বাজেটের আকার কমলেও এনবিআরের টার্গেট বাড়ছে ৩৮ হাজার কোটি টাকা

বাংলা ট্রিবিউন রিপোর্ট  
১৫ এপ্রিল ২০২৫, ২৩:২৩আপডেট : ১৫ এপ্রিল ২০২৫, ২৩:২৩

স্বাধীনতার পর এই প্রথমবারের মতো পরবর্তী অর্থবছরের বাজেটের আকার আগের বছরের তুলনায় ছোট হতে যাচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম। বাজেট ‘বাস্তবায়নযোগ্য’ রাখতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অর্থবিভাগের কর্মকর্তারা।

মঙ্গলবার (১৫ এপ্রিল) অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আর্থিক, মুদ্রা ও বিনিময় হার সংক্রান্ত সমন্বয় কাউন্সিলের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের সূত্র।

অর্থবিভাগের কর্মকর্তারা জানান, বাজেটের এই কৃচ্ছ্রসাধনের মূল কারণ রাজস্ব আহরণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতির অভাব, বৈদেশিক ঋণ ও অনুদানে ভাটা এবং বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে অপ্রয়োজনীয় ও রাজনৈতিক বিবেচনায় নেওয়া প্রকল্পগুলো বাদ দেওয়া।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দ কমিয়ে ২ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা নির্ধারণ করা হচ্ছে, যেখানে চলতি অর্থবছরের এডিপি ছিল ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। 

কর্মকর্তারা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নেওয়া বেশিরভাগ মেগা প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার নতুন করে মেগা প্রকল্প হাতে না নেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

বাজেটের আকার ছোট হলেও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) দেওয়া হচ্ছে বাড়তি লক্ষ্যমাত্রা। আগামী অর্থবছরে এনবিআরের জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ১৮ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি বছরের মূল লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকার চেয়ে ৩৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। যদিও এনবিআরের পক্ষ থেকে লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ কোটি টাকার মধ্যে রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।

অর্থবিভাগ সূত্র জানায়, চলতি অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ঘাটতির কারণে সংশোধিত বাজেটে এনবিআরের লক্ষ্যমাত্রা প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে ধরা হয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা। অর্থ বিভাগ বলছে, অভ্যন্তরীণ ঋণ, বিশেষ করে ব্যাংক ও সঞ্চয়পত্রের ওপর চাপ কমাতে ঘাটতির এই সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অর্ধেকের বেশি অর্থ বিদেশি উৎস থেকে এবং বাকিটা দেশীয় উৎস থেকে সংগ্রহ করার পরিকল্পনা রয়েছে।

নতুন বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে এই দুই সূচকের লক্ষ্যমাত্রা ছিল যথাক্রমে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ ও ৬ শতাংশ। তবে সংশোধিত বাজেটে জিডিপির প্রবৃদ্ধি কমিয়ে ৫ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাস্তবসম্মত লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় ছাঁটাই সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ হলেও স্বচ্ছ ও দক্ষ বাস্তবায়নই মূল চাবিকাঠি হবে এই বাজেটের সফলতার জন্য।

/জিএম/এমকেএইচ/
সম্পর্কিত
রাষ্ট্রীয় ঋণ গ্যারান্টির বিপরীতে ০.২৫ শতাংশ ফি নেবে সরকার
চট্টগ্রাম বন্দরের জট কমাতে শতাধিক পণ্যবাহী কন্টেইনার নিলামে
ছয় লাখ কোটি টাকার লক্ষ্য, এত টাকা আসবে কোথা থেকে
সর্বশেষ খবর
কর্মকর্তাদের কলম বিরতির নির্দেশনা নেই: ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি
কর্মকর্তাদের কলম বিরতির নির্দেশনা নেই: ইসলামী ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত এমডি
উচ্চ ক্ষমতার কার্বন ফাইবারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু চীনে
উচ্চ ক্ষমতার কার্বন ফাইবারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু চীনে
অলসতা মনে হলেও যে অভ্যাসগুলো হতে পারে বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ
অলসতা মনে হলেও যে অভ্যাসগুলো হতে পারে বুদ্ধিমত্তার লক্ষণ
হঠাৎ রেমিট্যান্স আসা কমে গেলো
হঠাৎ রেমিট্যান্স আসা কমে গেলো
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
তৃতীয় বিয়ের পিঁড়িতে বসতে যাচ্ছেন আমির খান
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের