প্রতিবেশী দেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিদ্যুতে আগ্রহ বাংলাদেশের

সঞ্চিতা সীতু
১০ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:০০আপডেট : ১০ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:৫৩

প্রতিবেশী দেশের কাছ থেকে নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিদ্যুৎ আমদানির বড় উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ। নেপালের কাছ থেকে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানির মধ্য দিয়ে এর যাত্রা শুরু হচ্ছে। ভবিষ্যতে নেপাল, ভুটান এবং ভারতের নবায়নযোগ্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ আমদানির পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ সম্প্রতি দুবাইতে জলবায়ু সম্মেলনে অংশ নিয়ে জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় ধরে একই দামে বিদ্যুৎ পেতে এই উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সরকারের পরিচ্ছন্ন এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিকল্পনাকে যা বেগবান করবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা নেপাল থেকে ভারতীয় গ্রিড লাইন ব্যবহার করে ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আনছি। একই সঙ্গে নেপাল থেকে আরও ৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে।’

ভারতের রাজস্থান থেকে আরও ১ হাজার মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ আনার জন্য সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এর বাইরে সরকার ভুটান থেকেও নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিদ্যুৎ আমদানি করতে চায়।’

প্রসঙ্গত, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়টি অনুমোদন করেছে। নেপাল এবং ভুটান থেকে জলবিদ্যুৎ আমদানি করা হবে। ভারত থেকে সৌর বিদ্যুৎ আমদানি করা হবে। এভাবেই পরিকল্পনা সাজানো হচ্ছে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ সূত্র জানায়।

নব্বইয়ের দশক থেকে প্রতিবেশী দেশ থেকে বিদ্যুৎ আমদানির বিষয়ে আলোচনা শুরু হলেও ২০১২ সালের পর থেকে সেই উদ্যোগ গতি পায়। এখন ভারত থেকেই শুধু বিদ্যুৎ আমদানি করা হচ্ছে। কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা এবং কুমিল্লার দুটি পৃথক লাইন দিয়ে এখন বিদ্যুৎ আমদানি করা হয়।

নেপালের বিদ্যুৎ আনতে ভারতীয় গ্রিড লাইন ব্যবহার করা হবে। এতে সঞ্চালনের জন্য ভারতকে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করতে হবে। 

নেপাল এবং ভুটান ভবিষ্যতে একক গ্রিড লাইন ব্যবহার করে বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যুৎ বাণিজ্যে আগ্রহী। তবে তৃতীয় কোনও দেশের উপর দিয়ে আঞ্চলিক বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ওই দেশের সরকারের সদিচ্ছা প্রয়োজন। এজন্য ভারতের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনাও চলছে।

ভারতের বেসরকারি খাত বাংলাদেশের কাছে নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে উৎপাদিত বিদ্যুৎ বিক্রিতে আগ্রহী। সম্প্রতি ভারতের আদানি গ্রুপের কর্ণধার গৌতম আদানি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করে বাংলাদেশে সৌর বিদ্যুৎ বিক্রির আগ্রহের কথা জানিয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তবে এ বিষয়টি ভারত ও বাংলাদেশ কোনোপক্ষই নিশ্চিত করেনি।

কেবল নেপাল এবং ভুটানে ১ লাখ মেগাওয়াটের মতো জল বিদ্যুতের সম্ভাবনা রয়েছে। আঞ্চলিক সহযোগিতার ভিত্তিতে এই দুই দেশে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে দক্ষিণ এশিয়ার বিদ্যুৎ সংকটের অনেকটা সমাধান করা সম্ভব।

বাংলাদেশ ভারত এবং নেপালের সঙ্গে বিদ্যুৎখাতে সহযোগিতা বাড়ানোর জন্য যৌথ কমিটি কাজ করলেও ভুটানের ক্ষেত্রে এটি সম্ভব হয়নি। তবে ভুটানের সঙ্গে এ বিষয়ে বাংলাদেশের আলোচনা চলছে বলেও জানান, বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ।

/ইউএস/
সম্পর্কিত
৭৫ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুৎ ব্যবহারে দিতে হবে না বাড়তি দাম
বিদ্যুতের দাম কমাতে রিভিউ আবেদন
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
সর্বশেষ খবর
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
পিতার সৃজনকর্ম নিয়ে আলোচক যখন নুহাশ হুমায়ূন
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
রাশিয়া যাচ্ছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
শুরু হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষকদের অবসর ভাতা পরিশোধ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী