সেলিমের মৃত্যুর বিচার দাবিতে কুয়েট শিক্ষকদের ক্লাস বর্জন

খুলনা প্রতিনিধি
০২ ডিসেম্বর ২০২১, ১৪:১১আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২১, ২০:৩৫

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক সেলিমের মৃত্যুর ঘটনার প্রতিবাদে দোষীদের চিহ্নিত করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কারসহ চার দফা দাবিতে অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম বর্জন করেছে শিক্ষক সমিতি। বৃহস্পতিবার দুপুরে প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানান শিক্ষকরা।

সকালে সাড়ে ১০টায় শিক্ষক সমিতির আহ্বানে শিক্ষকরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে সমবেত হন এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন। এরপর বেলা সোয়া ১১টায় শিক্ষকরা প্রতিবাদ র‌্যালি বের করেন। শেষে বেলা সাড়ে ১১টায় কুয়েট ক্যাম্পাসের দুর্বার বাংলা চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করা হয়।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষক সমিতির সভাপতি প্রতীক চন্দ্র বিশ্বাস। বক্তৃতা করেন– ইলেকট্রিক্যাল ও ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. মো. সাইফুর রহমান খান, অধ্যাপক ড. শিবেন্দ্র শেখর শিকদার, অধ্যাপক ড. মোস্তফা সরোয়ার, পল্লব কুমার চৌধুরী, অধ্যাপক ড. রাফিজুল ইসলাম, কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক ড. পিন্টু চন্দ্র শীল, অধ্যাপক ড. সোবহন মিয়া, অধ্যাপক ড. সজল কুমার অধিকারী, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর প্রমুখ।

সমাবেশে ইলেকট্রিক্যাল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমগীর বলেন, ‘আমরা শিক্ষকরা ক্যাম্পাসে সুষ্ঠু স্বাভাবিক পরিবেশ চাই। যাতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা নিরাপদে ক্যাম্পাসে অবস্থান করাসহ নির্বিঘ্ন পদচারণা করতে পারেন।’

সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. সজল কুমার অধিকারী বলেন, ‘সেলিম একজন সম্ভাবনাময় শিক্ষক ছিলেন। তার মৃত্যু একটি সম্ভাবনার মৃত্যু। এ ধরনের মানসিক নির্যাতনের মূলোৎপাটন করতে হবে। যাতে ভবিষ্যতে ক্যাম্পাস সবার জন্য নিরাপদ হয়। মানসিক নির্যাতনে সেলিমের মৃত্যুর বিচার না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষকরা ক্লাসে যাবে না।’

অধ্যাপক ড. মোস্তফা সরোয়ার বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের ঘটনার সঙ্গে সঙ্গেই বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত ছিল। এ ঘটনায় দ্রুত দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হবে, শিক্ষকদের এমনটা প্রত্যাশা ছিল। কিন্তু ঘটনার তিন দিন হলেও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখনও দৃশ্যমান কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। অবিলম্বে জড়িতদের বহিষ্কার করতে হবে।’

অধ্যাপক ড. শিবেন্দ্র শেখর শিকদার বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মানুষ গড়ার প্রতিষ্ঠান। সেখানে যদি অমানুষ তৈরি হয় তা কাম্য নয়। মানসিক নির্যাতনে মৃত্যুবরণ করা সেলিম আসলে হত্যার শিকার। সুতরাং সেলিমকে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আগে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করতে হবে। হত্যাকারীর সঙ্গে ক্যাম্পাসে সহাবস্থান করতে চান না শিক্ষকরা।’

সমাবেশ থেকে কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবি জানানো হয়।

উল্লেখ্য, অধ্যাপক ড. সেলিম হোসেন (৩৮) গত ৩০ নভেম্বর বেলা ৩টায় মারা যান। অভিযোগ উঠেছে, কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান সেজান লোকজন নিয়ে ওই দিন অধ্যাপক সেলিমের দাফতরিক কক্ষে প্রবেশ করে অশালীন আচরণ ও মানসিক নির্যাতন করেন।

আরও খবর: মানসিক নির্যাতনে কুয়েট শিক্ষকের মৃত্যুর অভিযোগ

 
/এমএএ/
সম্পর্কিত
ইকরার মৃত্যু: জামিন পেলেন অভিনেতা জাহের আলভীর মা
কুমিরের আক্রমণে সন্তানের মৃত্যুর পর ফজিলাকে খুঁজে পেলো পরিবার
সেই কুমির ফেরত চান মাজারের খাদেম যুবদল নেতা
সর্বশেষ খবর
বিচার বিভাগের বাজেট পৃথকীকরণসহ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্গঠনের দাবি
বিচার বিভাগের বাজেট পৃথকীকরণসহ সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় পুনর্গঠনের দাবি
কালোটাকা ও সম্পদ-কর থেকে সরে আসছে সরকার
প্রবাসীদের জন্য সুখবরকালোটাকা ও সম্পদ-কর থেকে সরে আসছে সরকার
প্রবাসীসহ সব বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা দেবে সরকার
প্রবাসীসহ সব বাংলাদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রণোদনা দেবে সরকার
সব দলকে রাজনীতি করতে দিতে চায় বিএনপি, এর মধ্যে আ.লীগ কি আছে?
সব দলকে রাজনীতি করতে দিতে চায় বিএনপি, এর মধ্যে আ.লীগ কি আছে?
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী