বাজেট ও বাস্তবতা: কতটা প্রস্তুত আমরা?

মৌসুমী ইসলাম
০৭ জুন ২০২৪, ১৫:৩৫আপডেট : ০৭ জুন ২০২৪, ১৫:৩৫

২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। এটি দেশের ইতিহাসে সর্ববৃহৎ বাজেট। দেশের ইতিহাসে বিশাল এ প্রস্তাবিত বাজেটের ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫১ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত এ বাজেটে অনুদান ছাড়া ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা। এটি মোট জিডিপির ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। সরকার অভ্যন্তরীণ ঋণ নেবে এক লাখ ৬০ হাজার ৯০০ কোটি টাকা।
 
আমরা জানি, ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ তৈরিতে সরকার প্রতিনিয়ত কাজ করে চলছে। তারপরও সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। প্রতিবছরই ব্যবসাবান্ধব বাজেট হচ্ছে, তারপরও ব্যবসায়ীদের সমস্যা রয়েই যাচ্ছে। বর্তমানে ব্যাংক সুদের হার, ডলার সংকট, গ্যাস, বিদ্যুৎসহ নানামুখী সমস্যা রয়েছে। মনে রাখতে হবে, শুধু ব্যবসাবান্ধব বাজেট হলেই হবে না, তার বাস্তবায়নও দরকার।
 
তার জন্য প্রয়োজন করজাল সম্প্রসারণ ও সরকারি সেবার অটোমেশন। বাজেট ঘাটতি মেটাতে ব্যাংক খাতের ওপর সরকারের নির্ভরশীলতা কমিয়ে পুঁজিবাজার এবং বৈদেশিক উৎসের ওপর জোর দিতে হবে। এছাড়া সুদের হার ডাবল ডিজিটে যাওয়ায় ব্যবসা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। অগ্রিম আয়কর সমন্বয়ের অভাবে করপোরেট করহার ১২ শতাংশে থাকছে না। সেটা বেড়ে প্রায় ৩০ শতাংশে চলে যাচ্ছে। এআইটি নেওয়া বন্ধ করা অথবা রিটার্ন সমন্বয়ের ব্যবস্থা করতে হবে।
 
আমদানি পণ্যের যথাযথ শুল্কায়ন এবং পণ্য খালাসের জটিলতা দূর করতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অটোমেশনের আওতায় আনতে হবে। করহার কমিয়ে আয়কর ও মূসকের আওতা বাড়িয়ে রাজস্ব আয় বাড়াতে হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্লাডব্যাংকের অবদান ৬৫ থেকে ৬৭ শতাংশ। তাই এই অবদানের কথা বিবেচনায় নিয়ে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ইউটিলিটি বিল তথা বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, টেলিফোন ইত্যাদির কমার্শিয়াল রেটের পরিবর্তে ইন্ডাস্ট্রিয়াল রেটে করা এখন সময়ের দাবি।
 
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় ডিজিটাল বাংলাদেশ থেকে স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের স্বপ্ন ‘স্মার্ট বাংলাদেশ-২০৪১’ কর্মসূচি সফলতার সঙ্গে এগিয়ে যাচ্ছে। তার সঙ্গে রয়েছে আইএমএফের শর্ত মেনে চলা, রিজার্ভ শক্তিশালী করা এবং ডলার সংকটের বিষয়গুলো। মূল্যস্ফীতি মানুষের জীবিকায় ফেলেছে মারাত্মক প্রভাব। শিক্ষা, শিল্প, বাণিজ্য বারবার স্থবির হচ্ছে। শিক্ষিত বেকারদের জন্য কর্মপরিকল্পনা এবং বরাদ্দ প্রয়োজন। সুতরাং এক্ষেত্রে এবারের বাজেট গতবারের থেকেও চ্যালেঞ্জিং।

লেখক: সভাপতি, বাংলাদেশ গ্রাসরুট উইমেন এন্টারপ্রেনিওয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন।

/এসএএস/এমওএফ/

*** প্রকাশিত মতামত লেখকের একান্তই নিজস্ব।

বাংলা ট্রিবিউনের সর্বশেষ
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি: সবচেয়ে বেশি চাপে মধ্যবিত্ত
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
দেশে ফিরেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান
মূল্যস্ফীতির আগুনে পুড়ছে মানুষ, বাড়ছে বিদ্যুতের দাম এরপর কী
মূল্যস্ফীতির আগুনে পুড়ছে মানুষ, বাড়ছে বিদ্যুতের দাম এরপর কী
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, পুলিশের তদন্ত কমিটি
থানায় স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকে নির্যাতনের অভিযোগ, পুলিশের তদন্ত কমিটি
সর্বশেষসর্বাধিক