X
সকল বিভাগ
সেকশনস
সকল বিভাগ

ভালো মানুষ ও রাজনীতিমুক্ত স্থানীয় সরকার

আপডেট : ১২ নভেম্বর ২০২১, ১৭:৫৫

স্বদেশ রায়

সমাজের শরীর যে ভালো নেই তা সবার জানা। আগে যেখানে অজপাড়াগাঁ ছিল, এখন সেখানে পাকা রাস্তা গেছে। কিন্তু আগের অজপাড়াগাঁর সেই সুন্দরকে এগিয়ে নেওয়ার কালচার যেন পাকা রাস্তার ওপর দিয়ে ছুটে যাওয়া মবিলচালিত গাড়ির গতির মতোই দ্রুত বেগে কোথায় পালিয়ে যাচ্ছে। সেই বাড়ির সামনে ছোট্ট একটুকরো ফুলের বাগান। সকালে-বিকালে হারমোনিয়ামের, তানপুরার সুর ভেসে আসা। ছেলেমেয়েরা রাস্তায় বের হলে বিভিন্ন নাটক, নভেল বা কোনও আদর্শ নিয়ে আলোচনা– এগুলো খুঁজে পাওয়া দুষ্কর হচ্ছে। তার পরিবর্তে প্রায়ই অভিযোগ আসছে, পাকা রাস্তার অমুক মোড়ে বিকালের পরে আর মেয়েরা যেতে পারে না, সেখানে যে ছেলেগুলো আড্ডা দেয় ওরা আসলে ভালো না। ওরা ইয়াবা, ফেনসিডিল খায়। অভিযোগ আসছে– গ্রামের স্কুলের মাঠের পাশের যে ছোট্ট বাজারটি, সেখানেও রাতের পরিবেশ ভালো না।

যাদের নিয়ে এই অভিযোগ তাদের বাবা মায়েদের মনের অবস্থাটাও একবার ভেবে দেখা যেতে পারে। যারা নিজেদের সন্তানকে ভালো রাখার জন্যে ওদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছে, তারা অন্তত জানেন, আমার ছেলে মেয়েটি এখনও ভালো আছে। কিন্তু যাদের সন্তানরা ওই রাস্তার মোড়ে, ওই স্কুলের পাশের বাজারে অবৈধ ড্রাগ নিচ্ছে, অনেক নিচু মাপের কাজ করছে, তাদের বাবা মায়েদের তো স্রষ্টার কাছে ছাড়া আর কারও কাছে কোনও আকুতি বা অভিযোগ করার জায়গা নেই। তাদের অসহায়ত্বের খবর এখন অনেকেই পান। তাদের অসহায় মুখগুলো কম বেশি পরিচিত এখন।

বাংলাদেশের সমাজের এ অধোগতির নানান কারণ আছে। এর সব বিষয় কোনও একটা কলামে লেখা সম্ভব নয়। তবে অন্যতম একটি বড় বিষয় হলো, সমাজ থেকে ভালো মানুষদের ক্ষমতাহীন করা হচ্ছে দীর্ঘকাল ধরে। এর একটি  অংশ হয়েছে আশির দশক থেকে, সমাজে অনেক বেশি পুলিশকে প্রবেশ করতে দিয়ে। রাজনৈতিক কারণে হোক, রাজনৈতিক দল গড়ার কারণে হোক, আর অন্য কোনও কারণে হোক, দেখা গেছে, বাংলাদেশের সমাজে অর্থাৎ শহরের মহল্লা থেকে শুরু করে গ্রামের পাড়ায় পাড়ায় যেকোনও ঘটনায় পুলিশ যেতে শুরু হওয়া। পিছে পড়ে যান মহল্লা বা গ্রামের মুরুব্বিরা। আর পুলিশ বেশি ক্ষেত্রে টাকা নিয়ে সমস্যা সমাধান করতে শুরু করে। যখনই সমস্যার সমাধানের সঙ্গে টাকার যোগ হয়েছে তখনই ভালোর থেকে মন্দের জয় হয়েছে বেশি। আর এই অবৈধ টাকা লেনদেনের কাজটি তারাই করেছে, যারা মহল্লা বা গ্রামের টাউট বাটপার প্রকৃতির মানুষ। সম্মানী, শিক্ষিত ভালো কোনও মানুষ এ কাজ করতে যাননি। আর ওই সব দুর্নীতিপরায়ণ পুলিশদের প্রশ্রয় পেয়ে শহরের মহল্লা থেকে অজপাড়াগাঁ অবধি ক্ষমতাবান বা অনেকখানি সমাজের নেতা হয়েছে ওই সব খারাপ প্রকৃতির মানুষ। এর পরে পুলিশের পাশাপাশি যখন সমস্ত প্রশাসনে দুর্নীতি এসেছে তখন ওই খারাপ প্রকৃতির লোকগুলোর কাজের আওতা বেড়েছে। সাধারণ মানুষ নানান প্রয়োজনে তাদের অধীনে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে। এদের দাপটে ধীরে ধীরে পিছে পড়ে গেছেন সমাজের ভালো মানুষ, যারা সমাজকে নেতৃত্ব দিতেন।

তারপরেও এই সমাজে ভালো মানুষের একটা অংশ টিকে ছিলেন, কিন্তু সেখানে অনেক বড় ক্ষতি হচ্ছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে রাজনীতিকরণ করে। বাংলাদেশের স্থানীয় সরকারকে রাজনীতিকরণের সিদ্ধান্তের সময়ে এর ফল শুভ হবে না, স্থানীয় সরকারকে রাজনীতির বাইরে সমাজের হাতে রাখার জন্যে মতামত জানিয়ে একটা কলাম লিখেছিলাম। ওই লেখা প্রকাশের পর অনেক সিনিয়র রাজনীতিবিদ ফোন করে সমর্থন জানিয়েছিলেন। অবশ্য তাঁরা তাঁদের নিজেদের ফোরামে এ নিয়ে উচ্চকণ্ঠ হতে পারেননি। আরেকজন সিনিয়র রাজনীতিক বলেছিলেন, ‘তুমি যে সমাজের কথা বলছো, ওই সমাজ তো নেই। সমাজের জায়গা তো রাজনীতি ও প্রশাসন নিয়ে নিয়েছে।’ তিনি অনেক প্রবীণ মানুষ, তারপরেও তাঁকে বলেছিলাম, দেখেন সমাজনীতি ও রাজনীতি একটি সূক্ষ্ম রেখা দিয়ে ভাগ করা। সাধারণ চোখে অনেক সময় এই ভাগ দেখা যায় না। কিন্তু এই সূক্ষ্ম রেখাটির ভাগ না রাখতে পারলে সভ্যতার জন্যে চরম সংকট চলে আসে একসময়ে। আর এখানে দায় বেশি রাজনীতির ও রাজনীতিকের। যেহেতু রাজনীতির চরিত্রের মধ্যে একটা সর্বগ্রাসী স্বভাব আছে। কারণ, রাজনীতির বয়স সমাজনীতির থেকে অনেক কম। তাই অপরিনীত তারুণ্যের মধ্যে যেমন একটা সর্বগ্রাসী স্বভাব থাকে, রাজনীতির ভেতরও সেটা আছে। ভালো রাজনীতিবিদ, ভবিষ্যৎদ্রষ্টা রাজনীতিবিদের কাজ হলো, এই সর্বগ্রাসী স্বভাবটিকে থামিয়ে রাখা। যোগ্য নেতারা সে কাজই করেন। তিনি আমাকে বলেছিলেন, ‘তুমি আমাকে একটা উদাহরণ দাও তো, কীভাবে সেটা হতে পারে? ’ আমি তাকে বলেছিলাম, দেখেন, আপনি নিজেও কিন্তু রাজনীতির ও সমাজনীতির ওই ভাগটি বজায় রেখে চলেন। তারপরেও আপনি দেখেন, বঙ্গবন্ধু, তাজউদ্দীন আহমদ এঁরা যখন প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক স্যারের কাছে যেতেন, তখন কিন্তু তাঁরা রাজনীতিক নেতা হিসেবে যেতেন না; সাধারণ একজন নাগরিক হিসেবে যেতেন। সমাজ নেতার এই অবস্থানটিতে তাঁরা কোনও সময় আঘাত করতেন না। তিনি তারপরেও আমার কথা শতভাগ মেনে নেননি। তিনি বলেছিলেন, সমাজ থাকবে না, রাজনীতিই তাকে খেয়ে ফেলবে। আমি বিনয়ের সঙ্গে বলেছিলাম, সমাজের বয়স দীর্ঘ, এই সমাজের ওপর কয়েক’শ বছর যদি কোনও কালো ছায়া পড়ে তাহলে মানব সভ্যতার দীর্ঘ পথচলায় সেটা অতি ক্ষুদ্র সময়।

