X
শনিবার, ২৩ অক্টোবর ২০২১, ৭ কার্তিক ১৪২৮

সেকশনস

তালেবানকে সমর্থন দিয়ে আফগানিস্তানে দূতাবাস খোলার আহ্বান জাফরুল্লাহর

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০২১, ১৯:১১

আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে দ্রুত সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি তালেবানকে দ্রুত সমর্থন দেওয়া দরকার। যারা আগে সেখানে যেতে পারবে তাদের বেশি লাভ। তালেবানের সমস্ত কিছু আমরা মেনে নেবো - তা নয়। তালেবান একদিন দেখবে মেয়েরা স্কুলে গেলে কি হয় ‑ মেয়ে সন্তানদের একদিন তারাই বিদেশে রাষ্ট্রদূত বানাতে উৎসাহিত হবে। তাই আমি সরকারকে বলবো এখনই তালেবানকে সমর্থন দিয়ে সেখানে দূতাবাস খোলার ব্যবস্থা নিন।’

সোমবার (১১ অক্টোবর) সাভারে গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ‘রাজনীতি ও প্রশাসন বিভাগ’ আয়োজিত ‘ইঙ্গ-মার্কিন প্রচারণা এবং আফগানিস্তান প্রশ্নে তালেবান’ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

তালেবান প্রসঙ্গে জাফরুল্লাহ চৌধুরী আরও বলেন, আফগানিস্তানে তালেবান বিজয় লাভের পরই আমি বলেছি তারা মুক্তিযোদ্ধা। ২০ বছর স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করে তারা যদি মুক্তিযোদ্ধা না হয় তাহলে এক বছর যুদ্ধ করে আমরা কীসের মুক্তিযোদ্ধা।

তিনি বলেন, আফগানিস্তানের সম্পদ আছে। তাদের কৃষির মূল সম্পদ আফিমে। আফিমের সব ফ্যাইন্যান্স আমেরিকা ও ভারতের। আফিমের বিপক্ষে তারাই প্রচারণা চালায় আবার চুপেচুপে তারাই ফাইন্যান্স করে। আমি মনে করি ‑ আমাদের উচিত তালেবানকে মেনে নিয়ে তাদের সমর্থন দেওয়া। কারণ আমাদের স্বার্থ আছে। আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই বাংলাদেশের ভালো স্বার্থ আছে। তাদের যেই পশ্চাৎপদ মতামত – যোগাযোগ হলে আমরা তাদের উদ্বুদ্ধ করতে পারব। ওঠা-বসা, আলাপ-আলোচনা না করলে হবে না।

তিনি আরও বলেন, আমরা যদি আজ তালেবানকে বয়কট করি তবে প্রশ্ন জাগে আমরা কেনও পশ্চিমার কথায় পরিচালিত হবো? আমরা নিজের চিন্তাধারায় পরিচালিত হবো। আমি বলবো – যোগাযোগ হলে আফগানিস্তানে এই মুহূর্তে এক লাখ বাংলাদেশির কর্মসংস্থান হবে। তবে তালেবান বিজয়ের ফলে একটু সমস্যাও আছে। বড় সমস্যাটা হল ভারতে বিভক্তি হবে।

অধ্যাপক ডা. লায়লা পারভীন বানু’র সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাহমান চৌধুরী। আলোচনায় আরও অংশ নেন গণবিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী, সাবেক রাষ্ট্রদূত এম সিরাজুল ইসলাম, সাবেক  নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন ও ড. তাসাদ্দেক আহমেদ।

/এসটিএস/এমএস/

সম্পর্কিত

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগের পরামর্শ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগের পরামর্শ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর

শেখ হাসিনার নোবেল না পাওয়ার পেছনে দায়ী ভারত ও আমলারা: জাফরুল্লাহ

শেখ হাসিনার নোবেল না পাওয়ার পেছনে দায়ী ভারত ও আমলারা: জাফরুল্লাহ

এসব রাজনৈতিক কর্মীদের চাকরবাকরের গুণাবলিও নেই: জাফরুল্লাহ চৌধুরী

এসব রাজনৈতিক কর্মীদের চাকরবাকরের গুণাবলিও নেই: জাফরুল্লাহ চৌধুরী

শিবিরের শাখা সেক্রেটারি থেকে কল্যাণ পার্টির মহাসচিব

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২১, ২২:২৬

বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির নতুন মহাসচিব নিযুক্ত হয়েছেন ইংল্যান্ড প্রবাসী সাবেক শিবির নেতা আবদুল আউয়াল মামুন। চলতি বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর তাকে এই পদে মনোনীত করেন দলটির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম। তবে এখন দলে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে আছেন নুরুল কবির ভূঁইয়া পিন্টু।

কল্যাণ পার্টির একাধিক দায়িত্বশীল নেতার কাছে জানা গেছে, গত ১০ ও ২৭ সেপ্টেম্বর ঢাকা ও চট্টগ্রামে নতুনভাবে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী যোগ দিয়েছেন দলে। তাদের মধ্যে প্রায় অধিকাংশ সদস্য জামায়াত ও শিবির থেকে আসা। মাঝে তারা কিছুদিনের জন্য ঘুরে এসেছে এবি পার্টি (আমার বাংলাদেশ পার্টি)।

সূত্র জানায়, নতুন মহাসচিব আবদুল আউয়াল মামুন গত মাসের শুরুর দিকে যুক্তরাজ্য থেকে ভার্চুয়ালি কল্যাণ পার্টিতে যোগ দেন। এরপর তাকে স্থায়ী কমিটির সদস্য করেন চেয়ারম্যান।

এ প্রসঙ্গে কল্যাণ পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নুরুল কবির ভূঁইয়া পিন্টু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমাদের মহাসচিব বিদেশে আছেন। দলে যোগদানের প্রায় দেড় বছর আগে থেকেই চেয়ারম্যান সাহেবের সঙ্গে তার যোগাযোগ আছে। তার অনুপস্থিতিতে আমি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে কাজ করছি। দেশে এলে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। তবে এখন ভার্চুয়ালি তিনি দলের কার্যক্রমে যুক্ত হন।’

কল্যাণ পার্টির নতুন মহাসচিব আবদুল আউয়াল মামুন ইংল্যান্ডে সপরিবারে বসবাস করছেন। ২০০৬ সালে তিনি দেশটিতে যান। আবদুল আউয়াল মামুন কল্যাণ পার্টিতে যোগ দেওয়ার আগে ‘জামায়াত-শিবির’ ছেড়ে আসা নেতাকর্মীদের সমন্বয়ে গঠিত আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সংগঠনে সহকারী সদস্য সচিব ও সেন্ট্রাল ওয়ার্কিং কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করেছেন। ২০০৩ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল হন।

বাংলা ট্রিবিউনের সঙ্গে আলাপকালে কল্যাণ পার্টির মহাসচিব আবদুল আউয়াল মামুন বলেন, “স্থানিক দূরত্ব এখন খুব একটা বেশি ম্যাটার করে না। ভার্চুয়ালি দলের মিটিং, সভায় যোগ দেওয়া যাচ্ছে সহজেই। সারাবিশ্ব এখন ‘গ্লোবাল ভিলেজ’-এ রূপান্তরিত।”

দলীয় কার্যক্রমের বিষয়ে আবদুল আউয়াল মামুনের ভাষ্য, দেশের বাইরে কাজের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দল ও দেশকে কূটনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ করতে চান। এক্ষেত্রে ইংল্যান্ডে থেকে এ বিষয়টি তিনি ফিজিক্যালি তত্ত্বাবধান করতে পারছেন। মামুন জানান, আগামী নভেম্বরে তিনি দেশে ফিরবেন।

নিজের রাজনৈতিক জীবন সম্পর্কে আবদুল আউয়াল মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে জানান, তিনি চট্টগ্রাম কলেজ জীবনে ছাত্রলীগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সাংস্কৃতিকভাবে খেলাঘর আসরের সঙ্গে কাজ করেছেন। এরপর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে শিবিরে যোগ দেন তিনি। পরবর্তী সময়ে ২০০৩ সালে তিনি সংগঠনের শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

তবে আবদুল আউয়াল মামুন দাবি করেন—মুক্তিযুদ্ধ,বঙ্গবন্ধু ও স্বাধীনতার প্রতি অনুরক্ত হওয়ার কারণে তিনি কখনও জামায়াতের সঙ্গে যুক্ত হননি।

কল্যাণ পার্টির রাজনৈতিক ভিশন সম্পর্কে মামুন বলেন, ‘আমাদের এখন মেইন পারপাস ফরোয়ার্ড থিংকিং ও সলিউশন ফোকাস।’

