/এএ/

সম্পর্কিত

তালেবানে বাস্তববাদী ও কট্টরপন্থীদের বিরোধ বাড়ছে

তালেবান নেতাদের বিরোধ শুধুই কি জল্পনা?

এবার নারী মন্ত্রণালয়ে নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করলো তালেবান

এবার নারী মন্ত্রণালয়ে নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করলো তালেবান

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ইঙ্গ-মার্কিন চুক্তিতে ‘শীতল যুদ্ধের মানসিকতা’ দেখছে চীন

অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে ইঙ্গ-মার্কিন চুক্তিতে ‘শীতল যুদ্ধের মানসিকতা’ দেখছে চীন

অস্ট্রেলিয়ার কাছে বড় অংকের ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে ফ্রান্স

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৪২

সাবমেরিন চুক্তি লঙ্ঘনের দায়ে অস্ট্রেলিয়ার কাছে বড় অংকের ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে ফ্রান্স। প্যারিসের সঙ্গে হওয়া চুক্তি থেকে সরে এসে যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের সঙ্গে পারমাণবিক সাবমেরিন চুক্তি স্বাক্ষর করেছে অস্ট্রেলিয়া। এমন অবস্থায় ক্যানভেরার বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণের আভাস দিয়েছেন ফরাসি প্রতিরক্ষামন্ত্রী।

ফ্লোরেন্স পার্লি বৃহস্পতিবার বলেছেন, অস্ট্রেলিয়া সাবমেরিন চুক্তি থেকে সরে আসায় নেভাল গ্রুপের আর্থিক ক্ষতি নিশ্চিত করার জন্য ফ্রান্স চেষ্টা চালাবে। এ বিষয়ে প্যারিস খতিয়ে দেখছে বলেও জানান তিনি।

ফ্রান্সের নেভাল গ্রুপের জাহাজ নির্মাতার সঙ্গে সাবমেরিন চুক্তি থেকে সরে আসে অস্ট্রেলিয়া। যে চুক্তির আওতায় অস্ট্রেলিয়াকে পারমাণবিক শক্তিচালিত সাবমেরিন সরবরাহ করার ছিল প্যারিসের। কিন্তু বুধবারের চুক্তির ফলে ফ্রান্সের কাছ থেকে আর সাবমেরিন নেবে না অস্ট্রেলিয়া। আর এতেই ক্ষুব্ধ এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর প্রশাসন। 

২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়ার নৌবাহিনীর জন্য ১২টি সাবমেরিন নির্মাণে ৫ হাজার কোটি অস্ট্রেলিয়ান ডলারের চুক্তি করে ফ্রান্স।

বুধবার অত্যাধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ভাগাভাগি করে চীনকে মোকাবিলায় বিশেষ নিরাপত্তা চুক্তি স্বাক্ষরের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র,যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়া। এই চুক্তির ফলে প্রথমবারের মতো পারমাণবিক ক্ষমতাসম্পন্ন সাবমেরিন তৈরি করতে পারবে অস্ট্রেলিয়া।

/এলকে/

সম্পর্কিত

সাবমেরিন চুক্তি ‘পিঠে ছুরিকাঘাত’: ক্ষুব্ধ ফ্রান্স

সাবমেরিন চুক্তি ‘পিঠে ছুরিকাঘাত’: ক্ষুব্ধ ফ্রান্স

ফ্রান্সে টিকা না নেওয়ায় ৩ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী বরখাস্ত, প্রতিবাদে অনশন

টিকা না নেওয়ায় ফ্রান্সে ৩ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী বরখাস্ত

গ্রেটার সাহারায় আইএস প্রধানকে হত্যা, বড় সাফল্য বলছে ফ্রান্স

গ্রেটার সাহারায় আইএস প্রধানকে হত্যা করেছে ফ্রান্স

চীন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার চুক্তি স্বাক্ষর

চীন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার চুক্তি স্বাক্ষর

বাংলাদেশকে ভারতের কূটনৈতিক স্বীকৃতির দিনে পালিত হবে ‘মৈত্রী দিবস’  

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২২:৪৩

ঠিক পঞ্চাশ বছর আগে মুক্তিযুদ্ধের ঘনঘটার মধ্যেই, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে কূটনৈতিক স্বীকৃতি দিয়েছিল ভারত।  

এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয় ভূটান– আর এর ঠিক পর পরই আসে দিল্লির স্বীকৃতির বার্তা, যেটাকে তদানীন্তন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর একটি ‘কূটনৈতিক মাস্টারস্ট্রোক’ বলেই গণ্য করা হয়।  

চলতি বছরে মুক্তিযুদ্ধের সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে সেই ৬ ডিসেম্বর তারিখেই দুই দেশ একযোগে ‘মৈত্রী দিবস’ পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। দুটো দেশের ঐতিহাসিক মিত্রতা ও বন্ধুত্বকে স্মরণ করে দিনটিতে যাতে ঢাকা ও দিল্লিতে একযোগে বিভিন্ন কর্মসূচী নেওয়া হয়, তারও প্রস্তুতি চলছে জোর কদমে। 

একাত্তরের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাদের কাছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের দিনটিকে গত অর্ধশতাব্দী ধরেই পালন করা হয়ে আসছে ‘বিজয় দিবস’ হিসেবে। এখন থেকে ৬ ডিসেম্বর মৈত্রী দিবস উদযাপনের মাধ্যমে ডিসেম্বর মাসে মুক্তিযুদ্ধের ক্যালেন্ডারে যুক্ত হতে যাচ্ছে আর একটি গৌরবময় মাইলফলক।  

নরেন্দ্র মোদি ও শেখ হাসিনা

বস্তুত ৬ ডিসেম্বরকে যে মৈত্রী দিবস হিসেবে পালন করা হবে, নীতিগতভাবে সেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল গত মার্চ মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ঢাকা সফরের সময়েই।  

২৭ মার্চ ঢাকায় দুই প্রধানমন্ত্রী, শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদির মধ্যে শীর্ষ সম্মেলনের পর যে যৌথ বিবৃতি জারি করা হয়, এই সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল তাতেও। 

কিন্তু এর পরই ভারতে কোভিড মহামারির বিধ্বংসী দ্বিতীয় ঢেউ আঘাত হানে – কিছুদিন পর বাংলাদেশেও পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হতে থাকে ,  যে কারণে মৈত্রী দিবস কীভাবে, কোথায় উদযাপিত হবে তা নিয়ে বিশদে আলোচনার কোনও অবকাশ পায়নি দুই দেশ। 

এখন বেশ কয়েক মাসের ব্যবধানে ‘মৈত্রী দিবস’ উদযাপনের উদ্যোগ আবার জোরেশোরে শুরু হয়েছে।  

চলতি মাসের গোড়ার দিকে বাংলাদেশের তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ দিল্লি সফরে এসেছিলেন, তখন ভারতে তার কাউন্টারপার্ট অনুরাগ ঠাকুরের সঙ্গে তার বৈঠকেও মৈত্রী দিবস পালনের বিষয়ে দুজনের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।  

ড. হাছান মাহমুদ ও অনুরাগ ঠাকুর

আগামী ৬ ডিসেম্বর মৈত্রী দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে ভারত কী কী করতে চায়, তথ্যমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুর তার একটা প্রাথমিক রূপরেখা দিয়েছেন এবং হাছান মাহমুদও বাংলাদেশের ভাবনাগুলো তুলে ধরেছেন।এখন সেই সব প্রস্তাব নিয়ে দুদেশের কর্মকর্তাদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা চলছে। 

দিল্লিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানাচ্ছে, ‘প্রথম মৈত্রী দিবস পালনের আগে আমাদের হাতে আর খুব বেশি সময় নেই। আড়াই মাস বাদেই এই স্মরণীয় দিনটি উদযাপিত হবে, ভারত ও বাংলাদেশ উভয়ের কাছেই যার গুরুত্ব অপরিসীম। প্রথমবারের মতো সেই দিবসের উদযাপন যাতে দুদেশের মানুষ বহুদিন মনে রাখেন, দুই দেশ মিলে এখন তারই চেষ্টা চালাচ্ছে।’  

/এএ/

সম্পর্কিত

ভারতে প্রতিদিন গড়ে খুন ৮০, ধর্ষণ ৭৭

ভারতে প্রতিদিন গড়ে খুন ৮০, ধর্ষণ ৭৭

চীনের সহযোগিতায় ভুল কিছু নেই, ভারতের উদ্বেগ যথাযথ নয়: তালেবান

চীনের সহযোগিতায় ভারতের উদ্বেগ নিয়ে যা বললো তালেবান

ভ্যাকসিন রফতানির কথা বিবেচনা করছে ভারত, লক্ষ্য আফ্রিকা

ভ্যাকসিন রফতানি শুরু করার কথা ভাবছে ভারত

প্রকৌশল শিক্ষার সিলেবাসে রামায়ণ, মহাভারত

প্রকৌশল শিক্ষার সিলেবাসে রামায়ণ, মহাভারত

তালেবানে বাস্তববাদী ও কট্টরপন্থীদের বিরোধ বাড়ছে

আপডেট : ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ২১:৪৪

তালেবান নেতৃত্বে বাস্তববাদী ও আদর্শগত কট্টরপন্থী অংশের মধ্যে বিরোধ বাড়ছে। গত সপ্তাহে কট্টরপন্থীদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠনের এই বিরোধ জোরালো হয়েছে। নতুন মন্ত্রিসভাটি সাম্প্রতিক অন্তর্ভুক্তিকরণের প্রতিশ্রুতির চেয়ে তালেবানের প্রথম শাসনামলের কঠোর আইনের সঙ্গে বেশি সংগতিপূর্ণ। কাবুলে ক্ষমতার দ্বন্দ্বের বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুই আফগানকে উদ্ধৃত করে মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এখবর জানিয়েছে।

খবরে বলা হয়েছে, তালেবান নেতাদের এই টানাপড়েন পর্দার আড়ালে ঘটছে। কিন্তু এই বিষয়ে জল্পনা দ্রুতই ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ প্রেসিডেন্ট প্যালেসে দুই পক্ষের সহিংস সংঘর্ষের পর তার আরও জোরদার হয়েছে। গুজব ছড়ায় বাস্তববাদী অংশের নেতা আবদুল গণি বারাদার নিহত হয়েছেন।

গুজবটি এত জোরালো ছিল যে তালেবানের পক্ষ থেকে বারাদারের অডিও এবং হাতে লেখা বার্তা প্রকাশ করা হয়। তালেবান দাবি করেছে, এগুলো বারাদারের নিজের। অস্বীকার করা হয়েছে তার নিহতের কথা। পরে বুধবার বারাদার আফগানিস্তানের জাতীয় টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারে হাজির হয়েছেন।

নিহতের গুজবের বিষয়ে বারাদার বলেছেন, আমি কাবুল থেকে ভ্রমণে ছিলাম। তাই এমন খবর অস্বীকার করতে মিডিয়া কাছে হাজির হওয়ার সুযোগ ছিল না।

যুক্তরাষ্ট্রের স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তির ক্ষেত্রে তালেবানের প্রধান মধ্যস্থতাকারী ছিলেন বারাদার। এই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান ছেড়ে যায়। যা ৩০ আগস্ট সম্পন্ন হয়। এর দুই সপ্তাহ আগে তালেবান কাবুল দখল করে।

কাবুলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর পরই বারাদারই ছিলেন প্রথম সিনিয়র তালেবান কর্মকর্তা যিনি অন্তর্ভুক্তিমূলক সরকারের সম্ভাব্যতার কথা বলেছিলেন। কিন্তু গত সপ্তাহে কেবল পুরুষ ও কেবল তালেবান নেতাদের সরকার গঠন করায় এই সম্ভাবনার মৃত্যু হয়।

কট্টরপন্থীরাই যে এখন প্রভাবশালী ও তাদের নিয়ন্ত্রণে আফগানিস্তান সেটির ইঙ্গিত উঠে আসে যখন আফগানিস্তানের জাতীয় পতাকার বদলে তালেবানের সাদা পতাকা দেশটির প্রেসিডেন্ট প্যালেসে উড়তে দেখা যায়।

এক তালেবান কর্মকর্তা জানান, নেতারা এখনও পতাকার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি। অনেকেই দুই পতাকা পাশাপাশি উড়ানোর কথা সমর্থন করছেন।

নিরাপত্তা স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দুই আফগান জানান, মন্ত্রিসভা নিয়ে গোষ্ঠীটির মধ্যে বিরোধ বাড়ছে। একজন জানান, মন্ত্রিসভার এক সদস্য মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। দেশের জাতিগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের বাদ দিয়ে কেবল তালেবান সরকার গঠনে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি এই অস্বীকৃতি জানান।

সরকারি অনুষ্ঠানে নেই বারাদার

তালেবান মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ নেতাদের বিরোধের কথা অস্বীকার করেছেন। মঙ্গলবার তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এমন খবরকে প্রোপাগান্ডা বলে উল্লেখ করেছেন।

প্রকাশ্যে অস্বীকার করলেও গত কিছুদিন ধরে সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে মোল্লা বারাদারের উপস্থিতি নেই। এমনকি এই সপ্তাহে কাতারের উপ-প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল-থানিকে অভ্যর্থনা জানাতে প্রেসিডেন্ট প্যালেসে ছিলেন না তিনি। তার অনুপস্থিতি আলোচনার জন্ম দিয়েছে কারণ দীর্ঘদিন ধরে কাতারে রাজনৈতিক কার্যালয়ের প্রধান ছিলেন তিনি।

কিন্তু বুধবার প্রকাশিত সাক্ষাৎকারে বারাদার বলেছেন, কাতারি মন্ত্রীর সফর সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। বলেন, আমি কাবুল ছেড়ে চলে আসি এবং ফিরতে পারিনি।

বারাদারের সঙ্গে যোগাযোগ থাকা বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা ও আফগান এর আগে বলেছিনে, তালেবান নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদার সঙ্গে বৈঠকের জন্য তিনি কান্দাহার রয়েছেন।

আরেক তালেবান সদস্য জানান, কান্দাহার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গেছেন বারাদার। যুদ্ধের কারণে গত বিশ বছর তাদের সঙ্গে তার দেখা হয়নি।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই বিরোধ আপাতত তালেবানের জন্য গুরুতর কোনও হুমকি হয়ে দেখা দেবে না। ওয়াশিংটনভিত্তিক উইলসন সেন্টারের এশিয়া প্রোগ্রামের উপ-পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, অনেক বছর ধরে আমরা দেখে আসছি বিরোধের পরও তালেবান মূলত ঐক্যবদ্ধ সংগঠন হিসেবে বিরাজ করছে এবং এই বিরোধের পরও তাদের বড় সিদ্ধান্তে কোনও গুরুতর পিছিয়ে আসার সম্ভাবনা কম।  

তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয় অভ্যন্তরীণ এই বিরোধ সামলে নেবে তালেবান। এরপরও তাদেরকে অনেক চাপে থাকতে হবে। কারণ তাদের ক্ষমতা সুসংহত, বৈধতা আদায় এবং বড় ধরনের নীতিগত চ্যালেঞ্জ সমাধান করতে হবে। এগুলোতে যদি ব্যর্থতা আসে তাহলে যে কোনও সংগঠনেই অভ্যন্তরীণ বিরোধ চরম হয়ে উঠতে পারে।

/এএ/

সম্পর্কিত

নিয়ন্ত্রণ নয়, তালেবানকে ‘উৎসাহিত’ করার কথা বললেন ইমরান খান

তালেবানকে ‘উৎসাহিত’ করার কথা বললেন ইমরান খান

এবার নারী মন্ত্রণালয়ে নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করলো তালেবান

এবার নারী মন্ত্রণালয়ে নারীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করলো তালেবান

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

অস্ট্রেলিয়ার কাছে বড় অংকের ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে ফ্রান্স

অস্ট্রেলিয়ার কাছে বড় অংকের ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে ফ্রান্স

চীন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার চুক্তি স্বাক্ষর

চীন মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার চুক্তি স্বাক্ষর

এক বছরে আফগানিস্তান থেকে যুক্তরাষ্ট্রে হামলার সক্ষমতা অর্জন করবে আল কায়েদা

আফগানিস্তানে আল কায়েদার কর্মকাণ্ড নিয়ে মার্কিন গোয়েন্দাদের শঙ্কা

আফগানিস্তান ইস্যুতে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক পর্যালোচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র

পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক পর্যালোচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র

চীনের প্রস্তাব নাকচের খবর অস্বীকার করলেন বাইডেন

চীনের প্রস্তাব নাকচের খবর অস্বীকার করলেন বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে বোমা হামলাকারীর ৫৩ বছরের কারাদণ্ড

যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে বোমা হামলাকারীর ৫৩ বছরের কারাদণ্ড

ওয়াশিংটনে বসছে কোয়াড সম্মেলন, সমালোচনা চীনের

ওয়াশিংটনে বসছে কোয়াড সম্মেলন, সমালোচনা চীনের

আফগানিস্তান থেকে এক লাখ ২৪ হাজার মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

আফগানিস্তান থেকে এক লাখ ২৪ হাজার মানুষকে সরিয়ে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

উ. কোরিয়া আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য হুমকি: পেন্টাগন

উ. কোরিয়া আঞ্চলিক মিত্রদের জন্য হুমকি: পেন্টাগন

টুইন টাওয়ারে হামলার প্রথম নথি প্রকাশ, সৌদির সম্পৃক্ততা পায়নি এফবিআই

৯/১১ হামলার প্রথম নথি প্রকাশ করলো এফবিআই

সর্বশেষ

ছিনতাইকারীকে ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত দিনমজুরের মৃত্যু

ছিনতাইকারীকে ধরতে গিয়ে ছুরিকাঘাতে আহত দিনমজুরের মৃত্যু

ইভ্যালিতে প্রতারিতরা কি টাকা ফেরত পাবেন?

ইভ্যালিতে প্রতারিতরা কি টাকা ফেরত পাবেন?

এক দশক পর ভেলভেট উইংস (ভিডিও)

এক দশক পর ভেলভেট উইংস (ভিডিও)

নেতাদের ‘চিন্তা বিনিময়’ থেকে কতটা ‘শিক্ষা’ নেবে বিএনপি?

৩ দিনব্যাপী বৈঠক অনুষ্ঠিতনেতাদের ‘চিন্তা বিনিময়’ থেকে কতটা ‘শিক্ষা’ নেবে বিএনপি?

কয়েদিদের প্রেমের সম্পর্কে জড়ানো নিষিদ্ধ করলো ডেনমার্ক

কয়েদিদের প্রেমের সম্পর্কে জড়ানো নিষিদ্ধ করলো ডেনমার্ক

© 2021 Bangla Tribune