পৃথিবীর সভ্যতার হিসাবে হয়তো এ সময়টুকু অনেক ছোট, কিন্তু মানব জীবনের জন্যে তো দীর্ঘ সময়। তাছাড়া সব থেকে বড় কথা হলো, যাকে ঠেকানো যায়, যার খারাপ উদাহরণ আছে, সেগুলো তো রাষ্ট্র ও সমাজে প্রয়োগ করার কোনও দরকার নেই। কারণ, এই স্থানীয় সরকারকে রাজনীতিকরণ করে সমাজটাকে ভেঙে দেওয়া হচ্ছে। সমাজের ভালো মানুষদের কাছ থেকে নেতৃত্ব কেড়ে নিয়ে, অনেকখানি প্রতারক, অসৎ ও দুর্নীতিবাজদের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া হচ্ছে। আর এগুলো দেখা যাচ্ছে এই স্থানীয় সরকারকে আমাদের আশপাশে যেসব দেশ রাজনীতিকরণ করেছে সেখানে। যেমন, ভারতের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গে, আবার এই দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলঙ্কায়ও স্থানীয় সরকারকে রাজনীতিকরণের কুফল স্পষ্ট। সেখানে এখনও বিষয়টি ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দলের জন্যে সুবিধার ঠিকই, তবে সমাজের ও সভ্যতার গলার কাঁটা। অবশ্য এর বিপরীতে, অনেকে বলতে পারেন, ইউরোপ বা আমেরিকায় তো স্থানীয় সরকারকে রাজনীতিকরণ করলে কোনও সমস্যা হচ্ছে না। আমাদের কেন হবে? তাদের প্রশ্নের উত্তরের জন্যে কিন্তু ইউরোপ বা আমেরিকার ইউনিভার্সিটিগুলোর অনেক গবেষণা পেপার আছে। সেখানে দেখা যাচ্ছে, অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রাজনীতিকরণ, উন্নত দেশগুলোর থেকে অনেক বেশি জটিল। তা শুধু এশিয়ায় নয়, আফ্রিকায় ও দক্ষিণ আমেরিকায়ও। তাদের গবেষণায় যেসব বিষয় দেখা যাচ্ছে, তার মধ্যে চিলিতেও দেখা যাচ্ছে, পুলিশ ও প্রশাসন দুর্নীতিবাজ লোককে সহায়তা করছে। আমাদের বাংলাদেশ, ভারত ও শ্রীলঙ্কায়ও ঠিক একই অবস্থা। তাই ইউরোপ বা আমেরিকার উদাহরণের দিকে না গিয়ে এশিয়ায় বা আফ্রিকায় কী ঘটছে সেটাই দেখা উচিত।

তাছাড়া এশিয়া ও আফ্রিকার রাজনীতিবিদদের একটি বিষয় সব সময় মনে রাখতে হবে, পশ্চিমা এই আধুনিক রাজনীতি মাত্র অল্প সময় হলো এখানে এসেছে। আর এর বিপরীতে আফ্রিকা ও এশিয়ার সমাজ ব্যবস্থা অনেক প্রাচীন। আর এই রাজনীতি অধিকাংশ ক্ষেত্রে এসেছে ইউরোপীয় ও আমেরিকার ঔপনিবেশিক শাসনামলে। নিজস্ব সমাজের কাঠামোর সঙ্গে মিলিয়ে এই রাজনীতি তৈরি করা হয়নি। তাই বারবারই এখানে রাজনীতির নানান পদ্ধতি হোঁচট খাচ্ছে। এ কারণে রাজনীতিবিদের সব সময়ই একটি বিষয় মাথায় রাখা দরকার, রাজনীতি যেন কোনোমতেই সমাজকে ভেঙে দেওয়ার একটি কারণ হয়ে না দাঁড়ায়।

