X
মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১০ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

‘আগামী সংসদ নির্বাচনও এই সরকারের অধীনে’

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১৭:৫২

কৃষিমন্ত্রী মো. আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, বিএনপি যতই আন্দোলন-সংগ্রাম করুক, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন সাংবিধানিক তথা এই সরকারের অধীনে হবে। তত্ত্বাবধায়ক সরকার কিংবা অন্য কোনও উপায়ে নির্বাচন হবে না। শনিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে টাঙ্গাইল সার্কিট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি আবারও হুমকি দিচ্ছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত দুঃশাসন, সন্ত্রাস, জঙ্গি শাসন এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের কারণে বিএনপির পায়ের তলায় মাটি নেই। তাদের সঙ্গে জনগণ নেই, তাদের আন্দোলনে কেউ সাড়া দেয় না। আমরা তাদের আন্দোলনে ভয় পাই না। রাজনৈতিকভাবে তাদের আন্দোলন-সংগ্রাম প্রতিহত করার সক্ষমতা আওয়ামী লীগের আছে।’

চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের লাশ থাকার কোনও প্রমাণ নেই উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির একাধিক নেতা ও সেনাশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ বলেছেন, সেদিন চন্দ্রিমা উদ্যানে যে লাশটি এসেছিল তার গায়ে সেনাবাহিনীর পোশাক পরা ছিল। সেখানে কোনও কফিন ছিল না এবং কাফনের কাপড় পরা কোনও লাশও দেখা যায়নি। এটি নিয়ে অনেক ভুল বোঝাবুঝি আছে, সত্য একদিন উন্মোচিত হবে।’

এ সময় উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ছানোয়ার হোসেন, বাসাইল-সখীপুর আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম, গোপালপুর-ভূঞাপুর আসনের সংসদ সদস্য তানভীর হাসান ছোট মনি, জেলা প্রশাসক ড. মো. আতাউল গণি, পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায়, টাঙ্গাইল পৌরসভার মেয়র এসএম সিরাজুল হক আলমগীর প্রমুখ। পরে মন্ত্রী টাঙ্গাইল শহরের পৌর উদ্যানে শ্রমিকনেতা আব্দুস সবুর খান বীর বিক্রমের স্মরণ সভার অনুষ্ঠানে যোগ দেন। এই অনুষ্ঠানে সাবেক নৌ-পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খানও যোগ দিয়েছেন।

/এএম/

সম্পর্কিত

বন্ধই থাকছে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে ফেরি চলাচল

বন্ধই থাকছে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে ফেরি চলাচল

সিরাজগঞ্জে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পথে ৬ চেয়ারম্যান

সিরাজগঞ্জে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পথে ৬ চেয়ারম্যান

ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যা: বড় ভাইয়ের ফাঁসি, ছোট ভাইয়ের যাবজ্জীবন

ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যা: বড় ভাইয়ের ফাঁসি, ছোট ভাইয়ের যাবজ্জীবন

গরুর পচা মাংস বিক্রি করায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

গরুর পচা মাংস বিক্রি করায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

থানার জানালা ভেঙে পালালেন আসামি, ২ পুলিশ প্রত্যাহার

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ২০:৩৬

দিনাজপুরের পার্বতীপুর মডেল থানা হাজতের জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়েছেন মাদক মামলার এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি। এই ঘটনায় দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে থানার এক এএসআই ও কনস্টেবলকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় তাদেরকে প্রত্যাহার করা হয়। এর আগে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান আসামি। প্রত্যাহার হওয়া দুই পুলিশ হলেন- ডিউটি অফিসার এএসআই কে বি এম শাহারিয়ার ও পুলিশ কনেস্টেবল সাবিনা ইয়াছমিন।

দিনাজপুর পুলিশের ফুলবাড়ী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘এখন পর্যন্ত দুই জনকে প্রত্যাহার (ক্লোজ) করা হয়েছে। এ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।’

এই ঘটনার পর দিনাজপুর জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) মমিনুল করিম ও ফুলবাড়ী সার্কেলের
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার (২৫ অক্টোবর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে অভিযান চালায় পার্বতীপুর উপজেলার বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা। এ সময় উপজেলার হাবড়া ইউনিয়নের ভবানীপুর এলাকা থেকে মোকারুল ইসলাম (৩২) নামে এক ওয়ারেন্টভুক্ত আসামিকে গ্রেফতার করে। পরে রাতেই মাদক মামলার ওই আসামিকে পার্বতীপুর মডেল থানায় হস্তান্তর করে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনি পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের সদস্যরা। দুপুরে তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানোর কথা থাকলেও এর আগেই সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে হাজতখানার জানালার তিনটি গ্রিল ভেঙে ফেলে পালিয়ে যান ওই আসামি। পরে বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, হাজতে থাকার সময় আসামি সবার অগোচরে পাশের দরজার তালা ভেঙে স্টোর রুমে প্রবেশ করেন। সেখানে সে রুমের জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। ঘটনা জানাজানির হওয়ার পর থেকেই আসামিকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

/এফআর/

সম্পর্কিত

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সেজে কোটিপতি, নিয়েছেন সরকারি ফ্ল্যাট

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা সেজে কোটিপতি, নিয়েছেন সরকারি ফ্ল্যাট

গাইবান্ধায় রিকশাচালক হত্যার ঘটনায় দুই ভাই কারাগারে

গাইবান্ধায় রিকশাচালক হত্যার ঘটনায় দুই ভাই কারাগারে

চাহিদা থাকায় হিলি দিয়ে আসছে শুকনা মরিচ

চাহিদা থাকায় হিলি দিয়ে আসছে শুকনা মরিচ

বন্ধই থাকছে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে ফেরি চলাচল

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ২০:২৮

পদ্মা নদীর স্রোত না কমায় পদ্মা সেতুর নিরাপত্তার লক্ষ্যে বন্ধই থাকবে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে ফেরি চলাচল। তবে স্রোতের গতি কমলে পরবর্তী সময়ে ফেরি চালু করা হবে। মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্যিক) এস এম আশিকুজ্জামান এ তথ্য জানান।

আশিকুজ্জামান বলেন, ‘স্রোতের গতিবেগ ফেরি চলাচলের জন্য পুরোপুরিভাবে স্বাভাবিক পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত ফেরি চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে থাকা বেশ কয়েকটি দলের সিদ্ধান্তে একমত হওয়ার পর ফেরি চলাচলের ঘোষণা আসবে। বর্তমানে পদ্মা নদীর স্রোতের গতিবেগ স্বাভাবিক অবস্থানে আসেনি। এর জন্য আরও দু-তিন দিন অপেক্ষা করতে হবে। তাছাড়া তিস্তার পানি নামতে শুরু করেছে। আশা করি, আগামী শনি ও রবিবার পরীক্ষামূলকভাবে আবারও ফেরি চালু করা হবে। তখন স্রোত অনুকূল অবস্থানে থাকলে ফেরি চালুর ঘোষণা আসতে পারে।’

এদিকে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কুঞ্জলতা নামে পরীক্ষামূলক একটি ফেরি মুন্সীগঞ্জের লৌহজংয়ের শিমুলিয়া ঘাট ছেড়ে যায় এবং দুপুর পৌনে ২টায় আবার ফিরে আসে। তবে, পরীক্ষামূলক ফেরিটি সফলভাবে পারাপার করলেও ফেরি চালুর সিদ্ধান্ত নেয়নি কর্তৃপক্ষ।

প্রসঙ্গত, গত ১১ অক্টোবর থেকে বন্ধ আছে এই রুটে ফেরি চলাচল। তার আগে, জুলাই ও আগস্ট মাসে চারটি ফেরি পদ্মা সেতুর পিলারে ধাক্কা দেয়। এর পর গত ১৮ আগস্ট থেকে পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা ও নদীর তীব্র স্রোতের কারণে অনির্দিষ্টকালের জন্য ফেরি চলাচল বন্ধ রেখেছিল কর্তৃপক্ষ। ৪৭ দিন বন্ধ থাকার পর গত ৪ অক্টোবর শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌরুটে শুধু দিনের বেলা পাঁচটি ফেরি চলাচল শুরু হয়েছিল।

/এমএএ/

সম্পর্কিত

ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যা: বড় ভাইয়ের ফাঁসি, ছোট ভাইয়ের যাবজ্জীবন

ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যা: বড় ভাইয়ের ফাঁসি, ছোট ভাইয়ের যাবজ্জীবন

গরুর পচা মাংস বিক্রি করায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

গরুর পচা মাংস বিক্রি করায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

মানিকগঞ্জে বেড়েছে ডেঙ্গু রোগী 

মানিকগঞ্জে বেড়েছে ডেঙ্গু রোগী 

১৬ কেজির কাতল ২৭ হাজারে বিক্রি

১৬ কেজির কাতল ২৭ হাজারে বিক্রি

সিরাজগঞ্জে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পথে ৬ চেয়ারম্যান

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ২০:১৯

দ্বিতীয় ধাপের ইউপি নির্বাচনে সিরাজগঞ্জের ১৭ ইউনিয়নে আগামী ১১ নভেম্বর ভোটগ্রহণ হবে। এর মধ্যে ছয়টিতে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে রয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনে প্রতিদ্বন্দ্বী কোনও প্রার্থী না থাকায় বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে রয়েছেন এসব প্রার্থীরা। প্রতীক বরাদ্দের দিন তাদের বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।

তারা হলেন- সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার রতনকান্দি ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন, ছোনগাছা ইউনিয়নের মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, সয়দাবাদ ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান নবিদুল ইসলাম; রায়গঞ্জ উপজেলার ধামাইনগর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান রাইসুল হাসান সুমন, ধানগড়া ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান মীর ওবায়দুল মাসুম ও ব্রহ্মগাছা ইউনিয়নে বর্তমান চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার লিটন।

সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আজিজার রহমান ও রায়গঞ্জ উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. কামরুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করে জানান, মঙ্গলবার মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত কোনও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী না থাকায় এসব ইউনিয়নের প্রার্থীরা বিজয়ের পথে রয়েছেন।

সিরাজগঞ্জ জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম জানান, বুধবার (২৭ অক্টোবর) প্রতীক বরাদ্দের দিন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তাদের বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।

/এফআর/

সম্পর্কিত

চুল কাটার শাস্তির আইন নেই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে, সময় নিলো কর্তৃপক্ষ

চুল কাটার শাস্তির আইন নেই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে, সময় নিলো কর্তৃপক্ষ

মহাসড়কের পাশে প্রতিবন্ধী যুবকের লাশ

মহাসড়কের পাশে প্রতিবন্ধী যুবকের লাশ

আ.লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ হারুনের

আ.লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ হারুনের

প্রথম দিনেই বরিশালের মোকামে ২০ হাজার মণ ইলিশ

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ২০:১০

২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আবার সরগরম হয়ে উঠেছে বরিশাল নগরীর পোর্ট রোডের ইলিশ মোকাম। মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) ভোরে নদী ও সাগর থেকে ইলিশের বোট আসা শুরু করে। এদিন ২০ হাজার মণ ইলিশ এসেছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, মোকামে আসা অনেক ইলিশ ডিম ছাড়েনি।

ব্যবসায়ী নেতারা বলছেন, জাটকা সংরক্ষণে কঠোর তদারকি করতে হবে। এতে ইলিশ বৃদ্ধি পেলে রফতানির ব্যবস্থা করতে হবে। মৎস্য কর্মকর্তারা বলছেন, ইলিশ যে পরিমাণ ডিম ছেড়েছে তা সংরক্ষণ করলে বরিশাল বিভাগে চার লাখ মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদনের টার্গেট পূরণ হবে।

এদিকে, ইলিশের জালে ধরা পড়েছে ১৫-২০ কেজির পাঙাশ। এটিকে বাড়তি আয় হিসেবে দেখছেন জেলেরা। আগামী এক সপ্তাহ এই ধরনের পাঙাশ ধরা পড়বে বলে জানান একাধিক জেলে।

নদী থেকে ইলিশ নিয়ে আসা জেলেরা বলেন, নদীতে তেমন ইলিশ নেই। তবে যা পাওয়া গেছে তা ছোট। আবার কিছু কিছু মাছ জালে উঠেছে তা এককেজি থেকে দুই কেজি। ধরা পড়া বড় ইলিশ এখনও ডিম ছাড়েনি। ডিম ছাড়লে নদীতে থাকতো না। ডিম ছাড়ার পরপরই ইলিশ সাগরে চলে যায়। তবে আরও কিছুদিন নিষেধাজ্ঞা থাকলে ইলিশ ডিম ছাড়তো।