নতুন মহাসচিব নিয়োগ প্রসঙ্গে দলের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিমের ভাষ্য, আবদুল আউয়াল মামুন গত ১৭ বছর ধরে কোনও ধরনের রাজনীতিতে যুক্ত ছিলেন না। তিনি ছাত্র রাজনীতি করেছেন। এরপর কোনও রাজনীতি করেননি।

দেশে এখন রাজনৈতিক সংকট রয়েছে উল্লেখ করে সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বলেন,‘দেশে রাজনৈতিক সংকটের পাশাপাশি নেতৃত্বের সংকট রয়েছে। যে কারণে আমরা চাই দেশের বিবেকবান মানুষ, তরুণ যুবারা রাজনীতিতে আসুক।’

কল্যাণ পার্টির সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে কাজ করেছে, এমন একাধিক দলের নেতারা দাবি করেছেন, কল্যাণ পার্টির সঙ্গে জামায়াতের বোঝাপড়া ভালো। সেক্ষেত্রে,আগামী নির্বাচনে বিএনপির ধানের শীষ না পেলে কল্যাণ পার্টির প্রতীককে কাজে লাগাতে পারে জামায়াত।

জামায়াতে ইসলামীর পল্টন থানা শাখার সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বর্তমানে কল্যাণ পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান আলী হোসেন ফরাজী (দাঁড়িয়ে)

আরেকটি সূত্রের দাবি,জামায়াতের সঙ্গে কল্যাণ পার্টির রাজনৈতিক সমঝোতা হয়েছে। নানান সুবিধা আদান-প্রদান ও বিএনপি-জোট থেকে শেষমেষ বাদ পড়লে দলটির মার্কা নিয়ে নির্বাচনী বৈতরণী পার হওয়ার বিষয়টিও সমঝোতায় রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল অব. সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘কল্যাণ পার্টিকে অবমূল্যায়ন করার জন্য এ ধরনের প্রচারণা করা হচ্ছে। আমরা ২০ দলীয় জোটে ছিলাম, জোটের শরিক হিসেবে সবার সঙ্গে যেটুকু সম্পর্ক, সেটুকুই রয়েছ। পার্টিকে অবমূল্যায়ন করতে, বদনাম করতে এই আলোচনা করা হচ্ছে।’

এ প্রসঙ্গে নতুন মহাসচিব আবদুল আউয়াল মামুন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার সঙ্গে জামায়াতের পারসোনাল কোনও সম্পর্ক নেই। আমাদের দেশে বাস্তবতার চেয়ে কল্পনাই বেশি হয়। চট্টগ্রামের লোহাগাড়া-সাতকানিয়া আসনের সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী, তিনি আগে জামায়াত করতেন; এরকম আরও তো প্রমাণ হয়তো দেওয়া যাবে। এখন যদি বলা হয়— আওয়ামী লীগ দখল করার পরিকল্পনা করছে জামায়াত; এসব হাইপোথেটিক্যাল কথা।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কল্যাণ পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তত ১১ জন নেতা রয়েছেন, যাদের সবাই জামায়াত ও শিবিরের বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলেন। এরমধ্যে দলটির যুগ্ম মহাসচিব নুরুল আফসার ফেনী জেলা ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি, ভাইস চেয়ারম্যান জাকিউল হক জাকি জামায়াতের ঢাকা মহানগরের সাহিত্য বিভাগে এবং ভাইস চেয়ারম্যান আলী হোসেন ফরাজী পল্টন থানা জামায়াতের ভারপ্রাপ্ত আমির হিসেবে কাজ করেছেন।

কল্যাণ পার্টির যুগ্ম মহাসচিব (সমন্বয়কারী) আবদুল্লাহ আল হাসান সাকীব (কালো কোট পরা)

সম্প্রতি যোগ দেওয়ার মধ্যে পার্টির বর্তমান যুগ্ম-মহাসচিব (সমন্বয়কারী) আবদুল্লাহ আল হাসান সাকীব শিবিরের চট্টগ্রাম মহানগর উত্তরের ছাত্র কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। চট্টগ্রামে ‘হামজা ব্রিডেগ’ নামে একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন সাকীব। দলের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও ঢাকা মহানগর উত্তর মহানগর সভাপতি নাজমুল হুদা অপু সিলেট এমসি কলেজ শিবিরের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।এছাড়া কেন্দ্রীয় কমিটির আরও বেশ কয়েকজন নেতা রয়েছেন, যারা প্রত্যেকে বিভিন্নসময় জামায়াত ও শিবিরের দায়িত্ব পালন করেছেন।

কারও ক্ষেত্রে সূত্রের দাবি, জামায়াত-শিবির করে এসে কল্যাণ পার্টিতে যোগ দিলেও বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সংগঠন জামায়াতেও ‘রুকন’ হিসেবে রয়েছেন বেশ কয়েকজন। এমনকি জামায়াতে নিয়মিত চাঁদা পরিশোধ করছেন কয়েকজন। পুরো প্রক্রিয়া জামায়াতের একজন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মনিটর করছেন, এমন দাবিও করেছেন কল্যাণ পার্টির প্রভাবশালী একজন সাবেক নেতা।

কল্যাণ পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব নুরুল কবির ভুঁইয়া পিন্টু বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জামায়াতের সঙ্গে কল্যাণ পার্টির কোনও রাজনৈতিক সমঝোতা হয়নি। কল্যাণ পার্টি একটি রাজনৈতিক দল, এই দলে বাংলাদেশের নাগরিকরা যোগ দিতে পারেন। কারা আগে কী দল করেছেন তা তো বিবেচ্য না। আর আমি এটা জানিও না।’

/জেএইচ/

সম্পর্কিত

‘আমাদের ঘরে আগুন লেগেছে, কেউই নিরাপদ নই’

‘আমাদের ঘরে আগুন লেগেছে, কেউই নিরাপদ নই’

হিন্দুদের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও মন্দির পুনর্নির্মাণের দাবি চরমোনাই পীরের

হিন্দুদের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও মন্দির পুনর্নির্মাণের দাবি চরমোনাই পীরের

'সাম্প্রদায়িক হামলা'র প্রতিবাদে গণফোরামের মানববন্ধন

'সাম্প্রদায়িক হামলা'র প্রতিবাদে গণফোরামের মানববন্ধন

সরকার ধরা পড়ে গেছে: খন্দকার মোশাররফ

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২১, ২২:০৬

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, মানুষ যখন আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে তখন তাদের দৃষ্টিকে ভিন্ন খাতে নেওয়ার জন্য পূজা মণ্ডপে কোরআন রেখে নাটকের সৃষ্টি করেছিল। সব অপকৌশল কিন্তু সফলতা লাভ করে না। এই অপকৌশলে সরকার ধরা পড়ে গেছে।

শনিবার (২৩ অক্টোবর) দুপুরে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) নসরুল হামিদ মিলনায়তনে খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় জাতীয়তাবাদী নবীন দল আয়োজিত আলোচনাসভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ষড়যন্ত্র কেন করা হচ্ছে, কারণ আজকে মানুষ জানে এই সরকারের হাতে দেশ, জনগণ নিরাপদ নয়। জনগণের ভোটের অধিকার নেই, দেশে দ্রব্যমূল্য তারা নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে না। সেজন্য মানুষ যখন প্রস্তুতি নিচ্ছে এই সরকারের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করার জন্য, যখন দেশের জনপ্রিয় দল পরপর ৮ দিন সভা করে প্রস্তুতি নিচ্ছে, তখনই এই সরকারের মাথা খারাপ হয়ে গেছে। দেশের মানুষকে বিভ্রান্ত করে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ ৯০ ভাগ মুসলমানের দেশ। কিন্তু অত্যন্ত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির দেশ। আমার বিশ্বাস হয় না, এদেশে যারা পূজামণ্ডপ সাজিয়েছে তারা সেখানে কোরআন শরীফ রাখবে। আবার কোন ধর্মপ্রাণ মুসলমান মন্দিরে কোরআন রেখে আসবে- এটাও বিশ্বাস হয় না। তাহলে কার দোষ? আসলে এটা হলো ষড়যন্ত্র।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদিন ফারুক, যুগ্ম মহাসচিব মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয়তাবাদী নবীন দলের সভাপতি হুমায়ূন আহমেদ তালুকদার প্রমুখ।

/এসও/এমএস/

সম্পর্কিত

শিবিরের শাখা সেক্রেটারি থেকে কল্যাণ পার্টির মহাসচিব

শিবিরের শাখা সেক্রেটারি থেকে কল্যাণ পার্টির মহাসচিব

‘আমাদের ঘরে আগুন লেগেছে, কেউই নিরাপদ নই’