আমাদের রাজনীতিক ও গবেষকরা পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় সরকার রাজনীতিকরণের ফলের দিকে তাকালে দেখতে পাবেন, সেখানে কিন্তু এই রাজনীতিকরণের ফলে সমাজটাকে ভেঙে ফেলা হয়েছে। অনেকে বলতে পারেন, জ্যোতি বসুর সরকার যখন প্রথমে এটা করেন, তখন তো শুরুতে শুভ ফল দেখা গিয়েছিল। তারপরে নেতৃত্ব অভাবে আজকের এই করুণ পরিণতি। আজ সেখানে গ্রামে গ্রামে আগের সেই শুদ্ধ জীবনযাপনে ভাটার টান খুবই জোরে বইছে। সন্ত্রাস ও দুর্নীতির মূল কেন্দ্রবিন্দু  এখন এই রাজনৈতিক পঞ্চায়েত ব্যবস্থা। বাস্তবে জ্যোতি বসুর শুরুতে যা ভালো দেখা গিয়েছিল, তার মূলে ছিল: তখনও সমাজের নেতৃত্ব ভালো মানুষের হাতে ছিল। জ্যোতি বসুর সময়ে অনেক অরাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব পঞ্চায়েত হতে পেরেছিলেন। আর এখন গোটাটুকু রাজনীতিকরণ হয়ে গেছে। এখন এই স্থানীয় সরকার কোনোমতেই আর স্থানীয় সমাজের রক্ষক নয়, এ মূলত রাজনৈতিক দলের তৃণমূল পর্যায়ের হাতিয়ার মাত্র। শ্রীলঙ্কায় খোঁজ নিলেও একই চিত্র মিলবে। সেখানে এখন স্থানীয় সরকার সমাজকে সেবা দেবার থেকে সে দেশের দুই ভাইয়ের তথাকথিত অথরেটিয়ান সরকারের হাতিয়ার হিসেবে কাজ করছে। এমনকি সেখানে যে সংখ্যালঘু হিন্দু ও মুসলিমের সঙ্গে সিংহলী বুদ্ধিস্টদের সংঘাত সে কাজকেও বাতাস দিচ্ছে।

কিন্তু এখান থেকে পঞ্চাশ বছর আগে এসব দেশের সমাজের এই তৃণমূল পর্যায়ের খোঁজ নিলে জানা যায়, সেখানে দুর্নীতি, সামাজিক অনাচারও সাম্প্রদায়িকতা এভাবে ছিল না। এগুলো প্রবেশ করা শুরু হয়েছে যতই সমাজের নেতৃত্ব থেকে ভালো মানুষরা সরে যেতে বাধ্য হয়েছেন ততই। আর এটা দ্রুত ঘটছে এশিয়া ও আফ্রিকার মতো তৃতীয় বিশ্বের অনুন্নত দেশগুলোতে মূলত নীতিহীন রাজনীতির কারণে। একটা ছোট্ট উদাহরণ দেওয়া যেতে পারে। ধরা যাক, একজন লোক ম্যানপাওয়ারের ব্যবসা করতো। সে দরিদ্র লোককে বিদেশে কাজ দেবার নাম করে তাদের ভিটেবাড়ি সর্বস্ব বিক্রির টাকা নিয়ে, তাদের অনেকের সঙ্গে প্রতারণা করছে। আর এই অমানবিক ও বিবেকহীন দুর্নীতির মাধ্যমে সে ধনী হওয়া শুরু করে। এরপরে রাষ্ট্রীয় দুর্নীতির সহায়তায় সে অনেক বড় ধনী ও ক্ষমতাবান হয়েছে। এই লোকটি অতি সহজে তৃতীয় বিশ্বের যেকোনও দেশের রাজনৈতিক নেতা হতে পারবেন। এমনকি তিনি রাষ্ট্রের ও রাজনীতির প্রভাবশালী একজন হতে পারবেন। কিন্তু ওই লোকটি হাজার ইচ্ছে করলেও কখনও জাতীয় তো দূরে থাকুক, স্থানীয় পর্যায়ের সামাজিক নেতা হতে পারবেন না। কারণ, সামাজিক নেতা হতে হলে সেখানে অর্থকে বড় হিসেবে ধরা হয় না। সততা, চারিত্রিক সদগুণ, জ্ঞান, সঠিক বিবেকবোধ ও সর্বোপরি শুদ্ধ জীবনচর্চা এগুলোই মানুষকে সামাজিক নেতা হিসেবে দাঁড় করায়। আর এঁদের হাতে সমাজ থাকলে তখন সমাজের ছেলেমেয়েরা অনেক অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতার মধ্য থেকেও ভালো ছেলেমেয়ে হয়ে গড়ে ওঠে। অন্যদিকে দুর্নীতির মাধ্যমে গড়ে ওঠা ক্ষমতাবানরা যখন রাজনীতির আশীর্বাদে নেতা হয়ে ওঠে তখন সমাজের ছেলেমেয়েরা দ্রুত নষ্টের পথে পা বাড়ায়। কারণ, কৈশোর বা তারুণ্যে নেগেটিভ ও পজিটিভ দুটো চুম্বকই কিন্তু মানুষের মধ্যে থাকে। তাই ওই সময়ে তার চারপাশে যদি ভালো মানুষেরা থাকে তাহলে সে ভালোর চুম্বকে অর্থাৎ পজিটিভ চুম্বকে আকর্ষিত হয়ে তার কাছে যাবে। আর খারাপ মানুষেরা থাকলে তখন নেগেটিভ চুম্বকে আকর্ষিত হয়ে তার কাছেই যাবে।