স্থানীয় একটি ফিশিং বোটের জেলেরা জানিয়েছেন, ইলিশের জালে ধরা পড়ছে বড় বড় পাঙাশ। সোমবার রাত থেকে তিনবার জাল ফেলার সুযোগ পেয়েছেন। তাতে ১১টি বড় পাঙাশ উঠেছে। প্রতিটি ইলিশের জালে বড় পাঙাশ ধরা পড়েছে। প্রতিবছর এই সময়ে ইলিশের জালে পাঙাশ ধরা পড়ে। আগামী এক সপ্তাহ পাঙাশ পাওয়া যাবে। এরপর জালে উঠবে না। তবে মাঝেমধ্যে ১৫-২০ কেজি ওজনের পাঙাশ ধরা পড়ে।

বরিশালের মোকাকে ২০ হাজার মণ ইলিশ এসেছে

এতে লাভ হয় তাদের। টাকার পরিমাণ বেড়ে যায়। একটি ফিশিং বোটে যা আয় হয়, অর্ধেক নেন বোট মালিক। বাকি টাকা ভাগ করে নেন জেলেরা। এ ছাড়া মালিকের কাছ থেকে দাদন নেওয়া থাকায় তাকেই মাছ দিতে হয়। সেক্ষেত্রে বাজার দরের চেয়ে কম পাওয়া যায়। কত কম তা আর বলতে চাননি জেলে সোলেমান ফকির ও তার সহকর্মীরা।

পোর্ট রোডের ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতি মণ পাঙাশ পাইকারি বিক্রি হয়েছে ১৫-১৬ হাজার টাকা। খুচরা বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৫০০-৬০০ টাকা কেজি দরে। বড় পাঙাশের চাহিদা থাকায় ৪-৫ জন ক্রেতা একত্রিত হয়ে একটি মাছ কিনে ভাগ করে নেন। আজ ইলিশ মোকামে আসা পাঙাশের সর্বোচ্চ ওজন ছিল ২০ কেজি। সর্বনিম্ন ছিল ১০ কেজি। আজ আড়তে তিন শতাধিক পাঙাশ এসেছে বলে জানান মাছ ব্যবসায়ী মো. পারভেজ।

পোর্ট রোডের ইলিশের আড়তদার জহির সিকদার বলেন, নিষেধাজ্ঞার পর বড়-ছোট প্রচুর ইলিশ এসেছে। বড় যেসব ইলিশ এসেছে তাতে ডিম হয়নি। ডিম ছাড়লে ইলিশ পাতলা হয়ে লম্বা আকৃতির দেখায়। সে ধরনের ইলিশের সংখ্যা কম। এ জন্য নিষেধাজ্ঞার সময়টা ঠিক ছিল না। মা ইলিশের ওপর জরিপ চালিয়ে সময়টা নির্ধারণ করলে ইলিশের উৎপাদন অনেক বেড়ে যাবে। তবে ছোট সাইজের প্রচুর ইলিশ এসেছে।

ইতোমধ্যে আঞ্চলিক নদীগুলোতে ডিম ছেড়েছে ইলিশ। যা জাটকায় রূপ নেবে। জাটকা ঠিকমতো সংরক্ষণ করা গেলে বড় ইলিশ নদীতে মিলবে। নদী ও সাগরের ইলিশের স্বাদের ব্যবধান আছে। জাটকা নিধন বন্ধকালীন সংশ্লিষ্টরা কঠোরভাবে তা মনিটরিং করলে বড় ইলিশের উৎপাদন বেড়ে যাবে। ফলে মাছের দামও কমে আসবে। তাতে সব শ্রেণির মানুষের নাগালের মধ্যে থাকবে ইলিশের দাম।

জহির সিকদার বলেন, আজ ইলিশ মোকামে পাঙাশ উঠেছে তিন শতাধিক। এসব পাঙাশ ইলিশের জালে উঠেছে। নদীর পাঙাশ আরও ৫-৬ দিন মিলবে।

ইলিশের জালে ধরা পড়ছে বড় বড় পাঙাশ

পোর্ট রোড মৎস্য আড়তদার সমিতির সাধারণ সম্পাদক নীরব হোসেন টুটুল বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় ইলিশ উৎপাদন প্রতিবছর বাড়ায় সরকারকে ধন্যবাদ। একই সঙ্গে জাটকা সংরক্ষণে কঠোর হওয়ার আহ্বান জানাই সংশ্লিষ্টদের। এতে বড় সাইজের ইলিশ উৎপাদন বেড়ে যাবে।

