X
শুক্রবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ৯ আশ্বিন ১৪২৮

সেকশনস

সৌদি থেকে ফিরে কৃষিকাজ করে মাসে আয় ৩ লাখ

আপডেট : ২৫ জুলাই ২০২১, ১১:০৫

সৌদি আরব থেকে ফিরে কৃষিতে বাজিমাত করেছেন ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ের শেখ আব্দুল মান্নান (৫৫)। শুধু নিজেই সফল হয়েছেন তা নয়, ব্রহ্মপুত্র নদের পাড়ের অনাবাদি প্রায় ৪০০ একর জমি স্থানীয় কৃষকদের জন্য আবাদি জমিতে পরিণত করেছেন। এখানে ১৫ একর জমিতে মিশ্র চাষাবাদের মাধ্যমে গড়ে তুলেছেন কৃষি খামার। এলাকার কৃষকরা তার কাছে গেলেই পাচ্ছেন চাষাবাদের পরামর্শসহ নানা সহযোগিতা। তিনি এখন হয়ে উঠেছেন কৃষকদের কাছের মানুষ।

দত্তেরবাজার এলাকার যাত্রাসিদ্ধি গ্রামের কৃষক পরিবারের সন্তান আব্দুল মান্নান। ঢাকার গাবতলী কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে ছয় মাসের অটোমোবাইলসের ওপর প্রশিক্ষণ নিয়ে ১৯৮৬ সালে পাড়ি জমান সৌদি আরবে। মরুভূমিতে কঠোর পরিশ্রম করে কয়েক বছরের মাথায় পরিবারের আরও চার ভাইকে নিয়ে যান। কষ্টার্জিত অর্থে দেশের বাড়িতে ব্রহ্মপুত্র পাড়ের উঁচু কাশবনের অনাবাদি জমি কেনেন। দীর্ঘ ২৫ বছর প্রবাস জীবন কাটিয়ে ফিরে আসেন। কাজ না করে এক মুহূর্তও বসে থাকতে পারেন না মান্নান। এ কারণে সিদ্ধান্ত নেন কৃষিকাজে নিজেকে নিয়োজিত করবেন। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও আশপাশের বয়োজ্যেষ্ঠ কৃষকদের সঙ্গে পরামর্শ করেন কীভাবে ব্রহ্মপুত্র পাড়ের উঁচু অনাবাদি জমি আবাদি জমিতে পরিণত করা যায়।

ব্রহ্মপুত্র পাড়ের প্রায় ৪০০ একর জায়গা আবাদি জমিতে পরিণত করেছেন

শেখ আব্দুল মান্নান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিদেশ থেকে এসে বসে থাকতে ভালো লাগছিল না। পরে সিদ্ধান্ত নিলাম নিজের জমিতে কৃষিকাজ করার। কিন্তু বেশিরভাগ জমি ছিল ব্রহ্মপুত্র পাড়ের উঁচু কাশবনে ঘেরা। আমার মতো শতাধিক কৃষকের জমিও পতিত ছিল কাশবনে। পরে কৃষকদের সঙ্গে পরামর্শ করে হাতে থাকা নগদ অর্থে একটি ভেকু মেশিন কিনে কাশবন পরিষ্কার করে ওই মাটি দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করি। পরে বাঁধটি সড়ক হিসেবে কৃষকরা ব্যবহার করতে থাকেন। বেশ কয়েক বছরে অনাবাদি প্রায় ৪০০ একর জমি আবাদি হয়। এখন আমার মতো প্রায় শতাধিক কৃষক ব্রহ্মপুত্র পাড়ে কৃষি আবাদ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন এবং তাদের মুখে হাসি ফুটেছে।’

বছরে ধান-খড় বিক্রি করে আব্দুল মান্নানের আয় ১২ লাখ টাকা। ধানের পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন তিনি। বর্তমানে তার খামারে বারোমাসি লাউ, কুমড়া, চিচিঙ্গা, বেগুন, শসা ও কাঁচা মরিচসহ বেশকিছু জাতের শাক-সবজি রয়েছে। শাক-সবজি বিক্রি করে তার বছরে প্রায় ছয়-সাত লাখ টাকা আয় হয়। তিন একর জমিতে পাট চাষ করেছেন তিনি। বর্তমানে শ্রমকিদের সঙ্গে তিনি পাট কেটে পচানোর ব্যবস্থা করছেন। তিন একর জমি থেকে প্রায় ৬০ মণের মতো পাট ঘরে তুলতে পারবেন। এছাড়া তার কৃষি খামারে রয়েছে গরু ও ছাগল লালন-পালনের ব্যবস্থা। সেখান থেকেও আয় করেন বছরে ১০ লাখেরও বেশি।

কৃষি খামারে রয়েছে গরু ও ছাগল লালন-পালনের ব্যবস্থা

খামারের চারপাশে লেক বানিয়ে প্রাকৃতিক উপায়ে মাছ চাষ করেছেন। মাছ চাষের ব্যবস্থাপনায় রয়েছে নতুনত্ব। প্রাকৃতিক পরিবেশে নদীর মাছ আটকে রেখে সারা বছর লালন-পালন করেন। বছর শেষে মাছ বিক্রি করে আট-নয় লাখ টাকা আয় করেন তিনি। সবমিলে তার বছরে আয় ৩৭-৩৮ লাখ টাকার মতো। সে হিসাবে তার মাসে আয় প্রায় তিন লাখ টাকা।

এছাড়া গোবর ব্যবহার করে একটি বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট করেছেন মান্নান। উৎপাদিত গ্যাসের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি পরিবারের রান্নার কাজ চলছে। বায়োগ্যাসে ব্যবহৃত গোবর দিয়ে জৈব সার তৈরি করে কৃষি জমিতে ব্যবহার করছেন। তিনি জমিতে রাসায়নিক সার কম ব্যবহার করেন। জৈব সারকেই বেশি কাজে লাগিয়ে থাকেন।

আব্দুল মান্নান বলেন, ‘অতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারে জমির উর্বরতা শক্তি যেমন হারায়, তেমনি উপকারী পোকামাকড়ও মরে যায়। এ কারণে খামারের গোবর ব্যবহার করে একদিকে বায়োগ্যাস উৎপাদন করছি, অন্যদিকে জৈব সার তৈরি করে ফসলি জমিতে ব্যবহার করছি। আশপাশের কৃষকরাও জৈব সার তৈরি করে ফসলি জমিতে ব্যবহার করছেন। এতে করে ফসলের উৎপাদন বাড়ছে এবং বিষমুক্ত সবজিসহ ফসল মানুষকে খাওয়ানো সম্ভব হচ্ছে।’

চাষ করেন লাউ, কুমড়া, চিচিঙ্গা, বেগুন, শসা ও কাঁচা মরিচ

তিনি জানান, বাঁধের পাশে পুরো খামারজুড়ে রয়েছে মাছ চাষের একটি লেক। হ্যাচারি থেকে পোনা না কিনে নিজস্ব পদ্ধতিতে ব্রহ্মপুত্র নদের পানির সঙ্গে আসা মাছ লেকে আটকে প্রাকৃতিক পরিবেশে চাষ করছি। বছর ঘুরলেই মাছ বিক্রি করে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতে চলে আসে। খামারে মিশ্র কৃষি ফসলের আবাদের কারণে বছরজুড়ে কোনও না কোনও ফসল থাকে। খামারে প্রায় অর্ধশতাধিক বেকার যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে।

আব্দুল মান্নান বলেন, সৌদি আরবে গিয়ে মরুভূমিতে খুব কষ্ট করে কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে হয়েছে। বিদেশে না গিয়ে সৎ থেকে মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে কাজ করলে যে কেউ দেশেই সফল হবেন।

আব্দুল মান্নান এখন কৃষকদের কাছের মানুষ

স্থানীয় কৃষক আবুল কালাম বলেন, ‘কৃষিকাজ কীভাবে করতে হয় তা আব্দুল মান্নান ভাইয়ের কাছ থেকে শিখেছি। তিনি আমাদের অনাবাদি জমি আবাদি করতে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। এ কারণে এখন ফসল ফলিয়ে নিজেদের স্বাবলম্বী করতে পেরেছেন স্থানীয় শতাধিক কৃষক। বিভিন্ন এলাকার লোকজন মান্নান ভাইয়ের কৃষি খামার দেখতে আসেন।’

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মতিউজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সৌদিফেরত কৃষক আব্দুল মান্নানের মধ্যে একজন আদর্শ কৃষকের সব ধরনের যোগ্যতা রয়েছে। কৃষি বিষয়ে তিনি স্থানীয় কৃষকদের নানা পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তিনি একজন সফল কৃষক।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

চার জাতের তরমুজে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন শিক্ষার্থী ছামিউল্লাহর

চার জাতের তরমুজে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন শিক্ষার্থী ছামিউল্লাহর

কমিউটার ট্রেনে ডাকাতি, ছুরিকাঘাতে ২ যাত্রী নিহত

কমিউটার ট্রেনে ডাকাতি, ছুরিকাঘাতে ২ যাত্রী নিহত

এমপিকে না জানিয়ে সোয়া কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান

এমপিকে না জানিয়ে সোয়া কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান

সৌদি থেকে ফিরে খেজুর বাগান, বছরে বিক্রি কোটি টাকা 

সৌদি থেকে ফিরে খেজুর বাগান, বছরে বিক্রি কোটি টাকা 

নিজ ঘরে রাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:২৬

যশোরের ঝিকরগাছায় নিজ ঘর থেকে ইমরুল কায়েস পরাগ (২৩) নামে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ২টার দিকে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে পুলিশে খবর দেয় পরিবারের লোকজন।

ইমরুল কায়েস ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের বিশেহরি গ্রামের শহীদুল ইসলামের ছেলে। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

স্থানীয়রা জানায়, মায়ের কাছে ডিএসএলআর ক্যামেরা চান ইমরুল কায়েস। ক্যামেরা কিনে দিতে দেরি হওয়ায় তিনি অভিমান করেন। গতরাতে খাবারও খাননি। রাত ২টার দিকে তার মা ঘরে ঢুকে দেখেন, ফ্যানের সঙ্গে রশি দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে ঝুলে আছেন।

ফেসবুকে হতাশা আর আত্মহত্যা নিয়ে পোস্ট করেন ইমরুল কায়েস

গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য শহিদুল ইসলাম বলেন, ছেলেটা কেন যে আত্মহত্যা করেছে, তা জানতে পারিনি। তার মা একটি বেসরকারি সংস্থায় (এনজিও) চাকরি করেন। শুনেছি ছেলেটি একটি ক্যামেরা কিনে দিতে বলেছিল। ক্যামেরা দিতে দেরি হওয়ায় অভিমানে সে আত্মহত্যা করতে পারে।

কিছু দিন আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে কয়েকদিন ধরে হতাশা আর আত্মহত্যা নিয়ে পোস্ট করেন ইমরুল কায়েস।

ঝিকরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। কী কারণে তিনি আত্মহত্যা করেছেন তা এখনই বলা যাচ্ছে না।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, গণপিটুনিতে নিহত

পুলিশ পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগ, গণপিটুনিতে নিহত

ভারতে গেলো আরও ২০৯ টন ইলিশ

ভারতে গেলো আরও ২০৯ টন ইলিশ

ভারতে গেলো ৭৮ টন ইলিশ

ভারতে গেলো ৭৮ টন ইলিশ

বিয়ের ৮ বছর পর একসঙ্গে চার সন্তানের মা হলেন লাক্সমিয়া

বিয়ের ৮ বছর পর একসঙ্গে চার সন্তানের মা হলেন লাক্সমিয়া

কোটি টাকা আত্মসাৎ

হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়কসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৩২

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়ক, ঠিকাদার ও এক সহকারী ইঞ্জিনিয়ারের বিরুদ্ধে এক কোটি ১০ লাখ ৩৫ হাজার ৯৭০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দুদকের কুষ্টিয়া সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয় ঢাকার উপ-সহকারী পরিচালক মো. সহিদুর রহমান এই মামলা করেন। কুষ্টিয়া জেলা দায়রা জজ বিশেষ আদালতের বিচারক দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক মো. শহিদুর রহমানের দেওয়া এজাহারটি আমলে নিয়ে আগামী সপ্তাহে শুনানিসহ আদেশের দিন ধার্য করেছেন।

আসামিরা হলেন—কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের (অবসরপ্রাপ্ত) সাবেক তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আবু হাসানুজ্জামান (৬১), ঢাকার মহাখালীর স্বাস্থ্য দফতরের সাবেক সহকারী ইঞ্জিনিয়ার (অবসরপ্রাপ্ত) এ এইচ এম আব্দুল কুদ্দুস (৬১) এবং ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স প্যারাগন এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. জাহেদুল ইসলাম (৩২)।

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জামাদি ক্রয়ের জন্য বিজ্ঞাপ্তি দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা সরকারি ক্রয়নীতি লংঘন ও পারস্পরিক যোগসাজশে নয়টি খাতের অনুকূলে বাজারমূল্যের কয়েকগুণ বেশি মূল্য ধার্য করেন। সরকারের অতিরিক্ত টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রাথমিক তদন্তে সত্যতা পাওয়া যায়।

দুর্নীতি দমন কমিশন কুষ্টিয়ার সমন্বিত কার্যালয়ের আইনজীবী আল মুজাহিদ হোসেন মিঠু জানান, দুদকের সব মামলা চূড়ান্তভাবে আদালতে দাখিলের আগে খুব বিচক্ষণতার সঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তারা তদন্ত করেন। শুধু যেসব ক্ষেত্রে সত্যতা আছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়, সেগুলো মামলা হিসেবে রুজু করা হয়। এই মামলার ক্ষেত্রেও তাই হয়েছে। আদালত আগামী সপ্তাহে যে আদেশ দেন সেই অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন সংশ্লিষ্ট দুদক কর্মকতারা।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

মধ্যরাতে ঘুম থেকে তুলে যুবককে গুলি করে হত্যা

মধ্যরাতে ঘুম থেকে তুলে যুবককে গুলি করে হত্যা

মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, আরএমপির ৬ সদস্য বরখাস্ত

মাদক মামলার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়, আরএমপির ৬ সদস্য বরখাস্ত

‘জিনের বাদশার’ কথায় ২৮ লাখ টাকা হারালেন প্রবাসী

‘জিনের বাদশার’ কথায় ২৮ লাখ টাকা হারালেন প্রবাসী

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বিএনপির ৩ শীর্ষ নেতার আত্মসমর্পণ

রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বিএনপির ৩ শীর্ষ নেতার আত্মসমর্পণ

চার জাতের তরমুজে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন শিক্ষার্থী ছামিউল্লাহর

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০৩

করোনাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ছিল। এ সময় বসে না থেকে বাড়ির পাশের পতিত জমিতে বাহারি তরমুজ চাষ করেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার প্যারামেডিক্যালের শিক্ষার্থী মো. ছামিউল্লাহ। চাষে ৪৫ হাজার টাকা খরচ হলেও তরমুজ বিক্রি করে লাখ টাকার বেশি আয় হবে বলে আশা তার। ছামিউল্লাহর অল্প জায়গায় বাহারি তরমুজের অধিক ফলন দেখে স্থানীয় বেকার যুবকরাও চাষে উৎসাহ পাচ্ছেন।

কসবা উপজেলার কুটি ইউনিয়নের জাজিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা ছামিউল্লাহ। তিনি কোটবাড়ী শহীদ স্মৃতি প্যারামেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। 

ছামিউল্লাহ বলেন, করোনাকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অনেকটা অলস সময় কাটছিল। এ সময় একদিন ইউটিউবে কুমিল্লার এক তরমুজ চাষির গল্প দেখি। পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বীজ সংগ্রহ করি। আমি চার জাতের বীজ এনেছিলাম। এর মধ্যে ছিল ব্ল্যাক বেবি, গোল্ডেন ক্রাউন ও বাংলাদেশি জাত মধুমালা এবং সুপার কিং। চাষের পর আমার গাছগুলো সম্পূর্ণভাবে ফলন দিয়েছে। এখনও আমি বিক্রি শুরু করেনি, তবে আশা করছি আগামী কয়েকদিনের মধ্যে ভালো দামেই তরমুজ বিক্রি করতে পারবো। 

তরমুজ বিক্রি করে লাখ টাকার বেশি আয় হবে বলে আশা ছামিউল্লাহর

তিনি আরও বলেন, প্রথমে যখন চাষ করি তখন আমাকে অনেকেই এ বিষয়ে অনুৎসাহিত করে। তবে এখন সবাই এসে আমার ফলন দেখছে ও চাষের বিষয়ে পরার্মশ চাইছেন। মাত্র ২৫ শতাংশ জমিতে তরমুজ আবাদ করেছি। এতে আমার খবরচ হয়েছে ৪৫ হাজার টাকার মতো। আশা করছি লাখ টাকার উপরে তরমুজ বিক্রি করতে পারবো।

এদিকে প্রথমবারের মতো কসবা কুটি এলাকায় বাহারি তরমুজের ভালো ফলন দেখে স্থানীয় যুবকরাও পতিত জমিতে তরমুজ চাষে আগ্রহী হয়েছেন।

ছামিউল্লাহকে দেখে অনেকেই তরমুজ চাষে উৎসাহ পাচ্ছেন

সাইদুল ইসলাম নামে এক যুবক বলেন, ছামিউল্লাহ তরমুজের চাষ করেছে, অনেক ফল এসেছে। আশা রাখছি আগামীতে আমরাও এই তরমুজ চাষ করবো।

সাদমান হোসেন ভূইয়া নামে আরেক যুবক বলেন, আমার বন্ধু প্রথমবার তরমুজ চাষ করেছে। আমরা এলাকার যুবকেরা এগুলো দেখে শিখছি। আমরাও বাড়ির পাশের খালি জমিতে তরমুজ চাষ করার চিন্তা করছি।

ছামিউল্লাহর অল্প জায়গায় বাহারি তরমুজের অধিক ফলন

কসবা উপজেলার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ছামিউল্লাহ এলাকায় প্রথমবার তরমুজ চাষ করেছেন। আমরা তাকে চাষ অব্যাহত রাখার পরামর্শ দিয়েছি। এতে করে কুটি এলাকায় অন্যান্য কৃষকরাও উৎসাহিত হবেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে আমরা বলেছি যখন যে পরার্মশ প্রয়োজন আমরা তাদেরকে দিয়ে যাবো। 

/টিটি/ /এসএইচ/

সম্পর্কিত

সৌদি থেকে ফিরে খেজুর বাগান, বছরে বিক্রি কোটি টাকা 

সৌদি থেকে ফিরে খেজুর বাগান, বছরে বিক্রি কোটি টাকা 

সব শিক্ষার্থীর ২ বছরের বেতন মওকুফ করলো বিদ্যালয়টি

সব শিক্ষার্থীর ২ বছরের বেতন মওকুফ করলো বিদ্যালয়টি

খালেদা জিয়ার কি বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন আছে, প্রশ্ন আইনমন্ত্রীর

খালেদা জিয়ার কি বিদেশ যাওয়ার প্রয়োজন আছে, প্রশ্ন আইনমন্ত্রীর

মাদক মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩ ভাই গ্রেফতার

মাদক মামলায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৩ ভাই গ্রেফতার

মধ্যরাতে ঘুম থেকে তুলে যুবককে গুলি করে হত্যা

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:১৩

কুষ্টিয়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষের গুলিতে রাজু আহম্মেদ (৩৭) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১টার দিকে সদর উপজেলার ভাদালিয়া এলাকার দরবেশপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

ভাদালিয়া ইউনিয়নের দরবেশপুর গ্রামের মুন্তা মণ্ডলের ছেলে রাজু। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।

নিহতের পরিবার সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে বাসায় ঘুমিয়েছিলেন রাজু। হঠাৎ প্রতিপক্ষের লোকজন পুরো বাড়ি ঘেরাও করে তাকে ঘর থেকে বের করে মাথায় গুলি করে। উদ্ধার করে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাব্বিরুল আলম জানান, কয়েক মাস ধরে ভাদালিয়া দরবেশপুর এলাকায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে স্থানীয় দুই গ্রুপের মধ্যে কোন্দল চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। 

তিনি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের ধরতে পুলিশের অভিযান চলছে। নতুন করে সংঘর্ষ এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়কসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

হাসপাতালের সাবেক তত্ত্বাবধায়কসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ

শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ

জমি নিয়ে বিরোধে ভাবিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

জমি নিয়ে বিরোধে ভাবিকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ

বারবার ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

বারবার ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে মামলা

৫ স্কুলছাত্রীর করোনা শনাক্ত, ক্লাস বন্ধ

আপডেট : ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:০৪

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বাহাদুরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির পাঁচজন শিক্ষার্থীর করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এরপর থেকে ওই দুই শ্রেণির ক্লাস বন্ধ রেখেছে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

বৃহস্পতিবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের কলোনি এলাকার ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. ফারহানা পারভীন এ তথ্য জানান।

গত ২০ সেপ্টেম্বর ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালে চতুর্থ শ্রেণির দুই জন ও পঞ্চম শ্রেণির তিন জন ছাত্রীর করোনা পরীক্ষার জন্য নমুনা দেওয়া হয়। মঙ্গলবার নমুনা পরীক্ষার প্রতিবেদনে তাদের ফলাফল পজিটিভ আসে। তারা ঠাকুরগাঁও সরকারি শিশু পরিবার বালিকার সদস্য।

প্রধান শিক্ষক ফারহানা পারভীন বলেন, বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ৪২৬ জন ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে। তাদের মধ্যে চতুর্থ শ্রেণিতে রয়েছে ৮৪ জন ও পঞ্চম শ্রেণিতে ৭৬ জন। গত ১২ সেপ্টেম্বর থেকে বিদ্যালয় খোলার পর শিডিউল অনুযায়ী প্রথম শ্রেণি থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের ক্লাস নেওয়া হয়। বিদ্যালয়ে প্রবেশের সময় প্রত্যেক শিক্ষার্থীর শরীরের তাপমাত্রা পরিমাপ করে ক্লাসে প্রবেশ করানো হয়।

তিনি আরও বলেন, করোনা আক্রান্ত পাঁচ ছাত্রী গত ১৬ সেপ্টেম্বর ক্লাসে উপস্থিত ছিল। কিন্তু সেদিন তাদের মধ্যে করোনার কোনও লক্ষণ দেখা যায়নি। বিদ্যালয় থেকে যাওয়ার পর ঠাকুরগাঁও সরকারি শিশু পরিবার বালিকা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে খোঁজ-খবর নেওয়া হয় ছাত্রীদের। এসময় সরকারি শিশু পরিবার বালিকা কর্তৃপক্ষ জানায় তাদের ওখানে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়ুয়া কয়েকজন শিক্ষার্থী জ্বর-সর্দিতে আক্রান্ত হয়েছে। এরপর থেকে আমরা প্রতিনিয়ত আমাদের বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীদের খোঁজ-খবর রাখতে শুরু করি।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা শিক্ষা অফিসের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা মমতাজ ফেরদৌস বলেন, বাহাদুরপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাঁচজন ছাত্রী করোনায় আক্রান্ত হয়েছে বলে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাদের জানায়। এরপর বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে আগামী এক সপ্তাহের জন্য ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির ক্লাস বন্ধ করে রাখা হয়েছে।

ঠাকুরগাঁও আধুনিক সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. রকিবুল আলম চয়ন বলেন, সরকারি শিশু পরিবার বালিকার ১৩ জন ছাত্রীর করোনা শনাক্ত হয়েছে। তাদেরকে আলাদাভাবে আইসোলেশনে রেখেছি। এর পাশাপাশি আক্রান্তের দিন থেকেই আমরা তাদের শারীরিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছি। তারা বর্তমানে সুস্থ আছে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, উপজেলার প্রত্যেকটি বিদ্যালয়ে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বজায় রেখে ক্লাস নেওয়া হচ্ছে। আমরা বিদ্যালয়ে সার্বক্ষণিক তদারকি করছি। স্কুলে আশা শিক্ষার্থীদের শরীরের তাপমাত্রা পরিমাণ করা হচ্ছে। যদি কোনও শিক্ষার্থীর করোনার লক্ষণ দেওয়া যায় তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে তার নমুনা পরীক্ষা করছি।

তিনি বলেন, যেসব বিদ্যালয়ের শ্রেণির শিক্ষার্থীরা করোনা আক্রান্ত হয়েছে, আমরা তাৎক্ষণিক সেসব শ্রেণির ক্লাস বন্ধ রেখেছি এবং তাদের চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করেছি।

/এসএইচ/

সম্পর্কিত

সব শিক্ষার্থীর ২ বছরের বেতন মওকুফ করলো বিদ্যালয়টি

সব শিক্ষার্থীর ২ বছরের বেতন মওকুফ করলো বিদ্যালয়টি

চাঁদপুরে ৩ কলেজ শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত

চাঁদপুরে ৩ কলেজ শিক্ষার্থীর করোনা শনাক্ত

মোংলায় শিক্ষকের করোনা শনাক্ত

মোংলায় শিক্ষকের করোনা শনাক্ত

রামেকের করোনা ইউনিটে ২২ দিনে ১৩৮ জনের মৃত্যু

রামেকের করোনা ইউনিটে ২২ দিনে ১৩৮ জনের মৃত্যু

সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

চার জাতের তরমুজে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন শিক্ষার্থী ছামিউল্লাহর

চার জাতের তরমুজে ভাগ্য বদলের স্বপ্ন শিক্ষার্থী ছামিউল্লাহর

কমিউটার ট্রেনে ডাকাতি, ছুরিকাঘাতে ২ যাত্রী নিহত

কমিউটার ট্রেনে ডাকাতি, ছুরিকাঘাতে ২ যাত্রী নিহত

এমপিকে না জানিয়ে সোয়া কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান

এমপিকে না জানিয়ে সোয়া কোটি টাকার টেন্ডার আহ্বান

সৌদি থেকে ফিরে খেজুর বাগান, বছরে বিক্রি কোটি টাকা 

সৌদি থেকে ফিরে খেজুর বাগান, বছরে বিক্রি কোটি টাকা 

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত শহীদুল্লাহ গ্রেফতার

মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত শহীদুল্লাহ গ্রেফতার

চুরির সময় দুর্ঘটনায় দুমড়ে-মুচড়ে গেলো স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাড়ি

চুরির সময় দুর্ঘটনায় দুমড়ে-মুচড়ে গেলো স্বাস্থ্য কর্মকর্তার গাড়ি

ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মামলা

ধর্ষণের অভিযোগে পুলিশ কনস্টেবলের বিরুদ্ধে মামলা

প্রাইভেটকারের ধাক্কায় ভ্যানের চালকসহ নিহত ২

প্রাইভেটকারের ধাক্কায় ভ্যানের চালকসহ নিহত ২

সৌদিতে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে পড়ে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

সৌদিতে বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে পড়ে বাংলাদেশি যুবকের মৃত্যু

সর্বশেষ

তালেবান সরকারের আসল ক্ষমতা কার হাতে?

তালেবান সরকারের আসল ক্ষমতা কার হাতে?

নিজ ঘরে রাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ

নিজ ঘরে রাবি শিক্ষার্থীর ঝুলন্ত লাশ

মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার ৫২

মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে গ্রেফতার ৫২

‘করোনা নিয়ে আরও কাজ হলে গবেষণার ক্ষেত্রটা বাড়বে’

সাক্ষাৎকারে ড. ফেরদৌসী কাদরী ‘করোনা নিয়ে আরও কাজ হলে গবেষণার ক্ষেত্রটা বাড়বে’

টিভিতে আজ

টিভিতে আজ

© 2021 Bangla Tribune