‘আমাদের ঘরে আগুন লেগেছে, কেউই নিরাপদ নই’

অভ্যন্তরীণ সমস্যা ভুলে একসঙ্গে সংগ্রামের অনুরোধ মির্জা ফখরুলের

অভ্যন্তরীণ সমস্যা ভুলে একসঙ্গে সংগ্রামের অনুরোধ মির্জা ফখরুলের

হিন্দুদের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও মন্দির পুনর্নির্মাণের দাবি চরমোনাই পীরের

হিন্দুদের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও মন্দির পুনর্নির্মাণের দাবি চরমোনাই পীরের

‘আমাদের ঘরে আগুন লেগেছে, কেউই নিরাপদ নই’

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১৬:২৬

বেসরকারি সংস্থা সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক অধ্যাপক বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, ‘আমাদের ঘরে আগুন লেগেছে, আমরা কেউই নিরাপদ নই। এটা আমাদের জন্য জেগে উঠার ঘণ্টাধ্বনি। দীর্ঘদিন ধরে বিচারহীনতার সংস্কৃতি, দোষারোপের সংস্কৃতির কারণে অপরাধীরা ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে।’

শনিবার (২৩ অক্টোবর) সুজনে’র উদ্যোগে আয়োজিত রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউতে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এক মানববন্ধন কর্মসূচিতে বদিউল আলম এসব কথা বলেন।

দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ‘সাম্প্রদায়িক হামলা’র প্রতিবাদ, সহিংসতা বন্ধ ও দোষীদের বিচারের দাবিতে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে দি হাঙ্গার প্রজেক্ট, ইয়ুথ এন্ডিং হাঙ্গার, জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরাম, বিকশিত নারী নেটওয়ার্ক, গণস্বাক্ষরতা অভিযান, মানবাধিকার উন্নয়ন কেন্দ্র, এবং রিসার্চ অ্যান্ড এমপাওয়ারমেন্ট অরগানাইজেশন এই মানববন্ধনে যোগ দেয়।

অধ্যাপক মজুমদার বলেন, ‘চট্টগ্রামের মিতু হত্যার পর আমরা দেখলাম ‑ পুলিশ হাজার হাজার মানুষকে গ্রেফতার করেছে, অথচ পরে দেখা গেল সর্ষের মধ্যেই ভূত। এরমধ্যে কত মানুষের জীবন-জীবিকা নষ্ট করে দেওয়া হলো।

সাম্প্রতিক হামলাগুলোর ক্ষেত্রে আমরা দেখতে পাচ্ছি ‑ আমাদের তরুণরা অনেক ক্ষেত্রে সামনের কাতারে ছিল, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আশঙ্কাজনক একটি বিষয়। তরুণদের জন্য আমাদের এখনই একটি জাতীয় কর্মসূচি নিতে হবে।’

কর্মসূচিতে মানবাধিকারকর্মী ড. হামিদা হোসেন বলেন, ‘প্রশাসন ও পুলিশ ঠিকমত কাজ করছে না। এখন নাগরিকদের বিভিন্ন সক্রিয় কর্মসূচি নিতে হবে। বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনকে একজোট হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন, তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ ইত্যাদি কাজ করতে হবে।’

দ্য মান্থলি ইন্ডিপেন্ডেন্টসে’র সম্পাদক অধ্যাপক চন্দন সরকার বলেন, ‘হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা ও নির্যাতন করা হচ্ছে। সব জায়গায় একই ধরনের ঘটনা ঘটছে। এখনই এর বিচার হওয়া দরকার।’

জাতীয় কন্যাশিশু এডভোকেসি ফোরামের সম্পাদক নাছিমা আক্তার জলি বলেন, ‘২০০১ সাল থেকেই এ ধরনের ঘটনা ঘটে চলেছে, ঘটনার পর তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় কিন্তু সেই কমিটির কোনও প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখে না, অপরাধীরা ধরা পড়ে না। আমার এখানে দাঁড়িয়েছি যেন একটা সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ আমরা গড়তে পারি যাতে আমাদের আর এভাবে রাস্তায় নামতে না হয়।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন‑ বিকশিত নারী নেটওয়ার্কে’র সভাপতি রাশেদা আক্তার শেলী, গণস্বাক্ষরতা অভিযানে’র প্রোগ্রাম ম্যানেজার ড. মোস্তাফিজুর রহমান শাহীন প্রমুখ।

/এসটিএস/এমএস/

সম্পর্কিত

শিবিরের শাখা সেক্রেটারি থেকে কল্যাণ পার্টির মহাসচিব

শিবিরের শাখা সেক্রেটারি থেকে কল্যাণ পার্টির মহাসচিব

হিন্দুদের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও মন্দির পুনর্নির্মাণের দাবি চরমোনাই পীরের

হিন্দুদের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও মন্দির পুনর্নির্মাণের দাবি চরমোনাই পীরের

'সাম্প্রদায়িক হামলা'র প্রতিবাদে গণফোরামের মানববন্ধন

'সাম্প্রদায়িক হামলা'র প্রতিবাদে গণফোরামের মানববন্ধন

ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটে সরকারের লোকজন আছে: মান্না

ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটে সরকারের লোকজন আছে: মান্না

অভ্যন্তরীণ সমস্যা ভুলে একসঙ্গে সংগ্রামের অনুরোধ মির্জা ফখরুলের

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১৬:০৪

সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজেদের অভ্যন্তরীণ সমস্যা ভুলে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, ‘যে সমস্ত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এখানে উপস্থিত আছেন, সবাইকে অনুরোধ করবো- এই মুহূর্তে আমরা আমাদের ছোট-খাটো সমস্যা ভুলে যাই। আসুন আমরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের যে স্বপ্ন ছিল তা আবারও ফিরিয়ে আনার জন্য একটা লড়াই-সংগ্রাম করি।’

শনিবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে অলি আহমদ স্মৃতি সংসদ আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব এসব কথা বলেন।

আলোচনা সভায় বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকিসহ উপস্থিত রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে উদ্দেশ্যে করে এসব আহ্বান জানান ফখরুল।

সব রাজনৈতিক দলকে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা লড়ছি। আমরা তাদের কাছে এইটুকু আশা করবো, আপনারা বলেছেন গণতন্ত্রের জন্য যে লড়াই, সেই লড়াইয়ে আছেন। আমরা সবাই একসঙ্গে এ লড়াইয়ে আসি, তারপর যার যেটা পাওনা সেটা বুঝে নিবেন।’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এই দেশকে এখন আওয়ামী লীগ সরকার সর্বনাশ করে ফেলেছে। এরা বিভাজন এমন একটা জায়গায় নিয়ে চলে গেছে যেখানে হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান মুসলমান সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা হয়ে যায়। এই বিভাজন এত বেশি বৃদ্ধি পাচ্ছে যে এখন মানুষকে একেবারে আইসোলেট করে ফেলেছে আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগ এখন একটা গালিতে পরিণত হয়েছে।’

‘সবচেয়ে ভয়ঙ্কর এবং ভয়াবহ অবস্থা বর্তমানে বাংলাদেশে’ উল্লেখ করে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘নির্মম একটা রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিরাজমান। এখানে মানুষকে হত্যা করতে কোনও সময় লাগে না। মানুষকে নির্যাতন করতে কোনও সময় লাগে না। এখান থেকে আমাদেরকে বেরিয়ে আসতে হবে। সেই চেষ্টা আমরা করছি।’

‘গত ১৪ বছর ধরে আমরা এই ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে লড়াই করছি’ জানিয়ে ফখরুল বলেন, ‘আমাদের ৩৫ লাখ মানুষের ওপর মিথ্যা মামলা হয়েছে, গায়েবি মামলা হয়েছে, রাষ্ট্রদ্রোহের মামলা হয়েছে। আমাদের ৫০০ এর উপর নেতাকর্মীকে গুম করে ফেলা হয়েছে, সহস্রাধিক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে। তারপরও কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা হাল ছেড়ে দেইনি, আমরা লড়ছি। আমরা সংগ্রাম করছি এবং যে পথে চলতে চাই, সে পথেই চলছি।’

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না, বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক, গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি প্রমুখ।

/এসও/এমএস/

সম্পর্কিত

নিত্যপণ্যের দাম কমাতে ব্যর্থ সরকার: মির্জা ফখরুল 

নিত্যপণ্যের দাম কমাতে ব্যর্থ সরকার: মির্জা ফখরুল 

জনগণকে প্রতিমুহূর্তে বিভ্রান্ত-বিভাজনের চেষ্টা করছে সরকার: ফখরুল 

জনগণকে প্রতিমুহূর্তে বিভ্রান্ত-বিভাজনের চেষ্টা করছে সরকার: ফখরুল 

সব অপকর্মের জবাবদিহি করতে হবে সরকারকে: মির্জা ফখরুল

সব অপকর্মের জবাবদিহি করতে হবে সরকারকে: মির্জা ফখরুল

পূজামণ্ডপে হামলা সরকারি মদতে: মির্জা ফখরুল

পূজামণ্ডপে হামলা সরকারি মদতে: মির্জা ফখরুল

হিন্দুদের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও মন্দির পুনর্নির্মাণের দাবি চরমোনাই পীরের

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০২১, ১৫:৩০

হিন্দুদের ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ও  মন্দির সরকারিভাবে পুনর্নির্মাণ করার দাবি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলনের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম। কুমিল্লার ঘটনা ও পরবর্তী ঘটনা তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিটি গঠনের দাবিও জানিয়েছেন তিনি। তবে এসব ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর  ব্যর্থতা রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

শনিবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দেশের চলমান সংকট নিরসনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব দাবি জানান। এ সময় দলের মহাসচিব মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী উপস্থিত ছিলেন।

সাম্প্রতিক ঘটনার কয়েকটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ   উল্লেখ করে মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা বাংলাদেশের সাধারণ চরিত্র না। ঘটনার সূত্রপাত থেকে পরবর্তী প্রত্যেকটি ঘটনায় প্রশাসনের ব্যর্থতার ছাপ অতি স্পষ্ট। ৫০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একটি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছ থেকে এ ধরনের ব্যর্থতা কল্পনাতীত।’

তিনি বলেন, ‘আমরা মনে করি, জন প্রশাসনে অতিমাত্রায় রাজনীতি প্রবেশের কারণে সামগ্রিকভাবে দেশের প্রশাসন ব্যবস্থায় এক ধরনের অদক্ষতা তৈরি হয়েছে। যার খেসারত এসব ঘটনা।’

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমালোচনা করে চরমোনাই পীর আরও বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনার পর জনরোষ তৈরি হওয়া খুবই স্বাভাবিক। সেই রোষে মানুষ বিক্ষোভ করবে তাও স্বাভাবিক। বেসামরিক বাহিনীগুলোকে এই ধরনের গণবিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণে প্রশিক্ষিত করার কথা। কিন্তু আমরা বিস্ময়ের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, ৫০ বছরের স্বাধীন একটি দেশের বেসামরিক বাহিনী গণবিক্ষোভ দমনে গুলি করার মতো চরম সিদ্ধান্ত সহজেই নিয়ে নিচ্ছে। যার প্রতিফলন নিকট অতিতে ভোলায়, হাটহাজারীতে ও বি-বাড়িয়ায় দেখা গেছে। চাঁদপুরেও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী একই রকমভাবে বিক্ষোভ দমন করতে গিয়ে অন্তত পাঁচ জনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে।’

মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত মন্দির ও সংখ্যালঘুদের ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি সরকারিভাবে পুনর্নির্মাণ করে দিতে হবে এবং চাঁদপুরে পুলিশের গুলিতে যারা নিহত হয়েছেন, তাদের পরিবারসহ ক্ষতিগ্রস্ত সকল ব্যক্তি ও পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘কুমিল্লায় কোরআন অবমাননা, বিভিন্ন স্থানে মন্দির ও মূর্তি ভাঙা, রংপুরে আগুন দেওয়া এবং চাঁদপুরে বিক্ষোভে গুলি করে হত্যা করার বিষয়টি তদন্ত করতে হবে এবং সেই কমিটির তদন্ত রিপোর্ট নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জনসন্মুখে প্রকাশ করে অপরাধীদের কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে। ধর্ম অবমাননার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট আইন করতে হবে। সেই আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে। তাহলে কোনও ধরনের ধর্ম অবমাননার ঘটনা ঘটলে জনতা আর সহিংস হয়ে উঠবে না।’

মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করীম আরও বলেন, ‘কুমিল্লার ঘটনা নিয়ে প্রতিবেশী দেশের একশ্রেণির মিডিয়া, সরকারি দলের রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সুশীল সমাজ যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে, তা আধুনিক জাতিরাষ্ট্রের সব ধরনের নীতি-নৈতিকতা ছাড়িয়ে গেছে। তাদের এই ধরনের আগবাড়ানো প্রতিক্রিয়ালশীলতায় এই ঘটনার অন্তরালে আন্তর্জাতিক রাজনীতির নোংরা কৌশলের আভাস পাওয়া যায়।’

আগামী ২৭ অক্টোবর দেশের চলমান সংকট ও তা থেকে উত্তরণের লক্ষ্যে দেশের সর্ব-মহলের শীর্ষস্থানীয় পীর-মাশায়েখ, বুদ্ধিজীবী, রাজনীতিবিদ, পেশাজীবী ও সমাজকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হবে বলেও জানান চরমোনাই পীর।

/সিএ/এপিএইচ/

সম্পর্কিত

শিবিরের শাখা সেক্রেটারি থেকে কল্যাণ পার্টির মহাসচিব

শিবিরের শাখা সেক্রেটারি থেকে কল্যাণ পার্টির মহাসচিব

‘আমাদের ঘরে আগুন লেগেছে, কেউই নিরাপদ নই’

‘আমাদের ঘরে আগুন লেগেছে, কেউই নিরাপদ নই’

'সাম্প্রদায়িক হামলা'র প্রতিবাদে গণফোরামের মানববন্ধন

'সাম্প্রদায়িক হামলা'র প্রতিবাদে গণফোরামের মানববন্ধন

সর্বশেষসর্বাধিক
quiz

লাইভ

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগের পরামর্শ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে পদত্যাগের পরামর্শ ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর

শেখ হাসিনার নোবেল না পাওয়ার পেছনে দায়ী ভারত ও আমলারা: জাফরুল্লাহ

শেখ হাসিনার নোবেল না পাওয়ার পেছনে দায়ী ভারত ও আমলারা: জাফরুল্লাহ

এসব রাজনৈতিক কর্মীদের চাকরবাকরের গুণাবলিও নেই: জাফরুল্লাহ চৌধুরী

এসব রাজনৈতিক কর্মীদের চাকরবাকরের গুণাবলিও নেই: জাফরুল্লাহ চৌধুরী

পরীমণি সুন্দরী, তার জামিন পাওয়ার অধিকার আছে: জাফরুল্লাহ

পরীমণি সুন্দরী, তার জামিন পাওয়ার অধিকার আছে: জাফরুল্লাহ

রূপগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডের দায় আমলাদের: জাফরুল্লাহ চৌধুরী

রূপগঞ্জে অগ্নিকাণ্ডের দায় আমলাদের: জাফরুল্লাহ চৌধুরী

‘অগ্নিকাণ্ডে তদন্ত কমিটি ছাড়া সরকার জোরালো ভূমিকা রাখছে না’

‘অগ্নিকাণ্ডে তদন্ত কমিটি ছাড়া সরকার জোরালো ভূমিকা রাখছে না’

বিএনপি নেতাদের সামনেই জাফরুল্লাহকে শাসালেন ছাত্রদল নেতা

বিএনপি নেতাদের সামনেই জাফরুল্লাহকে শাসালেন ছাত্রদল নেতা

দেশের ১২ কোটি লোকের জন্মতারিখ ঠিক নেই : জাফরুল্লাহ

দেশের ১২ কোটি লোকের জন্মতারিখ ঠিক নেই : জাফরুল্লাহ

‘সালামের মতো ১০০ জন জীবন দিলেই সরকারের পতন হবে’

কর্মীদের জন্য তহবিল গঠনের প্রস্তাব‘সালামের মতো ১০০ জন জীবন দিলেই সরকারের পতন হবে’

সর্বশেষ

ক্যাম্পের দুষ্কৃতকারীরা রোহিঙ্গাদেরই অংশ

ক্যাম্পের দুষ্কৃতকারীরা রোহিঙ্গাদেরই অংশ

সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে মোদিকে চিঠি

সামরিক প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করতে মোদিকে চিঠি

ভোটের পর রাজ্যের মর্যাদা ফিরে পাবে কাশ্মির: অমিত শাহ

ভোটের পর রাজ্যের মর্যাদা ফিরে পাবে কাশ্মির: অমিত শাহ

ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বাংলাদেশ বিশ্বে নাম্বার ওয়ান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

ধর্মীয় সম্প্রীতিতে বাংলাদেশ বিশ্বে নাম্বার ওয়ান: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনা সাজানো: ইনু

পূজামণ্ডপে কোরআন রাখার ঘটনা সাজানো: ইনু

© 2021 Bangla Tribune