তিনি বলেন, শীত মৌসুমে বাংলাদেশে ইলিশের কদর কম। অন্য মাছের প্রতি মানুষ আকৃষ্ট থাকে। এ জন্য শীত মৌসুমে ইলিশ বিক্রি কম হয়। ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে রফতানি উন্মুক্ত করে দিতে হবে।

টুটুল বলেন, আজ মোকামে এক কেজি ২০০ গ্রাম সাইজের প্রতি মণ ইলিশ পাইকারি ৩৬ হাজার টাকা, কেজি সাইজের প্রতি মণ ৩৪ হাজার, এলসি সাইজ (৬০০-৯০০ গ্রাম) প্রতি মণ ৩০ হাজার, ৪০০ থেকে সাড়ে ৫০০ গ্রাম সাইজের (ভেলকা) প্রতি মণ ২৪ হাজার এবং গোটলা সাইজ (আড়াইশ থেকে সাড়ে ৩০০ গ্রাম) প্রতি মণ ১৮ হাজার টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বরিশাল মৎস্য অধিদফতরের কর্মকর্তা (ইলিশ) বিমল চন্দ্র দাস বলেন, ইলিশ সারা বছরই ডিম দেয়। তবে পূর্ণিমায় অধিকাংশ ইলিশ ডিম দেওয়ায় ওই সময়টা মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। এ জন্য ব্যাপক জরিপ চালানো হয়। জরিপের ভিত্তিতেই এই নিষেধাজ্ঞা। এতে আমরা সুফলও পাচ্ছি। প্রতি বছর ইলিশের উৎপাদন বাড়ছে। মঙ্গলবার পোর্ট রোড মোকামে ইলিশ এসেছে ২০ হাজার মণ। প্রতিদিন এর পরিমাণ বাড়বে।

মৎস্য অধিদফতরের উপ-পরিচালক আনিসুর রহমান তালুকদার বলেন, নিষেধাজ্ঞার মধ্যে যে পরিমাণ ইলিশ ডিম ছেড়েছে তা সংরক্ষণ করা গেলে আমাদের টার্গেট পূরণ হবে। দেশে এবছর ইলিশের টার্গেট ছয় লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে চার লাখ মেট্রিক টন উৎপাদন হবে বরিশাল বিভাগে।

তিনি আরও বলেন, জাটকা নিধন বন্ধ করতে হবে। এ জন্য কঠোর আইনও প্রয়োগ করা হবে। এটা ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারলে টার্গেটের বেশি ইলিশ আসার সম্ভাবনা থাকবে।

/এএম/

সম্পর্কিত

নিষেধাজ্ঞা ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে হাজার মণ ইলিশ

নিষেধাজ্ঞা ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে হাজার মণ ইলিশ

নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ ধরতে নদী ও সাগরে জেলেরা

নিষেধাজ্ঞা শেষে ইলিশ ধরতে নদী ও সাগরে জেলেরা

ইলিশের উৎপাদন বাড়লেও ভালো নেই জেলেরা

ইলিশের উৎপাদন বাড়লেও ভালো নেই জেলেরা

চুল কাটার শাস্তির আইন নেই রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ে, সময় নিলো কর্তৃপক্ষ

আপডেট : ২৬ অক্টোবর ২০২১, ১৯:০৬

সিরাজগঞ্জের রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৪ শিক্ষার্থীর মাথার চুল কেটে দেওয়ার ঘটনায় শিক্ষক ফারহানা ইয়াসমিন বাতেনের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এই সিদ্ধান্ত জানাতে আগামী ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সময় নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সে সময় পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা আন্দোলন স্থগিত রাখবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 

মঙ্গলবার (২৬ অক্টোবর) বিকাল ৪টা থেকে প্রায় সাড়ে ৫টা পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও রেজিস্ট্রারের হওয়া এক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সন্ধ্যা পৌনে ৬টায় দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সভার মধ্যস্থতাকারী শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ মো. শামসুজ্জোহা ও আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থী আবু জাফর হোসাইন।

ইউএনও শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, ‘মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রেজারার আব্দুল লতিফ এবং রেজিস্ট্রার মো. সোহরাব আলীর একটি বৈঠক হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে সুন্দর পরিবেশ ফিরে আনার স্বার্থে বৈঠকটি আমি নিজেই মধ্যস্থতা করেছি এবং সেখানে উপস্থিতও ছিলাম। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই ঘটনার সমাধানে আগামী ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত সময় নিয়েছে। শিক্ষার্থীরাও সেটা মেনে নিয়ে আন্দোলন স্থগিত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।’

সভায় থাকা একটি বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, যদি অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণ হয় তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে যে আইন প্রয়োগ করা হতে পারে সেটি এখনও এখানে নেই। তাই সেই আইনটি প্রণয়ন করতে হবে। ফলে চাইলেও এখন কোনও সিদ্ধান্তে আসা সম্ভব নয়। তদন্তে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণ হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু জাফর হোসাইন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আগামী ২৮ নভেম্বর পর্যন্ত সময় নিয়েছে এবং আমরা সেই পর্যন্ত আন্দোলন স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এর মাঝে সব পরীক্ষাতেও আমরা অংশগ্রহণ করবো।’

সভার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে বলা হয়েছে, তদন্তে এ ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। সেই শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্থায়ীভাবে কোনও সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য যে আইন দরকার সেটি এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রণয়ন হয়নি তাই সেটি করতে সময় দরকার।’ 

ইউএনও শাহ মো. শামসুজ্জোহা বলেন, ‘আগামীকাল (বুধবার) যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনার তদন্তে আসবে এবং এটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ায় এখনও কিছু নিয়ম ও আইন প্রণয়ন হয়নি। তাই সেগুলোও করতে হবে এই সময়ের মধ্যে।’

অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি মৌখিকভাবে এটা শুনেছি, এর বেশি কিছু জানি না।’

এ বিষয়ে ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য ট্রেজারার আব্দুল লতিফের মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও সাড়া মেলেনি।

/এফআর/

সম্পর্কিত

সিরাজগঞ্জে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পথে ৬ চেয়ারম্যান

সিরাজগঞ্জে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পথে ৬ চেয়ারম্যান

মহাসড়কের পাশে প্রতিবন্ধী যুবকের লাশ

মহাসড়কের পাশে প্রতিবন্ধী যুবকের লাশ

আ.লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ হারুনের

আ.লীগ প্রার্থীর বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ হারুনের

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

বন্ধই থাকছে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে ফেরি চলাচল

বন্ধই থাকছে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে ফেরি চলাচল

সিরাজগঞ্জে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পথে ৬ চেয়ারম্যান

সিরাজগঞ্জে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পথে ৬ চেয়ারম্যান

ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যা: বড় ভাইয়ের ফাঁসি, ছোট ভাইয়ের যাবজ্জীবন

ধর্ষণের পর পুড়িয়ে হত্যা: বড় ভাইয়ের ফাঁসি, ছোট ভাইয়ের যাবজ্জীবন

গরুর পচা মাংস বিক্রি করায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

গরুর পচা মাংস বিক্রি করায় ৩০ হাজার টাকা জরিমানা

মানিকগঞ্জে বেড়েছে ডেঙ্গু রোগী 

মানিকগঞ্জে বেড়েছে ডেঙ্গু রোগী 

১৬ কেজির কাতল ২৭ হাজারে বিক্রি

১৬ কেজির কাতল ২৭ হাজারে বিক্রি

শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে ফের পরীক্ষামূলক ফেরি চলাচল শুরু

শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে ফের পরীক্ষামূলক ফেরি চলাচল শুরু

ডোবার পানিতে ঠান্ডা হতো মিষ্টির ছানা

ডোবার পানিতে ঠান্ডা হতো মিষ্টির ছানা

চাপাতি দিয়ে প্রেমিকাকে কোপানোর অভিযোগ

চাপাতি দিয়ে প্রেমিকাকে কোপানোর অভিযোগ

সর্বশেষ

ভারতের ‘ভুল’ ধরিয়ে দিলেন ইনজামাম

ভারতের ‘ভুল’ ধরিয়ে দিলেন ইনজামাম

দুই ডোজের আওতায় ২ কোটি ১১ লাখ মানুষ

দুই ডোজের আওতায় ২ কোটি ১১ লাখ মানুষ

বন্ধই থাকছে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে ফেরি চলাচল

বন্ধই থাকছে শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নৌপথে ফেরি চলাচল

সিরাজগঞ্জে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পথে ৬ চেয়ারম্যান

সিরাজগঞ্জে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জয়ের পথে ৬ চেয়ারম্যান

মোবাইল গেমিংয়ের বাজারে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ

মোবাইল গেমিংয়ের বাজারে প্রবেশ করছে বাংলাদেশ

© 2021 Bangla Tribune