তাই এ মুহূর্তে অনেক বেশি প্রয়োজন সমাজের সব স্তরে, বিশেষ করে তৃণমূল স্তরে যেখান থেকে নতুন প্রজন্ম বেড়ে উঠছে, সেখানে ভালো মানুষ যাতে নেতৃত্বে থাকে সমাজে, সেই কাজটি নিশ্চিত করা। ভালো মানুষকেই  ক্ষমতাবান করতে হবে। আর এ সত্য এখন মানার সময় এসে গেছে, স্থানীয় সরকারে রাজনীতি নিয়ে গিয়ে সমাজের একটি বড় অংশ থেকে ভালো মানুষদের হটিয়ে দেওয়া হচ্ছে। সমাজের নেতৃত্ব চলে যাচ্ছে অনেক পেশী ও অবৈধ অর্থের কাছে। সমাজের সেই শুদ্ধাচারী মানুষ এখন আর ওভাবে দাঁড়াতেও পারছেন না, সামনেও আসতে পারছেন না। আগে কোনও জেলার জেলা প্রশাসক, ওই জেলার শিক্ষা থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা সব বিষয়ে ওই ভালো মানুষগুলোর সঙ্গে আলাপ করার সুযোগ পেতেন। কারণ, তাঁরা থাকতেন স্থানীয় সরকারে। তাই স্বাভাবিকভাবে দেশ শাসনে ও সমাজ পরিচালনার বড় কাঠামোতেও তাদের শক্তিশালী অবস্থান ছিল। এখন সে জায়গাটি নিয়ে নিচ্ছে রাজনৈতিক আশীর্বাদে অবৈধ অর্থ ও পেশিশক্তির মালিকরা। এটা মোটেই শুভ লক্ষণ নয়।  

তাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বার্থে, ভালো সমাজ টিকিয়ে রাখার ও গড়ে তোলার স্বার্থে, সর্বোপরি সভ্যতার স্বার্থে, বাংলাদেশের মতো সমাজে স্থানীয় সরকার পর্যায়ে এই রাজনীতিকরণ নিয়ে চিন্তা করতে হবে। কারণ, আর যাই হোক, একটা দেশে পেট্রোলকে খাবার পানি থেকে বেশি প্রয়োজনীয় মনে করা উচিত নয়

লেখক: রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত সাংবাদিক

/এসএএস/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চলচ্চিত্র নির্মাতা গৌতম ঘোষের সাক্ষাৎ
পাঞ্জাবকে হারিয়ে প্লে-অফের আশায় দিল্লি
আইপিএলপাঞ্জাবকে হারিয়ে প্লে-অফের আশায় দিল্লি
৪ ঘণ্টা পর ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু
৪ ঘণ্টা পর ঢাকা-ময়মনসিংহ রুটে ট্রেন চলাচল শুরু
এশিয়ান কাপ ফুটবল: ছিটকে গেলেন বাংলাদেশ গোলকিপার
এশিয়ান কাপ ফুটবল: ছিটকে গেলেন বাংলাদেশ গোলকিপার
সর্বশেষসর্বাধিক

লাইভ